ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়- ইউটিউব হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের অন্যতম একটি পরিসেবা। সারা বিশ্বে যতগুলো সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ইউটিউব অনেক জনপ্রিয়। সামাজিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে ইউটিউব দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইন্টারনেট এবং এন্ড্রয়েড মোবাইল সহজলভ্য হওয়ায় ইউটিউব এখন মানুষের হাতে হাতে।

একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়- মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৪০ মিনিট করে ইউটিউব ভিডিও দেখে থাকে। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিদিন সারা বিশ্বের মানুষ প্রায় দুইশত কোটি ঘন্টা ইউটিউব ব্যবহার করে থাকে।

এজন্য ইউটিউব এখন আর শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ইনকামের একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। সারা বিশ্বের বহু মানুষ ইউটিউব থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার ইনকাম করছে। আমাদের দেশেও অনেকেই ইউটিউব থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

ইউটিউবকে অনেকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কেননা, ইউটিউব হচ্ছে অনলাইন ইনকামের এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখান থেকে খুব সহজেই প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায়।

অনলাইন জগতে ইনকাম করার জন্য ইউটিউবের চেয়ে সহজ আর কোন মাধ্যম হয়তো নেই। এটাকেই আমার কাছে সবচেয়ে সহজ মনে হয়েছে।

আপনিও কি ইউটিউবার হতে চান? অনলাইন থেকে আপনিও কি ইনকাম করতে চান? আপনি কি নতুন শুরু করতে চাচ্ছেন? যদি সত্যিই ইউটিউব থেকে আয় করতে চান তাহলে এই পোষ্টটি আপনার জন্য।

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে আজ আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। চলুন দেরী না করে শুরু করা যাক।

ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য যা যা প্রয়োজন-

ক) কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা এন্ড্রয়েড মোবাইল।
খ) ইন্টারনেট সংযোগ।
খ) একটি ভালো মানের ক্যামেরা। যে ক্যামেরা দিয়ে HD কোয়ালিটির ভিডিও ধারণ করা যায়।
গ) একটি ইউটিউব চ্যানেল।
ঘ) এডসেন্সের অনুমোদন
ঙ) চ্যানেলে ১০,০০০ ভিউ, ৪০০০ ঘন্টা ভিডিও ওয়াচ টাইম এবং ১০০০ সাবস্ক্রাইবার
ছ) ভালো মানের প্রচুর ভিডিও।
জ) ভিডিও এডিটিং এর অভিজ্ঞতা।

ভিডিও তৈরী করে কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়?

আমাদের দেশের অনেকেই জানেন ভিডিও তৈরী করে এডসেন্সের মাধ্যমে কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়। তবুও যারা জানেন না তাদের জন্য লিখছি।

আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক ইউটিউবার আছেন যারা গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ইউটিউব থেকে আয় করছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তারা ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করে ইনকাম করছেন। তো চলুন জেনে নেই ভিডিও বানিয়ে কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়?

ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। যে বিষয় আপনি ভালো পারেন সেটা নিয়ে ভিডিও তৈরি করুন। তবে ভিডিও তৈরী করার পূর্বে অবশ্যই High resolution ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। ভিডিওটি যেন HD কোয়ালিটির হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

কেননা, ভিডিও HD কোয়ালিটির না হলে ভিজিটররা ভিডিওটি দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। ভিজিটর আপনার ভিডিওতে প্রবেশ করার পর, যদি দেখে ভিডিও’র কোয়ালিটি ভাল না, তাহলে তারা আপনার ভিডিও দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তারা আপনার ভিডিও স্কিপ করে দ্রুত বের হয়ে চলে আসবে। ভিডিওর কন্টেন্ট, কোয়ালিটি, প্রফেশনাল লুক ইত্যাদির মাধ্যমে আপনার চ্যানেলে ভিজিটর ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ভিডিও ধারণ করা হয়ে গেলে এবার ভিডিওতে যে ত্রুটিগুলো রয়েছে সেগুলো এডিট করুন। ভিডিও রেকর্ড করার পর সাধারণত যে সমস্যাগুলো দেখা যায়-

ক) বাইরের অনেক নয়েজ থাকে।
খ) সাউন্ড সিস্টেম পরিস্কার থাকে না।
গ) আউটলুকিং সুন্দর থাকে না।

ভিডিও এডিটিং বা প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরী-

বর্তমানে ভিডিও এডিটিং এর অনেক সফ্টওয়্যার বা এ্যাপস রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার ধারণকৃত ভিডিওকে খুব সহজে এডিট করতে পারবেন।

