আঁখ গাছ (Sugarcane) পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শস্য ও চিনি উৎপাদনের প্রধান উৎস। এটি শুধু চিনি উৎপাদনেই নয়, বিভিন্ন শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে বিশেষ করে গাজীপুর, নরসিংদী ও ফরিদপুর অঞ্চলে আঁখ চাষ প্রচলিত। আঁখের গুঁড়ি থেকে চিনি তৈরি করা হয় এবং বাকি অংশ বাগাস হিসেবে জ্বালানি, কাগজ বা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, আঁখ চাষ অনেক কৃষক ও শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস।
আঁখ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum officinarum এবং এটি Poaceae বা ঘাস পরিবারের অন্তর্গত। এটি উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। চাষের জন্য উর্বর দোঁআঁশ মাটি এবং পর্যাপ্ত জল সরবরাহ অপরিহার্য। এই গাছের চাষ ও চিনি উৎপাদন দেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
১. প্রশ্ন: আঁখ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Saccharum officinarum
২. প্রশ্ন: আঁখ গাছ কোন পরিবারের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: Poaceae বা ঘাস পরিবার
৩. প্রশ্ন: আঁখ গাছের প্রধান উৎপাদনকারী দেশ কোনটি?
উত্তর: ব্রাজিল
৪. প্রশ্ন: বাংলাদেশে মূলত কোন অঞ্চলে আঁখ চাষ করা হয়?
উত্তর: গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ফরিদপুর অঞ্চলে
৫. প্রশ্ন: আঁখ থেকে কোন জিনিসটি প্রধানভাবে তৈরি করা হয়?
উত্তর: চিনি
৬. প্রশ্ন: আঁখের চাষের জন্য কোন ধরনের মাটি উপযুক্ত?
উত্তর: উর্বর, দোঁআঁশ মাটি
৭. প্রশ্ন: আঁখ গাছ সাধারণত কত সময়ে কাটা হয়?
উত্তর: প্রায় ১২–১৮ মাস পরে
৮. প্রশ্ন: আঁখ চাষে কোন মৌসুম সবচেয়ে উপযোগী?
উত্তর: বর্ষাকাল শেষের পরে ও শীতকাল শুরুতে
৯. প্রশ্ন: আঁখ গাছের পাতা ও আঁখের গুঁড়ি থেকে কোন ধরনের পণ্য তৈরি হয়?
উত্তর: পাতা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং গুঁড়ি থেকে জৈব জ্বালানী (bagasse) উৎপাদন করা হয়
১০. প্রশ্ন: বিশ্বের কোথায় আঁখ চাষ সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: ত্রিনিদাদ ও তোবাগো, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড এবং ব্রাজিলে
১১. প্রশ্ন: আঁখ গাছের আকার কেমন হয়?
উত্তর: দীর্ঘ, শক্ত ও বাঁশের মতো ডগা সমৃদ্ধ ঘাসজাতীয় গাছ।
১২. প্রশ্ন: আঁখ গাছের প্রধান পুষ্টি উপাদান কী?
উত্তর: শর্করা (Sucrose)
১৩. প্রশ্ন: আঁখ গাছের চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জল সরবরাহের পদ্ধতি কোনটি?
উত্তর: সেচ বা জল সরবরাহ প্রয়োজন, বিশেষত শিকড়ের জন্য।
১৪. প্রশ্ন: আঁখ গাছের কোন অংশ থেকে চিনি তৈরি হয়?
উত্তর: গুঁড়ি বা মূল তন্তু অংশ থেকে।
১৫. প্রশ্ন: আঁখ গাছের গুঁড়ি বা কচি অংশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার কী?
উত্তর: বাগাস (bagasse) হিসেবে জ্বালানি ও কাগজ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
১৬. প্রশ্ন: বাংলাদেশে আঁখ চাষের প্রধান ঋতু কোনটি?
উত্তর: বর্ষা শেষের পর থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত (November–February)।
১৭. প্রশ্ন: আঁখ চাষে প্রধান কীটপতঙ্গের সমস্যা কোনটি?
উত্তর: আঁখ বগ বা sugarcane borer।
১৮. প্রশ্ন: আঁখ চাষে জমি প্রস্তুতির জন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: জমি ভালোভাবে জुतিয়ে ও সার প্রয়োগ করে।
১৯. প্রশ্ন: আঁখের উৎপাদন বাড়াতে কোন সার ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম সার।
২০. প্রশ্ন: চিনি উৎপাদনের জন্য আঁখ প্রক্রিয়াকরণ কোথায় হয়?
উত্তর: চিনি কল বা sugar mill এ।
২১. প্রশ্ন: আঁখ গাছ সাধারণত কত লম্বা হয়?
