ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় মাংসের নানা পদে আমাদের টেবিল ভরে ওঠে। লাল মাংস সুস্বাদু এবং শক্তি দেয়, তাই অনেকেই একটু বেশি খেতে উৎসাহী হন। তবে হঠাৎ করে বেশি মাংস খাওয়া শরীরে নানা প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দেহের বিপাক ও হজম প্রক্রিয়া বাড়তি চাপের মুখে পড়ে।
মাংস হজম হতে সময় নেয়। যদি রান্নায় তেল, মসলা বা চর্বির পরিমাণ বেশি হয়, দেহে তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে খাবারের পর হঠাৎ শরীর গরম বা ঘাম আসা স্বাভাবিক ঘটনা। এছাড়া বেশি মাংস খাওয়ার পর ভারী অনুভূতি, আলসেমি, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব করা সম্ভব।
কিন্তু শুধুই অ্যালার্জি বা দুধজাত উপকরণের কারণে নয়, যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তাদেরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। হজমের সমস্যার মধ্যে পড়তে পারে পেটব্যথা, বমি বা পাতলা পায়খানা। এমনকি ডুষ্পাচ্য বা চর্বিযুক্ত মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, ঢেকুর ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে।
মাংস খাওয়ার সময় যাদের বিশেষ বিধিনিষেধ আছে, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনির সমস্যা, তাদের পরিমিত খাওয়া উচিত। মাংসের মগজ, পায়া বা কলিজা জাতীয় চর্বিযুক্ত অংশ এড়িয়ে চলা নিরাপদ। এছাড়া হাইজিন ও সঠিক সেদ্ধ প্রক্রিয়া মানা জরুরি, কারণ আধসেদ্ধ বা বাসি মাংস খাদ্যবাহিত জীবাণু ছড়াতে পারে।
স্বাস্থ্যবান থাকতে মাংসের সঙ্গে উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করা উত্তম। সালাদ বা আঁশসমৃদ্ধ খাবার মিশিয়ে খেলে হজমের সমস্যা কমে। খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পানি না খেয়ে অন্তত ১৫–২০ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। প্রক্রিয়াজাত মাংস ও চামড়াসহ মুরগির রান্না এড়িয়ে চলুন।
সর্বোপরি, যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণ করা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। উৎসবের আনন্দ উপভোগের সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।