শীতকালে শরীরের স্বাস্থ্য বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমাদের দেহ সহজেই শীতের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে কী খাওয়া হবে তা জানা দরকার। শীতকালে আমাদের দেহ বেশি শক্তি এবং উষ্ণতা চায়।
খাবারের মাধ্যমে আমরা শরীরকে শক্তিশালী, রোগপ্রতিরোধী এবং উষ্ণ রাখতে পারি। এছাড়া, কিছু খাবার আমাদের ত্বক ও চুলকে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। শিশুরাও যদি সঠিক খাবার খায়, তারা শক্তিশালী ও সুস্থ থাকে। চলুন ধাপে ধাপে জানি শীতকালে কোন ধরনের খাবার আমাদের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
১। সঠিক প্রোটিন গ্রহণ
শীতকালে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন আমাদের দেহকে শক্তি দেয়, পেশী মজবুত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, দুধ, দই, পনির, মুরগির মাংস, মাছ এবং ডিম হলো প্রোটিনের ভালো উৎস। প্রতিদিন এই ধরনের খাবার খেলে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে এবং সহজে ঠান্ডা লাগতে দেয় না।

ছোটদের জন্য দুধ ও দই খাওয়া খুব উপকারী। “মা, আজ দুধ খেলে কি শরীর গরম থাকবে?” – এই প্রশ্নটি অনেক শিশু করে। হ্যাঁ, দুধে প্রাকৃতিক প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। এছাড়া, শীতকালে ডিম সেদ্ধ বা সিদ্ধ করে খাওয়াও খুব ভালো। মাছের মধ্যে ওমেগা-৩ থাকে, যা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং শরীরকে শীতের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
শীতকালে আমরা প্রায়ই কম খাই বা বাইরে খেতে যাই। তাই ঘরে তৈরি প্রোটিনযুক্ত খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি পছন্দ থাকে, মুরগি বা মাছ দিয়ে হালকা তরকারি বানানো যায়। এইভাবে আমরা প্রোটিনও পাই এবং শরীরও গরম থাকে। মনে রাখবেন, প্রোটিন ছাড়া শরীর শীতের সঙ্গে লড়াই করতে পারবে না। শিশুদের জন্য প্রোটিন সরবরাহের সময় খাবারকে রঙিন এবং আকর্ষণীয় করলে তারা বেশি খেতে উৎসাহী হয়। উদাহরণস্বরূপ, ডিমের সঙ্গে কিছু সবজি মিশিয়ে স্যান্ডউইচ বানানো যায়।
সংক্ষেপে, শীতকালে প্রতিদিন প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া আমাদের দেহকে শক্তিশালী, রোগ প্রতিরোধী এবং উষ্ণ রাখে। দুধ, দই, ডিম, মাছ, পনির এবং মুরগি হলো সেরা উৎস। ছোটদের খাওয়াতে রঙিন এবং মজার খাবারের মাধ্যমে আমরা তাদের প্রোটিন গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারি।
২। স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা গ্রহণ
শীতকালে আমাদের শরীরকে উষ্ণ রাখতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। সেই শক্তি আসে মূলত কার্বোহাইড্রেট এবং শর্করা থেকে। এই ধরনের খাবার আমাদের দেহকে দ্রুত শক্তি দেয় এবং শরীরকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। পুরো শস্য, রুটি, চিঁড়া, ওটস, আলু, শস্যের কেক – এগুলো হলো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেটের উৎস।

ছোটদের সঙ্গে কথোপকথন ভাবুন: “বাবা, আজ কেন আলু রান্না করছেন?” – কারণ আলু শীতকালে শক্তি দেয়, হজম সহজ করে এবং শিশুদের খিদে মেটায়। ওটস বা চিঁড়া দিয়ে নাশতা করলে শিশুরা দিনের শুরুতে শক্তি পায় এবং স্কুলে মনোযোগ দিতে পারে। এগুলো ধীরে ধীরে শক্তি দেয়, যাতে শরীর সারাদিন সতেজ থাকে।
শর্করা বা সহজ চিনি সমৃদ্ধ খাবারও মাঝে মাঝে দরকার হয়। তবে প্রচুর চিনি খাওয়া ঠিক নয়। তার বদলে মধু, খেজুর বা ফলের রস ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চা বা দুধে সামান্য মধু দিলে শিশুরা মিষ্টি খেতে পায় এবং শরীরও গরম থাকে। এছাড়া, বাদাম বা শস্যভিত্তিক বার (granola bar) শীতকালে দ্রুত শক্তি দেয়।