ভিডিওতে বাইরের নয়েজ থাকলে তা দূর করা যায়, সাউন্ডে বা ভয়েসে কোন সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা যায়।

এমনকি ভিডিওতে সাউন্ড বা ভয়েস এ্যাডও করা যায়। বিভিন্ন মোশন গ্রাফিক্স ব্যবহার করে ভিডিওর লুকিং সুন্দর করা যায়। এক কথায় এডিটিং এর মাধ্যমে ভিডিওকে প্রফেশনাল মানের ভিডিওতে রূপান্তর করা যায়।

একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন- যে ভিডিও দিয়ে আপনি ইনকাম করতে চাচ্ছেন, সে ভিডিও অবশ্যই প্রফেশনাল মানের হওয়া উচিত।

প্রফেশনাল ভিডিও তৈরী করতে ভিডিও এডিটিং এ দক্ষতা থাকা এবং একটি ভালো মানের ক্যামেরা থাকা জরুরী। তবে বর্তমানে অনেক মোবাইলেই ভালো ক্যামেরা আছে। এগুলো দিয়েও HD কোয়ালিটির ভিডিও বানানো যায়।

যাই হোক, একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরী করুন। চ্যানেল তৈরী করা হয়ে গেলে আপনার বানানো ভিডিওগুলো চ্যানেলে আপলোড করতে থাকুন। ভিডিও যত বাড়তে থাকবে, আপনার চ্যানেলের ওয়াচ টাইম এবং সাবস্ক্রাইবারও তত বাড়বে। ইউটিউবে মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করার পূর্বে ইউটিউব কর্তৃক নির্ধারিত ভিউ, ওয়াচ টাইম এবং সাবস্ক্রাইবার পূরণ করতে হবে। অন্যথায় আপনি আপনার চ্যানেলে মনিটাইজেশন পাবেন না।

ওয়াচ টাইম এবং সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করতে ভিডিও তৈরী করার পূর্বে অবশ্যই এমন একটি ক্যাটাগরি নির্বাচন করা উচিত, যেগুলো লোকজন বেশী দেখে থাকে। তাহলে খুব সহজে আপনি আপনার চ্যানেলে ইউটিউব কর্তৃক আরোপিত শর্তানুযায়ী ভিউ, ওয়াচ টাইম এবং সাবস্ক্রাইবার পূরণ হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন।

সাধারণত যে ধরণের ভিডিওগুলো মানুষ বেশী দেখে থাকে, সেগুলোর মধ্যে থেকে কিছু তুলে ধরা হলো-

ক) ফানি ভিডিও
খ) রান্নার ভিডিও
গ) টিউটোরিয়াল ভিডিও
ঘ) শিক্ষনীয় ভিডিও
ঙ) কার্টুন ভিডিও
চ) প্রাণীদের ফানি ভিডিও
ছ) ইসলামিক ভিডিও ইত্যাদি।

মনিটাইজেশন কি?

মনিটাইজেশন শব্দটি এসেছে Monetize শব্দ থেকে। এর অর্থ হলো কোন বিজনেস বা এ্যাসেট থেকে টাকা ইনকাম করা। যে উপায়ে ইউটিউব ভিডিওগুলোতে বিজ্ঞাপন বা এ্যাড দেখানোর মাধ্যমে ইনকাম করা যায় সেই উপায়কেই বলা হয় ইউটিউব মনিটাইজেশন।

ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল?

ইউটিউব থেকে আয় হালাল কিনা এটি কমন একটি প্রশ্ন। অনেকেই প্রশ্নটি করে থাকেন।

বিশেষ করে সারা বিশ্বের মু’মিন মুসলমান এ প্রশ্নটি করে থাকেন। এটি কিন্তু খুবই ভালো একটি প্রশ্ন। আমি বলব অবশ্যই ভালো প্রশ্ন।

কেননা, মুসলমান কখনো হারাম ইনকাম করতে পারে না। প্রকৃত মু’মিন যারা, তারা অবশ্যই সতর্কতার সাথে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে, তার ইনকাম হালাল হচ্ছে কিনা বা তার ইনকামের মধ্যে হারাম কোন কিছু আছে কিনা।

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ইনকাম করতে হয়, আর সেই ইনকাম যদি হারাম পন্থায় হয়, এটা কি একজন মু’মিনের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব? অবশ্যই না।

কেননা, মহান আল্লহ্ তা’আলা ইবাদাত কবুল হওয়ার জন্য শর্ত আরোপ করেছেন- ইবাদাতকারীর ইনকাম অবশ্যই হালাল পন্থায় হতে হবে।

এজন্য একজন মু’মিন বান্দা ব্যবসা, চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং যে উপায়েই ইনকাম করুক না কেন, তা হালাল কিনা যাচাই করে নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় মু’মিন মুসলমান প্রশ্ন করে থাকেন যে, ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল নাকি হারাম?

ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল নাকি হারাম এ সম্পর্কে জানার আগে, যে বিষয়টি জানা জরুরী তাহলো- ইউটিউব থেকে আয় করার করার উপায়গুলো কি কি? তাহলে পরিস্কারভাবে বুঝা যাবে ইউটিউব থেকে আয় হালাল নাকি হারাম।

কি কি উপায়ে ইউটিউব থেকে আয় করা হয়?

ইউটিউব থেকে বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম করা যায়। উপায়গুলো বর্ণনা করলে আপনারাও বুঝতে পারবেন যে, ইউটিউব থেকে আয় কি সম্পূর্ণই হারাম নাকি হালাল ইনকামও কিছু রয়েছে। উপায়গুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো-

ক) এডসেন্সের মাধ্যমে আয়।
খ) ইউটিউব চ্যানেল বিক্রি করে আয়।
গ) ইউটিউবে নিজের কোন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে আয়।
ঘ) ইউটিউবে ট্রেনিং দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা নেওয়ার মাধ্যমে ইনকাম।
ঙ) অন্যের প্রডাক্ট রিভিউ ভিডিও তৈরীর মাধ্যমে ইনকাম।

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো এডসেন্স। ইউটিউবে বেশীরভাগ ইনকামই আসে এডসেন্স থেকে। এডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে যে ইনকাম আসে সেগুলোকে ইসলামিক স্কলাররা হারাম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক, ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল নাকি হারাম, এ সম্পর্কে কার কি অভিমত।

ইউটিউব থেকে আয় সম্পর্কে আমাদের দেশের ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে থেকে তিনজেনর বক্তব্য ইউটিউব থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো-

মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্য-

গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউবে টাকা ইনকাম করা, দেখা যাচ্ছে যে, তাফসীর মাহফিলে ওনারা এ্যাড জুড়ে দেয়, তাফসীর মাহফিলের আলোচক হয়তো অশ্লীলতার বিরুদ্ধে ওয়াজ করছিলেন, কিন্তু ঠিক তার ওয়াজের মাঝখানে সাত মিনিট পরেই একটা অশ্লীল ভিডিও চলে আসলো, তো ইউটিউব ওনাররা যে এটা করেছে, এটা শুধুমাত্র কমার্শিয়াল ওরিয়েন্টেড একটা চিন্তা থেকেই ওনারা করেছে।

এখন এটা জায়েজ হবে কিনা? সংক্ষেপে উত্তর দিচ্ছি- না, এটা জায়েজ হবে না।

এর মাধ্যমে তারা যে অর্থ উপার্জন করছে এটা জায়েজ হবে না এই এ্যাড দেয়ার মাধ্যমে। তবে জায়েজ হতে পারে কিছু শর্ত সাপেক্ষে। বেসিক্যালি এখানে দুইটা শর্ত।

এক হচ্ছে কোন্ জিনিষের এ্যাড দেয়া হচ্ছে মানে কন্টেন্টটা কি?

কন্টেন্টটাও হালাল হতে হবে এবং ঐ এ্যাডটা প্রচার করার যে মাধ্যম, পদ্ধতি যেইভাবে এ্যাডটাকে প্রচার করা হলো সেটাও হালাল হতে হবে। লেট ছে- এখানে যদি পর্কের এ্যাড দেয়া হয়, পর্ক কিংবা কোন সিগারেটের ব্র্যান্ডের এ্যাড দেওয়া হয় অথবা কোন মদের, কোন হুইস্কির এ্যাড দেয়া হয়, তাহলে কিন্তু এটা জায়েজ হচ্ছে না।

যদিও অশ্লীল কোন নারীর ছবি সেখানে দেয়নি কিন্তু এ্যাডটাই হচ্ছে, যেটাক প্রমোট করছে ঐ জিনিষটা হারাম।

অথবা কোন হালাল জিনিষের এ্যাড, লেট ছে- কোন খাবারের কোন ড্রিংক্স এর এ্যাড, কোন শরবতের এ্যাড, পেপসি বা কোকাকোলার এ্যাড অথবা কোন বিস্কিটের এ্যাড কিন্তু সেখানে হয়তো নারীকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করছে সেটাও জায়েজ হবে না।

ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল নাকি হারাম-

তাহলে কন্টেন্টও হালাল হতে হবে বা যে প্রডাক্টের এ্যাড দেয়া হচ্ছে সেটা হালাল হতে হবে এবং এ্যডভার্টাইজমেন্টটা কিভাবে করা হচ্ছে, এটার প্রেজেন্টেশনটা কেমন সেটাও হালাল হতে হবে। যেটার এ্যাড দেয়া হচ্ছে এটা যদি হালাল হয় এবং সেখানে যদি অশ্লীল কোন ম্যাসেজ, ক্ষতিকর কোন ম্যাসেজ কথাবার্তা না থাকে, অশ্লীল কোন নারীর দৃশ্যায়ন না থাকে।

এই দুইটি বা তিনটি শর্ত সাপেক্ষে, এই গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ওনারা যে টাকাটা উপার্জন করেন, সেটা জায়েজ হবে।

তা না হলে কন্টেন্ট যদি হারাম হয়, এ্যডভার্টাইজমেন্টের দৃশ্যায়ন যদি হারাম হয়, ক্ষতিকর কোন ম্যাসেজ যদি থাকে এগুলোর মাধ্যমে এ্যাড যোগ করে তারা যে টাকাটা পাচ্ছে এটা আসলে শরয়ী পার্সপেকটিভে এটা জায়েজ হচ্ছে না।

তবে ভালো এ্যাড দেয়ার মাধ্যমে ওনারা যে অর্থ উপার্জন করবেন এটা জায়েজ হবে ইনশা-আল্লহ্। আশা করি বুঝতে পারছেন।

ভিডিওর কথাগুলো এই লিংকে গিয়ে দেখতে পারেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ্’র একটি ভিডিও থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো-

অনেকেই ইসলামিক চ্যানেল ওপেন করেন, আলেম ওলামাদের লেকচারগুলো আপলোড করেন এবং প্রচুর পরিমানে ভিউয়ারদের টানার চেষ্টা করেন, সাবস্ক্রাইবার টানার চেষ্টা করেন, এরপরে তিনি এডসেন্সের মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে টাকা কামাই করেন।

ইউটিউব চ্যানেলে এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা কামাই করা জায়েজ নাই।

কেন জায়েজ নাই?

তার কারণ হলো- ইউটিউব চ্যানেলে আপনি যদি এডসেন্স অপশন ওপেন করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে এডভার্টাইজগুলো দিবে এসব এডভার্টাইজ বৈধ এডভার্টাইজ না।

এখানে নারীর দেহ প্রদর্শিত হবে, এখানে মিউজিক আসতে পারে, এখানে হারাম জিনিষের এডভার্টাইজ হতে পারে।

আপনার চ্যানেলের মাধ্যমে আপনি হারাম এডভার্টাইজের সহায়তা করলেন।

আল্লহ্ বলেছেন- অন্যায়ের কাজে সহযোগিতা করা, অন্যায় কাজ করা সমান।

বিধায়, আপনার চ্যানেলে এই এডসেন্সের অপশন ওপেন করার মাধ্যমে অনেক হারামের প্রচার আপনি করছেন, প্রদর্শন করছেন।

অনেককে চোখর জিনা করাচ্ছেন, অনেককে কানের গুনাহে লিপ্ত করাচ্ছেন। বিধায়, আপনাকে এটার দায় বহন করতে হবে।

সেই কারণে এডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউব চ্যানেলে টাকা কামাই করা কি নাই, জায়েজ নাই।

যে ভিডিও থেকে কথাগুলো নেওয়া হয়েছে আপনার চাইলে দেখে আসতে পারেন। ভিডিওর ২:৪০ – ৩:৪৯ মিনিট পর্যন্ত কথাগুলো রেকর্ড করা হয়েছে।

মতিউর রহমান মাদানীর বক্তব্য-

আমাদের কাছে সমস্যা এই ইউটিউবের ফেতনায়, এই যে পয়সা ইনকাম করা, তাতে দুটো ফেতনা বা দুটো ক্ষতিকর দিক।

সেটা হচ্ছে, একটা হচ্ছে তাতে বিভিন্ন নোংরা এ্যাডগুলো চলে আসেছে। যেটা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না, আস্তে আস্তে যখন নলেজ বাড়লো, কারণ আস্তে আস্তে টেকনোলজি আসছে তো নলেজ বাড়ছে।

