বর্ষাকালে কাপড় শুকানো ও ঘর–বিছানার স্যাঁতসেঁতে ভাব কমানোর উপায়

চলছে বর্ষাকাল। নিয়মিত বৃষ্টি হলেও এই সময়েও কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করতে হয়। সেইসঙ্গে আছে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মশারি, কুশন কভার, পর্দা ইত্যাদি। সুস্থ থাকতে চাইলে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। এই সময় জামাকাপড় শুকানো নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। সারাদিন রোদ নেই, অনেকে ঘরের মধ্যেই দড়ি দিয়ে ফ্যানের বাতাসে কাপড় শুকান। ভালো করে জামাকাপড় শুকাতে চায় না বলে এতে একটা স্যাঁতসেঁতে ভাব তো থাকেই, সঙ্গে ছত্রাকও হয়। তবে যদি কিছু ঘরোয়া উপায় মাথায় রাখেন তা হলে এই সময়েও জামাকাপড়ে দুর্গন্ধ হয় না।

বাড়ির মধ্যে কাপড় শুকাতে হলে ফ্যানের নিচে দিন জামাকাপড়। শোয়ার ঘরে কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না। তবে এমন ঘরে দিন, যেখানে বাইরের আলো-বাতাস আসে।

বর্ষায় জামাকাপড় ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে জীবাণু কমানো সহজ হবে। বাইরে শুকাতে দেওয়া কাপড় হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে, সেই কাপড় আরও একবার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। তারপর দিন ফ্যানের নিচে। কাপড় শুকিয়ে ভাঁজ করে তুলে রাখার সময় কাপড়ের মাঝে মাঝে কালো জিরা দিয়ে রাখুন। আলমারিতে আলাদা করে দিন ন্যাপথলিন।

কাপড়ে হালকা স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকলে ভালো করে ইস্ত্রি করে নিন। এতে পোশাকের স্যাঁতসেঁতে ভাবও যাবে আবার জীবাণুও গরমে নষ্ট হবে। ধোয়ার আগে জামাকাপড় ভিজিয়ে রাখুন কিছু সময়। এতে ময়লা যাবে দ্রুত এবং ভালো করে পানি ঝরিয়ে দিলে শুকাবেও তাড়াতাড়ি। 

বর্ষাকালে ভেজা কাপড় ঠিকভাবে শুকানো দারুণ ঝামেলার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ভেজা থাকার ফলে বাজে গন্ধও দেখা দেয় কাপড়ে। বর্ষাকালে কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজে কাপড় শুকানো যাবে। 

১. সূর্যের আলো কাপড় শুকাতে একটি প্রভাবশালী এবং নির্ভরযোগ্য উপায় হতে পারে। নিম্নে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলো

ক) উপযুক্ত স্থান বেছে নিন: সূর্যের আলো কাপড় শুকাতে সঠিক স্থান বেছে নিতে গুরুত্বপূর্ণ। সকালে সূর্যের প্রথম আলো এসে থাকে, তাহলে সেই সময়টিতে কাপড় বাহ্যিক আকর্ষণের সামনে থাকতে পারে।

খ)  কাপড় সূর্যের দিকে তুলুন: সূর্যের আলোতে কাপড় সোজা দিকে তুলে দিন। এটি আলোর সঠিক উপায়ে প্রতিদিন কাপড় শুকাতে সাহায্য করতে পারে।

গ)  বাঁকা বা জানালা ব্যবহার করুন: যদি সান ব্রাইট এবং তাপমাত্রা অত্যন্ত উচ্চ না থাকে, তাহলে কাপড়গুলি বাঁকা বা জানালায় বিছানো যায়। এটি কাপড় শুকাতে সাহায্য করতে পারে এবং স্যাঁতসেঁত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

ঘ) কাপড়ের অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে নিন ভারী কাপড়, যেমন জিনসের প্যান্ট, পোলো শার্ট, বিছানার চাদর, টেবিল ক্লথ এগুলো ধোয়ার পর বাথরুমের স্ট্যান্ডে কিছুক্ষণ ঝুলিয়ে রেখে দিন। এতে কাপড়ের বাড়তি পানি ঝরে যাবে। ফলে কাপড় শুকাতে অপেক্ষাকৃত কম সময় প্রয়োজন হবে। পানি ঝরে যাওয়ার পর ঘরে দড়ি টাঙিয়ে কাপড়গুলো নেড়ে দিতে পারেন। যদি বাসার বাইরে না যান তাহলে যে ঘরে থাকবেন সে ঘরেই কাপড় শুকান। তাতে ফ্যানের বাতাসে কাপড় শুকিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎ অপচয় কম হবে। এ ছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় মশারির ওপর অপেক্ষাকৃত পাতলা কাপড়গুলো নেড়ে দিতে পারেন। তাতে সারা রাতে কাপড় ভালোভাবে শুকিয়ে যাবে।