শীতকালে কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা সঠিকভাবে খাওয়া অর্থাৎ পুরো শস্য, আলু, ওটস, চিঁড়া এবং প্রাকৃতিক মিষ্টি দিয়ে খাদ্য তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের দেহকে দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করে, হজমে সাহায্য করে এবং শিশুদের খেলাধুলা ও পড়াশোনার সময় শরীরকে সতেজ রাখে। সঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট খেলে আমরা ঠান্ডায় শারীরিক ক্লান্তি কম অনুভব করি।
সংক্ষেপে, শীতকালে স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট এবং প্রাকৃতিক শর্করা খাওয়া শরীরকে শক্তি দেয়, ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে এবং শিশুদের খিদে মেটায়। পুরো শস্য, আলু, ওটস এবং প্রাকৃতিক মিষ্টি খাওয়া সবসময়ই ভালো।
৩। স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার
শীতকালে শরীরকে গরম রাখার জন্য শুধু প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট যথেষ্ট নয়। আমাদের দেহকে উষ্ণ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটও দরকার। চর্বি আমাদের দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন যেমন A, D, E, K শোষণে সাহায্য করে। বাদাম, আখরোট, তিল, সূর্যমুখীর বীজ এবং জলপাই তেল হলো স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস।

ছোটদের সঙ্গে কথোপকথন করলে বোঝা যায়: “মা, এই বাদাম খেলে কি শরীর গরম থাকবে?” হ্যাঁ, বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরকে শক্তি ও তাপ দেয়। পাশাপাশি, আখরোট বা সয়াবিনে থাকা ওমেগা-৩ আমাদের হৃদয় ও মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। মাছ যেমন স্যালমন, ইলিশ বা ম্যাকেরেলও ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস। এগুলো শীতকালে শিশুদের মনোযোগ বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে।
শীতকালে কিছু খাবারে চর্বি সমৃদ্ধ উপাদান যোগ করলে শিশুরা খেতে উৎসাহী হয়। যেমন, ওটস বা দুধে সামান্য বাদাম বা তিল গুঁড়ো মিশিয়ে দিতে পারেন। মাছের ভাজা বা হালকা কারি শিশুরা পছন্দ করে এবং এর মধ্যেও ওমেগা-৩ থাকে। তবে মনে রাখবেন, ভাজি বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়া ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত চর্বি নির্বাচন করা জরুরি।
শীতকালে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খেলে দেহের তাপমাত্রা বজায় থাকে, মনোযোগ বাড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়। বাদাম, আখরোট, তিল, সূর্যমুখীর বীজ, মাছ ও জলপাই তেল আমাদের শরীরকে উষ্ণ রাখে। ছোটদের জন্য এসব খাবারকে রঙিন এবং আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করলে তারা সহজে খায় এবং উপকার পায়।
৪। শীতকালে ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার
শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন C, ভিটামিন D, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক শীতকালে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ফল, সবজি, ডাল এবং ডিম হলো ভিটামিন ও খনিজের সেরা উৎস। লেবু, কমলা, কিউই, পেঁপে – এই ফলগুলোতে প্রচুর ভিটামিন C থাকে, যা ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধ করে।

