গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় জেনে নিন

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়- অনলাইন থেকে ইনকামের অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো গুগল এডসেন্স। গুগল এডসেন্স সম্পর্কে আমরা কম-বেশী অনেকেই শুনেছি। শুনেছি এর মাধ্যমে নাকি অনেক টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু কিভাবে করবো বুঝতে পারছি না। এরকম সমস্যা অনেকেরই রয়েছে, যারা এডসেন্স থেকে ইনকাম করা যায় শুনেছেন, কিন্তু করতে পারছেন না। তবে আমাদের দেশের অনেকেই ইতিমধ্যে ইনকাম করা শুরু করে দিয়েছেন, অনেকেই চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ শুরু করার চিন্তা করছেন।

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় | গুগল এডসেন্স এর নিয়ম

আমাদের দেশের অধিকাংশই ইংরেজিতে দূর্বল। যে কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। বিশেষ করে অনলাইন থেকে ইনকাম করার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, এই সেক্টরে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। কেননা তারা ইংরেজিতে আমাদের তুলনায় অনেক ষ্ট্রং। ইংরেজি ভাষা সারা বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করে আছে। এ ভাষায় দক্ষতা না থাকায় আমরা বায়ারের সাথে ঠিকমত কমিউনিকেশন করতে পারি না, ইংরেজিতে কন্টেন্ট লিখতে পারি না ইত্যাদি। ইংরেজিতে কন্টেন্ট লিখতে পারলে হিউজ পরিমান টাকা ইনকাম করার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে এবং দেশের বাইরে কন্টেন্ট রাইটারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর কিছু না হোক, অন্তত ব্লগে কন্টেন্ট লিখে বা প্রডাক্ট রিভিউ লিখে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়-

যাই হোক, দুশ্চিন্তা করার কিছু নাই। ইংরেজি ভাষায় লিখতে পারি না তো কি হয়েছে, বাংলা ভাষায় তো লিখতে পারি! আমাদের দেশে অনলাইন থেকে যারা ইনকাম করতে চায়, তাদের জন্য একটি সু-খবর হলো- গুগল বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য ইনকাম করার বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি বাংলা ভাষায় ভালো লেখালেখি করতে পারেন তাহলে ব্লগসাইটে কন্টেন্ট লিখে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় সম্পর্কে আমাদের অন্য একটি পোষ্টে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা চাইলে পোষ্টটি পড়ে আসতে পারেন।

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

Google AdSense হলো অনলাইন ভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রচারের সবচেয়ে বড় সংস্থা। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এজন্য অনেকেই গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে চায়। তারই ধারাবাহিকতায়- প্রথমে তারা একটি ওয়েবসাইট তৈরী করে, এরপর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ওয়েবসাইটে আর্টিকেল বা কন্টেন্ট পাবলিশ করে এবং কিছুদিন পর এডসেন্সের জন্য আবেদন করে থাকেন। কিন্তু গুগল অনেকের এডসেন্সের আবেদন রিজেক্ট করে দেয়।

কেননা, নতুনদের অনেকেই গুগল এডসেন্সের নীতিমালা সম্পর্কে অবগত নন। নিয়ম-কানুন না জেনেই তারা আবেদন করে থাকেন। যে কারণে অধিকাংশ ব্লগারের গুগল এডসেন্সের আবেদন রিজেক্ট হয়ে যায়। অনেকেই বার বার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেন না। গুগল প্রতিবারই রিজেক্ট করে দেয়। এভাবে কয়েকবার রিজেক্ট হওয়ার পর হতাশ হয়ে অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছেন বা দিচ্ছেন। কিছুদিন শুধু শুধু পরিশ্রম করা হয় এবং সেই সাথে টাকাও নষ্ট হয়।

তাহলে করণীয় কি? আমরা কি গুগল এডসেন্সের অনুমোদন পাব না? আমরা কিভাবে গুগল এডসেন্সের অনুমোদন পেতে পারি? কি কারণে গুগল আমাদেরকে এডসেন্সের জন্য অনুমোদন দিচ্ছে না? প্রশ্নগুলো মনে মনে অনেকেই ভেবে থাকেন।

