নিজ দেশ থেকে চাকরি নিয়ে কীভাবে বিদেশ যাওয়া যায়?

Spread the love

বর্তমান বিশ্বে অনেকেই নিজ দেশ থেকে চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে চান। এর কারণ হলো, বিদেশে চাকরির বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দেশেরতুলনায় অনেক বেশি। বেতন, জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার সুযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ ইত্যাদি দিক বিবেচনা করলে বিদেশে চাকরি করার সুবিধা অনেক। এছাড়াও, বিদেশে চাকরি করলে ব্যক্তির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। তবে বিদেশে চাকরি করতে গেলে অনেক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা করতে হয়।

নিজ দেশ থেকে চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা। যে দেশে আপনি চাকরি করতে চান, সেই দেশের চাকরির বাজারে আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কিভাবে মূল্যায়িত হয় তা জানার চেষ্টা করুন। আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যদি সেই দেশের চাকরির বাজারের চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তাহলে আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হবে। যে দেশে চাকরি করতে চান সে দেশের ভাষা জানা থাকলে তা অনেক কাজে দেবে। এছাড়াও, আবেদনপত্র ও সাক্ষাৎকারের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।

এবার আমরা জানবো চাকরি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার উপায়:

১. লক্ষ্য নির্বাচন

প্রথমেই আপনাকে আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। আপনি কেন বিদেশে চাকরি করতে চান? আপনার লক্ষ্য কি ক্যারিয়ার উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা অর্জন, নাকি অন্য কিছু? আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করলে আপনি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।

২। গবেষণা

আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করার পর, আপনাকে আপনার গন্তব্য দেশ সম্পর্কে গবেষণা করতে হবে। সেই দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ভাষা, চাকরির বাজার, শিল্প ও সংস্কৃতি এবং ভিসা নিয়মকানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। সেই দেশের চাকরির বাজারে আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার চাহিদা কেমন তাও জানতে হবে।

৩. যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি

আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যত বেশি হবে, বিদেশে চাকরির সুযোগ তত বেশি হবে। আপনার গন্তব্য দেশের চাকরির বাজারে চাহিদা অনুযায়ী আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা উন্নত করতে হবে। তাই, আপনার বর্তমান যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে সেগুলো আরও উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নিন। প্রয়োজনে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এজন্য উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

৪. ভাষা শিক্ষা

বেশিরভাগ দেশে চাকরি পেতে হলে সেই দেশের ভাষা জানতে হয়। প্রয়োজন হয় সেই দেশের ভাষার দক্ষতা। যে দেশে চাকরি করতে চান সে দেশের ভাষা জানা থাকলে তা অনেক কাজে দেবে। তাই, সেই দেশের ভাষা শিখতে শুরু করুন।

৫. চাকরির খোঁজ

আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা উন্নত করার পর, আপনি চাকরির খোঁজ শুরু করতে পারেন। অনলাইনে বিভিন্ন চাকরির ওয়েবসাইটে আপনি বিদেশের চাকরির খবর খুঁজে পেতে পারেন। বিদেশে চাকরির জন্য অনলাইন বা সংবাদপত্রের চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন। বিভিন্ন চাকরির এজেন্সির মাধ্যমেও চাকরির খোঁজ করতে পারেন। এছাড়াও, আপনি আপনার পরিচিতজনদের মাধ্যমেও চাকরির খবর জানতে পারেন।চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করার জন্য আপনি বিভিন্ন জনশক্তি রপ্তানি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

 ৬.  সিভি ও কভার লেটার

প্রয়োজন হয় একটি ভালো সিভি। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ইত্যাদি তথ্য একটি সুন্দরভাবে সাজানো সিভিতে উপস্থাপন করুন। এরসাথে প্রয়োজন হয় একটি ভালো কভার লেটার। আপনার সিভির সাথে একটি ভালো কভার লেটার যুক্ত করুন। কভার লেটারে আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সেই দেশে চাকরি করতে আগ্রহ ইত্যাদি তথ্য তুলে ধরুন।

৭. আবেদনপত্র তৈরি

চাকরির জন্য আবেদনপত্র তৈরি করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। আবেদনপত্রটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তৈরি করুন। আবেদনপত্রের সাথে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত কাগজপত্র সংযুক্ত করুন।

। ইন্টারভিউ

যদি আপনি কোনো চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং আপনার আবেদন গৃহীত হয়, তাহলে আপনাকে ইন্টারভিউ দিতে হবে। ইন্টারভিউয়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় আপনার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের বিষয়ে সুন্দরভাবে কথা বলুন। সেই দেশের সংস্কৃতি এবং সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে জানতে হবে।

৯. ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট

বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় সেই দেশের ভিসা ও কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট)। যে দেশে চাকরি করতে চান সে দেশের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করুন। ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পরই আপনি বিদেশে যেতে পারবেন। ভিসার জন্য আবেদন করার সময় আপনার সিভি, কভার লেটার, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, অভিজ্ঞতার সনদপত্র, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সনদপত্র ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

১০। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি

ভিসা পাওয়ার পর, আপনাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনার থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। 

এক নজরে নিজ দেশ থেকে চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য কিছু টিপস:

  • আপনার লক্ষ্য নির্বাচন করার সময় বাস্তবতা বিবেচনা করুন। আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে যে দেশে চাকরি করতে  চান সে দেশের চাকরির বাজারের অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিন।
  • আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিন।
  • যে দেশের ভাষা জানতে চান সে দেশের ভাষা শিখতে শুরু করুন। ভাষা জানা থাকলে আপনার চাকরির সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে।
  • চাকরির জন্য আবেদন করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। আবেদনপত্রটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তৈরি করুন।
  • সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন। সাক্ষাৎকারের সময় আপনার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের বিষয়ে সুন্দরভাবে কথা বলুন।

 ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করার সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।

  • আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী চাকরির জন্য আবেদন করুন।
  • আপনার সিভি ও কভার লেটার সুন্দরভাবে সাজান।
  • আপনার সিভি ও কভার লেটারে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন।
  • ভিসার জন্য আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা
  • ·চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখুন।

এছাড়াও বিদেশে চাকরি করতে গেলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

আপনি যে দেশে যাবেন-

  • সেই দেশের আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলুন।
  • সেই দেশের সংস্কৃতি ও রীতিনীতির সাথে মানিয়ে নিন।
  • নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিছু সময় লাগতে পারে। 

বিদেশে চাকরি করলে আপনি আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করতে পারবেন, আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন, নতুন সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। তবে নিজ দেশ থেকে চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়া একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে বিদেশে চাকরি করার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন এবং সমস্ত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জেনে নিন। তবে, ভালো প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকলে তা সম্ভব।

Leave a Comment