ছোটদের জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তখন কথোপকথনের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ: “ছেলে, এই কমলা খেলে কি জানো তোমার শরীর শক্তিশালী হবে?” – শিশুরা আগ্রহের সঙ্গে ফল খায়। শীতকালে সবজি যেমন গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক এবং বাঁধাকপি খাওয়াও জরুরি। এগুলোতে β-ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন থাকে, যা চোখ, হাড় ও রক্তের জন্য ভালো।
ডিমের কুসুমও ভিটামিন D এবং আয়রনের ভালো উৎস। হালকা ডিমের ভাজা বা সিদ্ধ ডিম শিশুদের জন্য সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর। এছাড়া, শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়া যায়, তাই ভিটামিন D-এর জন্য সূর্যস্নান বা ডিম-মাছ খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাদাম, চিয়া সিড এবং দইও খনিজ সমৃদ্ধ, যা শরীরকে শক্তিশালী রাখে।
সংক্ষেপে, শীতকালে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দেহকে রোগমুক্ত রাখে, শক্তি দেয় এবং শীতের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফল, সবজি, ডিম, বাদাম ও দই অন্তর্ভুক্ত করে শিশুরা সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে। সঠিক পরিমাণে এই খাবার খেলে ঠান্ডায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়।
৫। শীতকালে পানীয় ও হাইড্রেশন
শীতকালে আমরা অনেক সময় কম পানি খাই, কিন্তু শরীরকে সঠিকভাবে হাইড্রেটেড রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পানি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, হজম ঠিক রাখে এবং ত্বক সুস্থ রাখে। গরম পানি, হালকা হালুয়া, আদা চা বা লেবুর পানি শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ছোটদের সঙ্গে কথোপকথন করলে বোঝা যায়: “বাবা, কেন আমি গরম চা খেতে পারি?” – কারণ গরম পানীয় শরীরকে দ্রুত উষ্ণ করে। হালকা আদা চা বা গরম দুধে সামান্য মধু মিশিয়ে দিলে শিশুদের শরীর গরম থাকে এবং তারা সर्दি বা কাশির শিকার হয় না। এছাড়া, ফলের জুস বা দই-ফল মিশ্রণও শরীরকে পুষ্টি দেয় এবং শক্তি যোগায়।
শীতকালে কেবল গরম পানীয় যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত পানি খাওয়াও জরুরি। শিশুদের পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যেমন, দিনে কমপক্ষে ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা ভালো। হালকা স্যুপ, দুধ বা জুসের মাধ্যমে হাইড্রেশন নিশ্চিত করা যায়। খুব ঠান্ডা পানি এড়ানো ভালো, কারণ এটি হজম ও দেহের তাপমাত্রার জন্য ভালো নয়।
সংক্ষেপে, শীতকালে স্বাস্থ্যকর পানীয় এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়া শরীরকে উষ্ণ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শক্তি যোগায়। গরম পানি, হালুয়া, আদা চা, দুধ, ফলের জুস এবং স্যুপ শিশুদের জন্য উপকারী। হাইড্রেশন ঠিক রাখলে শীতের ক্ষতি কম হয় এবং শিশুদের শরীর ও মন সতেজ থাকে।
উপসংহার
শীতকালে সঠিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ আমাদের শরীরকে সুস্থ, শক্তিশালী এবং রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত হাইড্রেশন শীতের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। শিশু থেকে বড় সবাই যদি এই ধাপগুলো মেনে চলে, তারা ঠান্ডা আবহাওয়ায়ও সুস্থ থাকতে পারবে। খাদ্যকে রঙিন, আকর্ষণীয় এবং সহজে খাওয়ার উপযোগী করে পরিবেশন করলে খাওয়ার অভ্যাস আরও ভালো হয়। তাই শীতকালে স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়কে জীবনধারার অংশ করে নিন।
শীতকালের খাবার সম্পর্কে ১০ টি সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর।
প্রশ্ন ১। শীতকালে কোন ধরনের খাবার বেশি উপকারী?
