অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

অনলাইনে ইনকাম করার উপায়- ঘরে বসে ইনকাম, অনলাইনে ইনকাম, ইন্টারনেট থেকে ইনকাম, মোবাইল দিয়ে ইনকাম ইত্যাদির কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। আসলেই কি ঘরে বসে বা অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়? এ প্রশ্নটি আসলে পুরাতন হয়ে গেছে। কেননা, আমাদের দেশের অনেকেই অনলাইন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছেন।

অনলাইনে ইনকামের পরিধি আমাদের দেশে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে এখনও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- আসলেই কি অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়? আমিও কি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারব? হ্যাঁ অবশ্যই ইনকাম করা যায় এবং আপনিও ইনকাম করতে পারবেন।

কেননা, ইতিমধ্যে অনেকেই অনলাইন থেকে ইনকাম করে যাচ্ছেন।

অনলাইনে ইনকাম করার উপায় | ঘরে বসে ইনকাম

প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ অনলাইনের প্রতি বেশী ঝুঁকে পড়ছে। দেশে এবং দেশের বাইরে সবকিছুই যেন অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। যদিও আমাদের দেশ অন্যদের তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। তবুও বলবো আমাদের দেশও অনলাইন জগতের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন জগতের দিকে আমরা যতো বেশী অগ্রসর হতে পারবো, ঠিক ততোটাই আমাদের দেশও এগিয়ে যাবে।

সকলেই তাদের জীবন-যাত্রার মানকে উন্নত করার লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ শত চেষ্টা করেও নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না।

কেননা, ইনকামের তুলনায় খরচ অনেক বেশী। একটু জরিপ করলে দেখা যাবে, হাতে গোনা কিছু মানুষ ভালো রয়েছে।

বেশীরভাগ মানুষই খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে। যা ইনকাম করছে তা দিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটাচ্ছে।

আবার অনেকেই বেকার। পরিবার, সমাজের বোঝা হয়ে তারা জীবন পার করছেন। পরিবার ও সমাজের অবহেলা বা তাচ্ছিল্য নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অসহায় পরিবারের কোন দায়িত্ব সে পালন করতে পারছে না।

আবার অনেকেই চাকরি করেও স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারছে না।

এর একটাই কারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের পরিমান এতো বেশী বেড়ে গিয়েছে যা স্বল্প আয় দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়।
দিন যতো যাচ্ছে, মানুষ ততোই অসহায় হয়ে পড়ছে।

প্রত্যেকেই ভাবছে কিভাবে ইনকাম বৃদ্ধি করা যায় এবং প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে ইনকাম বৃদ্ধির জন্য।

কিন্তু চেষ্টা করলে কি হবে, কাজের ক্ষেত্র তো থাকতে হবে নাকি? আমাদের দেশে কাজের তুলনায় কাজ করার লোক বেশী।

যাই হোক, হতাশ হওয়া বা মনোবল হারানোর কিছু নেই। লোকাল বা দেশীয় কাজ নেই তো কি হয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থাৎ অনলাইন ইনকামের পথ তো খোলা রয়েছে, নাকি?

ঘরে বসে আয় করার উপায়

অনেকেই অনলাইন থেকে ইনকাম শুরু করার চিন্তা করছেন। কিন্তু কিভাবে শুরু করবেন, কি নিয়ে কাজ করবেন, কোথা থেকে শিখবেন এ সকল চিন্তা করে পিছিয়ে রয়েছেন। আপনিও কি তাদের দলে?

যদি তাই হয় তাহলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আজকে থেকেই কাজে লেগে পড়ুন।

ঘরে বসে অনলাইন থেকে কিভাবে সহজে ইনকাম করা যায় সে সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

অনলাইন থেকে ইনকামের জন্য বিভিন্ন প্লাটফর্ম বা বিভিন্ন ধরণের কাজ রয়েছে। যে কাজগুলো শিখে অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমানে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

অনলাইনে ইনকামের জন্য যা যা থাকা প্রয়োজন | অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

১. কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল
২. ইন্টারনেট সংযোগ
৩. যে কাজ করে ইনকাম করতে চান সে বিষয়ে স্কিল বা জ্ঞান অর্জন করা
৪. কম্পিউটার পরিচালনার জ্ঞান থাকা
৫. কাজের প্রতি ধৈর্য্য এবং গভীর মনোযোগ থাকা
৬. কাজের জন্য প্রচুর সময় ব্যয় করা
৭. পরিশ্রমী হওয়া
৮. কাজের পরিবেশ তৈরী করা ইত্যাদি।

অনলাইনে ইনকামের ক্ষেত্রে কি ধরণের স্কীল থাকা জরুরী-

বর্তমান সময়ে ইনকামের জন্য অনলাইন হচ্ছে এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখান থেকে আপনি প্রচুর পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন। বিভিন্ন স্কিলপূর্ণ কাজ শিখে অনলাইন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকামের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আপনাকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তাহলো-

যে সেক্টর নিয়ে আপনি কাজ করতে আগ্রহী অথবা আপনার ভালো লাগে এমন দু’একটি বিষয়ে স্কিল বা জ্ঞান করা।

কেননা, অনলাইনে বিভিন্ন সেক্টরে প্রচুর পরিমানে কাজ রয়েছে, যে কাজগুলো শিখে আপনি হিউজ পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এখানে একটি উদাহরণ দিলে পরিস্কারভাবে বুঝতে পারবেন, তাহলো-

ধরুন, আপনি কোন কোম্পানীতে চাকরির জন্য আবেদন করবেন। এখন কথা হলো- আপনি কোন পদে আবেদন করবেন? অবশ্যই আপনি সেই পদেই আবেদন করবেন, যে পদে আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অথবা যে কাজে আপনি পারদর্শী নিশ্চয় সেই পদেই আবেদন করবেন।

তবে যারা একেবারেই নতুন, তাদের তো কোন কাজের অভিজ্ঞতা থাকে না। তারা কিভাবে আবেদন করে থাকে? তারাও কোন পদে আবেদন করার পূর্বে, প্রথমে তা ভেবে দেখেন, এই পদের জন্য আমি যোগ্য কিনা অথবা এই পদে আমি কাজ করতে পারব কিনা? তারপর তারা পদ নির্ধারণ করে আবেদন করে থাকেন।

অনলাইনে ইনকামের ক্ষেত্রেও আপনাকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তাহলো- আপনি যে বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী সে বিষয়ে স্কিল বা জ্ঞান অর্জন করা।

কিছু কিছু চাকরির ক্ষেত্রে হয়তো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়না, কিন্তু অনলাইনে ইনকামের ক্ষেত্রে অবশ্যই কোন কাজে স্কিল থাকা জরুরী।

এজন্য অনলাইনে ইনকাম করার জন্য কাজ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই কাজের ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ শিখতে হবে বা জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

অনলাইনে ইনকাম করার ক্ষেত্রগুলো কি কি? | অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

অনলাইন থেকে ইনকাম করার বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে যে বিষয়ে আপনি কাজ করতে আগ্রহী, সে বিষয়ে ভালোভাবে শিখুন বা জ্ঞান অর্জন করুন।

অনলাইনে ইনকাম করার কিছু ক্ষেত্র নিচে দেওয়া হলো-

১. গ্রাফিক্স ডিজাইন
২. লোগো ডিজাইন
৩. ওয়েব ডিজাইন
৪. এফিলিয়েট মার্কেটিং
৫. ডিজিটাল মার্কেটিং
৬. সিপিএ মার্কেটিং
৭. ফেসবুক মার্কেটিং
৮. ই-মেইল মার্কেটিং
৯. ডাটা এন্ট্রি
১০. ডাটা এনালাইসিস
১১. ব্লগিং
১২. কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং
১৩. প্রোডাক্ট রিভিউ লিখে
১৪. এসইও
১৫. ফটো এডিটিং
১৬. ভিডিও এডিটিং
১৭. ইউটিউব ভিডিও তৈরী
১৮. ড্রপ শিপিং
১৯. ই-কমার্স
২০. বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং এর মাধ্যমে ইত্যাদি।

উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে যে কোন বিষয়ে ভালভাবে শিখে বা জ্ঞান অর্জন করে অনলাইনে কাজ শুরু করতে পারেন। কাজ করতে করতে যখন কোন সেক্টরে দক্ষ হয়ে যাবেন, তখন অনলাইন থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

অনলাইনে ইনকাম করার উপায় গুলো কি কি?

কোন্ কোন্ মার্কেটপ্লেসে বা কি কি কাজ করে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায় সে বিষয়ে চলুন বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করি।

১. গ্রাফিক্স ডিজাইন | ঘরে বসে আয় করার উপায়

সারা বিশ্বে গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর পরিধি অনেক বেশী। আপনি যদি ভালো মানের একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হন, তাহলে অনলাইন বেজড মার্কেটপ্লেসে ডিজাইন করে প্রতি মাসে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এছাড়া লোকাল বা দেশীয় কাজ করেও ইনকাম করতে পারবেন।

যে সকল মার্কেটপ্লেসগুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে ইনকাম করতে পারবেন-

ক) ফাইভার
খ) আপওয়ার্ক
গ) ফ্রিল্যান্সার
ঘ) ৯৯ ডিজাইন
ঙ) গ্রাফিক রিভার ইত্যাদি।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে কি কি কাজ করা যায়?

ক) লোগো ডিজাইন
খ) বিজনেস কার্ড বা ভিজিটিং কার্ড
গ) ক্যাশ মেমো
ঘ) ফ্লাইয়ার
ঙ) ব্রশিউর
চ) প্যাড/লেটার হেড
ছ) লিফলেট
জ) বিলবোর্ড
ঝ) ব্যানার
ঞ) ক্যালেন্ডার
ট) বুক
ঠ) বুক কভার ডিজাইন
ড) বিভিন্ন ধরণের পোস্টার
ঢ) প্যাকেজিং ডিজাইন
ণ) ফ্যাশন ডিজাইন
ত) বুটিক্
থ) গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ ডিজাইন ইত্যাদি।