গুগল এডসেন্স এর নিয়ম-

গুগল এডসেন্স না পাওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বর্তমানে এডসেন্সের আবেদন রিজেক্ট করার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরণের সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাহলো গুগল যাদেরক রিজেক্ট করে দিচ্ছে তাদের বেশিরভাগই বুঝতে পারছে না তাদেরকে কি কারণে রিজেক্ট করা হয়েছে। অল্প কিছু ব্লগারকে এভাবে ম্যাসেজ দিয়ে থাকে- তোমার পাবলিশ করা কন্টেন্টগুলো Low Value কন্টেন্ট এজন্য আমরা তোমাকে অনুমোদন দিতে পারছি না। তুমি তোমার কন্টেন্টগুলো ডেভেলপ করে আবার আবেদন করো। আমরা পুনরায় যাচাই-বাছাই করার পর ভেবে দেখবো তোমার সাইটে এডসেন্সের জন্য অনুমোদন দেওয়া যাবে কিনা। এ ম্যাসেজ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, কেন তাকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ ব্লগারকেই এভাবে ম্যাসেজ দিচ্ছে- তোমার কন্টেন্টগুলো আমাদের মানদন্ড অনুযায়ী হয়নি। আমাদের মানদন্ড অনুযায়ী তোমার আর্টিকেলগুলোকে ঠিক করে পুনরায় আবেদন করো। তারপর আমরা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেব তোমাকে অনুমোদন দেওয়া যাবে কিনা। তবে তোমার আবেদন কি কারণে রিজেক্ট করা হয়েছে আমরা তা বলতে বাধ্য নই।

এখন বলুন, এ ধরণের ম্যাসেজ থেকে আপনি কি বুঝবেন। এ ধরণের ম্যাসেজ না বুঝার কারণে অনেকেই পুনরায় আবেদন করতে পারেন না। ফলে পরিশ্রমগুলোই বৃথা যায়। আজ আমরা গুগলের মানদন্ডগুলো কি কি সেগুলো জানার চেষ্টা করবো।

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

গুগল এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে গুগলের নিজস্ব কিছু নীতিমালা রয়েছে। Google AdSense এর জন্য আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই গুগলের সেই নীতিমালাগুলো অনুসরণ করেই আবেদন করা উচিত। তাহলে এডসেন্সের অনুমোদন পাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

এজন্য গুগলের নীতিমালাগুলো প্রথমেই ভালভাবে জেনে নেওয়া উচিত। এছাড়া বারবার আবেদন করেও কোন লাভ হবে না।

এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে গুগলের নীতিমালাগুলো কি কি এবং গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় গুলো কি কি সে বিষয়ে আজ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। তো চলুন শুরু করা যাক।

এডসেন্সের অনুমোদন পেতে হলে আবেদন করার পূর্বে এবং আবেদন করার পড়ে কিছু করণীয় রয়েছে সেগুলো সকলের জানা উচিত। অনেকেই গুগলের নিয়মনীতি না জেনে বা না বুঝেই এডসেন্সের জন্য আবেদন করে থাকেন। যে কারণে তাদেরকে বারবার রিজেক্ট করা হয়।

নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করে এডসেন্সের জন্য আবেদন করলে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এডসেন্স এর জন্য আবেদন করার পূর্বে করণীয় কি?

এডসেন্স এর জন্য গুগলের কাছে আবেদন করার পূর্বে বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। যেগুলো এডসেন্সের জন্য অনুমোদন পেতে সাহায্য করে। করণীয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো-

১. কাষ্টম ডোমেইন ক্রয় | গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে তাহলো একটি কাষ্টম ডোমেইন কিনতে হবে। অনেকেই সাব-ডোমেইনে (Blogspot.com) কন্টেন্ট পাবলিশ করে গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করে থাকেন। এজন্য গুগল তাদেরকে রিজেক্ট করে দেয়। তবে একটা সময় ছিল যখন সাব-ডোমেইন দিয়েও খুব সহজে অনুমোদন পাওয়া যেতো। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিধায়, এডসেন্সের অনুমোদন পাওয়ার জন্য সর্বপ্রথম একটি ভালো মানের কাষ্টম ডোমেইন ক্রয় করা আবশ্যক।