আরে ভাই একি কাম খারাপ হচ্ছে! বক্তব্যের মাঝে বার বার করে এ্যাড আসছে।

কখনও মহিলার অর্ধ উলঙ্গ ছবি চলে আসছে, সামান্য একটু কাপড় শরীরে আছে না আছে, কখনো মিউজিক চলে আসছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এইভাবে এ একটি বড় ফেতনা। একটা লোক ওয়াজ শুনতে চাইছে, দ্বীনের কথা তৌহিদ সুন্নাত শুনতে চাইছে।

কিন্তু সেখানে কি হচ্ছে, নোংরা এ্যাড এসে সেখানে মানুষের চরিত্র, আমল, ঈমানকে নষ্ট করে দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশে যখন সফর করলাম।

অনেক হিতাকাঙ্খি ভাইয়েরা যারা নিয়মিত এমনকি ফারায়েজের দারস্ যেগুলো সাধারণত শোনে না, সুস্থ্য দারস্ সেগুলোও ফলো করতো।

তারা অনেকেই বলল যে ভাই, শায়েখ আপনার দারস্ আর শুনতে পারি না অথবা সহিহ আক্বিদার আলেমদের দারস্ অনেকেই শুনতে পারিনা।

কারণ বলছে শোনা শুরু করি এ্যাড আসা শুরু হয়। খারাপ এ্যাড আসতে লাগে, মিউজিক আসতে লাগে, মহিলাদের ছবি আসতে লাগে তখন খুব খারাপ লাগে।

যার ফলে এগুলো বাদই দিয়েছি, আর ইন্টারনেটে ইউটিউবে ওয়াজই শুনব না, নাউযুবিল্লাহ্। তাহলে কত ক্ষতি করলেন আপনি দাওয়াতের। আপনার পয়সার ফেতনার জন্য কত ক্ষতি করলেন আপনি।

ইউটিউব থেকে আয় কি হালাল হবে?

আরেকটি ক্ষতি দাওয়াতের ময়দানে এই পয়সার ফেতনায় লিপ্ত হওয়ার কারণে সেটা হচ্ছে কপিরাইট।

যেই ব্যক্তি ডলার নেওয়া শুরু করলো, সেই ব্যক্তি একেবারে এমন দখল করে ফেলল, আর ইউটিউবের যে কোম্পানী আছে তাদের সিস্টেমে, এখান থেকে কেউ যদি কপি করে আপলোড করে তাহলে তার এই ক্ষমতা নেই।

আর তাকে রেড সিগন্যাল চলে আসবে আর খবরদার তুমি এই কাজ করবে না না হলে তোমারটা শেষ।

তার মানে দাওয়াতি কাজকে কত আপনি সংকীর্ণ করে দিলেন।

দাওয়াতি কাজের রাস্তাকে আমরা প্রশস্ত করতে চাই, মানুষের কাছে কথাগুলো পৌঁছাইতে চাই, আর আপনি সেটাকে সীমিত করে দিলেন।

এই ফেতনার কারণে। আমার উম্মতের ফেতনা হচ্ছে ধন-সম্পদ। আল্লহ্ যেন সমস্ত ফেতনা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক্ব দান করেন। আমীন।

ভিডিও লিংক থেকে তার বক্তব্য দেখে নিতে পারেন। ভিডিওর সময়- ০:১২ – ২:৩৯ মিনিট।

ইউটিউব থেকে আয় সম্পর্কে তিনজন ইসলামিক স্কলারের বক্তব্য শুনে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় এডসেন্সের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয় হারাম বা জায়েজ নেই।

ইউটিউব আমাদের চ্যানেলগুলোতে কিভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করে?

বর্তমানে ইউটিউব আমাদের চ্যানেলগুলোতে নতুন নিয়মে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। আগে এই নিয়ম ছিল না। আগেকার নিয়ম ছিল, যদি কোন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বা এ্যাড প্রচার করতে হয় তাহলে সে চ্যানেলে অবশ্যই গুগল এডসেন্সের অনুমোদন থাকতে হবে। এডসেন্সের অনুমোদন না থাকলে ইউটিউব সে চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করবে না।

আর এখনকার নিয়ম হলো- আপনার চ্যানেলে এডসেন্সের অনুমোদন থাকুক আর না থাকুক ইউটিউব আপনার চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করবেই। ইউটিউব এখন বিনা পয়সায় আমাদের চ্যানেলে এ্যাড প্রচার করে থাকে। চ্যানেলে মনিটাইজেশন থাকলে তো আপনাকে পে করতে হবে।

Leave a Comment