২. লোগো ডিজাইন | অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

লোগো ডিজাইন গ্রাফিক্স ডিজাইনেরই একটি অংশ। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনের যতটা চাহিদা রয়েছে তার বেশীরভাগই হচ্ছে লোগো ডিজাইন। সারা বিশ্বে লক্ষ কোটি কোম্পানী রয়েছে। প্রতিটি কোম্পানীর নিজস্ব লোগো থাকে। কেননা, লোগো একটি কোম্পানীর পরিচয় বহন করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়- কোম্পানীকে অনেকে নামে চেনে না, কিন্তু লোগো দেখলে ঠিকই চেনে।

এজন্য একটি কোম্পানীর জন্য লোগো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সারা পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কোম্পানী তৈরী হচ্ছে এবং নতুন কোম্পানীগুলোর জন্য লোগো তৈরী করতে হয়। এছাড়া অনেক পুরাতন কোম্পানীও তাদের লোগো পরিবর্তন করে থাকে।

সব মিলিয়ে পৃথিবীতে লোগো ডিজাইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিনিয়ত লোগো তৈরী করতে হচ্ছে।

এই সেক্টরে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। কেননা, আমাদের দেশের ডিজাইনারকে দিয়ে যত কম পয়সা দিয়ে ডিজাইন করাতে পারে, অন্য কোন দেশ থেকে এতো কম পয়সায় ডিজাইন করাতে পারে না।

বিধায় এই সেক্টরে আমাদের ইনকামের অনেক সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে প্রতিযোগিতা বা কন্টেস্টের মাধ্যমে অনেক বায়ার লোগো বা অন্যান্য ডিজাইনের কাজ দিয়ে থাকে। সেখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বেশীরভাগই বাংলাদেশের ডিজাইনাররা বিজয়ী হয়।

সুতরাং গ্রাফিক্স ডিজাইন বা লোগো ডিজাইনে যদি এক্সপার্ট হতে পারেন, তাহলে এই সেক্টর থেকে হিউজ পরিমান ইনকাম করতে পারবেন।

৩. ওয়েব ডিজাইন | ঘরে বসে আয় করার উপায়

ডিজাইনের জগতে ওয়েব ডিজাইন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের দেশের শহর কেন্দ্রিক যে কোম্পানীগুলো রয়েছে প্রায় প্রতিটি কোম্পানীর ওয়েবসাইট রয়েছে। এছাড়া আমাদের দেশে অনলাইনে ইনকামের পরিধি আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই ওয়েবসাইট তৈরী করছে।

আর আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলোর ওয়েবসাইটের কথা তো বলাই বাহুল্য।

দিন যত যাচ্ছে ওয়েব ডিজাইনের চাহিদা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রচুর কাজ রয়েছে এই সেক্টরে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডিজাইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এ কাজের রেটও অনেক ভালো।

সুতরাং ওয়েব ডিজাইন শিখেও অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন।

৪. ডিজিটাল মার্কেটিং | অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

মার্কেটিং শব্দটির জন্ম হয়েছে মনে হয় মানব সভ্যতার পরপরই। প্রাচীনকাল থেকেই এ শব্দটির সাথে মানুষ পরিচিত হয়েছে। মানুষ যখনই বেচা-কেনার প্রথা চালু করেছে তখন থেকেই হয়তো মার্কেটিং এর জন্ম হয়েছে। যুগে যুগে মার্কেটিং এর পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। অর্থাৎ সময়ের পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে মার্কেটিং পদ্ধতিরও পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন হতে হতে আজ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

একটা সময় হয়তো এ পদ্ধতিরও পরিবর্তন হয়ে অন্য কোন পদ্ধতি চালু হবে।

এই তো কিছুদিন আগেও দেখলাম- হাটে-বাজারে হকাররা, বিভিন্ন চাটুকার বক্তব্য দিয়ে তার প্রডাক্টের মার্কেটিং করছে, অনেকেই তার প্রডাক্টের লিফলেট বানিয়ে মার্কেটিং করছে, আবার অনেকেই মাইকিং করে তার প্রডাক্টের মার্কেটিং করছে ইত্যাদি।

আর এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রডাক্টের মার্কেটিং করা হচ্ছে। খুব সহজেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রডাক্টের বিজ্ঞাপন প্রচার হয়ে যাচ্ছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার বিভিন্ন পণ্য ঘরে বসে অনলাইনে বিক্রি করতে পারছেন। পণ্য বিক্রি করার জন্য কোন দোকান ভাড়া নিতে হচ্ছে না, দোকানের এডভান্স দিতে হচ্ছে না ইত্যাদি।

শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইট অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় অল্প কিছু টাকা খরচ করলেই আপনার বিভিন্ন পণ্য আপনি বিক্রি করতে পারবেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে অনেক আগে থেকেই অনলাইনে কেনা-বেচা করা শুরু হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশেও অনলাইনে কেনা-বেচার পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটা সময় দেখা যাবে সবকিছুই অনলাইন বেজড কেনা-বেচা হচ্ছে।

এজন্য ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে অনলাইন থেকে হিজউ টাকা ইনকাম করুন। ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে অনলাইন ইনকামের উল্লেখযোগ্য একটি মাধ্যম। এই সেক্টর থেকে কল্পনাতীত ইনকামের সম্ভাবনা রয়েছে।