২. ব্লগসাইট বা ওয়েবসাইট ডিজাইন | গুগল এডসেন্স এর নিয়ম

কাষ্টম ডোমেইন ক্রয় করার সময় একইসাথে হোস্টিংও ক্রয় করুন। এবার দুটিকে কাষ্টমাইজ করুন। কাষ্টমাইজ করা হয়ে গেলে ওয়েবসাইট ডিজাইন করুন। ওয়েবসাইটে যে থিমটি ইনষ্টল করবেন তা যেন অবশ্যই দেখতে সুন্দর হয় এবং ইউজার ফ্রেন্ডলী হয়।

যাতে করে ভিজিটররা যে কোন ধরনের ডিভাইস থেকে আপনার আর্টিকেলগুলোকে খুব সহজেই পড়তে পারেন।

৩. ফাস্ট, নীট এন্ড ক্লিন ওয়েবসাইট | গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

আপনার সাইটের লোডিং স্পিড যেন ভালো হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, স্লো স্পিডের সাইটগুলোতে ভিজিটর আসতে চায় না। তারা খুবই বিরক্তবোধ করে। আর ভিজিটর না থাকলে এডসেন্স পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেই সাথে সাইটটি যেন নীট এন্ড ক্লিন থাকে। ভিজিটররা যেন আপনার সাইট ভিজিট করে আনন্দ পায়।

সাইটের থিমও যেন খুবই সিম্পল এবং আউট লুকিং সুন্দর হয়। সাইট দেখেতে হিজিবিজি হলে ভিজিটররা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।

৪. ব্লগসাইটে ভালো মানের কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লেখা | গুগল এডসেন্স এর নিয়ম-

ওয়েবসাইটের প্রাণ হলো কন্টেন্ট বা আর্টিকেল। কন্টেন্ট ছাড়া ব্লগসাইটের কোন মূল্য নেই। কেননা, কন্টেন্ট ছাড়া ভিজিটররা আপনার সাইটে আসবে না। গুগল এডসেন্স এর অনুমোদন এবং এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকামের পূর্বশর্ত হলো সাইটে প্রচুর পরিমানে ইউনিক ভিজিটর আসা। ভিজিটর না আসলে আপনার ইনকাম হবে কি করে?

এজন্য ভিজিটর পেতে হলে আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত ভালমানের কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে। গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করার পূর্বে আপনার সাইটে ভালো মানের কমপক্ষে ২০-২৫ টি ইউনিক কন্টেন্ট থাকা উচিত। এছাড়া আপনার ওয়েবসাইটে যতগুলো ক্যাটাগরি থাকবে, প্রতিটি ক্যাটাগরিতে অন্তত পাঁচটি করে পোষ্ট থাকা উচিত।

এর ফলে আপনার সাইটের জন্য এডসেন্স পাওয়াটা সহজ হয়ে যাবে।

৫. এসইও ফ্রেন্ডলী পোষ্ট তৈরী করা | গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

আপনার সাইটের প্রতিটি পোষ্টই এসইও ফ্রেন্ডলী হওয়া উচিত। যা আপনাকে দ্রুত এডসেন্স পেতে সাহায্য করবে। গুগলের রোবটিক সিস্টেম Robot.txt এর মাধ্যমে আপনার সাইটকে সম্পূর্ণভাবে মনিটরিং করে দেখে যে, আপনার সাইটে কোন ত্রুটি আছে কিনা। আপনার সাইটের পোস্টগুলো এসইও ফ্রেন্ডলী না হলে এডসেন্স পাওয়াটা খুবই কঠিন হয়ে যায়।

এজন্য প্রতিটি পোষ্টকে খুব ভালভাবে অনপেজ এসইও করা উচিত।

৬. পোষ্টগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানে কন্টেন্ট থাকা | গুগল এডসেন্স এর নিয়ম

