কিভাবে আপনি নিজেই প্রফেশনাল সিভি বানাবেন?

চাকরি প্রত্যাশী প্রত্যক্ষ ব্যক্তির  জীবনে সিভি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।কারণ, কোন ব্যক্তি যখন চাকরির জন্য আবেদন করে তখন উক্ত ব্যক্তি তার জীবন বৃত্তান্ত তার সিভির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে।তাই সিভি লিখতে হবে প্রফেশনাল ভাবে যাতে নিয়োগকারির নিকট সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়।তাহলে, চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে তৈরি করবেন একটি প্রফেশনাল লেভেলের সিভি,যেটি আপনাকে সাহায্য করবে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পেতে।

প্রফেশনাল সিভি তৈরীর জন্য কি কি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়?

প্রফেশনাল সিভি তৈরীর জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ইংরেজিতে লেখা

সম্পূর্ণ সিভি অবশ্যই ইংরেজিতে সুন্দর সাবলিল ভাষায় লিখতে হবে।এক্ষেত্রে সিবি লেখার সময় সঠিক শব্দ এবং গ্রামারের দিকে নজর রাখতে হবে। তাছাড়া  যাতে করে কোন বানান ভুল না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সঠিক ছবি নির্বাচন

একটি প্রফেশনাল সিভির প্রথম  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়  হচ্ছে সঠিক ছবি সংযোজন করা।যে ছবিটি টিভিতে সংযুক্ত করা হবে সেটি অবশ্যই ফরমাল হতে হবে।ছবি ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা অথবা নীল হতে হবে।ছবিটি বাম পাশে উপরের দিকে সংযুক্ত করতে হবে।

নিজের নাম যথাযথভাবে লিখা

সিভিতে নিজের নাম বড়  অক্ষরে লিখতে  হবে।নাম সিভির ডিজাইনের উপর নির্ভর করে ডানে বা মাঝ বরাবর লিখতে হবে।

ঠিকানা ও যোগাযোগের মাধ্যম

সিভিতে সঠিক ঠিকানা এবং যোগাযোগ করার জন্য নিয়মিত  ব্যবহৃত মেইল এড্রেস,মোবাইল নাম্বার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে প্রয়োজনে চাকরির নিয়োগকারী আবেদনকারীর  সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

চাকরির আবেদনের উদ্দেশ্য

যে চাকরির জন্য আবেদন করা হচ্ছে  সেটির যথার্থ  উদ্দেশ্যে উল্লেখ  করতে হবে।অবশ্যই উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে হবেচেষ্টা করতে হবে যাতে উদ্দেশ্য এক লাইনে লিখে শেষ করা যায়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষাগত  যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রাপ্ত ডিগ্রির নাম, পাশের সাল, ফলাফল লিখতে হবে।এই ক্ষেত্রে সর্বশেষ ডিগ্রির নাম,পাশের সাল, ফলাফল দিয়ে পর্যায়ক্রমে লিখতে হবে।

কাজের অভিজ্ঞতা

যদি পূর্বে কোন কাজ করে থাকেন তাহলে  ঐ কাজের সম্বন্ধে লিখতে হবে এবং এই অভিজ্ঞতা কিভাবে আবেদনকৃত কাজের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে সেটি লেখা।

আইটি স্কিল

আপনার যদি কম্পিউটার সম্পর্কিত কোন দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে সেটি যুক্ত করতে পারেন।যেমন, আপনি MS Word, MS Excel, MS PowerPoint  কতটুকু লেবেল পর্যন্ত পারেন সেটি উল্লেখ করতে পারেন।

ট্রেনিং

যদি আপনি কোন বিষয়ে ট্রেনিং নিয়ে থাকেন তাহলে সেটি আপনার টিভিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

ভাষাগত যোগ্যতা

আপনি কোন কোন ভাষা পারেন এবং প্রতিটি ভাষায় আপনার যোগ্যতা কতটুকু সেটি উল্লেখ করতে পারেন।আপনি যদি কোন ভাষাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দিয়ে থাকেন তাহলে সেটি উল্লেখ করতে পারেন।কারণ এসব কিছু আপনাকে চাকরিটা পেতে অন্যদের থেকে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

নিজের ব্যক্তিগত পরিচয়

এখানে আপনি আপনার বাবা মায়ের নাম, নিজের ঠিকানা, জন্ম- তারিখ ,জাতীয়তা দিবেন।

নিজের বিশেষ দিক

এখানে আপনি আপনার এমন কিছু বিশেষ যোগ্যতা তুলে ধরবেন  যার কারনে চাকরিদাতা আপনাকে চাকরিটি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করবে।যেমন, আপনি প্রচন্ড কাজের প্রেসারের মধ্যে থেকে কাজটি কিভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন এমন কিছু বিষয় নিয়ে লিখবেন।

