ব্যয় কমিয়ে কিভাবে সঞ্চয় করা যায়

বর্তমান সময়ে যে হারে সব কিছুর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, এক্ষেত্রে নিজের সংসার বা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করা অনেক কষ্টকর, তারপরও নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করা প্রয়োজন।এক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীকে ও উদ্যোগ নিতে হবে, যেহেতু নারীদের ঘর সামলে, বাহিরে গিয়ে কাজ করতে সমস্যা হয়, সে ক্ষেত্রে ঘরে বসে যে কাজগুলো করা যায় সেগুলো করলে ব্যয়  কমবে আবার সঞ্চয় ও হবে। কিন্তু এই সময়ে সবকিছু অনেক উধ্বর্গ্রগতির দিকে হিসেব করে চলা অনেক কঠিন। আয় যাই হোক সবকিছুর তালিকা তৈরি করে চললে অতিরিক্ত ব্যয় কমানো সম্ভব। হিসেবি হলে সঞ্চয়ী হওয়া যায় ,আপনি বিভিন্ন পরিকল্পনা করেও সঞ্চয় করতে পারেন। এভাবে সঞ্চয় করলে সবার জন্যই সহজ হবে। নিচে কিভাবে ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয় করা যায় আলোচনা করা হল  

ব্যয়  কমানোর  সহজ উপায় গুলো

নিম্ন ব্যয় কমানোর ১২ সহজ উপায় দেওয়া হলো ।

1. বাহিরে খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করা।

বাহিরে খাওয়ার অভ্যাস বাদ দেওয়া, ইউটিউব থেকে শিখে ঘরে, ঘরে খাবার তৈরি করা যায়,বর্তমানে বিভিন্ন রান্নার  চ্যানেলে সকল প্রকার খাবারের রান্নার ভিডিও থাকে যে ধরনের খাবার তৈরি করতে চান বাংলা, ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, ইটালিয়ান,  জাপানি, সব ধরনের খাবার আপনি সার্চ দিলে কি ভাবে তৈরি করতে হয়, সব কিছু কতটুকু লাগবে  উপকরণ সহ সব  ডিটেইলস চলে আসে, তাই এতে খুব সহজে, কম খরচ, ঘরোয়া পরিবেশ স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানানো যায়,  এতে খরচ কম লাগে দুজন খেতে বাইরে যে টাকা খরচ হয় ঘরে তৈরি করে খাওয়া যায় অনেক জন খাওয়া যায়, এতে করে ব্যয় কমে টাকা  সঞ্চয় হয়,

2. প্রতিদিন হিসাব করা

আয়ের অর্থ থেকে আমরা কিভাবে খরচ করি তার কোন হিসাব রাখা হয় না। এতে করে প্রতিদিন আমরা  কত খরচ করি তারও কোন হিসেব থাকে না । আমরা যদি প্রতিদিনের খরচের একটা হিসাব রাখি, এতে করে বে হিসেবে বা অকারনে কোন খরচ হলে খেয়াল থাকে, অপ্রয়োজনা খরচ থেকেও বাঁচা যায়। প্রতি মাস শেষে কি রকম খরচ হয় তার একটি সঠিক পাওয়া যায়। ব্যয় কমাতে প্রতিদিনের হিসাব রাখাটা জরুরী।

3. কিছু আভ্যাস পরিবতন করা

 বাজে অভ্যাস গুলো ত্যাগ করা ।  অনেকেরই সিগারেট পান খাওয়ার অভ্যাস থাকে,এই বাজে অভ্যাস পাল্টানো জরুরী, সিগারেট পান এ গুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যা সিগারেটের গায়ে বড় করে লেখা থাকে । ধুমপান মৃত্যু ঘটায় বা ধুমপানের করণে ফুসফুসে ক্যন্সার হয়।বেশি পান খেলে  মুখে খাবারের কোন স্বাদ পাওয়া যায় না, আবার অতিরিক্ত খেলে মুখে ঘা হয় । এ গুলো খাওয়া বাদ দিলে টাকাও বাঁচবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

4. ইলেকট্রিক জিনিস ব্যবহারের সাশ্রয়ী হওয়া

সবার বাসাতে কম বেশি ইলেকট্রিক জিনিস থাকে। দিন দিন সবাই ইলেকট্রিক জিনিস উপর বেশি নির্ভর হয়ে গেছে। ইলেকট্রিক জিনিস ছাড়া একদিনও চলা যায় না। এই জিনিসগুলো আমাদের কে হিসাব করে ব্যবহার করতে হব। ইলেকট্রিক জিনিস এর ব্যবহার শেষ হয়ে গেলে, কারেন্ট থেকে কানেকশন খুলে রাখা। দিনের বেলায় লাইট অফ করে দিনের আলোর কাজ করা। অযথা ফেন চলো না রাখা। বাচ্চাদের সারাদিন ইলেকট্রিক ডিভাইস গুলো দিয়ে না রাখা, যেমন  ভিডিও গেইম টিভি মোবাইল। ইলেকট্রিক জিনিস গুলো হিসাব করে চালালে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে ।

