চুল পড়া রোধে প্রাকৃতিক উপায়

Spread the love

চুল পড়ার সমস্যা কম বেশি সবারই দেখা দেয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও দূষণের কারণে আজকাল অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চুল পড়া বন্ধ করার জন্য নানাকিছু ব্যবহার করেও সমাধান পাচ্ছেন না অনেকে।

চুল পড়া বন্ধ করার জন্য বাজার থেকে কিনে আনা কেমিক্যালযুক্ত পণ্যের বদলে ব্যবহার করুন ঘরোয়া উপাদান। জেনে নিন চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়।  ঠিকঠাক পরিচর্যা করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। 

রূপচর্চা-বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে চুল পড়া কমানোর ঘরোয়া উপায় এখানে দেওয়া হল।

গরম তেল মালিশ করা

 নারিকেল বা জলপাইয়ের তেল গরম করে আঙ্গুলের সাহায্যে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। এটা চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, গোড়া শক্ত হয় এবং মাথার ত্বকের উন্নতি হয়।  

পেঁয়াজের রস

 এর সালফার উপাদান চুল পড়া রোধে সাহায্য করে, চুলের ফলিকলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলিকলের সংক্রমণ কমিয়ে পুনুরুজ্জিবিত করে। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বকে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করে। ফলে চুল পড়া কমে।   

বিটের রস

 বলা হয়ে থাকে শরীরের সর্বরোগের সমাধান রান্নাঘরেই রয়েছে। চুল পড়া কমাতে ও সার্বিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে বিট সাহায্য করে। তাই চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে প্রতিদিন খাবার তালিকায় বিট রাখার চেষ্টা।

গ্রিন টি

 চুলের ফলিকল পুনুরুজ্জীবিত করতে ও চুল গজাতে সাহায্য করে। এছাড়া, গ্রিন টি বিপাক বাড়ায় ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুলের বৃদ্ধি হয়। গ্রিন টি’র দ্রবণ দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

মিতব্যয়ী হওয়ার মূল্যবান পাঁচটি টিপস্ বিস্তারিত জানতেভিজিট করুন

প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে ব্যবহার কারতে পারেন

আমলকী

 চুল পড়ার অন্যতম কারণ ভিটামিন সি’র অভাব। আমলকী ভিটামিন সি’র ভালো উৎস। চুল সুন্দর রাখতে এর বিকল্প নেই। এই ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ব্যাকটেরিয়া রোধী উপাদান যা খুশকি ও মাথার ত্বকের সংক্রমণ দূর করে। আমলকী মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবারহ করে চুল শক্ত ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।

নিম পাতা

 এর ঔষধি গুণ সবারই জানা। এটা চুল পড়া কমাতেও সাহায্য করে। নিমের ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস রোধী উপাদান খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। চুলের ফলিকল শক্ত করতে ও বৃদ্ধি করতে নিম সহায়তা করে। চাইলে নিমের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

নিম পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে পেস্ট বানিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর শ্যাম্পু করে নিন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

আমলকী

ভিটামিন সি যুক্ত আমলকী চুল পড়া বন্ধ করতে দারুণ কার্যকর। আমলকী বেটে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আমলকী থেঁতো করে নারকেল তেলে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই তেল চুলে ম্যাসাজ করলেও উপকার পাবেন।

পেঁয়াজের রস

চুলের গোড়া শক্ত করতে পেঁয়াজের রসের জুড়ি নেই। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। পেঁয়াজের রসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে। ফলে স্কাল্প ইনফেকশনের সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার অশঙ্কাও হ্রাস পায়।

চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায়

মেথি

চুল পড়া আটকাতে মেথি দারুন কাজে আসে। আসলে এতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো যখনই দেখবেন চুল পড়ার হার খুব বেড়ে গেছে, তখনই অল্প করে মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস পানিতে এক রাত ভিজিয়ে রাখবেন। পরদিন বীজগুলি বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানাবেন। সেই পেস্টটা ভাল করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে নেবেন। টানা একমাস, প্রতিদিন এই মিশ্রনটি মাথায় লাগালে চুল পড়া তো কমবেই, সেই সঙ্গে মাথা ভর্তি চুলের স্বপ্নও পূরণ হবে।

মহিলাদের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

নিমপাতার 

ত্বক ও চুলের যত্নে নিমপাতার ব্যবহার অনেক পুরোনো। নিমে থাকে উচ্চমাত্রায় ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বকের জন্য ‍উপযুক্ত। আর মাথার ত্বক ভালো থাকলেই চুলের বৃদ্ধি ভালো হবে। যারা চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি একটি উপকারী উপাদান। নিয়মিত নিমপাতা ব্যবহার করলে তা স্ক্যাল্প থেকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বন্ধ করে। ফলে চুলের গোড়া শক্ত হবে। নারিকেল তেলের সঙ্গে নিমপাতার রস মিশিয়ে তা স্ক্যাল্প ও চুলে ব্যবহার করলে চুল লম্বা হবে দ্রুত। সেই সঙ্গে মাথার ত্বকের যেকোনো সমস্যাও হবে দূর।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ টিপস্ জানতে – ভিজিট করুন

টক দই

২ চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ লেবুর রস নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। যখন দেখবেন প্রতিটি উপাদান ঠিক মতো মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটা ভাল করে চুলে লাগিয়ে কম করে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এর পরে চুলটা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার করলেই দেখবেন চুল পড়ার হার কমতে শুরু করেছে।

Leave a Comment