পরীক্ষায় ভালো করার উপায় জেনে নিন

পরীক্ষায় ভালো করার উপায়- সকল শিক্ষার্থীই চায় যে তার পরীক্ষার রেজাল্ট যেন ভালো হয়। লেখাপড়ার প্রতিযোগীতায় সকলে নিজেকে প্রথম সারিতে দেখতে চান। অভিভাবগণও তার সন্তানের কাছে প্রত্যাশা করেন সে যেন ক্লাসে ফার্স্ট বয় হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ শিক্ষাযুদ্ধ চালাতে থাকে। অনেকেই সফল হয় আবার হেরেও যায়।

যে কোন কাজকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যায়। একেকজন একেকভাবে সম্পন্ন করে থাকে। একটি কাজকে সম্পন্ন করতে যে যতো বেশী টেকনিক অবলম্বন করবে সে ততো বেশী এগিয়ে থাকবে। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে সম্পন্ন করা যায়। কেউ কেউ সারাদিন পড়াশোনা করেও ভালো রেজাল্ট করতে পারে না আবার অনেকে অল্প পড়েও ভালো রেজাল্ট করতে পারে। কিছু সহজ টেকনিক অবলম্বন করলে অল্প সময়ে অধিক পড়াশোনা করা যায় এবং রেজাল্টও ভালো হয়। আসুন আমরা জেনে নেই পরীক্ষায় ভালো করার উপায় সম্পর্কে।

পরীক্ষায় ভালো করার উপায়

পড়াশোনার রুটিন তৈরী করা-

কর্ম পরিকল্পনা তৈরী করে কোন কাজ করলে তা সহজেই সম্পন্ন করা যায়। পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও রুটিন তৈরী করে পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হলে রুটিন তৈরী করে পড়া আবশ্যক। পড়াশোনায় মনোযোগী হতে, সময়ের পড়া সময়ে সম্পন্ন করতে, অল্প সময়ে অধিক পড়তে, নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা শিখতে, সময়কে মূল্যায়ন করতে, প্রতিটি বিষয় সমানভাবে অনুশীলন করতে এবং সর্বোপরি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে রুটিন তৈরী করে পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

মনোযোগ সহকারে ক্লাস করা-

শিক্ষক ছাড়া নিজে নিজে যদি কোন কিছু শিখা যেতো তবে পৃথিবীতে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক কোনটাই থাকতো না। শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন করতে হলে শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। শিক্ষক যেহেতু ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দিয়ে থাকেন এজন্য মনোযোগ সহকারে ক্লাস করা উচিত। ক্লাসে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নোট করে রাখো। ক্লাসের মধ্যে শিক্ষক যখন লেকচার দিবেন তখন তার প্রতিটি কথা খুবই মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। ক্লাসে যে যতো বেশি মনোযোগী হবে সে ততো বেশী শিখতে পারবে। কোন বিষয় বুঝতে না পারলে ক্লাসের মধ্যেই শিক্ষককে প্রশ্ন করে বিষয়টি বুঝে নিতে হবে। সহজ কথায় মনোযোগ সহকারে এমনভাবে ক্লাস করতে হবে যেন ক্লাসের পড়া ক্লাসেই কমপ্লিট হয়ে যায়।

ক্লাস টেস্টে গুরুত্ব সহকারে অংশগ্রহণ করতে হবে-

অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস টেস্টকে গুরুত্ব দেয় না। মনে করে এটা আর এমন কি? তারা এটা বুঝে না এই পরীক্ষাগুলোতে ভালো করলে মিড পরীক্ষা বা ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া সহজ হয়ে যায়। কারন ক্লাস টেস্টগুলো তো পাঠ্যপুস্তক থেকেই নেওয়া হয়। প্রতিটি ক্লাস টেস্টে অংশগ্রহণ করার উপকারিতা হলো-