৫. ফেসবুক মার্কেটিং | ঘরে বসে আয় করার উপায়

অনলাইনে ইনকাম করার উপায় গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি উপায় হলো ফেসবুক মার্কেটিং। বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা পণ্য ফেসবুকে মার্কেটিং এর মাধ্যমে বিক্রি করে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারেন।

ফেসবুক আমাদেরকে অনলাইন থেকে বিজনেস করার দারুন একটা সুযোগ তেরী করে দিয়েছে।

আমাদের দেশের অনেক মহিলা বা গৃহিণী, চাকরিজীবি চাকরির পাশাপাশি ফেসবুকে বিভিন্ন প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন প্রচার করে ব্যবসা করছেন। আবার অনেকেই ফেসবুকক মার্কেটিংকে ফুলটাইম পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এখান থেকে ব্যবসা করে প্রচুর টাকা ইনকাম করছেন। আপনিও ফেসবুক মার্কেটিং করে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

মজার বিষয় হলো- আপনার প্রোডাক্ট যদি ভালো মানের হয় বা দেখতে সুন্দর হয় অথবা খুবই প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট হয় তাহলে এক প্রডাক্টই প্রচুর পরিমানে বিক্রি করতে পারবেন। আপনি হয়তো ধরে রেখেছিলেন আজকে দিন শেষে ১০০০-১৫০০ টাকা ইনকাম হতে পারে।

কিন্তু আপনার প্রোডাক্টটি ভালো মানের এবং প্রয়োজনীয় হওয়ায় প্রচুর পরিমানে বিক্রি হয়েছে। দিন শেষে দেখা গেলো যে আজ আপনার দশ হাজার টাকার উপরে ইনকাম হয়েছে। এজন্য প্রডাক্ট নির্বাচন করতে হবে মার্কেট এনালাইসিস করে।

৬. ব্লগিং করে টাকা আয় | অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

অনলাইন ইনকামের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ব্লগিং করে টাকা আয় করা। একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগসাইট তৈরী করে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন।

এটি অনলাইন ইনকামের খুবই সহজ একটি পদ্ধতি। সহজ পদ্ধতি বলার কারণ হলো-

গুগল বেশ কয়েক বছর ধরে, ব্লগিং করে টাকা আয় করার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে সাপোর্ট করছে। আপনি নিজের ভাষা অর্থাৎ বাংলা ভাষায়, যে বিষয়ে ভালো লেখালেখি করতে পারেন, সে বিষয়ে আর্টিকেল লিখে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন। ২০-২৫টি ভালো মানের ইউনিক আর্টিকেল লিখে ওয়েবসাইটে পাবলিশ করার পর গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন। এডসেন্সের অনুমোদন পেয়ে গেলেই আপনার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।

গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয় করার উপায় সম্পর্কে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে আসতে পারেন।

তবে আপনি যদি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাকে প্রাধান্য দিবেন। কেননা, বাংলা ভাষার তুলনায় ইংরেজি ভাষায় লেখা আর্টিকেল থেকে কয়েক গুণ বেশী ইনকাম করা সম্ভব। এর কারণ হলো আপনার আর্টিকেলগুলো বিদেশীরাও পড়বে।

আপনার সাইটে যদি কোন বিদেশী ভিজিট করে তাহলে এডসেন্স আমাদের দেশের তুলনায় কয়েক গুণ বেশী টাকা পে করে।

আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন, পাশাপাশি এসইও করবেন, তাহলে আস্তে আস্তে ইনকাম বাড়তে থাকবে। একটা সময় পর দেখবেন এখান থেকে আপনার কল্পনার বাইরে ইনকাম আসছে।

ব্লগিং করে আয় করা আমার কাছে সবচেয়ে সহজ মনে হয়েছে। চাইলে এ কাজটি শিখেও অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন।

৭. কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং | আর্টিকেল লিখে আয়

সারা বিশ্বে লক্ষ কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ইনকাম করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ সে ওয়েবসাইটগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ে বা বিভিন্ন প্রডাক্ট সম্পর্কে প্রতিনিয়ত কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লিখে এডসেন্সের মাধ্যমে বা অন্য উপায়ে ইনকাম করা হয়।

এখন এই আর্টিকেলগুলো কে লিখবে?

কেননা, সকলেই তো আর কন্টেন্ট লিখতে পারে না অথবা অনেকের কন্টেন্ট লেখার সময়ও নেই। এজন্য ওয়েবসাইটের মালিকগণ আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অন্যদেরকে দিয়ে কন্টেন্ট লিখিয়ে নেয়।

এজন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি ভালো মানের রাইটার হয়ে থাকেন তাহলে কন্টেন্ট লিখে প্রতি মাসে অনলাইন থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

কেননা, ভালো মানের রাইটারের অনেক অভাব রয়েছে। আপনি চাইলে কন্টেন্ট রাইটিং শিখে অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন।

৮. প্রোডাক্ট রিভিউ লিখে | আর্টিকেল লিখে ইনকাম

অনলাইনে বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ লিখে টাকা ইনকাম করতে পারেন। প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ কেন লিখতে হয়? এর কারণ হলো- প্রোডাক্ট কেনার আগে প্রোডাক্টটির ভালো এবং মন্দ উভয় বিষয়েই জানা যায়। অর্থাৎ এর মাধ্যমে প্রোডাক্টের সুবিধা অসুবিধা খুব সহজেই জানা যায়।

