আয় করার জন্য নিজেকে কিভাবে তৈরি করতে হয়

আয় করার জন্য ক্ষমতা, শখ, এবং আগ্রহের প্রয়োজন এবং এসব বিষয়ের ভিত্তিতে কিছু নির্ধারিত করা যেতে পারে যেমন একটি ব্যবসা চালানো, কোনো সেবা বা পণ্য বিক্রি করা , অথবা ফ্রিল্যান্সিং এ নিজ দক্ষতা ব্যবহার করা। অনলাইনে শোপ, ব্লগ, বা ওয়েবসাইট চালানো অথবা অফলাইনে একটি প্রতিষ্ঠান চালানো। যেকোনো দিক থেকে আয় করার সুযোগ থাকতে পারে।

অনলাইন থেকে আয় করার জন্য নিজেকে কিভাবে তৈরি করতে পারি

 ফ্রিল্যান্সিং 

ফ্রিল্যান্সিং হলো এমন একটি কাজের সিস্টেম যেখানে আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করেন এবং সময় নির্ধারণ করতে পারেন। এটি আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে প্রচলিত।বাংলাদেশে ও ফ্রিল্যান্সিং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফ্রিল্যান্সারগণ ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের স্বাধীনতা রয়েছে তাই আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। অনলাইনে অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে যেখানে নিজের একাউন্ট তৈরি করে কাজগুলো করা যাবে।

যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান তারা ফ্রিল্যান্সিংকে বেছে নিতে পারে। এই সেক্টরে পারদর্শী হলে এখান থেকে ভালো পরিমাণে আয় করা সম্ভব। আমাদের তরুণপ্রজন্ম চাকুরির জন্য বসে না থেকে নিজের বয়স না বাড়িয়ে সরকারিভাবে  অথবা বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে ট্রেনিং গ্রহণ করে এই সেক্টরে যোগদান করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল অনলাইনে পণ্য প্রমোট করে  আয় করার একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। কোন কোম্পানি বা কোন সাইটের বিকৃত পণ্য বিক্রি করে নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন আয় করা।এ সময় খুব কম কোম্পানিগুলো  মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পণ্য প্রচার করে অন্য প্রচারের জন্য সবাই ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে যেমন ফেসবুক,  ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, ইত্যাদি।

অ্যামাজন. কম, দারাজ.কম এদের সাথে যুক্ত হয়ে অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছে।সম্প্রতি 64bdponno নামে নতুন সাইট চালু হয়েছে আমাদের দেশে যেখানে আমরা যুক্ত হয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারব । 

ওয়েব ডিজাইন 

বর্তমানে ওয়েব ডিজাইনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অনলাইন ইনকাম করার জন্য অন্যতম মাধ্যম ওয়েব ডিজাইন। আমাদের দেশে অনেক ফ্রিল্যান্সার যারা দক্ষতার সাথে ওয়েব ডিজাইনের কাজ করে ঘরে বসে মাসে প্রায় লাখ টাকা ইনকাম করছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইনকাম করার জন্য ওয়েব ডিজাইন একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম হতে পারে। ওয়েব ডিজাইন বলতে মূলত ওয়েবসাইটে সকল ডিজাইন কে বোঝায়, আর যারা এই ডিজাইনগুলো করে থাকেন তারা হলেন ওয়েব ডিজাইনার।

বর্তমানে প্রায় সব কাজ অনলাইন ওয়েবসাইট দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই সময় চাহিদা অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে এখন ওয়েবসাইট চালু করছেন। তাছাড়া ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে ক্যারিয়ার তৈরির করার অন্যতম শর্ত নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট। আর ওয়েবসাইট কিভাবে আমাদের সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে সেটাই মূলত একজন ওয়েব ডিজাইনের কাজ। বর্তমানে ওয়েবসাইট তৈরির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে দক্ষ ডিজাইনের সংখ্যা খুবই কম।তাই নিজের পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যেতে পারে। 

ওয়েবসাইট তৈরি

ওয়েবসাইট হল একটি ওয়েবপাতা, বিভিন্ন সম্পর্কিত বিষয়বস্তুর একটি সংগ্রহ যা সাধারনত ডোমেন নাম দিয়ে চিহ্নিত করা হয় এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করা হয় যেমন google.com, amazon.com ইত্যাদি। একটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট থাকতে পারে যেমন text,colour,graphics ইত্যাদি। একটি ওয়েবসাইট মানুষ বিভিন্ন কারণে ভিজিট করে থাকে নিত্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য, ফাইল সংগ্রহ বা ডাউনলোড করার জন্য, অনলাইন শপিং করতে।

বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে যেমন ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, সামাজিক ওয়েবসাইট, ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট, প্রশ্ন উত্তর বিষয়ক ওয়েবসাইট, খবর বা নিউজ পেপার ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটের ডিজাইন গুলো যারা তৈরি করেন তারাই মূলত ওয়েব ডিজাইনার। বর্তমান মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডিজাইনারদের ভালো চাহিদা রয়েছে। 

গ্রাফিক ডিজাইন 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই যুগে গ্রাফিক ডিজাইন ব্যতীত  পুরো মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টই কল্পনা করা যায় না  গ্রাফিক ডিজাইনের কাজগুলোর দিন দিন গুরুত্ব বাড়ছে। ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রাফিক ডিজাইনিং অনেক বেশি জনপ্রিয়।সবাই চাইবে সে যে পেশাটি নিজের জন্য পছন্দ করুক না কেন সেটির ভবিষ্যৎ যেন উজ্জ্বল হয়। গ্রাফিক ডিজাইন সম্পূর্ণভাবে একটি সৃজনশীল পেশা।এখানে পুথিগত বিদ্যা তেমন একটা কাজে আসে না,সৃজনশীলতা এখানে একমাত্র ভরসা এবং হাতিয়ার।

বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায় কিন্তু নিজের সৃজনশীলতা না থাকলে সঠিকভাবে সেগুলোকে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। আর এজন্য অনেক চর্চা এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী এই ইন্ডাস্ট্রিতে পেশাগত মানুষ কম। নিজেকে যদি এই কাজের জন্য পারদর্শী করে গড়ে তোলা যায় তাহলে দেশী এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোর সাথে কাজ করা সম্ভব। 

জরিপ সার্চ রিভিউ 

অনলাইন বিভিন্ন জড়িত অংশগ্রহণ করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা জরিপ অংশগ্রহণ করলে অর্থ প্রদান করে থাকেন। তাছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সার্চ পণ্যের রিভিউ লিখেও তা থেকে আয় করা সম্ভব। তবে এই কাজটি করার সময় এটি ফেক কেনা যাচাই-বাছাই করে কাজটি করলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। 

ভার্চ্যুয়াল সহকারি  

এখন ভার্চ্যুয়াল সহকারীদের কাজের জায়গা বাড়ছে। ঘন্টা প্রতি আয় ও বাড়ছে। অফিসে নানান ধরনের কাজ এখন বাড়ি থেকে করার সুবিধা রয়েছে। কোম্পানিগুলো ভার্চ্যুয়াল সহকারী নিয়োগ করছে যা মানুষকে দূর থেকে কাজ করার অনুমতি দিচ্ছ। একজন ভার্চ্যুয়াল সহকারি মূলত ব্যবসার উন্নয়,  মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া, প্রশাসনিক সেবা সহ অনিক সেবা সমূহ অফার করে থাকে। 

কনটেন্ট রাইটিং অথবা আর্টিকেল রাইটিং

মানুষের ভিতরে নিজস্ব কিছু প্রতিভা থাকে যা তাকে অন্য থেকে আলাদা করে। তেমন একটি প্রতিভা হল লেখালেখি বা রাইটি যা সবাই করতে পারে ন।  যদি কারো ভালো লেখার হাত থাকে তাহলে কনটেন্ট রাইটিং অথবা আর্টিকেল রাইটিং এর দিকে অগ্রসর হতে পারেন।আগে ইংরেজি আর্টিকেল লিখতে হত কারণ বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার কোন মাধ্যম ছিল না।কিন্তু বর্তমানে ব্লগ সাইট বেড়ে যাওয়াতে কিছু বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার সাইট তৈরি হয়েছে। 

ইউটিউব 

ইউটিউব একটি অনলাইন ওয়েবসাইট যেখানে ভিডিও আপলোড করে শেয়ার করা হয়। আর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় সব থেকে জনপ্রিয় অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন যেখানে আমরা ভিডিওর মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার সমাধান খুঁজে পাই।বর্তমানে অনলাইন আয় করার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম ইউটিউব। বিভিন্ন ধরনের ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট শেয়ার করার মাধ্যমে অনেক ইউটিউবারগন সেখান থেকে ভালো পরিমাণের আয় করছেন। 

এছাড়াও আরো অন্যান্য অনলাইন মাধ্যম যেমন পিটিসি, ডাটা এন্ট্রি, অনলাইন টিউটর, অনুবাদ ইত্যাদি সার্ভিস প্রদান করে ঘরে বসে অনলাইন ইনকাম করা যাবে। বর্তমান সময়ে এসব কাজে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

শেষকথা

ঘরে বসে কাজ করে আয় করা এখন আর স্বপ্নে নয় বাস্তবে সম্ভব শুধু প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন তাঁর সাথে সঠিক কাজটি বেছে নেওয়া। এজন্য আর সময় অপচয় না করে নিজের পছন্দের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করি এবং ঘরে বসে আয় করি। 

Leave a Comment