আপনার সাইটে পাবলিশ করা প্রতিটি পোষ্টেই পর্যাপ্ত পরিমানে কন্টেন্ট থাকা উচিত। সাইটে শুধুমাত্র ২০-২৫ টি পোষ্ট থাকলেই হবে না, সেগুলো ইউনিক, ভালো মানের এবং পর্যাপ্ত পরিমানে হতে হবে। এডসেন্স পাওয়ার জন্য প্রতিটি পোষ্টে কমপক্ষে ৫০০-৬০০ শব্দের ভালো মানের কন্টেন্ট থাকা উচিত। গুগল বট আপনার সাইটকে মনিটরিং করে দেখবে পোষ্টগুলোতে কি পরিমান শব্দ রয়েছে। এজন্য এডসেন্স পাওয়ার পূর্বে আপনার প্রতিটি পোষ্টে যেন কমপক্ষে ৫০০-৬০০ শব্দ লেখা থাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এডসেন্সের অনুমোদন পাওয়ার পর কোন পোষ্টে উল্লেখিত শব্দের চেয়ে কম শব্দ থাকলেও সমস্যা নেই।

৭. ডোমেইনের পরিণত বয়স | গুগল এডসেন্স থেকে আয়-

সবকিছুরই একটা পরিণত বয়স থাকে। এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ডোমেইনেরও একটা পরিণত বয়স রয়েছে। ডোমেইনের বয়স কমপক্ষে ২-৩ মাস হওয়ার পর এডসেন্সের জন্য আবেদন করা উচিত। তবে ডোমেইনের বয়স ৬ মাস হওয়ার পর অবেদন করলে সবচেয়ে ভালো হয়। এডসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ডোমেইনের বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অনেকে নতুন ডোমেইন কেনার পর সাইট তৈরী করে এবং তাতে কিছু কন্টেন্ট পাবলিশ করার পর, ডোমেইনের পরিণত বয়স হওয়ার পূর্বেই এডসেন্সের জন্য আবেদন করেন। এটা করা একদম উচিত নয়।

কেননা, ডোমেইনের পরিণত বয়স না হলে এডসেন্স পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে।

৮. অন্য বিজ্ঞাপন না থাকা | গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায় হলো- গুগল এডসেন্স পাওয়ার পূর্বে আপনার সাইটে অন্য কোন বিজ্ঞাপন কোন অবস্থাতেই থাকা যাবে না। কেননা, গুগল এটা একদমই পছন্দ করে না যে, তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য কোন বিজ্ঞাপন প্রচার করা হোক। যদি আপনার সাইটে এডসেন্স পাওয়ার পূর্বে অন্য কোন বিজ্ঞাপন থাকে তাহলে তারা আপনাকে এডসেন্সের অনুমোদন দিবে না। এজন্য এটা পরিহার করতে হবে।

তবে এডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার পর আপনার সাইটে অন্যান্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার করতে পারবেন।

৯. গুগলে সার্চ করার মাধ্যমে ভিজিটর আসা | গুগল এডসেন্স

গুগলে সার্চ করার মাধ্যমে আপনার সাইটে ভিজিটর আসলে এডসেন্স পাওয়াটা খুবই সহজ হয়ে যায়। গুগলে সার্চ করে সাইটে ভিজিটর আসলে গুগল এটাকে খুবই পছন্দ করে। গুগলে সার্চের মাধ্যমে সাইটে ভিজিটর পেতে হলে আপনার সাইট এবং পোষ্টগুলোকে ভালোভাবে এসইও করতে হবে। সাইটে ভিজিটর না থাকলে এডসেন্স পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সাইটে প্রতিদিন ২০০-৩০০ ইউনিক ভিজিটর থাকলে এডসেন্স এর অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১০. গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পেজ তৈরী করা | গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

গুগল এডসেন্সের নীতিমালা অনুযায়ী ব্লগসাইটে অবশ্যই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পেজ তৈরী করা উচিত। যেমন-

ক) About Us
খ) Privacy Policy
গ) Contact Us
ঘ) Disclaimer

এগুলো আপনার সাইটে থাকলে গুগল আপনার সম্পর্কে, আপনার সাথে যোগাযোগের ঠিকানা, আপনার সাইটের গোপনীয়তা নীতি সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারবে। এজন্য এই পেজগুলো সাইটে রাখা আবশ্যক।