তবে কোন প্রোডাক্টের রিভিউ লেখার সময় প্রোডাক্টের পজিটিভ দিকগুলো বেশিরভাগ ফুটিয়ে তুলতে হবে এবং ন্যাগেটিভ দু’একটি পয়েন্টও লিখতে হবে। যাতে করে গ্রাহকের নিকট রিভিউটি গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং গ্রাহক যেন প্রোডাক্টটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কেননা, প্রতিটি জিনিষের ভাল-মন্দ উভয় দিকই থাকে।

আপনার রিভিউ পড়ার পর, যদি কোন গ্রাহক সেই প্রোডাক্টটি ক্রয় করে, তাহলে কোম্পানী আপনাকে একটা কমিশন দিবে। কোম্পানীগুলো তাদের প্রোডাক্টের প্রচার বা বিজ্ঞাপনের জন্য প্রচুর টাকা ব্যয় করেন। রিভিউ লেখার মাধ্যমে তারা প্রোডাক্টের প্রচার করে থাকেন।

মার্কেটে প্রচুর পরিমানে প্রোডাক্ট রয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানী তাদের প্রোডাক্টের প্রচারের জন্য রিভিউ লিখিয়ে থাকে। প্রোডাক্টের রিভিউ লেখার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আপনি যদি ভাল মানের রিভিউ লিখতে পারেন, তাহলে অনলাইন থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এটাকে আপনি ফুলটাইম পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে ভালো মানের প্রোডাক্ট রিভিউ লেখার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

৯. এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন | অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

অনলাইনে ইনকাম করার উপায় গুলোর মধ্যে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসইও শিখে আপনি অনলাইন থেকে প্রতি মাসে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইন কাজের বেশিরভাগই এসইও রিলেটেড কাজ।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগে এসইও কে বাদ দিয়ে মার্কেটিং করার কথা চিন্তাও করা যায় না। সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং মানেই এসইও।

অনলাইনে এসইও সংশ্লিষ্ট প্রচুর পরিমানে কাজ রয়েছে কিন্তু এসইও এক্সপার্ট এর বড়ই অভাব। এজন্য এ কাজটি আপনি শিখতে পারেন।

১০. ভিডিও এডিটিং | ঘরে বসে ইনকাম

ভিডিও এডিটিং করে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন। ইউটিউব, ফেসবুক সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অথবা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রচুর পরিমানে ভিডিও আপলোড করতে হয়। এসব ভিডিওগুলো অনলাইনে আপলোড করার পূর্বে এডিটিং করতে হয়। প্রতিটি ভিডিও এডিটিং করে প্রফেশনাল লুকিং তৈরী করতে হয়। ভিডিও এডিটিং এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওই নয় বরং বিভিন্ন নাটক, সিনেমা, নিউজ চ্যানেলের ভিডিও ইত্যাদি এডিটিং করতে হয়।

এছাড়াও লোকাল ভিডিও অর্থাৎ বিভিন্ন বিবাহ-সাদী, গায়ে হলুদ, জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী ইত্যাদি অনুষ্ঠানের ভিডিও এডিটিং করতে হয়। সব মিলিয়ে ভিডিও এডিটিং এর প্রচুর কাজ রয়েছে। তাছাড়া এ কাজের রেটও অনেক।

এজন্য প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিটিং শিখে অনলাইন এবং অফলাইন থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

১১. ফটো এডিটিং | অনলাইন থেকে ইনকাম

ভিডিও এডিটিং এর মতোই ফটো এডিটিংয়েরও অনেক চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ফটো এডিটিং করার পর আপলোড করতে হয়।

এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফটো, নাটক, সিনেমার পোষ্টার, বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের ফটো ইত্যাদি প্রতিনিয়ত এডিটিং করতে হয়।

এই সেক্টরেও প্রচুর পরিমানে কাজ রয়েছে। প্রফেশনাল মানের ফটো এডিটর হলেও অনলাইন থেকে হিউজ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এজন্য ফটো এডিটিং এর কাজও শিখতে পারেন।

১২. ইউটিউব ভিডিও তৈরী | ইউটিউব থেকে আয়

প্রফেশনাল মানের ইউনিক ভিডিও তৈরী করার পর ইউটিউবে আপলোড করে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে অনলাইন থেকে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করতে পারেন। অনলাইনে ইনকাম করার উপায় গুলোর মধ্যে ইউটিউব শীর্ষস্থানে রয়েছে।

আমাদের দেশের অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ইউটিউব থেকে আয় করছেন।

ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য যা যা করতে হবে-

ক) প্রথমে একটি চ্যানেল তৈরী করতে হবে।
খ) ভিডিও তৈরী করার জন্য ভালো কন্টেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
গ) প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরী করতে হবে।
ঘ) ভিডিওগুলো চ্যানেলে আপলোড করতে হবে।
ঙ) চ্যানেলে ১০,০০০ ভিউ, ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম এবং ১০০০ সাবস্ক্রাইবার হতে হবে।
চ) চ্যানেল মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে হবে।

