আজকের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ একটি স্বাভাবিক সমস্যা হয়ে উঠেছে। কাজের চাপ, পড়াশোনা, পারিবারিক ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা—সবই আমাদের মনকে উত্তেজিত ও অস্থির করে তোলে। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ থাকলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।
তাই চাপ মোকাবিলার জন্য নিয়মিত কিছু কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সহজ, বাস্তবায়নযোগ্য এবং প্রায় সবাই যে কোনো সময় ব্যবহার করতে পারে এমন কিছু উপায় রয়েছে যা চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই লেখায় আমরা মানসিক চাপ দূর করার ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনা করব।
১। নিয়মিত ব্যায়াম করুন
শরীরচর্চা বা নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের মাংসপেশি শক্তিশালী হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায়, যেখানে আমরা দীর্ঘ সময় বসে থাকি, সেখানে নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের শরীরকে সচল রাখে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে। এটি কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক শান্তিও প্রদান করে। শরীর সুস্থ থাকলে মনের চাপও অনেকাংশে কমে যায়।
ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময় শরীর এন্ডোরফিন নিঃসৃত করে, যা প্রাকৃতিকভাবে মেজাজকে উন্নত করে এবং দুশ্চিন্তা দূর করে। দৈনন্দিন ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাঁতার, যোগব্যায়াম বা হালকা জগিং মনের অস্থিরতা কমায়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ঘুমের মানও উন্নত হয়, যা আরও মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে। ব্যায়াম কেবল শরীরকে শক্তিশালী করে না, মনকে সতেজ ও স্থিতিশীল রাখতেও সাহায্য করে।
নিয়মিত ব্যায়াম একটি সুস্থ জীবনধারার মূল স্তম্ভ। এটি জীবনের দীর্ঘমেয়াদী উপকার নিশ্চিত করে এবং রোগের ঝুঁকি কমায়। ব্যায়াম করতে কোনো জটিল যন্ত্রের প্রয়োজন নেই, ঘরে বা বাইরে সহজ কিছু শারীরিক কার্যকলাপেই এটি করা সম্ভব। দৈনিক ২০–৩০ মিনিট সময় বের করলে আপনি শরীর ও মনের জন্য বড় উপকার পেতে পারেন। সুতরাং, নিয়মিত ব্যায়ামকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করা মানসিক শান্তি, শক্তিশালী শরীর এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
২। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। নিয়মিত এবং গভীর ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়, যা মানসিক স্বস্তি এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কম ঘুম শরীরের হরমোন ব্যালান্সকে প্রভাবিত করে, যা চরম মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করতে পারে। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক অতিরিক্ত তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং দিনের ক্লান্তি দূর করে। তাই মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।
নিয়মিত ঘুমের জন্য ঘুমের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটার ব্যবহার এড়ানো উচিত। শান্ত ও অন্ধকার পরিবেশে ঘুমানোর মাধ্যমে মানসিক শান্তি এবং মস্তিষ্কের বিশ্রাম নিশ্চিত করা যায়। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং ওঠার অভ্যাস মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া হালকা গান বা ধ্যানও ঘুমকে উন্নত করতে সহায়ক। স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে সতেজ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এটি কেবল চাপ কমায় না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। নিয়মিত ঘুম মানসিক চাপ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা উচিত এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সচেতন হওয়া উচিত। সুস্থ ঘুমের অভ্যাসে নিয়মিত থাকলে মানসিক চাপ কমে এবং দৈনন্দিন জীবনে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করুন
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়। অধিক চিনি, ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তাই খাদ্যে শাক-সবজি, ফল, দানা ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেবল শরীরকে শক্তিশালী রাখে না, বরং মনকে সতেজ ও চাপমুক্ত রাখতেও সহায়ক।
খাদ্যাভ্যাসের সঠিক সময়ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা বা অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো উচিত। ছোট ছোট ভাগে খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত থাকে এবং মেজাজে স্থিরতা আসে। জল পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করা খুবই জরুরি, কারণ ডিহাইড্রেশনও চাপ ও ক্লান্তি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকে, যা মানসিক চাপ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ।
সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর হাতিয়ার। খাদ্যের মাধ্যমে শুধুমাত্র শক্তি পাওয়া নয়, বরং মানসিক স্থিতিশীলতা অর্জনও সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাসে থাকলে শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই প্রতিদিন পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত চিনি পরিহার করা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানসিক শান্তি, সতেজতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