১১. কপিরাইট ইমেজ ব্যবহার না করা | গুগল এডসেন্স-

গুগল সবসময় ইউনিক আর্টিকেল বা ইমেজ পছন্দ করে। কপিরাইট কন্টেন্ট বা ইমেজ ব্যবহার করাকে গুগল একদমই পছন্দ করে না। গুগল এডসেন্স পাওয়ার জন্য আপনার সাইটে অবশ্যই ইউনিক কন্টেন্ট এবং কপিরাইট ছাড়া ইমেজ ব্যবহার করতে হবে। গুগল, ফেসবুক অথবা অন্য কারো ওয়েবসাইট থেকে কপি করা ইমেজ ব্যবহার করলে এডসেন্সের অনুমোদন পাবেন না।
তবে কিছু কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলো থেকে ইমেজ ব্যবহার করলে কপিরাইট হবে না।

এমন কিছু ওয়েবসাইটের নাম নিচে দেওয়া হলো। যেখান থেকে ইমেজ ডাউনলোড করে আপনি আপনার সাইটে ব্যবহার করতে পারেন।

ক) উইকিমিডিয়া
খ) ফ্লিকার
গ) মাইক্রোসফট
ঘ) এসএক্সইউ
ঙ) ইমেজ আফটার
চ) স্টলভল্ট
ছ) গেটদি ইমেজ
জ) এভরি স্টক ফটো
ঝ) ক্রিয়েটিভ কমন্স

১২. গুগল এডসেন্স নীতিমালা সম্পর্কে জানা এবং মেনে চলা | গুগল এডসেন্স একাউন্ট-

গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার জন্য এবং এর মাধ্যমে ইনকাম করার জন্য গুগল এডসেন্স নীতিমালা সম্পর্কে ভালোভাবে জানার চেষ্টা করা এবং সেগুলো ১০০% মেনে চলা উচিত। অন্যথায় গুগল আপনাকে এডসেন্সের জন্য অনুমোদন দিবে না। অনুমোদন পাওয়ার পরও যদি আপনি তাদের কোন নীতি ভঙ্গ করেন, তবে গুগল আপনার অনুমোদনকে যে কোন সময় বন্ধ করে দিতে পারে।

এজন্য সর্বদা গুগল এডসেন্স নীতিমালা ১০০% মেনে চলা উচিত।

১৩. অপরাধমূলক বা আইন বিরোধী কনটেন্ট না লেখা | গুগল এডসেন্স-

গুগল এডসেন্স এর কনটেন্ট Policy অনুযায়ী অপরাধমূলক বা আইন বিরোধী কনটেন্ট লেখা নিষেধ। যে কন্টেন্টের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এ ধরণের কন্টেন্ট লিখা সাইটকে গুগল কখনই এডসেন্সের অনুমোদন দেয় না।

এ ধরণের ওয়েবসাইটে সাধারণত ভিজিটরের পরিমান বেশী থাকে। ভিজিটরের সংখ্যা বেশী থাকলেও গুগল তাদেরকে এডসেন্সের অনুমোদন দেয় না। যেমন-

ক) বিপজ্জনক কন্টেন্ট
খ) প্রতারণামূলক কাজকর্ম
গ) হয়রানিমূলক কন্টেন্ট
ঘ) ঘৃণাপূর্ণ কন্টেন্ট
ঙ) কারচুপি করা কন্টেন্ট
চ) সন্ত্রাসবাদী কন্টেন্ট
ছ) যৌনতাপূর্ণ, পর্ণগ্রাফি বা Adult কনটেন্ট
জ) হিংসা ও রক্তপাত সম্পর্কিত কন্টেন্ট
ঝ) অশ্লীল ও অমার্জিত ভাষায় কন্টেন্ট
ঞ) হ্যাকিং বা ক্রাকিং টিপস।
ট) মাদক জাতীয় দ্রব্যের অথবা Alcohol এর প্রচারণামূলক কন্টেন্ট
ঠ)) পরস্পর বিরোধী কনটেন্ট।
ড) মারাত্মক অস্ত্রের বিজ্ঞাপনমূলক কন্টেন্ট

১৪. আপনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে | গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় গুলোর মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো এডসেন্স আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া। কেননা, গুগলের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তারা গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। এডসেন্সের জন্য আবেদনের পূর্বে অবশ্যই গুগলকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

তবে আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়ে থাকে, তাহলে আপনি আপনার বাবা-মা’র তথ্য ব্যবহার করে এডসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স না পাওয়ার কিছু কারণ-

ক) সাইটে ভালো মানের ইউনিক কন্টেন্ট এবং পর্যাপ্ত পরিমানে কন্টেন্ট না থাকা।
খ) ইউনিক ভিজিটর না থাকা।
গ) গুগল এডসেন্সের নীতিমালা অনুসরণ না করা।
ঘ) কন্টেন্টে পর্যাপ্ত পরিমানে শব্দ না থাকা।
ঙ) Low Value কন্টেন্ট থাকা।
চ) পোষ্টগুলো এসইও ফ্রেন্ডলী না হওয়া।
ছ) ডোমেইনের পরিণত বয়স না হওয়া।
জ) এডসেন্স পাওয়ার পূর্বে অন্য বিজ্ঞাপন সাইটে থাকা।
ঝ) ভাল মানের ডোমেইন না থাকা।
ঞ) সাইটে কপিরাইট কন্টেন্ট বা ইমেজ ব্যবহার করা।

সাইটে ভিজিটর না আসা বা কমে যাওয়ার কারণসমূহ-

আপনার সাইটে পর্যাপ্ত পরিমানে কন্টেন্ট রয়েছে তবুও ভিজিটর আসছে না অথবা একটা সময় অনেক ভিজিটর আসতো কিন্তু আস্তে আস্তে তা একেবারেই কমে যাচ্ছে। এর কারণ কি? বিভিন্ন কারণে এরকম হতে পারে। নিচে কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো-

ভিজিটর না আসার কিছু কারণ-

ক) আপনার সাইটে পর্যাপ্ত পরিমানে কন্টেন্ট না থাকা।
খ) ভালো মানের ইউনিক কন্টেন্ট না থাকা।
গ) তথ্যবহুল বা ভিজিটরদের প্রয়োজনীয় কন্টেন্ট না থাকা।
ঘ) পোষ্টগুলো এসইও ফ্রেন্ডলী না হওয়া। পোষ্টগুলো এসইও ফ্রেন্ডলী না হলে ভিজিটর আপনার সাইট সম্পর্কে জানবে কি করে অথবা পোষ্টগুলো ভিজিটরদের কাছে পৌঁছাবে কি করে।

সাইটের ভিজিটর কমে যাওয়ার কারণসমূহ-

সাইটে ভিজিটর কমে যাওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বিভিন্ন কারণে আপনার সাইটের ভিজিটর কমে যেতে পারে। নিম্নে কিছু কারন তুলে ধরা হলো-

ক) নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ না করা-

সাইটে ভিজিটর ধরে রাখতে হলে প্রতিনিয়ত তথ্যবহুল এবং ইউনিক কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে। ভিজিটররা হয়তো মাঝে মাঝেই আপনার সাইট ভিজিট করে, কিন্তু নতুন কোন কন্টেন্ট না পাওয়ায় তারা বিরক্ত হয়ে চলে যায়।
এভাবে আস্তে আস্তে ভিজিটর কমতে থাকে।

খ) গুগল আপডেট-

গুগল মাঝে মাঝেই আপডেট নিয়ে আসে। গুগলের আপডেটের কারণে অনেক ওয়েবসাইট পড়ে যায়। এ কারণেও আপনার সাইটের ভিজিটর কমে যেতে পারে।

এজন্য গুগল আপডেটের সাথে সবসময় নিজের সাইটটিকেও আপডেট রাখা উচিত।

গ) গুগলের ম্যানুয়াল প্যানাল্টি-

সাইটের ভিজিটর কমে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো গুগল কর্তৃক প্যানাল্টিতে আক্রান্ত হওয়া।

