পড়াশোনা করার নিয়ম

পড়াশোনা করার নিয়ম- পড়াশোনার নিয়ম বা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যায় দশ জনের পড়াশোনা করার নিয়ম দশ রকমের। একজনের সাথে অন্যজনের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই ধ্যান-ধারণা হলো ফার্স্ট বয় হতে বা ভালো রেজাল্ট করতে হলে সারাদিন শুধু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় সকাল থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর পূর্ব পর্যন্ত কখনো নিজের পড়ার টেবিলে, কখনো প্রাইভেট টিউটরের কাছে, কখনো কোচিং এ পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এছাড়া প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা করে স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা নিয়ে থাকতে হয়।

এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই তাহলো- বর্তমানে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের পাঠ্যপুস্তকের পড়াশোনার এতো চাপ থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে অন্যান্য বিষয়াদী শিখার জন্য চাপ দিয়ে থাকে। যেমন-

ক) কুরআন পড়া শিখা

খ) নাচ ও গান শিখা

গ) বাঁদ্যযন্ত্র বাজানো শিখা

ঘ) অভিনয় শিখা

ঙ) কম্পিউটার শিখা

চ) কুংফু শিখা

একজন মানুষের পক্ষে একই সময়ে এতো কিছু শিখা সম্ভব? অভিভাবকগণ শুধুমাত্র সমাজের মানুষের কাছে সন্তানকে নিয়ে গর্ব

বা অহংকার করার জন্য তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে অমানসিক চাপ। অনেকেই চাপ কাটিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারে আবার অনেকেই ছিটকে পড়ে যায়। এ পরিস্থিতির জন্য কাকে দায়ী করা যেতে পারে? যার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নাকি যে চাপিয়ে দিয়েছে? অভিভাবকদের এ কাজটি কখনোই করা উচিৎ নয়। সকল অভিভাবকদেরই খেয়াল রাখা উচিৎ, আমি যে আমার সন্তানের উপর এতো কিছু চাপিয়ে দিচ্ছি এ চাপগুলো কি সে সামলাতে পারবে? সন্তানদেরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তারপর তাদেরকে পড়াশোনা বা অন্যান্য বিষয়াদি শিখানো উচিৎ। তাদের উপর নিজের খেয়াল খুশি মতো কোন কিছুই চাপানো উচিৎ নয়। কেননা ধারণ ক্ষমতার বাইরে সে কোনকিছুই নিতে পারবে না।

ক্লাসে ফার্স্ট বয় বা ভালো রেজাল্টের আশায় একেক শিক্ষার্থী একেক নিয়মে পড়াশোনা করে থাকে। কিছু নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো-

ক) কেউ দিনের বেশীরভাগ সময়ই পড়াশোনা করে।

খ) কেউবা দিনের কিছু সময় লেখাপড়া করে।

গ) আবার কারো কারো সারা বছর পড়াশোনা করার কোন খবর থাকে না কিন্তু পরীক্ষার ১-২ মাস পূর্বে লেখাপড়া শুরু করে।

ঘ) কেউ মোটামোটি লেখাপড়া করে।

পড়াশোনা করার নিয়ম

বুঝে পড়ো, মুখস্থ ছাড়ো | পড়াশোনা করার নিয়ম

যে কোন বিষয়কে শিখতে হলে আগে তা বুঝতে হবে। না বুঝে বোকার মতো কোন কিছু শিখা উচিত নয়। আমরা অনেকেই মুখস্থ পড়াশোনা করি, বোঝার চেষ্টা করি না। যে কোন বিষয়কে আপনি যদি মুখস্থ করেন একটা সময় সেটা ভুলে যাবেন। আর যদি বুঝে পড়েন তবে সেটা কখনই ভুলবেন না। এ পদ্ধতিতে লেখাপড়া করলে পরীক্ষার রেজাল্টও ভালো হবে এবং পড়াশোনার অনেক বিষয় জীবনের কোন না কোন সময় কাজে আসবে। এজন্য মুখস্থ বিদ্যা বর্জন করে বুঝে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো বুঝে পড়ার বিষয় নয়, মুখস্থ পড়তে হয়। যেমন- পবিত্র কুরআন হিফজ করা, কবিতা মুখস্থ করা ইত্যাদি।

