দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করছে সিনিয়র স্টাফ নার্স। তবে বর্তমানে সারা দেশে এই পদের বিপুল শূন্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি হাসপাতালে মোট ২,৭০০টি সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ ফাঁকা রয়েছে। এর মধ্যে ৮২৮টি পদের জন্য ইতিমধ্যেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট এই ১০ম গ্রেডের পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পরীক্ষা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষাসহ অন্যান্য নন-ক্যাডার পদের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, খাতা মূল্যায়ন এবং মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মে মাসের মধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হতে পারে।
চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার তারিখ না থাকায় উদ্বেগ এবং হতাশা বেড়েছে। অনেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, নার্সিংয়ে স্নাতক শেষ করে নিবন্ধনও পেয়েছি, কিন্তু সরকারি চাকরিতে যোগদানের স্বপ্ন পূরণে পরীক্ষার তারিখের অনিশ্চয়তা ভয়ঙ্কর।
এই ৮২৮টি পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছে নার্সিংয়ে স্নাতক অথবা ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি সার্টিফিকেট। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন স্কেল ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শূন্য পদগুলো পূর্ণ হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কিছুটা লাঘব হবে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, বাকি ফাঁকা পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নতুনভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য পিএসসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
পরিশেষে, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এখন অপেক্ষার পালা, এবং মে মাসে এই পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে।