ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে মুঘল সাম্রাজ্য এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৫২৬ সালে বাবর দিল্লির সিংহাসন দখল করার মাধ্যমে এই সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। পরবর্তী প্রায় তিন শতাব্দী ধরে মুঘল শাসকরা ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যে গভীর প্রভাব ফেলেন। তাদের শাসনামলে প্রশাসনিক সংস্কার, ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা, সামরিক সংগঠন এবং ধর্মীয় নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে আকবর ধর্মীয় সহনশীলতা ও দক্ষ প্রশাসনের জন্য ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
মুঘল আমলে শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যে এক নতুন ধারা সৃষ্টি হয়। শাহজাহান নির্মিত তাজমহল আজও বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। দিল্লির লাল কেল্লা, জামে মসজিদ ও ফতেহপুর সিক্রি মুঘল ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী। প্রশাসনিক কাঠামো, মানসবদারি প্রথা এবং দহসালা রাজস্ব ব্যবস্থা উপমহাদেশের শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
১. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: বাবর।
২. প্রশ্ন: বাবর কোন যুদ্ধে জয়লাভ করে ভারতে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: প্রথম পানিপথের যুদ্ধ।
৩. প্রশ্ন: প্রথম পানিপথের যুদ্ধ কত সালে হয়?
উত্তর: ১৫২৬ সালে।
৪. প্রশ্ন: বাবরের আত্মজীবনীর নাম কী?
উত্তর: বাবরনামা।
৫. প্রশ্ন: বাবরের পুত্র ও উত্তরসূরি কে ছিলেন?
উত্তর: হুমায়ূন।
৬. প্রশ্ন: হুমায়ূনের সমাধি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: হুমায়ুনের সমাধি নির্মিত হয় দিল্লীর যমুনা নদীর তীরে। এটি নির্বাচিত করা হয়েছিল কারণ এই স্থানটি ছিল দিল্লির বিখ্যাত সুফি সাধু নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সমাধি, অর্থাৎ নিজামুদ্দিন দরগার কাছাকাছি।
৭. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?
উত্তর: আকবর।
৮. প্রশ্ন: আকবর কত সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন?
উত্তর: ১৫৫৬ সালে।
৯. প্রশ্ন: আকবরের রাজত্বকালে কোন ধর্মীয় নীতি চালু হয়?
উত্তর: দীন-ই-ইলাহী।
১০. প্রশ্ন: দীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন করেন কে?
উত্তর: আকবর।
১১. প্রশ্ন: আকবরের সভাসদদের কী বলা হতো?
উত্তর: নবরত্ন।
১২. প্রশ্ন: আকবরের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: রাজা টোডরমল।
১৩. প্রশ্ন: আকবরের দরবারের বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ কে ছিলেন?
উত্তর: তানসেন।
১৪. প্রশ্ন: আকবরের পর সম্রাট কে হন?
উত্তর: জাহাঙ্গীর।
১৫. প্রশ্ন: জাহাঙ্গীরের আসল নাম কী ছিল?
উত্তর: সেলিম।
১৬. প্রশ্ন: জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহানের প্রকৃত নাম কী?
উত্তর: মেহেরুন্নিসা।
১৭. প্রশ্ন: জাহাঙ্গীরের পর কে সম্রাট হন?
উত্তর: শাহজাহান।
১৮. প্রশ্ন: শাহজাহান কোন বিখ্যাত স্থাপনা নির্মাণ করেন?
উত্তর: তাজমহল।
১৯. প্রশ্ন: তাজমহল কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: আগ্রায়।
২০. প্রশ্ন: তাজমহল কার স্মৃতিতে নির্মিত?
উত্তর: মুমতাজ মহল।
২১. প্রশ্ন: শাহজাহানের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর: দিল্লি।
২২. প্রশ্ন: শাহজাহান কোন লাল কেল্লা নির্মাণ করেন?