ক) আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

খ) এক তৃতীয়াংশ পড়া সম্পন্ন হয়ে যায়।

গ) মিড বা ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সহজ হয়

ঘ) মিড বা ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা তৈরী হয়।

পূর্বের অনুশীলনগুলো মাঝে মাঝে রিভিশন দিতে হবে-

একটি গবেষণা থেকে জানা যায়- যে সকল শিক্ষার্থী পূর্বের অনুশীলনগুলো মাঝে মাঝে রিভিশন দেয় তারা অন্যদের তুলনায় পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করে। এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে পূর্বের অনুশীলনগুলো আমাদের স্মৃতিতে গেঁথে যাবে এবং দীর্ঘদিন মনে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য পূর্বের পড়াগুলো মাঝে মাঝে রিভিশন দেওয়া উচিত।

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া | কিভাবে পড়াশোনা করলে ভালো রেজাল্ট করা যায়-

যে কাজে যতো বেশী মনোযোগ সে কাজে ততো বেশী সফলতা। অমনোযোগীরা কোন কাজে সফল হতে পারে না। পড়াশোনায় ভালো রেজাল্ট করতে হলে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। যতটুকু পড়বে মনোযোগ সহকারে পড়বে। মনোযোগী হয়ে পড়লে অল্প সময়ে অনেক পড়া সম্পন্ন করা যায়।

নোট তৈরী করে পড়া-

প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নোট তৈরী করে পড়াশোনা করে। প্রতিটি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো তারা নোট করে রাখে। পরীক্ষার সময় নোটগুলো অনুসরণ করলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়ে যায়। এজন্য ভালো রেজাল্ট করতে হলে নোট তৈরী করে পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

শিক্ষকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা-

ভালো শিক্ষার্থীরা সবসময় শিক্ষকদের সম্মান করে এবং তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। যে কারণে শিক্ষকগণ তাদের সাথে ভালো আচরণ করে, ভালোবাসে এবং পড়ালেখা বিষয়ে সাজেশন বা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। খেয়াল করলে দেখা যায় প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষকরা খুবই ভালবাসেন। যেহেতু শিক্ষকরা তোমার চেয়ে ভালো জানেন কিভাবে লেখাপড়া করলে পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হবে। এজন্য সর্বদা শিক্ষকগণের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে এবং তাদের সংস্পর্শে বেশী বেশী থাকতে হবে।

পড় এবং লিখ-

শুধু পড়লে হবে না, পাশাপাশি লিখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একটি বিষয়ে পড়া সম্পন্ন করার পর তা লিখতে হবে। পড়ার পর তা লিখার অভ্যাস করলে সহজে ভুলবে না এবং পড়া তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়ে যাবে। পড়ার পর লিখার আরও উপকারিতা হলো হাতের লিখা সুন্দর হবে এবং লিখার গতি বেড়ে যাবে।

নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে-

নিজেকে নিজে মূল্যায়ন করা শিখতে হবে। তুমি যদি তোমাকে মূল্যায়ন করতে না শিখো অন্যরাও তোমাকে মূল্যায়ন করবে না। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আমি কাজটি করতে পারব কিনা বা আমার দ্বারা কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কিনা এ ধরেণের কোন সংশয় মনে রাখা যাবে না। আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে হবে অন্যরা পারলে আমিও করতে পারবো। অমুকে ফার্স্ট বয় হতে পারলে আমি কেন পারব না। এ ধরণের আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনা করলে তুমিও পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। তবে অধিক আত্মবিশ্বাসী হয়ো না। কারণ অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। শুধু আত্মবিশ্বাসী হলেই চলবে না সেই সাথে প্রাণপণ প্রচেষ্টাও করতে হবে।

সাপ্তাহিক পরীক্ষা দেওয়া-

সারা সপ্তাহ যা পড়াশোনা করেছ তার উপর ভিত্তি করে নিজে নিজেই প্রশ্ন তৈরী করো এবং সপ্তাহে একদিন পরীক্ষার দাও। তাহলে তোমার পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবে। এছাড়া এর মাধ্যমে নিজের প্রতি নিজের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।