রেফারেন্স

এই জায়গায় আপনি এমন দুইজন মানুষের সম্বন্ধে লিখবেন যারা আপনাকে ভালোভাবে জানে। বিশেষ করে আপনার ভার্সিটি এর দুইজন প্রফেসরের পদবি আর যোগাযোগের ঠিকানা শেয়ার করবেন।

নিজের স্বাক্ষর

সবশেষে যে জিনিসটি লাগবে সেটি হচ্ছে আপনার একটি কম্পিউটারে করা সিগনেচার।সিগনেচার আপনি বিভিন্ন সফটওয়্যার টুলস ব্যবহার করে করতে পারবেন।

উপরে বর্ণিত বিষয়গুলো খেয়াল করে আমরা খুব সহজে একটি প্রফেশনাল সিভি তৈরি করতে পারবো।এখন সিভি তৈরি করার জন্য অন্যান্য যে সমস্ত কাজ করতে হবে এগুলো সম্বন্ধে ধারণা নেয়া যাক:

ফরমেট

প্রফেশনাল ভাবে সিভি তৈরি করার জন্য সিভি ফরমেট ঠিক রাখতে হবে। কারণ সিভি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য ফরমেটিং ভালো হতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক একটি ভালো ফরমেটের জন্য কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

প্রথমত, সবার আগে যে জিনিসটি মাথায় রাখতে হবে সেটি হল সিভির দৈর্ঘ্য বেশি বড় করা যাবেনা।যেহেতু সিভি ২ পেজের মধ্যে লিখতে হবে তাই খুব কম সংখ্যক শব্দ দিয়ে তথ্যবহুল সিভি তৈরি করতে হবে। এতে করে যে সিভিটা পড়বে সে বিরক্তবোধ করবে না।তাই সিভির সাইজের দিকে নজর রাখা জরুরী।

দ্বিতীয়ত,সিভির সাইজের পরে যে জিনিসটির সাইজের  দিকে নজর রাখতে হবে সেটি হল কাগজের সাইজ।তাই A4 সাইজের কাগজ ব্যবহার করবেন।

তৃতীয়ত,সিভি সঠিক ফন্ট ব্যবহার করে লিখতে  হবে। বেশি ফন্ট  ব্যবহার করলে সিভি ভালো দেখাবে এটা ঠিক না এবং তিনটির বেশি ফন্ট ব্যবহার করা উচিত না।একটি আদর্শ সিভি   দুইটি ফন্ট দিয়ে লিখলে ভালো দেখায়।ফন্টের ক্ষেত্রে Aerial, New Times Roman বা Calibri এই তিনটির যেকোনো দুইটি বা একটি ব্যবহার করতে পারেন।ফন্ট সাইজ বডির ক্ষেত্রে ১০ বা ১২ রাখতে পারেন এবং শিরোনাম এর ক্ষেত্রে ১২ বা ১৪ রাখতে পারেন।

তৃতীয়ত,রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।যেমন তেমনভাবে রং করে দিলে সিবি বাজে দেখাবে।তাই সঠিকভাবে মানানসই রং দিতে হবে।এক্ষেত্রে শিরোনাম,বডি ইত্যাদি জায়গায় রংয়ের শ্যাডো দেয়া যায়।

চতুর্থত,সিভি কোন নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে লিখতে হবে।আপনি চাইলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট অফিস, এডোবি ইলাস্ট্রেটর ইন ডিজাইন এর যেকোনো একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিভি লিখতে পারেন।তাছাড়া এখন সিভি বানানোর জন্য অনেক রকমের অ্যাপস পাওয়া যায় যা ব্যবহার  করেও সুন্দরভাবে একটি সিভি তৈরি করা যায়।এগুলো ছাড়াও আপনি বিভিন্ন টেমপ্লেট ব্যবহার করে আপনার পছন্দনীয় একটি সিভি তৈরি করতে পারেন।

শেষ কথা

পরিশেষে, যে কথাটি মনে রাখতে হবে সেটি হল সিভিতে কোনরকম মিথ্যা অথবা অতিরঞ্জিত কোন তথ্য দেয়া যাবে না।কারণ এতে পরবর্তীতে যদি জেনে যাই তাহলে বাজে প্রভাব পড়বে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে।তাই সবার উচিত সিভিতে শুধু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযুক্ত করা।যেহেতু সিভি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট তাই এটি দক্ষতার সহিত লিখতে হবে কারণ এটি সারা জীবন আপনাকে চাকরির বাজারে  উপস্থাপন করবে।

আশাকরি, উপরে বর্ণিত সম্পূর্ণ লিখাটি পড়ে কিভাবে একটি প্রফেশনাল লেবেলের সিভি তৈরি করা যায় তার পরিপূর্ণ একটা গাইডলাইন পাওয়া যাবে

Leave a Comment