৪। ধ্যান ও প্রানায়াম করুন
ধ্যান ও প্রানায়াম মানসিক চাপ কমানোর একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। ধ্যানের মাধ্যমে মনকে শান্ত করা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় চিন্তা ও উদ্বেগ দূর করা সম্ভব হয়। নিয়মিত ধ্যান করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, মনোযোগ ভালো থাকে এবং মানসিক স্থিতিশীলতা আসে। প্রায় প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট ধ্যানের অভ্যাস মানসিক চাপ হ্রাসে সাহায্য করে এবং মনের প্রশান্তি বাড়ায়।
প্রানায়ামের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত রাখে। নিয়মিত প্রানায়াম করলে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং শরীরের রক্তচাপ কমে। এটি চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে। ধ্যান ও প্রানায়ামের একসাথে অনুশীলন মানসিক চাপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া এটি দুশ্চিন্তা কমিয়ে ইতিবাচক চিন্তা উদ্রেক করে এবং মনের ভারসাম্য বজায় রাখে।
ধ্যান ও প্রানায়াম মানসিক শান্তি ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এটি কেবল মানসিক চাপ কমায় না, বরং ঘুমের মান উন্নত করে এবং মনকে সতেজ রাখে। প্রায় প্রতিদিন নিয়মিত কিছু সময় ধ্যান ও প্রানায়ামে ব্যয় করলে জীবনে মানসিক স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ধ্যান ও প্রানায়ামকে অভ্যাসে পরিণত করা মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৫। সময় ব্যবস্থাপনা করুন
সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা মানসিক চাপ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। দৈনন্দিন কাজগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করলে কাজের চাপ অনেক কমে যায়। প্রতিদিনের কাজগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রয়োজনীয় হিসেবে ভাগ করে নেওয়া উচিত। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে শেষ করলে চাপ কম অনুভূত হয় এবং মনও স্থিতিশীল থাকে। সময়ের সঠিক ব্যবহার জীবনের গতি বজায় রাখে এবং মানসিক অস্থিরতা হ্রাস করে।
একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচী তৈরি করা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। কাজের জন্য সময় নির্ধারণ এবং সেই অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা মনের অস্থিরতা দূর করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে কাজের মধ্যে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং সময়ের অপচয় কমে। এছাড়া সময় ব্যবস্থাপনা দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিততা নিয়ে আসে, যা মানসিক চাপ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র কাজের চাপ কমায় না, বরং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও মানসিক স্থিতিশীলতা দেয়। এটি ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর। প্রতিদিনের কাজকে সঠিকভাবে ভাগ করলে মানসিক চাপ কমে, মন শান্ত থাকে এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস মানসিক শান্তি ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
৬। প্রিয় কাজ করুন
নিজের প্রিয় কাজ বা শখের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমানোর একটি সহজ ও কার্যকর উপায়। গান শোনা, বই পড়া, ছবি আঁকা বা বাগান করা—যা কিছু আপনার আনন্দ বৃদ্ধি করে, তা নিয়মিত করুন। প্রিয় কাজের মাধ্যমে মনকে রিফ্রেশ করা যায় এবং মানসিক চাপ অনেকাংশে কমে। এটি শুধু মেজাজ ভালো রাখে না, বরং দুশ্চিন্তা দূর করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
প্রিয় কাজের সময় আপনি নিজের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেন এবং নিজের অনুভূতি ও চিন্তা অনুধাবন করতে পারেন। এটি মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে এবং দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। নিয়মিত প্রিয় কাজ করার মাধ্যমে সৃজনশীলতা বাড়ে এবং মনোযোগও বৃদ্ধি পায়। আপনার জীবনে আনন্দ ও ইতিবাচকতা বজায় রাখতেও এটি সাহায্য করে।
নিজের প্রিয় কাজকে রোজকার জীবনের অংশে পরিণত করলে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। এটি কেবল মানসিক চাপ কমায় না, বরং জীবনকে আরও আনন্দময় করে তোলে। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের পছন্দমতো কাজ করার অভ্যাস মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই চাপমুক্ত জীবন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রিয় কাজ করা অপরিহার্য।
৭। সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখুন
পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক মানসিক চাপ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বললে মন থেকে দুশ্চিন্তা অনেকটা কমে যায়। সমস্যাগুলো ভাগাভাগি করলে চাপের বোঝা হালকা হয় এবং মন শান্ত থাকে। সামাজিক সমর্থন মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং চাপ মোকাবিলায় সাহায্য করে।
নিয়মিত সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী এবং সুখী রাখে। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং একে অপরকে সহায়তা করা মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। একা থাকার সময় চাপ বাড়তে পারে, কিন্তু ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপস্থিতি মানসিক চাপ হ্রাসে সহায়ক। সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