উত্তর: প্রায় ২–৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
২২. প্রশ্ন: আঁখ গাছের পাতা কেমন আকারের হয়?
উত্তর: লম্বা, সরু, তীক্ষ্ণ প্রান্তসহ এবং সবুজ রঙের।
২৩. প্রশ্ন: চিনি উৎপাদনের জন্য আঁখ গাছের কোন সময়ে কাটা হয়?
উত্তর: যখন গুঁড়িতে শর্করার পরিমাণ সর্বোচ্চ থাকে, সাধারণত ১২–১৮ মাস পরে।
২৪. প্রশ্ন: আঁখ গাছের বংশবৃদ্ধি কিভাবে করা হয়?
উত্তর: মূলত গুঁড়ি বা রূপকাণ্ড (setts) কেটে লাগিয়ে।
২৫. প্রশ্ন: আঁখ চাষে কোন ধরনের জলবায়ু উপযোগী?
উত্তর: উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ১২০০–১৫০০ মিমি।
২৬. প্রশ্ন: আঁখ গাছের উৎপাদন বাড়াতে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: উন্নত বীজ, সেচ ব্যবস্থা, সার এবং কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে।
২৭. প্রশ্ন: আঁখের গুঁড়ি থেকে চিনি উৎপাদনের প্রক্রিয়া কী নামে পরিচিত?
উত্তর: রিফাইনিং বা প্রসেসিং।
২৮. প্রশ্ন: বাংলাদেশে চিনি উৎপাদনের প্রধান চিনি কল কোনটি?
উত্তর: নরসিংদী ও গাজীপুরের চিনি কলগুলি প্রধান।
২৯. প্রশ্ন: আঁখ গাছ থেকে কোন ধরনের জৈবসার তৈরি করা যায়?
উত্তর: বাগাস ও পাতা সেচের মাধ্যমে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
৩০. প্রশ্ন: বিশ্বের চিনি উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বেশি আঁখ চাষ হয় কোন অঞ্চলে?
উত্তর: লাতিন আমেরিকা (বিশেষত ব্রাজিল) ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।
৩১. প্রশ্ন: আঁখ গাছের প্রধান শত্রু কী কী?
উত্তর: আঁখ বগ (sugarcane borer), আঁখ ছত্রাক (red rot), ও বিভিন্ন পোকামাকড়।
৩২. প্রশ্ন: আঁখ গাছের গুঁড়ি বা রূপকাণ্ড কত অংশে কাটা হয়?
উত্তর: সাধারণত ২৫–৩০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যে।
৩৩. প্রশ্ন: চিনি কলে আঁখ প্রক্রিয়াকরণের প্রথম ধাপ কী?
উত্তর: আঁখ কেটে রস বের করার জন্য রোলার মেশিনে চাপ দেওয়া।
৩৪. প্রশ্ন: আঁখের রস থেকে চিনি তৈরি করার প্রক্রিয়ার নাম কী?
উত্তর: ক্রিস্টালাইজেশন বা চিনি গঠন প্রক্রিয়া।
৩৫. প্রশ্ন: আঁখের গুঁড়ি বা বাগাস থেকে কোন ধরনের জ্বালানি তৈরি করা যায়?
উত্তর: বায়োমাস বা জৈবজ্বালানি।
৩৬. প্রশ্ন: আঁখ গাছ কত সময় ধরে বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: প্রায় ১২–১৮ মাস, কখনও ২৪ মাসও হতে পারে।
৩৭. প্রশ্ন: আঁখ গাছের কাটা অংশ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয় বপনের জন্য?
উত্তর: সেটস বা রূপকাণ্ড শুকনো ও পরিষ্কার স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।
৩৮. প্রশ্ন: চিনি উৎপাদনের পর বাকি বাগাস কিভাবে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: জ্বালানি, কাগজ, কম্পোস্ট সার বা পশুখাদ্য হিসেবে।
৩৯. প্রশ্ন: বাংলাদেশে বছরে কত চিনি উৎপাদন হয় প্রায়?
উত্তর: প্রায় ১.৫–২ লক্ষ টন।
৪০. প্রশ্ন: আঁখ গাছের রসের মধ্যে প্রধান শর্করা কী ধরনের?
উত্তর: সুক্রোজ (sucrose)।
উপসংহার
আঁখ গাছ শুধু একটি শস্য নয়, এটি শিল্প, অর্থনীতি ও কৃষির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আঁখ চাষ ও চিনি শিল্প দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। শুধু চিনি উৎপাদন নয়, এর বাকি অংশও বায়োমাস জ্বালানি, কাগজ ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক চাষপদ্ধতি, সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার আঁখ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই আঁখ গাছের গুরুত্ব কেবল খাদ্য বা চিনি উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবেশ, শিল্প ও দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।