ঙ)  মাঝে মাঝে উলটি দিন: কাপড় দিকে আলোর দিকে রাখার জন্য সান ব্রাইটে পাঠানোর জন্য আপাতত কাপড়গুলি উলটি দিন।

২.  ভালো প্রদীপ ব্যবহার করে একটি ঘরে বা সুরক্ষিত স্থানে কাপড় শুকাতে পারেন। নিম্নলিখিত ধাপগুলি মাধ্যমে আপনি এই প্রক্রিয়াটি সাফল্যের সাথে পালন করতে পারেন

ক)  উপযুক্ত প্রদীপ বেছে নিন: একটি ভালো প্রদীপ বেছে নিতে গুরুত্বপূর্ণ। LED বা হালোজেন প্রদীপগুলি উপযুক্ত হতে পারে, যেগুলি কাপড়ের কাছে ব্যবহার করা সুরক্ষিত।

খ)  সুরক্ষিত স্থান বেছে নিন:  সূর্যের আলো প্রাপ্ত না হওয়া স্থান বেছে নিন, যেখানে আগাম পর্যন্ত কাপড় সুরক্ষিত থাকতে পারবে। স্থানটি বিশেষভাবে নির্মিত হতে পারে যেন প্রদীপের জ্বলন্ত আগ কাপড়ে পৌঁছাতে না পারে।

গ) কাপড় উচ্চতা দিয়ে বেছে নিন: প্রদীপটি বা প্রদীপগুলি উচ্চ স্থানে স্থাপন করে যাতে কাপড়ের সাথে যোগাযোগ না হয়। এটি আগ এবং কাপড়ের জ্বলন্ত যোগাযোগ পূর্বাপেক্ষা করতে সাহায্য করবে।

ঘ) কাপড় স্থানান্তর করুন: কাপড় আপনার প্রদীপের নিচে পৌঁছাতে প্রদীপটি স্থানান্তর করার সময় নিশ্চিত হোক। কাপড় নাড়াচাড়ায় প্রদীপের সাথে সংঘটিত হওয়া পাত পেতে  সাহায্য করতে পারে।

ঙ)  সবসময় দেখাশুনা  করুন: কাপড় শুকানোর সময় সবসময় উপস্থিত থাকুন। প্রদীপটি অবাঞ্ছিত জ্বলন্ত তাপ শোষণ করতে সাহায্য করতে পারে এবং কাপড় সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৩. বায়ুশোধন সিস্টেম ব্যবহার করে কাপড় শুকাতে সহায়ক হতে পারে। এই ধাপগুলি মাধ্যমে আপনি এই সিস্টেমটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন

ক) সঠিক সিস্টেম বেছে নিন: প্রথমেই, আপনার জন্য যে বায়ুশোধন সিস্টেম সঠিক আছে তা নিশ্চিত করুন। ব্যবহারে সহায়ক এবং সুরক্ষিত একটি সিস্টেম বেছে নিতে গুরুত্বপূর্ণ।

খ)  কাপড় স্থান বেছে নিন: বায়ুশোধন সিস্টেমে ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত বিচার বেছে নিন, যেখানে কাপড় সুরক্ষিত রাখতে পারে।

গ) স্যাঁতসেঁত করার পর ব্যবহার করুন: বায়ুশোধন সিস্টেমটি স্যাঁতসেঁত করার পরে ব্যবহার করতে পারেন। এটি কাপড়ের স্যাঁতসেঁত প্রসারিত হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে না।

ঘ) সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ করুন: বায়ুশোধন সিস্টেমের তাপমাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারণ করুন। অতিরিক্ত তাপমাত্রা কাপড়ের ক্ষতি উত্তোলন করতে পারে।

ঙ)  সময় নির্ধারণ করুন: স্যাঁতসেঁতের পরে বায়ুশোধন সিস্টেম ব্যবহার করার সময় নির্ধারণ করুন। এটি কাপড়ের উপর ব্যবহারের ক্ষতি নতুন করতে পারে।

চ) সতর্ক থাকুন: বায়ুশোধন সিস্টেম ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকুন, যাতে কাপড়ে কোন ক্ষতি না হয়।

এই ধাপগুলি মাধ্যমে আপনি বায়ুশোধন সিস্টেম ব্যবহার করে কাপড় শুকাতে সহায়ক হতে পারেন। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই সিস্টেমটি সাবধানে এবং সুরক্ষিতভাবে ব্যবহার করতে হবে।

