ক্যারিয়ার হিসেবে উদ্যোক্তার জন্য কাজের  সুযোগ গুলো কি কি ?

আমরা প্রথমেই জানবো, উদ্যোক্তা বলতে কি বুঝায়? “উদ্যোক্তা বলতে বুঝি – একজন মানুষ যখন নিজের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কোন চাকরি বা কারো অধীনস্থ না থেকে নিজেই যদি কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার চেষ্টা করে বা পরিকল্পনা করেন তখন তাকে উদ্যোক্তা বলা যায়।”

তাহলে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার সেরা ব্যাপারটি কী হতে পারে?

অবশ্যই সৃজনশীলতার প্রয়োগ। একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর সৃজনশীলতা এবং চিন্তায় ও কাজে নতুনত্ব আনা।

এখন উদ্যোক্তা হবো, এ বিষয়টি অনেকেই ভাবতে পারেন। কিন্তু যখন আপনি উদ্যোক্তা হওয়ার কারণগুলো খুঁজে পাবেন এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় সকলের সামনে তুলে ধরতে পারবেন তখনই আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হবেন। তবে এর আগে আপনাকে জানতে হবে কেন আপনি উদ্যোক্তা হবেন।

      এখন আমরা জানবো, ক্যারিয়ার হিসেবে একজন উদ্যোক্তার জন্য কি কি সুযোগ রয়েছে –

ক্যারিয়ার হিসেবে একজন উদ্যোক্তার জন্য কি কি সুযোগ রয়েছে ?

নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলঃ

  • পরিবর্তন করার ক্ষমতা : একজন উদ্যোক্তা তাঁর আইডিয়া এবং কাজের মাধ্যমে শুধু নিজের নয় পুরো সমাজকে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। খুব কম পেশার মানুষের কাছেই এই ক্ষমতা থাকে। এভাবে একজন উদ্যোক্তাই পারে নিজের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে। কারণ উদ্যোক্তা যদি তার কঠোর পরিশ্রম দিয়ে এবং নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে তাহলে অবশ্যই সেই তার ব্যবসায় সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করতে পারবে। এর ফলে উদ্যোক্তা একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পাবে। এতে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করার মধ্য দিয়ে উদ্যোক্তা নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

