শিক্ষার্থীদের অর্থ উপার্জনের জন্য অনলাইন চাকরির সুযোগগুলো কি কি

মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়।এই সময়কে কাজে লাগিয়ে মানুষ অনেক সাফল্য অর্জন করে। তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য অবসর সময়কে কাজে লাগানো একটি বুদ্ধিমানের কাজ।বর্তমান যুগে প্রায় বেশিরভাগ  শিক্ষার্থীই অনলাইন কাজের সাথে সম্পৃক্ত।কোনো কোনো শিক্ষার্থী নিজেরাই বিনিয়োগ করে অনলাইন বিজনেস করে।আবার,কোনো কোনো শিক্ষার্থী ঘরে বসে অনলাইন চাকরী করে থাকে।নিজের খরচ নিজে জোগাড় করে।

পরিবারকে সাপোর্ট

পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য হলেও একজন শিক্ষার্থীর টাকার প্রয়োজন পড়ে।মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের  পড়ালেখার খরচ চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হয়।বর্তমান সময়ে ধনী-গরীব,মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সকল পরিবারের ছেলেমেয়েদের হাতেই স্মার্টফোন থাকে।এই স্মর্টিফোনকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে কাজে না লাগিয়ে এ স্মার্টফোনকেই  কোনো কাজের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।তাই অবসর সময়ে ফেইসবুকে অলসভাবে স্ক্রোল না করে কাজে লাগালে পরিবারের জন্য সাপোর্ট হয়।

টাকা না থাকলে কারো কাছে মূল্য পাওয়া যায় না,যদিও সে শিক্ষার্থী হয়।বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেতে খোঁচা দেওয়া কথা শুনতে হয়।এমনকি নিজের পরিবারের কাছ থেকেও।লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইন চাকরি করে নিজের পরিবারের পাশে দাঁড়ালে নিজেকে ধন্য মনে হয়,এবং কারো কাছ থেকে কটু কথা শুনতে হয় না।

বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই

অনলাইন চাকরিগুলো প্রায়ই বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে না।অনলাইনে উপার্জন করার জন্য বড় ধরণের কোনো ডিগ্রীর প্রয়োজন পড়ে না।তাই পড়ালেখার পাশাপাশি অনলাইন চাকরি করে নিজের পড়াশোনা এবং চাকরি দুটোই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

ক্যারিয়ার সফল করা যায়

শিক্ষার পাশাপাশি অর্থ উপার্জন ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য অনুপ্রেরণামূলক শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো যায়।নিজের ক্যারিয়ার সফল করা যায়।

অনলাইন চাকরির মাধ্যমগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-

ডাটা এন্ট্রি

বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানিতে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করার জন্য বেছে নেয়।লেখাপড়ার পাশাপাশি যদি  কম্পিউটার  মাইক্রোসফট এর কাজ শিখে থাকে, ভালো টাইপিং এবং ইংরেজিতে দক্ষ হয় তাহলে বিভিন্ন কোম্পানিতে  অনলাইন কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে। বিভিন্ন কোম্পানির সার্ভারে ডেটা আপডেট করার জন্য  ডেটা এন্ট্রি  এজেন্টদের প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে এগুলোতে দক্ষ থাকলে সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে এই কাজের বিনিময়ে আয় করা যাবে। ডাটা এন্ট্রির এসব কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ই তাদের প্রচারের জন্য একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে ক্যানভা, ফটোশপ,এডোবি, ইলাস্ট্রেটর ইত্যাদি সফটওয়্যারের ব্যবহার সম্পর্কে জানা থাকলে  অনলাইনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে  পোস্টার, লোগো,ওয়েব ডিজাইন  ভিজিটিং কার্ড, সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের জন্য  গ্রাফিক্স ডিজাইন তৈরি করে আয় করতে পারবে।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার

ফেইসবুক তো সবাই ব্যবহার করে।  ফেইসবুকের পাশাপাশি ইন্সট্রাগ্রাম,টুইটার, পিন্টারেস্ট, লিঙ্কডিন,ইউটিউব এসব সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে  ব্রান্ডের প্রমোশন করা।এই মিডিয়ার  মাধ্যমে ব্রান্ডগুলো গ্রাহক সংখ্যা  বাড়ায় এবং  তাদের মার্কেটিং বাড়ায়।সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কোম্পানিতে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করা যায়। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন  চাকরির সুযোগের মধ্যে পড়ে।

এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

বর্তমান যুগে  এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয় হয়ে আছে। এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেকে ভালো ইনকাম করতে পারেন।এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো যেখানে  শিক্ষার্থী বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম, ইউটিউব চ্যানেল এবং  ওয়েবসাইটে  পণ্য বা পরিষেবার  বিঙ্গাপন দেয়।যদি  কোনো ব্যক্তি সেই  বিঙ্গাপনগুলো দেখে পণ্য ক্রয় করেন তাহলে তার মাধ্যমে কিছু কমিশন পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য  অনলাইনে আয় করার এটি একটি সহজ মাধ্যম।

ইমেইল মার্কেটিং করে আয়

ইন্টারনেটের এই যুগে ইন্টারনেটে ভিত্তিক প্রচারণা  অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েব সাইট, ইমেইল ইত্যাদি বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সঠিক  ক্রেতাদের কাছে খুব দ্রুত পণ্যের প্রচারণা চালানো সম্ভব। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সঠিক ক্রেতাদের কাছে পণ্যের প্রচারণার জন্য দরকার হয় মার্কেটারদের।ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল ভাবে পণ্য বা সেবার প্রচারণা চালানোর মাধ্যম। ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পণ্য বা সেবাকে গ্রাহকের কাছে তুলে ধরা  যাতে বিক্রি বাড়ে।ইমেইল মার্কেটিং করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

প্রোগ্রামিং করে আয়

একজন শিক্ষার্থী প্রোগ্রামিং করে  অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। সাধারণত একজন প্রোগ্রামার কোড লেখার মাধ্যমে কম্পিউটার এবং মোবাইলের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ তৈরি করেন।প্রোগ্রামার বিভিন্ন ধরনের টেকনিক্যাল সমস্যা ঠিক করার কাজ ও করে থাকেন।প্রোগ্রামিং করেও আয় করা সম্ভব।

কনটেন্ট রাইটিং করে আয়

কনটেন্ট রাইটিং হলো যেকোনো বিষয়ে গবেষণা করে  তারপর লেখা। এতে সময় লাগে বেশি কারণ গবেষণা করা লাগে। আপনি যদি ভালো লেখক হন বা যেকোনো বিষয়ে ভালো গবেষণা করেন তাহলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা যায়। যাদের লেখার হাত ভালো তারা অনলাইনের মাধ্যমে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করার সুযোগ রয়েছে। এ কাজগুলো মোবাইল, কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে করা যায়।

ফটো বা ভিডিও এডিটিং

ভিডিও এডিটিং খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না।অনেক তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করা যায়। যদি শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আয় করার জন্য ভিডিও এডিটিং বেছে নেয় তাহলে এর মাধ্যমে ও আয় করা সম্ভব।

ফটো বা ভিডিও এডিটিং করে ভালো দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন কোম্পানিতে অনলাইন  চাকরি করার সুযোগ পাওয়া যায়।

অনলাইনে টিউটরিং করে আয়

অনলাইন  টিউটরিং করে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। অফলাইনে যেমন টিউটরিং করা যায় তেমনি অনলাইনের মাধ্যমে ও টিউটরিং করা যায়। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে টিউটরিং চাকরির মাধ্যমে অনলাইনে আয় করা যায়।

রিসেলিং করে আয়

রিসেলিং করার জন্য বিভিন্ন বড় বড় ওয়েব সাইট গুলোতে রেজিস্ট্রার করে আয় করা যায়।ওয়েব সাইট গুলো থেকে ছবি এবং দাম সংগ্রহ করে মার্কেটিং করা।কাস্টমার জোগাড় করা।পণ্যের দাম একটু বাড়িয়ে বিক্রি করা।যেই টাকা বেশি বিক্রি করা হবে সেই টাকা নিজের লাভ।এখানে কোনো পণ্য প্যাকেটিং বা ডেলিভারির ঝামেলা পোহাতে হবে না।শুধুমাত্র কাস্টমারের নাম,ঠিকানা, ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে যেখান থেকে পণ্য নেওয়া হয়েছে সেখানে অর্ডার সাবমিট করা।এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে আয় করার একটি সহজ মাধ্যম।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায় যে, শিক্ষার্থীরাও অবসর সময়ে অলসভাবে বসে না থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করার অনেক সুযোগ রয়েছে। যদি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইনে আয় করে তবে তারা ছাত্রজীবন থেকেই কঠোর পরিশ্রমী হবে।যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক মঙ্গলজনক হবে।এগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আয় করার সুযোগ গুলো।

Leave a Comment