যা শিখেছো তা অন্যকে শিখাও-

যা শিখেছো তা অন্যকে শিখাও এই পদ্ধতিটি নিজের জ্ঞান বৃদ্ধি বা পড়াশোনায় ভালো করার জন্য খুবই কার্যকরী পদ্ধতি। পৃথিবীতে দুটি জিনিস বিতরণ করলে তা অধিক পরিমানে বৃদ্ধি পায়। ১) জ্ঞান বা শিক্ষা এবং ২) দান-সদাকাহ্।

অপরকে শিখাতে হলে নিজেকেও শিখতে হয়। যতো পড়বেন, ততো শিখবেন। এজন্য পাঠ্য পুস্তক অথবা অন্য উপায়ে যা কিছুই শিখো তা অপরকে শিখাও। তাহলে তোমার পরীক্ষার রেজাল্টও ভালো হবে এবং জ্ঞানও বৃদ্ধি পাবে।

একটানা না পড়ে বিরতি দিয়ে পড়া | পড়াশোনা করার নিয়ম

যদি মনে মনে স্থির করে পড়তে বসো যে, আমি একটানা দুই ঘন্টা পড়বো। তবে এই দুই ঘন্টা একটানা না পড়ে মাঝে ছোট ছোট বিরতি দিয়ে পড়া। অর্থাৎ একটানা ৪৫ মিনিট পড়ার পর ১০ মিনিটের একটি বিরতি দাও। তারপর আবার একটানা ৪৫ মিনিট পড়ার পর ১০ মিনিটের আরও একটি বিরতি দাও। এভাবে ছোট ছোট বিরতি দিয়ে লেখাপড়া করলে দেখবে লেখাপড়া করতে ভালো লাগবে। পড়াশোনা করতে একঘেয়েমী লাগবে না। বিরতির সময়গুলোতে একটু রুমের ভেতর হাটা-চলা করা বা হালকা কিছু খাবার খাওয়া। তবে মোবাইল, ফেসবুক, ইউটিউব অবশ্যই বর্জন করতে হবে। কারণ একবার ফেসবুক, ইউটিউবে ঢুকলে সময়ের বারোটা বেজে যাবে।

অনেকক্ষণ একটি বিষয় না পড়ে বিভিন্ন বিষয় পড়া-

যখন একটি বিষয় অনেক সময় ধরে পড়া হয় আস্তে আস্তে তা একঘেয়েমী হয়ে যায়। পড়ার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আধা ঘন্টা পরপর বিষয় পরিবর্তন করে পড়া উচিৎ। এতে দুইটি উপকারিতা রয়েছে। ১) একঘেয়েমী থাকবে না এবং ২) সকল বিষয়ে অনুশীলন হয়ে যাবে।

ভোরে পড়াশুনার অভ্যাস গড়ে তোলা | পড়াশোনা করার নিয়ম

ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়াশুনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভোরে উঠে প্রার্থনা করার পর একটু হাটাচলা এবং ব্যায়াম করতে হবে। তারপর ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু নাস্তা করে পড়াশুনা শুরু করো, দেখবে পরিবেশটাই অন্যরকম। ভোর বেলা শরীর ও মন উভয়ই সতেজ থাকে। তবে তার জন্য যে জিনিষটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাহলো পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানো। সকালে শরীরে কোন প্রকার ক্লান্তি থাকে না। সকালের আবহাওয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকতে সাহায্য করে। সকালে লেখাপড়ায় মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং তা খুব সহজেই মস্তিস্কে প্রবেশ করে। অন্য সময়ে যে পড়া সম্পন্ন করতে ২ ঘন্টা সময় লাগে ভোর বেলায় তা সম্পন্ন করতে ১ ঘন্টা সময় লাগবে। এজন্য সারাদিনের মধ্যে লেখাপড়ার সবচেয়ে উপযোগী সময় হলো ভোর বেলা।