ইউটিউব থেকে আয় | ইউটিউব থেকে ইনকাম করার উপায়

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি চাইলে পড়ে আসতে পারেন।

চ্যানেলে মনিটাইজেশন অর্থাৎ বিজ্ঞাপন চালানোর অনুমোদন পেয়ে গেলেই ইনকাম শুরু হয়ে যাবে। আস্তে আস্তে ভিডিওর ভিউ বাড়লে ইনকামও বাড়তে থাকবে।

আমাদের দেশের অনেকেই ইউটিউব থেকে আয় করাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। আপনিও চাইলে এটাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন।

তবে একটি কন্ডিশন আছে, তাহলো- ইউটিউব থেকে আয় হালাল নাকি হারাম তা নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে।

এজন্য ইউটিউবকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে যাচাই করে গ্রহণ করা উচিত।

১৩. অনলাইন ট্রেনিং | অনলাইনে ইনকাম করার উপায়

শিক্ষকতা একটি সম্মানের পেশা। বর্তমানে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয় প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনেও বিভিন্ন বিষয়ে শেখানো বা ট্রেনিং করানো যায়।

কোভিড-১৯ এর সময় তো ঘরে বসেই অনলাইনে ক্লাস করানো হয়েছে। ঐ সময় থেকেই ব্যাপক পরিমানে শুরু হয়েছে অনলাইন শিক্ষা বা ট্রেনিং।

ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং দিয়ে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এজন্য আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তাহলো- যে বিষয়ে আপনি অনলাইনে ট্রেনিং দিয়ে ইনকাম করতে চান সে বিষয়ে পুরোপুরি দক্ষতা বা জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

এই কাজটি একদিকে খুবই সম্মানের অন্যদিকে এখান থেকে প্রচুর পরিমানে ইনকাম করা যায়।

এছাড়া আপনি যদি অনলাইনে ভিডিওর মাধ্যমে ট্রেনিং দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার পরিচিতি বাড়তে থাকবে, ফেস ভ্যালু বাড়বে এবং সারা দেশের লোক আপনাকে চিনবে। নিজেকে বিশ্বের বুকে উপস্থাপন করার অন্যতম উপায়।

১৪. ডাটা এন্ট্রি করে আয় | ঘরে বসে ইনকাম

ডাটা এন্ট্রি শব্দটি আমাদের নিকট অতি পরিচিত একটি শব্দ। বিশেষ করে যারা কম্পিউটারে টুকটাক কাজ করতে পারি তাদের কাছে শব্দটি খুবই পরিচিত। অনলাইন মার্কেটে প্রচুর পরিমানে ডাটা এন্ট্রির কাজ রয়েছে।

বিভিন্ন মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রির কাজ করা যায়। যেমন-

ক) ক্যাপচা এন্ট্রি করে
খ অডিও শুনে ডাটা এন্ট্রি
গ) ইমেজ থেকে টেক্সট লেখা
ঘ) মাইক্রো জব
ঙ) ওয়েব সিস্টেমে ডাটা এন্ট্রি
চ) ইমেইল প্রসেসিং
ছ) ক্যাপশনিং
জ) কপি পেস্ট
ঝ) ডাটা ফরমেটিং
ঞ) ফরমেটিং ও এডিটিং
ট) রি-ফরমেটিং ও কারেকশন

তবে ডাটা এন্ট্রির কাজ করে খুব বেশী ইনকাম করা যায় না। যারা কম্পিউটারে টাইপিং স্পিড মোটামোটি ভালো তারা অনলাইনে টাইপিং এর কাজ খুঁজে থাকেন। পিডিএফ ফাইল বা ইমেজ থাকবে সেটা দেখে দেখে টাইপ করতে হবে।

এ ধরণের কাজ সকলেই খুঁজে থাকেন বিধায় এ কাজগুলো খুব বেশী পাওয়া যায় না।

যদিও মাঝে মাঝে কিছু কাজ পাওয়া যায় সেগুলোও প্রতিযোগিতা করে নিতে হয়। এজন্য এ কাজগুলো পাওয়া খুবই কঠিন।

তবে ক্যাপচা এন্ট্রির কাজ প্রচুর রয়েছে। কিন্তু ক্যাপচা এন্ট্রি করে খুব বেশী ইনকাম করা যায় না।

ডাটা এন্ট্রির কাজ আসলে বিগিনারদের জন্য। এ কাজ করতে বেশি কিছু জানতে হয়না। আপনার যদি কোন স্কিল না থাকে তাহলে হয়তো ডাটা এন্ট্রি দিয়ে অনলাইন ইনকাম শুরু করতে পারেন।

তবে আমি বলব ডাটা এন্ট্রির পেছনে সময় নষ্ট না করে কিছু স্কিলপূর্ণ কাজ শেখার চেষ্টা করুন।

তাহলে অল্প সময়ে অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন।

অনলাইন থেকে যারা ইনকাম করতে পারবেন-

ইনকামের জন্য অনলাইন এমন একটি ক্ষেত্র, যেখান থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বা বিভিন্ন বয়সের মানুষ খুব সহজে ইনকাম করতে পারবেন। যারা অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন-