শীতকালে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার বেশি উপকারী। দুধ, ডিম, মাছ, মুরগি, শাকসবজি, ফল এবং বাদাম শরীরকে শক্তি দেয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দেহকে উষ্ণ রাখে। এই ধরনের খাবার খেলে শীতের কারণে সহজে ঠান্ডা লাগার সমস্যা কমে।
ছোটদের জন্য দুধ, ওটস, গাজর, মিষ্টি আলু বা কমলা খাওয়ানো বিশেষভাবে উপকারী। এগুলো শিশুর শরীরকে শক্তিশালী রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে সারা দিন শরীর সতেজ থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়।
প্রশ্ন ২। শীতকালে প্রোটিন সমৃদ্ধ কোন খাবার খাওয়া উচিত?
শীতকালে প্রোটিন আমাদের দেহকে শক্তি দেয়, পেশী মজবুত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দুধ, দই, পনির, ডিম, মুরগি এবং মাছ হলো প্রোটিনের সেরা উৎস। প্রতিদিন এই ধরনের খাবার খেলে শরীর গরম থাকে এবং সহজে ঠান্ডা লাগে না।
ছোটদের জন্য দুধ ও ডিম বিশেষভাবে উপকারী। দুধে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে, যা হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। মাছ ও মুরগি শরীরকে শক্তি দেয় এবং ওমেগা-৩ যুক্ত মাছ যেমন স্যামন বা ইলিশ মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখে। সঠিক প্রোটিন খেলে শীতের সময় দেহ সুস্থ থাকে।
প্রশ্ন ৩। শীতকালে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার কেন জরুরি?
শীতকালে আমাদের শরীর বেশি শক্তি চায়, যা মূলত কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে। আলু, ওটস, চিঁড়া, রুটি এবং পুরো শস্য খেলে শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি মেলে এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। কার্বোহাইড্রেট দেহকে দ্রুত শক্তি প্রদান করে, যাতে আমরা সারাদিন সতেজ থাকি।
ছোটদের জন্য ওটস বা চিঁড়ার নাশতা খুবই উপকারী। এতে ধীরে ধীরে শক্তি আসে এবং হজম সহজ হয়। স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক শর্করা যেমন খেজুর বা মধু ব্যবহারে শরীরকে অতিরিক্ত চিনির ক্ষতি ছাড়াই শক্তি দেওয়া যায়। সঠিক কার্বোহাইড্রেট শীতকালে দেহ সুস্থ রাখে।
প্রশ্ন ৪। শীতকালে স্বাস্থ্যকর চর্বি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শীতকালে শরীরকে উষ্ণ রাখতে স্বাস্থ্যকর চর্বি খুবই জরুরি। বাদাম, আখরোট, তিল, সূর্যমুখী বীজ এবং জলপাই তেল শরীরকে শক্তি ও তাপ দেয়। চর্বি দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে এবং ভিটামিন A, D, E ও K শোষণে সাহায্য করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ যেমন স্যালমন, ইলিশ বা ম্যাকেরেল শিশুর মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখে এবং হৃদয় সুস্থ রাখে। হালকা বাদাম বা তিল মিশ্রিত খাবার শিশুদের খাওয়ানো সহজ এবং স্বাস্থ্যকর। সঠিক পরিমাণে চর্বি খেলে শীতকালে দেহ সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে।
প্রশ্ন ৫। শীতকালে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার কোনগুলো খাওয়া উচিত?
শীতকালে ভিটামিন C, D ও A সমৃদ্ধ খাবার শরীরকে রোগমুক্ত রাখে। কমলা, লেবু, কিউই, পেঁপে ও গাজর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন D-এর জন্য ডিম ও মাছও খুব উপকারী।
ছোটদের জন্য ফল ও সবজি রঙিন করে পরিবেশন করলে তারা খেতে উৎসাহী হয়। পালং শাক, বাঁধাকপি ও মিষ্টি আলু শরীরকে পুষ্টি দেয় এবং চোখ, হাড় ও ত্বক সুস্থ রাখে। শীতকালে পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ দেহকে শক্তিশালী রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
প্রশ্ন ৬। শীতকালে কোন ধরনের ফল বেশি উপকারী?