উত্তর: লাল কেল্লা।
২৩. প্রশ্ন: শাহজাহানের পর কে সম্রাট হন?
উত্তর: আওরঙ্গজেব
২৪. প্রশ্ন: আওরঙ্গজেব কত বছর শাসন করেন?
উত্তর: প্রায় ৪৯ বছর।
২৫. প্রশ্ন: আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্যের অবস্থা কেমন হয়?
উত্তর: দুর্বল হয়ে পড়ে।
২৬. প্রশ্ন: মুঘল প্রশাসনের প্রধান ভাষা কী ছিল?
উত্তর: ফারসি।
২৭. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের রাজস্ব ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: রাজা টোডরমল।
২৮. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক ব্যবস্থার নাম কী?
উত্তর: মানসবদারি প্রথা।
২৯. প্রশ্ন: মানসবদারি প্রথা চালু করেন কে?
উত্তর: আকবর।
৩০. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বশেষ সম্রাট কে ছিলেন?
উত্তর: বাহাদুর শাহ জাফর।
৩১. প্রশ্ন: বাহাদুর শাহ জাফরকে কোথায় নির্বাসিত করা হয়?
উত্তর: রেঙ্গুন (বর্তমান মিয়ানমার)।
৩২. প্রশ্ন: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে মুঘল সম্রাট কে ছিলেন?
উত্তর: বাহাদুর শাহ জাফর।
৩৩. প্রশ্ন: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে কী বলা হয়?
উত্তর: সিপাহী বিদ্রোহ।
৩৪. প্রশ্ন: মুঘল শিল্পকলার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: সূক্ষ্ম নকশা ও মিনিয়েচার চিত্রকলা।
৩৫. প্রশ্ন: মুঘল চিত্রকলার প্রধান বিষয় কী ছিল?
উত্তর: রাজদরবার ও শিকার দৃশ্য।
৩৬. প্রশ্ন: মুঘল স্থাপত্যে কোন উপাদান বেশি ব্যবহৃত হতো?
উত্তর: সাদা মার্বেল ও লাল বেলেপাথর।
৩৭. প্রশ্ন: দিল্লির জামে মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
উত্তর: শাহজাহান।
৩৮. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী আকবর কোথায় স্থানান্তর করেন?
উত্তর: ফতেহপুর সিক্রি।
৩৯. প্রশ্ন: ফতেহপুর সিক্রি কেন পরিত্যক্ত হয়?
উত্তর: পানির অভাবের কারণে।
৪০. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: এককেন্দ্রিক রাজতান্ত্রিক।
৪১. প্রশ্ন: আকবর কোন যুদ্ধে হেমুকে পরাজিত করেন?
উত্তর: দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ।
৪২. প্রশ্ন: দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ কত সালে হয়?
উত্তর: ১৫৫৬ সালে।
৪৩. প্রশ্ন: হুমায়ূন কোন শাসকের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন?
উত্তর: শের শাহ সূরি।
৪৪. প্রশ্ন: শের শাহ সূরি কোন সড়ক নির্মাণ করেন?
উত্তর: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড।
৪৫. প্রশ্ন: আকবরের অভিভাবক ও সেনাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: বৈরাম খান
৪৬. প্রশ্ন: জাহাঙ্গীরের আমলে কোন ইংরেজ দূত ভারতে আসেন?
উত্তর: স্যার টমাস রো।
৪৭. প্রশ্ন: শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে সিংহাসনের জন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?
উত্তর: দারাশিকোহ।
৪৮. প্রশ্ন: আওরঙ্গজেব দারাশিকোহকে কোথায় পরাজিত করেন?
উত্তর: সমুগড়ের যুদ্ধ।
৪৯. প্রশ্ন: মুঘল দরবারে সরকারি ইতিহাস লেখার দায়িত্বে কে ছিলেন?
উত্তর: আবুল ফজল।
৫০. প্রশ্ন: আবুল ফজলের রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: আকবরনামা।
৫১. প্রশ্ন: আকবরনামার তৃতীয় অংশের নাম কী?
উত্তর: আইন-ই-আকবরি।
৫২. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রধান বন্দর কোনটি ছিল?
উত্তর: সুরাট।
৫৩. প্রশ্ন: মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর: ঢাকা।
৫৪. প্রশ্ন: বাংলায় মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তর: ইসলাম খান চিশতি।
৫৫. প্রশ্ন: ইসলাম খান চিশতি ঢাকার নাম কী রাখেন?
উত্তর: জাহাঙ্গীরনগর।
৫৬. প্রশ্ন: মুঘল আমলে সুবা শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: প্রদেশ।
৫৭. প্রশ্ন: সুবাহদার কাকে বলা হতো?
উত্তর: প্রাদেশিক গভর্নরকে।
৫৮. প্রশ্ন: মুঘল আমলে ভূমি জরিপ পদ্ধতির নাম কী ছিল?
উত্তর: দহসালা পদ্ধতি।
৫৯. প্রশ্ন: দহসালা পদ্ধতি চালু করেন কে?
উত্তর: আকবর।
৬০. প্রশ্ন: মুঘল আমলে সামরিক পদমর্যাদা কী নামে পরিচিত ছিল?
উত্তর: মানসব।
৬১. প্রশ্ন: মানসবদারদের কত শ্রেণিতে ভাগ করা হতো?
উত্তর: দুই শ্রেণি—জাত ও সওয়ার।
৬২. প্রশ্ন: ঔরঙ্গজেব কোন ধর্মীয় কর পুনরায় চালু করেন?
উত্তর: জিজিয়া কর।
৬৩. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণ কী ছিল?
উত্তর: দুর্বল উত্তরসূরি ও আঞ্চলিক বিদ্রোহ।
৬৪. প্রশ্ন: নাদির শাহ কোন সালে দিল্লি আক্রমণ করেন?
উত্তর: ১৭৩৯ সালে।
৬৫. প্রশ্ন: নাদির শাহ কোন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন নিয়ে যান?
উত্তর: তখত-ই-তাউস।
৬৬. প্রশ্ন: মুঘল আমলে বিখ্যাত হীরা কোনটি ছিল?
উত্তর: কোহিনূর হীরা।
৬৭. প্রশ্ন: কোহিনূর বর্তমানে কোথায় সংরক্ষিত?
উত্তর: যুক্তরাজ্যে।
৬৮. প্রশ্ন: মুঘল স্থাপত্যে চারবাগ শৈলী কী নির্দেশ করে?
উত্তর: চার ভাগে বিভক্ত বাগান নকশা।
৬৯. প্রশ্ন: দিল্লির জামা মসজিদ কত সালে নির্মিত হয়?
উত্তর: ১৬৫৬ সালে।
৭০. প্রশ্ন: মুঘল মুদ্রার নাম কী ছিল?
উত্তর: রুপি।
৭১. প্রশ্ন: রুপির প্রচলন কে করেন?
উত্তর: শের শাহ সূরি।
৭২. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ শক্তিশালী সম্রাট কে ছিলেন?
উত্তর: ঔরঙ্গজেব।
৭৩. প্রশ্ন: মুঘল আমলে শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক কে ছিলেন?
উত্তর: আকবর ও জাহাঙ্গীর।
৭৪. প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর কোন শিল্পে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন?
উত্তর: চিত্রকলায়।
৭৫. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর: সম্রাট।
৭৬. প্রশ্ন: মুঘল আমলে রাজস্ব সংগ্রাহককে কী বলা হতো?
উত্তর: আমিল।
৭৭. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের সরকারি ভাষা কী ছিল?
উত্তর: ফারসি।
৭৮. প্রশ্ন: মুঘল আমলে বাংলায় কোন শিল্প প্রসিদ্ধ ছিল?
উত্তর: মসলিন বস্ত্র।
৭৯. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তার সর্বাধিক কার আমলে হয়?
উত্তর: ঔরঙ্গজেবের আমলে।
৮০. প্রশ্ন: আকবর কোন রাজপুত রাজকন্যাকে বিয়ে করেন?
উত্তর: মরিয়ম-উজ-জামানি।
৮১. প্রশ্ন: মুঘল আমলে রাজধানী আগ্রা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন কে?
উত্তর: শাহজাহান।
৮২. প্রশ্ন: শাহজাহান দিল্লির নতুন নগরীর নাম কী রাখেন?
উত্তর: শাহজাহানাবাদ।
৮৩. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যে বিচারব্যবস্থার প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর: কাজী।
৮৪. প্রশ্ন: মুঘল আমলে সেনাবাহিনীর প্রধানকে কী বলা হতো?
উত্তর: মীর বখশী।
৮৫. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের অর্থভান্ডারের প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর: দেওয়ান।
৮৬. প্রশ্ন: মুঘল আমলে বিখ্যাত ভ্রমণকারী বার্নিয়ার কোন দেশের ছিলেন?
উত্তর: ফ্রান্স।
৮৭. প্রশ্ন: বার্নিয়ার কোন সম্রাটের আমলে ভারতে আসেন?
উত্তর: ঔরঙ্গজেবের আমলে।
৮৮. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতে কোন শক্তি প্রাধান্য লাভ করে?
উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
৮৯. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৬০০ সালে।
৯০. প্রশ্ন: প্লাসির যুদ্ধ কত সালে হয়?
উত্তর: ১৭৫৭ সালে।
৯১. প্রশ্ন: প্লাসির যুদ্ধ কার মধ্যে সংঘটিত হয়?
উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে।
৯২. প্রশ্ন: সিরাজউদ্দৌলা বাংলার কোন নবাব ছিলেন?
উত্তর: শেষ স্বাধীন নবাব।
৯৩. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতীকী পতন কোন সালে ঘটে?
উত্তর: ১৮৫৭ সালে।
৯৪. প্রশ্ন: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?
উত্তর: মীরাট।
৯৫. প্রশ্ন: মুঘল আমলে স্থাপত্যে কোন শৈলী দেখা যায়?
উত্তর: পারস্য ও ভারতীয় শৈলীর মিশ্রণ।
৯৬. প্রশ্ন: মুঘল চিত্রকলায় কোন রঙ বেশি ব্যবহৃত হতো?
উত্তর: উজ্জ্বল ও প্রাকৃতিক রঙ।
৯৭. প্রশ্ন: মুঘল আমলে শিক্ষা কোথায় প্রদান করা হতো?
উত্তর: মাদ্রাসা ও মক্তবে।
৯৮. প্রশ্ন: মুঘল আমলে কৃষিই ছিল কোন খাতের ভিত্তি?
উত্তর: অর্থনীতির।
৯৯. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের ঐতিহ্য আজও কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে।
১০০. প্রশ্ন: মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনকাল মোট কত বছর স্থায়ী ছিল?
উত্তর: প্রায় ৩৩১ বছর (১৫২৬–১৮৫৭)।
উপসংহার
মুঘল সাম্রাজ্য শুধু একটি রাজনৈতিক শক্তি ছিল না; এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক যুগের প্রতীক। তাদের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশে যে শিল্প-সংস্কৃতি, ভাষা ও স্থাপত্যের বিকাশ ঘটে, তা আজও ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ঔরঙ্গজেব-এর পর সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৮৫৭ সালে শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর-এর পতনের মাধ্যমে মুঘল শাসনের অবসান ঘটে, তবুও তাদের ঐতিহ্য আজও অম্লান।
মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস আমাদের শিখায় প্রশাসনিক দক্ষতা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের গুরুত্ব। তাদের নির্মিত স্থাপত্য, প্রবর্তিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আজও ভারতীয় উপমহাদেশের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস জানা মানে আমাদের অতীতকে গভীরভাবে উপলব্ধি করা।