“বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা ক্যারিয়ার: চাকরি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার”

Spread the love

বাংলাদেশের ডিজিটাল দুনিয়া দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্স, ই-গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল শিক্ষা এখন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে ডিজিটাল ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সাইবার হুমকিও দিন দিন বাড়ছে। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে তরুণরা সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু চাকরির একটি ক্ষেত্র নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে।

সাইবার অপরাধের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সাইবার অপরাধ বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এবং অর্থ লুণ্ঠনের শীর্ষে থাকে। অভিযোগকারীর ৭৮ শতাংশই ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণ। গত পাঁচ বছরে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি সাইবার অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্স ও ই-কমার্স প্রতারণার মামলা রয়েছে। এই তথ্য প্রমাণ করে, দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবীদের চাহিদা বাজারে যথেষ্ট, কিন্তু সরবরাহ সীমিত।

সাইবার নিরাপত্তা এখন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে ‘হট সেক্টর’। দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য চাকরির ঘাটতি নেই। নিরাপত্তা বিশ্লেষক, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ইঞ্জিনিয়ার, পেনিট্রেশন টেস্টার এবং ক্লাউড নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়ছে। আন্তর্জাতিকভাবে এই পেশার চাকরির চাহিদা ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৩২ শতাংশ বাড়বে।

বাংলাদেশে বেতনও প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে। এন্ট্রি লেভেলে মাসিক ৩০ থেকে ৬০ হাজার, মিড লেভেলে ৬০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার এবং জ্যেষ্ঠ পদে ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এথিক্যাল হ্যাকার বা সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতো বিশেষ পদে মাসিক আয় ৬৬ হাজার বা তার বেশি হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে রিমোট জবও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ দেয়।

বাজারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতার ঘাটতি। প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা প্রটোকল গ্রহণে ধীর। তরুণরা অনেক সময় বিদেশি চাকরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতার অভাবও বড় প্রতিবন্ধকতা।

তবে সঠিক দক্ষতা ও প্রস্তুতি থাকলে সাইবার নিরাপত্তা তরুণদের জন্য একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার হতে পারে। সিইএইচ, সিআইএসএসপি, কম্প–টিআইএ সার্টিফিকেশন অর্জন এবং বাস্তব প্রকল্পের অভিজ্ঞতা অর্জন এক্ষেত্রে সহায়ক। ঢাকার স্টার্টআপ থেকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—সব জায়গায় দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের চাহিদা বাড়ছে। এই পেশা কেবল চাকরি নয়, দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page