পাঠ্যপুস্তককে গল্প আকারে পড়া-

কমবেশী সকলেই গল্পের বই পড়তে ভালবাসে। গল্পগুলো অনেকদিন পর্যন্ত মনে থাকে। এজন্য পাঠ্যপুস্তককে গল্প আকারে পড়ার অভ্যাস করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকের প্রতিটি অধ্যায় প্রথমে কয়েকবার গল্পের বইয়ের মতো করে পড়তে হবে। তাহলে প্রতিটি অধ্যায় সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়ে যাবে। এরপর যখন তুমি ক্লাসের বা পরীক্ষার পড়া পড়তে বসবে তোমার পক্ষে সেগুলো বুঝা বা মুখস্থ করা সহজ হয়ে যাবে। কারণ গল্প আকারে পড়ার কারণে পূর্বেই তোমার অর্ধেক জ্ঞান অর্জন সম্পন্ন হয়েছে। পাঠ্যপুস্তককে গল্প আকারে পড়ে দেখো, দেখবে পড়তেও মজা লাগবে এবং বুঝতেও সহজ হবে।

পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানো-

ঘুম মহান আল্লহ্ তা’আলার অফুরন্ত নি’আমাত। তিনি রাতকে আমাদের বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন। অথচ আমরা রাত জেগে আজে বাজে কাজে ব্যস্ত থাকি। ঘুম আছে বলেই মানুষ পরিশ্রম করতে পারে। ঘুম সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। প্রশান্তির ঘুম মানুষকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে শক্তি জোগায়। পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম না হলে শুধু পড়াশোনাই নয়, কোন কাজই সঠিকভাবে করা সম্ভব হয় না। পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুম না হলে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়-

ক) মাথা ব্যাথা করতে পারে।

খ) শরীর ম্যাশ ম্যাশ করে।

গ) কাজে বা পড়াশোনায় মন বসে না।

ঘ) মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

ঙ) শরীরে ক্লান্তি দেখা যায়।

চ) পড়া মাথায় ঢুকে না।

ছ) আস্তে আস্তে শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।

জ) শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে।

এজন্য পড়াশোনা সহ যে কোন কাজে মনোযোগী হতে পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমাতে হবে। ঘুমের বিকল্প কিছু নেই।

লক্ষ্য নির্ধারণ করে পড়া-

লক্ষ্য নির্ধারণ করে কোন কাজ করলে তা সম্পন্ন করা সহজ হয়ে যায়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছাড়া কোন কাজ ৫০% সম্পন্ন করাও সম্ভব হয়না। যেমন ধরো তোমাকে বলা হলো- আধা ঘন্টা সময়ের মধ্যে ৪ কিলোমিটার রাস্তা হেটে যেতে হবে। তুমি যদি স্থির করো আধা ঘন্টার মধ্যে আমি ৪ কিলোমিটার রাস্তা হেটে যাবই তাহলে দেখা যাবে যে তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছো। আর তুমি যদি মনে করো দেখি আধা ঘন্টায় কতদূর যাওয়া যায় তাহলে তুমি অর্ধেক রাস্তাও শেষ করতে পারবে না।

কারণ লক্ষ্য মানুষের মনে শক্তি জোগায় এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এজন্য ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করে পড়ার অভ্যাস করতে হবে।

শেষকথা- পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হলে কঠোর পরিশ্রম বা সাধনা করে যেতে হবে। প্রচুর পরিমানে পড়তে হবে। পড়ার বিকল্প কিছু নেই। পরীক্ষায় ভালো করার উপায় শিরোনামে যে পদ্ধতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে আশা করছি পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হবে।

1 thought on “পরীক্ষায় ভালো করার উপায় জেনে নিন”

Leave a Comment