দেশে আয়কর দানের বোঝা অনেকের জন্য চাপের। তবে সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি আপনার কর দায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি খাত এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা আপনার পকেটে সুবিধা এনে দেয়। চলুন জেনে নিই কোন খাতে বিনিয়োগ করলে কর সুবিধা পাবেন এবং সঞ্চয়ও হবে নিশ্চিত।
১. জীবনবীমা পলিসি
জীবনবীমা হলো এমন একটি বিনিয়োগ যেখানে আপনার মূল লক্ষ্য থাকে আর্থিক সুরক্ষা। সরকার অনুমোদিত জীবনবীমা পলিসিতে বিনিয়োগ করলে আয়কর ন্যূনতম ২৫% পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এই পলিসি শুধুমাত্র মৃত্যুর ক্ষেত্রে নয়, জীবনকালীন সঞ্চয় ও রিটার্নের মাধ্যমে আপনাকে আর্থিক স্থিতিশীলতা দেয়। বিনিয়োগের সময়কাল সাধারণত ৫ বছর বা তার বেশি হলে কর সুবিধা আরও বাড়ে। এছাড়াও, প্রিমিয়াম পরিশোধের সময় ট্যাক্স ছাড় পাওয়া যায়। ছোট ও মাঝারি আয়ের মানুষদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক বিকল্প, কারণ এটি দুইপথে উপকার দেয়—একটি হলো কর সুবিধা এবং অন্যটি হলো জরুরি পরিস্থিতিতে আর্থিক নিরাপত্তা।
২. সরকারী সঞ্চয়পত্র
সরকারি সঞ্চয়পত্র (National Savings Certificates) হলো কর-বিনামূল্যে বা কর ছাড়যুক্ত বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম। ব্যাংক ও সরকারি সংস্থার মাধ্যমে এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুদ পাওয়া যায় এবং সেই সুদ আয়কর থেকে অব্যাহতি পায়। সাধারণত, ১ বছর, ৩ বছর বা ৫ বছরের সময়কাল নির্বাচন করে বিনিয়োগ করা যায়। এটি নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়, কারণ মূলধন নিশ্চিত থাকে। যারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, তারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে সুদ উপার্জন এবং কর সুবিধা উভয়ই পেতে পারেন। ছোট পরিমাণের বিনিয়োগেও এটি কার্যকর।
৩. অবসর সঞ্চয় ও পেনশন ফান্ড
পেনশন ফান্ড বা অবসর সঞ্চয় হলো সেই বিনিয়োগ যেখানে আপনি ভবিষ্যতের জন্য অর্থ রাখেন। সরকার অনুমোদিত পেনশন স্কিমে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আয়কর কমানো যায়। পেনশন ফান্ডে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হয়, যা অবসরের সময় মাসিক বা বার্ষিক আয় হিসেবে পরিণত হয়। এছাড়াও, এটি একটি আয়কর-বঞ্চিত বিনিয়োগ, তাই আপনার কর বোঝা কমে। এর সুবিধা হলো, ছোট থেকে বড় যেকোনো আয়কারী এটি ব্যবহার করতে পারে এবং অবসরের সময় আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হয়।
৪. বৈদেশিক মুদ্রা বা সোনার বিনিয়োগ
সোনায় বিনিয়োগ বা বৈদেশিক মুদ্রার (Foreign Currency) ক্ষেত্রে সরকার বিশেষভাবে কর সুবিধা দেয়। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে আয়কর কমানো সম্ভব। সোনা হলো নিরাপদ সম্পদ, যা মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এছাড়াও, বৈদেশিক মুদ্রায় সঞ্চয় করলে ভবিষ্যতে রিটার্ন পাওয়া যায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার ওঠা-নামার সময়। এই খাতে বিনিয়োগ করলে মূলধন রক্ষা এবং আয়কর সুবিধা—দুইই পাওয়া যায়।
৫. শিক্ষা ও পেশাগত কোর্সে বিনিয়োগ
নিজের বা সন্তানের শিক্ষায় বিনিয়োগ করাও কর সুবিধা দেয়। সরকার অনুমোদিত শিক্ষাগত কোর্স ও ট্রেনিং প্রোগ্রামে ব্যয় করলে আয়কর কমানো সম্ভব। এটি শুধুমাত্র শিক্ষার উন্নতি নয়, ভবিষ্যতের আয় বৃদ্ধি এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। বিনিয়োগের এই ধরনের সুবিধা মূলত তরুণ পেশাজীবীদের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর।