স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ টিপস্

ভাল স্বাস্থ্যের লক্ষণ

নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম, নিয়মিত বিশ্রাম ও ঘুমে স্বাস্থ্য ভাল থাকে। খাদ্য ভালভাবে হজম হলে, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভাল থাকলে এবং দেহে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকলেও স্বাস্থ্য ভাল বলা হয়। কয়েকটি বাহ্যিক লক্ষণ দেখে স্বাস্থ্য ভাল কিনা তা বলা যায়।

খাদ্য তালিকার শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পথে চলতে হয়। 

আসুন জেনে নেই স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ টিপস্

১. প্রার্থনা করুন

আপনার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনায় মনোযোগী হোন। নিয়মিত প্রার্থনা করলে তা আপনার মন ও শরীর ভালো রাখবে। মিলবে মানসিক প্রশান্তি। এতে করে আপনি আরো অনেক ভালো কাজে উৎসাহী হবেন। নিজেকে ভালো রাখার এটি অন্যতম উপায়।

২. নিজের মনের ইচ্ছের দিকে নজর দিন

আপনি হয়তো ভাবছেন নিয়মিত যোগব্যায়াম করে, হাঁটাহাঁটি করে, খাদ্য তালিকার শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পথে চলবেন।

কিন্তু যদি হঠাৎ বলা হয় যে, কষ্ট করে অতো কিছু করার দরকার নেই বরং একটা মাত্র কাজ করলেই চলবে। তাহলে আপনি কী করবেন?

চট-জলদি নিশ্চয়ই সেই প্রক্রিয়াটিই অনুসরণ করবেন?

হ্যাঁ, আপনার জন্যই বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে বিবিসি এনেছে স্বাস্থ্য-সুরক্ষার সহজ তরিকা।

মানুষ সারাক্ষণ দেহের সুস্থতা নিয়ে ভাবে। আর এটি সহজও বটে। কিন্তু ব্রিটেনের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ও এক্সারসাইজ বিষয়ক শিক্ষক ড. নেডাইন স্যামি বলেছেন, আমাদের নিজেদের মনের উপরে বিশেষ খেয়াল দেয়া দরকার। তার মতে, আত্ম-সচেতনতা বাড়িয়ে মনের উপরে আমাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব।

ড. স্যামি বলছিলেন, আত্ম-সচেতনতা এমন এক জিনিষ যা মানুষকে তার নিজের আবেগ, অনুভূতি ও ইচ্ছে-অনিচ্ছা অনেক নিবিড়ভাবে চিনতে সহায়তা করে। তার মতে, নিজের অনুভূতিকে চেনার মধ্য দিয়েই মানুষ নিজের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারে।

নিজের সম্পর্কে ব্যক্তির ধারণা যত নির্ভুল ও গভীর হবে, ততই সে তার নিজের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো জানবে। এই জানার মাধ্যমেই নিজের দুর্বলতাগুলোকে কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়ে উঠে বলে মনে করেন ড. স্যামি।

৩.  শখের কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন

শারীরিকভাবে কর্মক্ষম থাকতে জিমে যাওয়া বা ভোরে দৌড়ানোর চেয়েও আপনাকে আরো বেশি কাজে কায়িক পরিশ্রমে ব্যস্ত করে রাখবে শখের কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে।

এবারিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. রিস থেচার বলছিলেন, জিম হয়তো কারো কারো জন্য একটা ভালো সমাধান হতে পারে। কিন্তু তা সবার জন্য নয়। তাই এক্ষেত্রে মোক্ষম উপায় হতে পারে শখের কোনো কাজ।

যদি কোন কাজে দিনে দুইবার কমপক্ষে ৩০-৪০ মিনিট করে সময় দেন যেমন বাগানে পানি দেওয়া ও গাছের পরিচর্যা করা তাহলে কাজের মাধ্যমে মনের ভিতর প্রশান্তি লাভ করবে আর এভাবেই রোজকার কাজের ভেতর দিয়ে শরীর ও মনের সুরক্ষা হবে।

৪. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান

ম্যাথিউ ওয়াকার বলেন, শরীরের ওপর ঘুম কম হওয়ার নানারকম প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, এর ফলে প্রজননতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যেসব পুরুষ রাতে মাত্র পাঁচ বা ছয় ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে দাঁড়ায় তাদের চেয়ে প্রায় দশ বছর বেশি বয়সীদের সমান। অর্থাৎ প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুম একজনের শারীরিক বয়সকে তার প্রকৃত বয়সের চেয়ে দশ বছর বাড়িয়ে দেয়।