5. হেটে ও খরচ কমবে সাথে সুস্থতা

অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য, হাটার অভ্যাস করুন এতে করে সকাল সকাল হাটার অভ্যাস হয়।হাটা  স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী সবাই জানি। এতে করে  প্রতিদিনই গাড়ি ভাড়া বেচে যায় । যা মাস শেষে অনেক বড় একটা অংশ খরচ কমবে। প্রতিদিন আমাদেরকে কোথাও না কোথাও যাওয়া লাগে ১০-১৫ মিনিটের রাস্তা ২০-২৩ টাকা ভাড়া নেই যা হেটে যাওয়া যায়। হাটা  স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী সবাই জানি,

প্রতিদিন হাটার অভ্যাস ফলে ব্যয়ামের জন্য আলাদা করে সময় বের করা লাগে না। ব্যয়াম করলে শরীর ফিট থাকে ও সস্থ ভাল থাকে।

নতুন বছরের প্রতিশ্রুতি হোক জমাবো বেশি খরচ করবো কম। তাই বছরে শুরুতে কিছু উপায় অবলম্বন করে চললে বছর শেষে অনেকটা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।

6. কেনা কাটা কমানো

খুব বেশি প্রয়োজন না হল কেনাকাটা করবেন না। এর মানে এই নই যে আপনি কেনা কাটা একদম বাদ দিয়ে দিবেন। যে জিনিসগুলো প্রয়োজন তার একটা তালিকা তৈরি করে, তারপরে কেনাকাটা করুন। এতে করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস বা তালিকার বাইরের কিছু কিনা হবে না। এতে করে অনেকটা অপচয় বেচে যাবে, যা আপনি সঞ্চয় করতে পারেন।

7. প্রতিদিন টাকা জমানো

দিনের খরচের টাকা থেকে অল্প হোক জমানোর অভ্যাস করা। আপনি যখন প্রতিদিন অল্প অল্প টাকা রাখবেন,  এতে করে টাকা জমানোর ইচ্ছা জাগবে , যা প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হবে। এভাবে মাসে শেষে বড় একটা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।

8. অফিসে ঘরের খাবার খাওয়া

আপনি যদি বাইরের খাবার বা অফিসের ক্যান্টিনে খাওয়ায় অভ্যস্ত থাকেন তাহলে তা বাদ দিন। এতে করে অনেক টাকা অপচয় হয় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হয়। টাকা বাঁচাতে ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ঘরের খাবার খান। এই টাকাটাও আপনি সঞ্জয় করতে পারেন

9. ঘুরতে দেওয়া কমিয়ে ফেলা

আপনি যদি সঞ্চয়ী হতে চান, বা আপনার জন্য সঞ্চয় করতে চান। তাহলে আপনাকে কিছু পরিবর্তন আনতে হব। শুধু শুধু ঘুরতে যাওয়া বাদ দিতে হবে। ঘুরতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়, যেমন যাতায়াত ভাড়া, খাওয়া, থাকা, অন্যান্য অনেক খরচ হয়।  ঘুরতে যাওয়ার বদলে অন্য কিছু করতে পারেন বই পড়া সিনেমা দেখা এতে খরচ কম পড়ে। এভাবেও খরচ কমিয়ে সঞ্চয় বাড়ানো যায়।

 10. প্রতি মাসের জন্য বাজেট তৈরি করুন

মাসের শুরুতেই সংসারের বাজেট তৈরি করুন।

প্রতিমাসের কেনাকাটা একসাথে করুন। সংসারের কাচা বাজার বাদে, অন্য বাজারগুলো একসাথে করলে অনেকটা সাশ্রয় পাওয়া যায়। অফারের সময় কেনাকাটা করুন। এভাবে সাশ্রয় করে সঞ্চয় করা যায়।

11. গ্যাস ব্যবহারে সচেতন

দিন দিন গ্যাসের দামও ঊর্ধ্বগতির দিকে। গ্যাস ব্যবহারে ও আমাদেরকে সচেতন হতে হব। রান্না শেষে কাজ বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে রাইস কুকার ব্যবহার করা যায়। 

12. ঋণ থাকলে পরিশোধ করুন

সঞ্চয় করার ক্ষেত্রে প্রথম বাধা হচ্ছে ঋণ। আপনার ঋণ থাকলে তা আগে পরিশোধ করুন। ঋণ থাকলে মানসিক চাপের মধ্যে থাকা লাগে। ঋণ পরিশোধ করে, সঞ্চয় করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।  

আমার মতামত

সঞ্চয় এর প্রয়োজনীয়তা সবসময় থাকবে। আমাদের জীবনের সমস্যার শেষ নেই, বিপদ বলে কয়ে আসেনা, নিজের কাছে কিছু সঞ্চয় থাকলে বিপদে মোকাবেলা করা সম্ভব।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনে অনেক কিছু শিক্ষা নিতে হয় বাস্তবতা থেকে। বাস্তবতা আমাদেরকে অনেক কিছুই শিক্ষা দিয়ে থাকে। ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয় বাড়াতে হবে। আমাদের অনেক কিছু করার বা দেখার ইচ্ছে থাকে, যা স্বাদ ও সধ্যের মধ্যে থাকে না। তারপর  ও ইচ্ছাশক্তি থাকেল, কোনো না কোন সময় পূরন হয়। হিসাব করে চললে ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয় করা সম্ভব। বেহিসাবি সঞ্চয়ী হওয়া যায় না।

Leave a Comment