রাত জেগে পড়াশোনা না করা | পড়াশোনা করার নিয়ম-

ইসলাম এবং চিকিৎসা শাস্ত্র রাত জাগাকে সমর্থন করে না। রাত জাগলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। এজন্য রাত জেগে লেখাপড়া ‍উচিত নয়। এ বদ অভ্যাসটি আমাদের অনেকেরই রয়েছে।

রাত জেগে পড়াশুনা করার আসলে তেমন কোন ফায়দা নেই। কেননা চোখে ঘুম নিয়ে কোন কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়না। বর্তমানে তো আরও একটি সমস্যা যুক্ত হয়েছে তাহলো মোবাইল, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি। রাত জেগে পড়ার টেবিলে ফেসবুক, ইউটিউব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এছাড়া ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় অনেকে রাত জেগে পড়ার নাম করে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ে।

এক গুণীজনের মুখে শুনেছিলাম- ”রাত জাগে কারা, যারা চরিত্রহীন। চরিত্রবান লোকেরা কখনো রাত জাগে না। বরং তারা সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়ে আবার খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা সেড়ে পড়তে বসে”। সেই গুণীজনের কথার সাথে বর্তমান অবস্থা মিলিয়ে দেখলে সহজেই বুঝা যায় তাঁর সেই কথাটি কতটা মূল্যবান। এজন্য রাত জেগে লেখাপড়া করার বদ অভ্যাসটি দূর করতে হবে।

লেখাপড়ায় বাঁধা সৃষ্টি করে এমন জিনিষ হাতের কাছ বা পড়ার রুমে না রাখা-

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন লেখাপড়ায় বাঁধা সৃষ্টি করে বা মনোযোগ নষ্ট করে এমন কোন কিছু পড়ার রুমে না রাখা। পড়ার রুমকে এমনভাবে তৈরী করতে হবে যেন পড়াশোনার উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু না থাকে। পড়ার রুমকে একটু আলাদা করা যেন পড়ার সময় অন্য কেউ প্রবেশ করে মনোযোগ নষ্ট না করে। এছাড়া পড়ার রুমে যে জিনিষগুলো কোনভাবেই রাখা যাবে না তাহলো- মোবাইল (ফেসবুক, ইউটিউব, ম্যাসেঞ্জার), টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, গেমস খেলার সরঞ্জাম ইত্যাদি। অর্থাৎ পড়ার সময় পড়া ছাড়া অন্য কোন কাজ করা যাবে না। বর্তমান সময়ে মোবাইল, ফেসবুক, ইউটিউব, ম্যাসেঞ্জার এগুলো মানুষের কি পরিমান যে ক্ষতি করছে সেটা বুঝানো যাবে না। এগুলোর প্রতি আসক্ত হওয়ার কারণে মানুষ সময়কে মূল্যায়ন করা ভুলে গেছে। মানুষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক সময় এগুলোর পিছনে নষ্ট করছে।

টার্গেট বা মিশন সেট করে পড়াশুনা করা এবং টার্গেট সম্পন্ন হলে নিজেকে নিজেই পুরস্কৃত করা-

মিশন বা টার্গেট সেট করে তদানুযায়ী যদি কোন কাজ করা হয় তবে সে কাজে সফলতা আসবেই ইনশা-আল্লহ্। এজন্য মিশন বা টার্গেট সেট করে পড়াশোনা করার চেষ্টা করা। আর যখনই মিশন সাকসেস হবে তখন নিজেই নিজেকে কিছু পুরস্কার দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। এতে করে মিশন সেট করে পড়াশোনা করার আগ্রহ তৈরী হবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।

আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনা করা-

যে কোন কাজে সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো আত্মবিশ্বাস। আমরা অনেক সময় বিষন্নতায় ভূগে থাকি। আমার দ্বারা এ কাজটি হবে কি হবে না, পারব কি পারব না ইত্যাদি। শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও দেখবে তুমি সফলতার দরজায় পৌঁছে গেছো। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে আত্মবিশ্বাস ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ভালো নয়। অর্থাৎ পরিশ্রম বা প্রচেষ্টা না করে শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাস নিয়ে বসে থাকলে হবে না। আত্মবিশ্বাসও থাকতে হবে পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। তবে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।