আর জানুন ঃ ক্যারিয়ার-গড়ার-জন্য-কর্মক্ষেত্রে-সাফল্যের-টিপস

  •  একজন উদ্যোক্তার সিদ্ধান্ত এবং আয়ের স্বাধীনতা : একজন উদ্যোক্তা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাঁর আয়ের ওপর অন্য কারো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তিনি নিজের পছন্দমতো সময় সাজিয়ে নিয়ে কাজ করতে পারেন।
  • সুযোগ কাজে লাগানো : আমরা দেখেছি করোনা মহামারীর সময় সারাবিশ্বেই ফিজিক্যাল বিজনেস বন্ধ ছিল। সেখানে অনলাইন ব্যবসাগুলো অনেক লাভ করেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা গুলো এই সময়ে সুযোগটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পেরেছে।
  • ই- কমার্স কেন্দ্রিক ব্যবসা : ই-কমার্স এখন অনেক বেশি চাহিদাপূর্ণ অনলাইন ব্যবসার মাধ্যম। ই-কমার্সের মাধ্যমে প্রায় অনেক বেকার মানুষ ই তাদের নিজেদের কর্মসংস্থান করতে পারছেন ঘরে বসেই। ই-কমার্স ব্যবসা করে এখন অনেক বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তা এবং পুরুষ উদ্যোক্তা নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এখানে রয়েছে কাজের বিস্তর সম্ভাবনা।
  • নারীদের জন্য সহজলভ্য একটি সুযোগ : বর্তমান বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তার সুযোগ ও সম্ভাবনা অনেক বেশি।বর্তমানে সবচেয়ে সহজ যে কাজ গুলি রয়েছে, তারমধ্যে আছে ঘরে বসে নিজের পছন্দমতো ব্যবসা করা। দিন দিন নারীদের ঘরে বসে কাজ করার প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় বহু নারী ই-কমার্স ওয়েব সাইট বানিয়ে নিয়ে সেখানে নিজের সহ আরো অনেক নারীকে নিয়ে পরিচালনা করছেন ই-কমার্স ব্যবসা।
  • ঋণ বা অনুদান গ্রহন সেবা : একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হতে পারে। অধিকাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসার জন্য অনুদান দিয়ে থাকে। তবে আপনার কাছে যদি যথেষ্ট সঞ্চয় থাকে তাহলে আপনি যেকোনো ধরনের ঋণ বা অনুদান গ্রহণ করা ছাড়াই আপনার ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন।
  • হাতে বানানো গহনা বা ইমিটেশন গহনার ব্যবসা : বাংলাদেশের নারীদের এক প্রাচীন সৌখিনতা হলো মাটির গহনা আর তামার বানানো জিনিসপত্র।  নারীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ এখন মাটির গহনা আর ইমিটেশনের জিনিস এর প্রতি। গহনা ছাড়া নারীদের জীবনে সাজসজ্জা অপূর্ণ রয়ে যায়। তাই এখানেও রয়েছে নতুন উদ্যোক্তাদের বিস্তর সম্ভাবনা।
  •  নিজেই যখন নিজের বস : উদ্যোক্তা হলে আপনি নিজেই নিজের বস হবেন। যেখানে আপনাকে কেউ নেতৃত্বদান করার মত থাকবে না। মূলত অন্যের অধীনস্থ হয়ে কাজ করতে হবে না। উদ্যোক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আপনি যদি একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন সে ক্ষেত্রে আপনি ওই প্রতিষ্ঠানের বস হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তাই উদ্যোক্তা নিজেই নিজের বস হয়।
  • নিজের পছন্দমতো কাজের সময় নির্ধারন : উদ্যোক্তা হলে কোন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বা বাধা ধরা সময়ের মধ্যে কাজ করতে হয় না। তাই উদ্যোক্তা নিজেই নিজের কাজ নিজের সুবিধা মত সময় অনুসারে সম্পন্ন করে থাকে। তবে উদ্যোক্তা হলে যে নিজেই নিজের মতো করে কাজ সম্পন্ন করতে হবে এর কোন ভিত্তি নেই। যদি সফল উদ্যোক্তা হতে চান তাহলে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
  • কর্মসংস্থান তৈরী : উদ্যোক্তা নিজেই আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করার মধ্য দিয়ে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আরও অন্যান্য বেকারের কর্মসংস্থান তৈরি করে দিতে সক্ষম হয়। কারণ উদ্যোক্তা যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করবে তখন আরো অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের প্রয়োজন হবে। আর যারা এই তার ব্যবসায় কাজে সাহায্য করবে তারাই মূলত বেকারত্ব থেকে কর্মসংস্থান খুঁজে পাবে। এর মাধ্যমে অন্যদের কর্মসংস্থান এর সুযোগ তৈরি হয়।
  • নিজের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য নিয়ে কাজ করার সুযোগ : একজন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা যখন একটি নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করবে তখন অবশ্যই উদ্যোক্তাকে তার পছন্দ অনুসারে পণ্য বিক্রয় করতে হবে। কারণ উদ্যোক্তার যদি বিক্রয়কৃত পণ্যের প্রতি কোন আকর্ষণ না থাকে তাহলে ওই পণ্যের উপর বিক্রেতার কোন জ্ঞান থাকবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা ওই পণ্যটি ক্রয় করবে না। তাই অবশ্যই উদ্যোক্তাকে পছন্দনীয় পণ্য নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সে পণ্যের ওপর সঠিক ধারণা রাখতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্টঃ ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কিভাবে লক্ষ্য নির্ধারন করব?

তাছাড়াও বাংলাদেশ সরকার, উদ্যোক্তাদের জন্য অসংখ্য পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। যার মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজনদের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষন দিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। যেমন: ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রকল্প, আইসিটি আওতাধীন প্রকল্প, হস্তশিল্প শিখানো ইত্যাদি।

শেষ কথা

পরিশেষে বলতে হচ্ছে বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী এবং পুরুষ এই পেশার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ও আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের সমাজে আত্মপ্রকাশ করছে। তারা এখন দেশের গন্ডী পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যবসা বানিজ্য করে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের সমাজে আত্মপ্রকাশ করছে।

আরো পড়ুন ঃ ক্যারিয়ারে সাফল্যের জন্য কী কী দক্ষতা প্রয়োজন?

Leave a Comment