শীতকালে সিট্রাস ফল যেমন কমলা, লেবু, মাল্টা ও কিউই সবচেয়ে উপকারী। এই ফলগুলোতে প্রচুর ভিটামিন C থাকে, যা ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধ করে। এছাড়া, এই ফলগুলোতে ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে।
ছোটদের জন্য ফলকে আকর্ষণীয় করে পরিবেশন করলে তারা সহজে খেতে উৎসাহী হয়। ফলের জুস বা ছোট টুকরো করে সালাদ বানানো যেতে পারে। নিয়মিত ফল খেলে শরীর শক্তিশালী থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শীতকালে দেহ সতেজ থাকে।
প্রশ্ন ৭। শীতকালে শিশুদের জন্য কোন ধরনের পানীয় ভালো?
শিশুদের জন্য শীতকালে গরম পানীয় সবচেয়ে উপকারী। গরম দুধ, আদা চা, লেবুর পানি বা হালকা স্যুপ শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই পানীয়গুলি শিশুদের শরীরকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে এবং হজমও সহজ করে।
ছোটদের সঙ্গে কথোপকথন করে উৎসাহিত করা যায়, যেমন: “এই গরম দুধ খেলে তুমি শক্তিশালী থাকবে।” সামান্য মধু বা ফলের রস মিশিয়ে দিলে শিশুরা আরও সহজে খায়। সঠিক হাইড্রেশন শীতকালে শরীরকে সতেজ রাখে এবং শক্তি যোগায়।
প্রশ্ন ৮। শীতকালে মিষ্টি খাবার খাওয়া কি ঠিক?
শীতকালে মাঝেমধ্যে মিষ্টি খাবার খাওয়া শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়। তবে অত্যধিক চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই প্রাকৃতিক মিষ্টি যেমন খেজুর, মধু বা ফলের রস খাওয়াই ভালো। এগুলো শরীরকে শক্তি দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ছোটদের জন্য চিনি কমিয়ে প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, দুধে সামান্য মধু বা ফলের সঙ্গে ওটস খেতে দিতে পারেন। এইভাবে তারা সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে, এবং অতিরিক্ত চিনির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম হয়।
প্রশ্ন ৯। শীতকালে দুধ ও দই খাওয়া কি উপকারী?
হ্যাঁ, শীতকালে দুধ ও দই খাওয়া খুবই উপকারী। দুধে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করে। দই অন্ত্রের হজম ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি খুবই জরুরি।
ছোটদের জন্য দুধ বা দইকে আকর্ষণীয় করে পরিবেশন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, দইতে ফল কেটে মেশানো বা হালকা মধু মিশিয়ে দিলে তারা খেতে উৎসাহী হয়। নিয়মিত দুধ ও দই খেলে শরীর গরম থাকে, শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং শীতকালে সুস্থ থাকা সহজ হয়।
প্রশ্ন ১০। শীতকালে মাছ খাওয়া কি জরুরি?
হ্যাঁ, শীতকালে মাছ খাওয়া খুবই জরুরি। মাছের মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্ক ও হৃদয়কে সুস্থ রাখে। এছাড়া মাছ প্রোটিন সমৃদ্ধ, যা পেশী শক্তিশালী করে এবং শরীরকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে।
ছোটদের জন্য মাছকে হালকা করে ভাজা বা কারিতে বানানো যেতে পারে। সপ্তাহে দুই-তিনবার মাছ খাওয়া শরীরকে শক্তিশালী রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শীতকালে শিশু ও বড় উভয়ের শরীর সুস্থ থাকে। মাছ শীতকালে স্বাস্থ্যকর খাবারের অন্যতম প্রধান উৎস।