আনন্দ বা মজা করে পড়াশোনা করা-

মানুষ যে কাজ করতে আনন্দ বা মজা পায় না, সে কাজগুলো বেশী সময় করতে পারে না। কিছু সময় পর বিরক্ত চলে আসে। কিন্তু যে কাজে আনন্দ আছে সেগুলো করতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং সেই কাজের আউটপুট খুবই ভালো হয়। এজন্য পড়াশোনার মধ্যে আনন্দ বা মজার বিষয়গুলো খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী পড়তে হবে। তাহলে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরী হবে এবং পড়তে খুবই ভালো লাগবে।

মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করা-

যতটুকু পড়বে মনোযোগ সহকারে বুঝে পড়ার চেষ্টা করবে। মনোযোগ সহকারে পড়লে দেখবে অল্প সময়েই অধিক পড়া যায়। পড়ার সময় মনটাকে শুধুমাত্র পড়ার মধ্যেই রাখতে হবে। অন্য কোন দিকে মনটাকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। অর্থাৎ পড়ার সময় পড়া, খেলার সময় খেলা। পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার জন্য আমাদের পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার উপায় কি শিরোনামের পোষ্টটি দেখে আসতে পারো। আশা করছি পোষ্ট পড়ে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পারবে। অল্প সময়ে অধিক পড়ার মূলমন্ত্র হলো মনোযোগ সহকারে পড়া।

রুটিন তৈরী করে পড়াশোনা করা-

শুধুমাত্র পড়াশোনাই নয় বরং সকল কাজই রুটিন তৈরী করে করা উচিত। রুটিন তৈরী করে কাজ করলে কাজের আউটপুট বৃদ্ধি পায়। প্লানিং বা রুটিন ছাড়া পড়াশোনা করার চিত্র হলো- তোমার ইচ্ছা হলে পড়তে বসবে কিন্তু ইচ্ছা না হলে পড়বে না। প্লানিং না থাকলে ঘুম থেকে দেরী করে উঠবে, আড্ডা দিবে, সারাদিন আজে-বাজে কাজে সময় কেটে যাবে। মাঝে মাঝে মনে হবে এই কাজটি শেষ করেই পড়তে বসবো, কখনো মনে হবে বিকালে পড়তে বসবো, কখনো বলবে রাতে পড়তে বসবো। এভাবে করে রাত ৭-৮টা পর্যন্ত সময় নষ্ট করে পড়তে বসবে। কিছুক্ষণ পরই রাতের খাবারের সময় হয়ে যাবে। খাওয়া শেষে পড়তে বসলে শরীরে ক্লান্তি ও ঘুম চলে আসবে। তখন মনে হবে এখন ঘুমিয়ে পড়ি কালকে থেকে ঠিকমত পড়াশোনা করবো। রুটিন না থাকলে প্রতিদিন এভাবেই সময় নষ্ট হয়ে যাবে। পরীক্ষার সময় চলে আসবে, রেজাল্ট খারাপ হবে।

যদি রুটিন তৈরী করে পড়ো তবে সবকিছু নিয়মানুযায়ী হবে। রুটিনের বাইরে কোন কাজ করলে মনে হবে এ কাজটি তো আমার রুটিনে ছিল না। এখন তো আমার পড়তে বসার কথা। রুটিন এমনভাবে তৈরী করতে হবে যেন প্রতিদিন সকল বিষয়ই অনুশীলন করা যায়। রুটিন তৈরী করে পড়াশোনা করার অনেক ফায়দা রয়েছে। যেমন-

ক) সময়কে মূল্যায়ন করতে শিখায়।

খ) পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি করে।

গ) নিয়ম-শৃঙ্খলা শিখায়।

ঘ) পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হয়।

ঙ) সর্বোপরি সফলতা পেতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page