হ্যা, পর্যাপ্ত ঘুমের কথাই বলা হয়েছে। একজন পরিণত বয়সের মানুষের রাতে গড়ে দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম দরকার। কিন্তু একটানা যদি ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকে তবে শরীরের উপরে এর খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এক্সেটার ইউনিভার্সিটির স্পোর্ট এন্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ড. গেভিন বাকিংহাম বলেছেন, ঘুম কম হলে মানুষের কগনিটিভ ফাংশান বা নতুন জিনিস শেখার ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়।

ঘুমের ঘাটতির নেতিবাচক প্রভাবে এমনকি অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও ব্যক্তি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে পরে বলে জানালেন ড. বাকিংহাম। তাই, দেহ ও মনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর জন্য কী কী করবেন

  • রাতে তাড়াতাড়ি খান
  • ভারী খাবার খাবেন না
  • মাছ, মাংস, ডিম আপনার রাত্রিবেলা এড়িয়ে চলাই ভালো এগুলো খাবার রাতে এড়িয়ে চলুন
  • চা, কফি খাবেন না
  • মদ বা নেশা জাতীয় খাবেন না

৫. সপ্তাহে ৩০ পদের সবজি ও ফল-ফলাদি

লন্ডন কিংস কলেজের একজন গবেষণা ফেলো ড. মেগান রসি বলছিলেন, শুধু বেশি করে সবজি ও ফল-ফলাদি খেলেই হবে না। এর মধ্যে বিভিন্ন জাতের ভিন্নতাও থাকা জরুরি দরকার। ড. রসির মতে, প্রতি সপ্তাহে সব পদ মিলেয়ে যদি ভিন্ন-ভিন্ন ৩০ পদের সবজি ও ফল-ফলাদি খাওয়া যায় তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

আমাদের পাকস্থলীতে মাইক্রোবায়োম বলে একটি ব্যাকটেরিয়া আছে। এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের সুস্বাস্থ্যের উপরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। তাই এক্ষেত্রে যত বেশি সম্ভব লতা-পাতা ও উদ্ভিজ্জ সবজি খেতে পরামর্শ দিয়েছেন ড. রসি।

আরও চোখ রাখুন-

চুল পড়া রোধে প্রাকৃতিক উপায় বিস্তারিত জানতে –  ভিজিট করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিমূলক টিপস্ বিস্তারিত জানতে –  ভিজিট করুন

৬. সব সময় হাসিখুশি থাকুন

ড. জেমস গিল বলছেন, মানুষের উচিত সুখী হওয়ার চেষ্টা করা। এখন আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসতে পারে যে, সুখী হওয়া কি আর চাট্টিখানি কথা? নাকি চাইলেই সুখী হওয়া যায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি হাসলে সুখী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এক্ষেত্রে ড. গিলের উত্তর হচ্ছে, সহজেই সুখী হওয়া যায়। সুখী থাকার সহজ উপায় হিসেবে বেশি করে হাসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কিভাবে হাসিখুশি থেকে পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলবেন, সেটাই তুলে ধরা হলো এখানে।

বিষয়গুলো হলোঃ-

  • বেশি বেশি অনুশীলন করুন
  • নিজের কাজকে সেরা ভাবুন
  • নেতিবাচক চিন্তা দূর করুন
  • নিজের সম্পত্তির চেয়ে অভিজ্ঞতা বেশি উপভোগ করুন
  • নিজের মধ্যে সুখ খুঁজুন
  • অন্যকে সাহায্য করুন
  • নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন

৭. পরোপকারিতা

শুধু নিজের জন্য ভাববেন না। নিজের পাশাপাশি পরিবার, প্রিয়জনদের কথাও ভাবুন। অন্যের উপকার করলে মানসিকভাবে অনেকটাই শান্তি পাবেন। এমন অনেকে আছেন, যাদের আপনার সাহায্যের প্রয়োজন, তাদের পাশে থাকুন। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের ভালো রাখার চেষ্টা করুন। এতে তাদের পাশাপাশি আপনিও ভালো থাকবেন।

শেষের কথা, শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপরের নিয়মগুলো ভালোভাবে মেনে চলুন এবং পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদান করার চেষ্টা করুন, কারন নিয়মিত রক্তদান মানুষের স্বাস্থের জন্য ভীষণ উপকারি। এছাড়াও ডায়েট, অনুশীলন, স্বস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত ঘুমের সঠিক রুটিনে থাকলে আপনি বহুদিন ধরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন। তবে এর পাশাপাশি নিয়মিত অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে ভুলবেন না।

Leave a Comment