সামাজিক সম্পর্ক শুধু মানসিক চাপ কমায় না, বরং জীবনকে আরও সমৃদ্ধ ও আনন্দময় করে। এটি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে, যা মানসিক প্রশান্তি এবং ইতিবাচক মনোভাব নিশ্চিত করে। তাই নিয়মিত বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সামাজিক সমর্থন গ্রহণ করা মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান
প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটানো মানসিক চাপ কমানোর একটি সহজ ও কার্যকর উপায়। সবুজ উদ্যান, নদী, পাহাড় বা সমুদ্রের ধারে কিছু সময় বসা বা হাঁটা মনের শান্তি এবং শরীরের পুনরুজ্জীবন ঘটায়। প্রকৃতির দৃশ্য এবং শব্দ মনকে স্থিতিশীল রাখে, যা দৈনন্দিন জীবনের চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি মানসিক প্রশান্তি এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা উদ্রেক করে।
প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার জন্যও উপকারী। বাইরে সময় কাটালে তাজা বাতাসে শ্বাস নেওয়া যায়, যা শরীরের অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে এবং মানসিক চাপ হ্রাস করে। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি সরবরাহ করে, যা দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত প্রকৃতির কাছে সময় কাটানো মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জীবনের মান উন্নত করতে সহায়ক।
প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ শুধু মানসিক চাপ কমায় না, বরং এটি আমাদের জীবনকে আরও আনন্দময় করে তোলে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় প্রকৃতির কাছে থাকা, হাঁটা বা প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যস্ত জীবনের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোকে অভ্যাসে পরিণত করা মানসিক প্রশান্তি ও চাপ কমাতে সহায়ক।
৯। নিজেকে সময় দিন
নিজের জন্য কিছু সময় বের করা মানসিক চাপ কমানোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপায়। ব্যস্ত জীবনের মধ্যে আমরা প্রায়ই নিজের জন্য সময় দিই না, যা মানসিক চাপ ও অস্থিরতা বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নিজের পছন্দমতো কাটানো উচিত, যেমন গান শোনা, বই পড়া, হালকা ব্যায়াম বা শুধু আরাম করা। নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া মনকে প্রশান্তি দেয় এবং মানসিক চাপ কমায়।
নিজেকে সময় দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের মনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারি। এই সময়ে নিজের অনুভূতি এবং চিন্তা পর্যবেক্ষণ করা যায়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিজের পছন্দমতো কাজ করা আমাদের আনন্দ এবং ইতিবাচকতা বৃদ্ধি করে। এটি জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয় এবং মনকে সতেজ রাখে।
নিজেকে নিয়মিত সময় দেওয়া মানসিক স্থিতিশীলতা এবং সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এটি কেবল মানসিক চাপ হ্রাস করে না, বরং জীবনের মানও উন্নত করে। ব্যস্ত জীবনের মধ্যে নিজের জন্য সময় বের করা মানসিক প্রশান্তি, আনন্দ এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু সময় নিশ্চিত করা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
১০। পেশাদার সাহায্য নিন
যদি মানসিক চাপ অত্যধিক হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তবে পেশাদার সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনোচিকিৎসক, কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মানসিক চাপ মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদ্ধতি ও পরামর্শ দিতে পারেন। পেশাদার সাহায্য গ্রহণ করলে চাপের মূল কারণ সনাক্ত করা যায় এবং তা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
পেশাদার সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে অর্জন করা যায়। থেরাপি বা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এবং চাপ মোকাবিলার কৌশল শেখা যায়। এটি শুধু মানসিক চাপ কমায় না, বরং আত্মবিশ্বাস ও জীবনমান উন্নত করে। প্রয়োজনে ঔষধ বা অন্যান্য চিকিৎসার সমন্বয়ও প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
পেশাদার সাহায্য নেওয়া মানসিক সুস্থতার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। কখনও কখনও নিজে চেষ্টা করেও চাপ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ এবং কার্যকর। তাই নিয়মিত মানসিক চাপ অনুভূত হলে দ্বিধা না করে পেশাদার সাহায্য গ্রহণ করা উচিত। এটি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক প্রশান্তি এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে।
উপসংহার
মানসিক চাপ প্রতিটি মানুষের জীবনের অংশ। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ধ্যান, সময় ব্যবস্থাপনা, প্রিয় কাজ, সামাজিক সম্পর্ক, প্রকৃতির সঙ্গে সময়, নিজেকে সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য গ্রহণ—এই ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায় মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
এগুলো নিয়মিত জীবনে অন্তর্ভুক্ত করলে মানসিক শান্তি, সুস্থতা এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। তাই চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই অভ্যাসগুলো প্রতিদিনের জীবনে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।