১. বেকারগ্রস্থ মানুষ। যারা পরিবারের বোঝা হয়ে আছেন। অসহায় পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারছেন না। তারা চাইলে অনলাইন থেকে ইনকাম করে নিজের অসহায়ত্ব দূর করার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

২. চাকুরীজীবি। চাকরির নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে বেশি কিছু করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজনীয় অনেক চাহিদা পূরণ করা যায় না। এজন্য অতিরিক্ত ইনকামের প্রয়োজন দেখা দেয়।

যারা সময় পান তারা চাকরির পাশাপাশি অনলাইন থেকে ইনকাম করার মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারেন।

৩. ছাত্র-ছাত্রী। আমাদের দেশের বেশীরভাগ শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণই গরীব বা অস্বচ্ছল। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ ধরণের শিক্ষার্থীরা অবসর সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইন থেকে ইনকাম করে নিজেরদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সহ পরিবারকে সাহায্য করতে পারে।

তবে ইনকামের নেশায় পড়াশোনার যেন ক্ষতি না হয়।

কেননা, জীবনে ইনকামের অনেক সুযোগ পাওয়া যাবে, কিন্তু পড়াশোনার সময় একবার চলে গেলে পরবর্তীতে আর সময় বা সুযোগ কোনটাই হয়না।

ঘরে বসে আয় করার উপায়-

৪. গৃহিণী। আমাদের দেশের গৃহিণীদের মধ্যে যারা একটু শিক্ষিত তারা বেশীরভাগ সময় অবসর থাকেন। বিশেষ করে শহরের গৃহিণীরা একদমই অবসর থাকেন। সারাদিনে ১-২ বেলা রান্না করা ছাড়া তাদের আর তেমন কোন কাজ থাকে না। তারা চাইলে অবসর সময় না কাটিয়ে, অনলাইন থেকে ইনকামের মাধ্যমে নিজের সংসারের অনেক প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারেন। স্বামী বেচারার একার পক্ষে অল্প ইনকাম দিয়ে সংসারের সকল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়না।

এজন্য তারা অনলাইন থেকে ইনকাম করে সংসারের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের মাধ্যমে স্বামীকে হেল্প করতে পারেন।

তবে এখানে একটি কথা বলে রাখতে চাই- আমাদের দেশের স্ত্রীরা যদি ইনকাম করেন, তারা স্বামীকে মূল্যায়ন করতে চায়না, স্বামীর কথা শুনতে চায়না। তারা চিন্তা করে, আমি ইনকাম করে নিজে চলতে পারি, তাহলে স্বামীর কমান্ড শুনতে হবে কেন? এরকম যারা করেন বা চিন্তা করেন তাদের সংসারে কখনো সুখ-শান্তি থাকে না।

স্বামী বেচারা ইনকাম করে সবই তো আপনার সংসারেই খরচ করেন, কই তারা তো কখনো এমন চিন্তা করেন না।

৫. অবসর গ্রহণকারী। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সেক্টর থেকে অনেকেই অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণ করার পর তাদের কোন কাজ না থাকায় ইনকাম বন্ধ হয়ে যায়। ইনকাম বন্ধ হয়ে গেলে কি হবে, খরচ তো আর থেমে থাকে না। আস্তে আস্তে তিনি পরিবারের বোঝা হয়ে যান।

বেচারা সারা জীবন পরিশ্রম করে সংসারের ঘানি টেনে গেছেন। অথচ অবসর হওয়ায় এখন পরিবারের বোঝা।

এ ধরণের সম্মানিত ব্যক্তিগণ পরিবারের বোঝা হয়ে না থেকে অনলাইনে ইনকামের মাধ্যমে পরিবারে সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারেন।

৬. সকল পেশার মানুষ। যারা প্রতিদিনের কাজ শেষ হওয়ার পর অনেক সময় অবসর থাকেন, তারাও অনলাইন থেকে ইনকাম করে আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি করতে পারেন।

৭. স্বল্প আয়ের মানুষ। যাদের স্বল্প আয়, তারা সংসার বা পরিবারের অনেক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। শিক্ষা, চিকিৎসা, অতিরিক্ত কোন প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা তাদের থাকে না। এজন্য তারা তাদের ইনকাম বৃদ্ধি করার জন্য অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন।

এতে করে খুব সহজে তারা সংসারের সকল চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবেন।

অনলাইনে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে এই আর্টিকেলটি যাদের জন্য লেখা হয়েছে-

১. যারা কঠোর পরিশ্রমী।
২. মনোযোগ সহকারে যারা কাজ করতে অভ্যস্থ।
৩. যারা আসলেই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান।
৪. অনলাইন ইনকামের প্রতি যারা বিশ্বাসী।
৫. অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে যারা অনভিজ্ঞ বা যারা একেবারে নতুন কিন্তু অনলাইন থেকে ইনকাম করতে আগ্রহী।

এই আর্টিকেলটি যাদের কোন উপকারে আসবে না-

১. যারা খুব সহজেই অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমানে ইনকাম করার স্বপ্ন দেখেন।
২. পরিশ্রম ছাড়াই যারা ডলার ইনকাম করতে চান।
৩. যারা সময় ব্যয় বা পরিশ্রম কোনটাই করতে চান না।
৪. অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায় শুনেছেন, কিন্তু বিশ্বাস করেন না যারা।
৫. অনলাইন থেকে ইতিমধ্যে যারা ইনকাম করছেন।

প্রতারণা থেকে দূরে থাকুন-

অনেক কুচক্রী মহল প্রতারণার ফাঁদ খুলে বসে থাকে। যারা অনলাইনে নতুন কাজ শুরু করেন, তারা না বুঝে অনেক সময় এসব কুচক্রী মহলের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে থাকেন। শুরুতেই তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন।

কেউ কেউ হয়তো এখান থেকেই ছিটকে পড়ে যান। আবার অনেকেই পুনরায় চেষ্টা করেন।

অনলাইনে মাঝে মাঝে এমন লোভনীয় অফার চোখে পড়ে, যেগুলোর বেশিরভাগই ভূয়া এবং ভিত্তিহীন। এ ধরণের ভূয়া এবং লোভনীয় অফার কখনও গুরুত্ব দিবেন না।

কেননা, কোনটি ভূয়া আর কোনটি আসল তা তো আপনি জানেন না। সুতরাং এগুলো থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

কয়েকটি সিম্পল বিষয় মনে রাখলে প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে। যেমন-

১. স্কীলড বা অভিজ্ঞ হওয়া ছাড়া অধিক ইনকাম আশা করা যায় না।
২. কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
৩. অনলাইন হোক আর লোকাল হোক ইনকাম করা এতো সহজ না।
৪. অল্প সময়ে অধিক পরিমানে ইনকাম করা সম্ভব নয়।
৫. অতিরিক্ত লোভ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

অনলাইনে ইনকাম করার উপায় | ঘরে বসে ইনকাম

প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা আবশ্যক, তাহলো- অনলাইন থেকে ইনকাম করতে কখনো থার্ড পার্টিকে টাকা দিতে হয়না।

অনলাইনে ইনকামের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইনভেষ্ট করতে হয়। তবে কোন থার্ড পার্টিকে নয়।

কোন্ কোন্ সেক্টরে ইনভেষ্ট করতে হয় তা নিম্নরূপ-

ক) অনলাইনে ইনকাম করতে হলে কোন বিষয়ে স্কিল থাকা জরুরী। সেই স্কিল অর্জনের জন্য টাকা খরচ করতে হয়। এখন কোন কিছু শিখতে তেমন কোন কষ্ট হয়না। কেননা, ইউটিউব এবং গুগল মামা তো আছেই। যে কোন কিছু জানতে বা শিখতে ইউটিউব বা গুগল সার্চ করলেই সহজেই উত্তর পাওয়া যায়।

তারপরও কিছু কিছু বিষয়ে ওস্তাদ ছাড়া কাজ হয়না। যে কারণে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। তবে কোন কিছু শিখতে হলে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পূর্বে অবশ্যই ভালভাবে যাচাই করে ভর্তি হবেন। কেননা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে এখন অনেকেই কসাইখানা খুলে বসে আছে।

সার্ভিস দেওয়ার খবর থাকে না অথচ এক গাদা টাকা নিয়ে বসে থাকে।

খ) অনেকেই ওয়েবসাইট তৈরী করে ব্লগিং করে ইনকাম করতে চান। ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় বাবদ কিছু টাকা খরচ হয়।

গ) ওয়েবসাইট তৈরী এবং ওয়েবসাইটকে এসইও করতে।

ঘ) আপনার কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ফেসবুকে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পেইড মার্কেটিং করতে।

ঙ) অন্য কোন পেইড মার্কেটিং এর জন্য।

চ) কিওয়ার্ড রিসার্চ বা এসইও করতে বিভিন্ন পেইড টুলস্ কিনতে।

ঙ) এ্যামাজন এফিলিয়েট বা ব্লগিং এর জন্য রাইটারকে দিয়ে আর্টিকেল লিখাতে। তবে আপনি যদি নিজেই আর্টিকেল বা কন্টেন্ট লিখতে পারেন তাহলে এখানে আর ইনভেষ্ট করতে হবে না।

আপনি নিজে কন্টেন্ট লিখতে না পারলে এই সেক্টরে প্রচুর পরিমানে ইনভেস্ট করতে হয়।

আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশী আর্টিকেল লিখবেন ততো বেশী ইনকামের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

শেষকথা-

আমাদের দেশে বেকার এবং দারিদ্রের সংখ্যা দিন দিনে বেড়েই চলেছে। বেকার সমস্যা এবং দারিদ্র বিমোচনে অনলাইন ইনকামের জুড়ি নেই। প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন থেকে ইনকাম করার ব্যাপক রিসোর্স রয়েছে। আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা অনলাইনে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আপনি যে কোন সেক্টরে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে অনলাইন থেকে কল্পনাতীত পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন। যে পরিমান ইনকাম আমাদের দেশের উচ্চ পদস্থ চাকরিজীবিও করতে পারেন না।

তবে শর্ত হলো আপনাকে দক্ষ এবং পরিশ্রমী হতে হবে। সৎ এবং স্বাধীনভাবে ইনকাম করার অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে অনলাইন ইনকাম।

Leave a Comment