 বর্ষাকালে ঘরের আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে ভাব কমাতে 

অনেক সময় টানা বৃষ্টিদিনে ঘরে পুরোদমে ফ্যান ছেড়ে রাখলেও কাপড় শুকাতে চায় না। এর কারণ ঘরের মাত্রাতিরিক্ত আর্দ্রতা। এ জন্য মেঝেও স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে কখনো কখনো। ঘরের আর্দ্রতা কমাতে একটি বাটিতে দুই টেবিল চামচ লবণ নিয়ে ঘরের এক কোনায় রেখে দিতে হবে। এটি ঘরের বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নেবে। পাশাপাশি কাপড়ও সহজে শুকিয়ে যাবে। এ ছাড়া ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে আরও কিছু বিষয় মেনে চলতে পারেন। 

ঘরে বাতাস চলাচল করতে দিন

ঘরের দরজা–জানালা সারাক্ষণ বন্ধ রাখলে তাতে গুমোট ভাব তৈরি হয়। ফলে এই মৌসুমে ঘর স্যাঁতসেঁতে হয়ে ওঠে। ঘরে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাইরে থেকে ফিরে বাড়ির সব দরজা জানা খুলে দিন। বাড়িতে থাকলে সারা দিন জানালা খুলে রাখুন, যাতে বাতাসের সঙ্গে বাইরের আলোও ঘরে প্রবেশ করতে পারে। পর্যাপ্ত আলো বাতাসের চলাচলে ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব অনেকটাই কমে যাবে। 

বর্ষায় হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করুন

রোদের প্রকোপ ঠেকাতে পুরো গ্রীষ্মকাল জানালায় গাঢ় রঙের ভারী পর্দা টাঙিয়ে রাখেন অনেকে। মোটা ও ভারী কাপড়ের পর্দা বাতাস থেকে আর্দ্রতা বেশি শোষণ করে। এতে পুরো ঘর স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এবার সেগুলো নামিয়ে ফেলুন। হালকা রঙের পাতলা পর্দা টাঙিয়ে দিন এই বর্ষায়। এতে ঘর স্যাঁতসেঁতে হবে না। 

মেঝে পরিষ্কারে মনযোগ দিন

বর্ষাকালে এমনিতেই মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। মেঝেতে এক ধরনের আঠালো ভাবও থাকে অনেক সময়। তাই সপ্তাহে একবার জীবাণুনাশক ও ডিটারজেন্ট মেশানো পানি দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ফ্যান ছেড়ে ভালোভাবে মেঝে শুকিয়ে নিতে হবে। 

বর্ষায় কার্পেট নয়

এই ঋতুতে বসার ঘরে কার্পেট বিছানো থেকে বিরত থাকুন। কারণ কার্পেট বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে বলে ঘরে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা দেয়। 

আরও পড়ুন:

প্লাস্টিক দূষণ: আমাদের করণীয়

সর্বজনীন পেনশনের জন্য যেভাবে আবেদন করবেন

উপসংহারে যাযা খেয়াল রাখতে হবে —

* অন্দরে সুগন্ধিযুক্ত মোমবাতি, এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। এতে গুমোট ভাব চলে যাবে।

* ভাঁজ করে রাখা কাপড়েও সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন।

* এ সময় এমন পোশাক পরুন যা সহজেই ধুয়ে শুকানো যায়। যেমন জর্জেট কিংবা সিল্কের কাপড়।

* তিল পড়া বা ফাঙ্গাসযুক্ত কাপড় গুঁড়ো সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। জর্জেটের কাপড় চাইলে শ্যাম্পু দিয়েও ধুতে পারেন।

* উজ্জ্বল রঙের কাপড় ধুতে দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। কেননা অনেক সময় এক কাপড়ের রং অন্যটিতে লেগে যায়। যদি এমনটি হয়েও যায়, তবে কাপড়গুলো আবার আলাদা করে অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে লেবুর রস কিংবা ট্যালকম পাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন।

* বারান্দায় কিংবা লিভিং রুমে রাখা বিভিন্ন গাছের টবে যাতে অতিরিক্ত পানি না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

* বইয়ের তাক এবং ছবির ফ্রেম নতুন করে বার্নিশ করে নিতে পারেন। তাকে রাখা বইগুলোর ফাঁকে শুকনো নিমপাতা, ন্যাপথলিন রেখে দিন।

1 thought on “বর্ষাকালে কাপড় শুকানো ও ঘর–বিছানার স্যাঁতসেঁতে ভাব কমানোর উপায়”

Leave a Comment