ঘ) ট্রেন্ডিং কন্টেন্ট লেখা-

অনেকেই ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে আর্টিকেল লিখে থাকেন। ফলে তাদের সাইটের ভিজিটর আস্তে আস্তে কমে যায়। কারণ ট্রেন্ডিং টপিকে লেখা কন্টেন্টগুলো বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় চলে।

এজন্য শুধুমাত্র ট্রেন্ডিং কিওয়ার্ড নির্বাচন না করে সারা বছর মানুষের প্রয়োজন এমন কিছু কিওয়ার্ড নিয়ে কন্টেন্ট লেখা উচিত।

ঙ) খারাপ ব্যাকলিংক থাকা-

ব্যাকলিংক অফ পেজ এসইও’র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি আপনার সাইটে কোন খারাপ ব্যাকলিংক থেকে থাকে তাহলে সেগুলো দ্রুত রিমুভ করে দিন। অপ্রয়োজনীয় ব্যাকলিংকগুলো গুগল সার্চ কন্সোলে গিয়ে Disavow করে দিন।
আপনার সাইটে কোন অপ্রয়োজনীয় বা খারাপ ব্যাকলিংক আছে কিনা তা মাঝে মাঝে চেক করে দেখুন।

গুগল এডসেন্স এর নিয়ম | গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়-

চ) লোডিং স্পিড কম থাকা

সাইটের লোডিং স্পিড ফাস্ট না হলে ভিজিটররা আপনার সাইটে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না। আপনার সাইটে ভিজিটর আসার সময় যদি দেখে সাইটের লোডিং স্পিডের একেবারে বাজে অবস্থা তাহলে ভিজিটররা স্কিপ করে চলে যায়।

এভাবে আস্তে আস্তে ভিজিটর কমতে থাকে।

ছ) সাইটম্যাপ না থাকা-

প্রতিটি ওয়েবসাইটে সাইটম্যাপ থাকাটা আবশ্যক। যে কোন সাইটের পোষ্টগুলো গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করার ক্ষেত্রে সাইটম্যাপের গুরুত্ব অপরিসীম।

এজন্য আপনার সাইটে সাইটম্যাপ এ্যাড করা আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে এবং সাইটম্যাপে আপনার পোষ্টগুলোর লিংক থাকতে হবে।

জ) পার্মালিংক পরিবর্তন করা-

আপনার পোষ্টগুলোর এসইও’র ক্ষেত্রে পার্মালিংক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আপনার সাইটের পার্মালিংক পরিবর্তন করলে পূর্বের পোষ্টগুলোর লিংক গুগল নতুন করে ইনডেক্সিং করে। ফলে পূর্বের পোষ্টলিংকগুলো আর সচল থাকবে না।

এ কারণে আপনার সাইটের ভিজিটর কমে যাবে।

ঝ) ভিজিটরদের চাহিদা অনুযায়ী কন্টেন্ট না থাকা-

ভিজিটররা আপনার সাইটে প্রবেশ করে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে বা সেবা গ্রহণের জন্য। কিন্তু আপনার সাইটে প্রবেশ করে যদি তার কাঙ্খিত সেবা না পায় তাহলে সে সময় নষ্ট না করে আপনার সাইট থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়। অর্থাৎ কিওয়ার্ড এর সাথে আপনার কন্টেন্টের ভেতরের লেখার মিল না থাকলে ভিজিটরের চাহিদা পূরণ হয় না।

এজন্য আপনার সাইটের ভিজিটর আস্তে আস্তে কমে যায়।

শেষকথা- গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় শিরোনামের এই আর্টিকেলটিতে যে টিপস্গুলো বর্ণনা করা হয়েছে, এগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে যদি কেউ গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করে, আশা করছি তার আবেদন গুগলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। অর্থাৎ উল্লেখিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে এডসেন্সের জন্য আবেদন করলে নিশ্চিতভাবে এডসেন্সের অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। বিধায় তাদেরকে আর্টির্কেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো যাদের আবেদন বারবার রিজেক্ট করা হয়েছে অথবা যারা নতুন করে এডসেন্সের জন্য আবেদন করতে চান।

Leave a Comment