প্রশান্ত মহাসাগর সম্পর্কিত ১০০টি সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

Spread the love

প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত মহাসাগর। প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন প্রায় ১৬৯.২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার (৬৫.৩ মিলিয়ন বর্গমাইল), যা পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠতলের প্রায় ৩২ শতাংশ এবং সমস্ত জলভাগের ৪৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর, যার ক্ষেত্রফল সকল মহাদেশের মোট ভূমির চেয়েও বেশি। 

প্রশান্ত মহাসাগরের পানির গভীরতা মারিয়ানা ট্রেঞ্চে সর্বাধিক, যা প্রায় ১০,৯৯৪ মিটার গভীর। এটি শুধুমাত্র একটি জলভূমি নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক জীবন ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও প্রশান্ত মহাসাগর “রিং অফ ফায়ার” হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভূমিকম্প, জ্বালামুখ এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে। এই মহাসাগরের উপকূলীয় দেশগুলো যেমন জাপান, চীন, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামুদ্রিক ও পর্যটন কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশান্ত মহাসাগর নিয়ে এই ১০০টি সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর শিক্ষার্থীদের, সাধারণ পাঠক এবং জ্ঞানাভিলাষী ব্যক্তিদের জন্য একটি সমৃদ্ধ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে। এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে মহাসাগরের ভৌগোলিক, সামুদ্রিক, প্রাকৃতিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।

১. প্রশ্ন: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাসাগর কোনটি?
উত্তর: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর। এর আয়তন প্রায় ১.৬৬ কোটি বর্গমাইল বা ৬.৫ কোটি বর্গকিলোমিটার। এটি পৃথিবীর সামগ্রিক জলাভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত।

পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর এবং এর গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক বৈশিষ্ট্য
প্রশান্ত মহাসাগরের মানচিত্র, উপকূলীয় দেশসমূহ এবং সামুদ্রিক জীবনসহ সাধারণ জ্ঞান চিত্র

২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের সর্বোচ্চ গভীরতা কত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের সর্বোচ্চ গভীরতা হলো মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যা প্রায় ১০,৯৯৪ মিটার (৩৬,০৭১ ফুট) গভীর। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্র অংশ।

৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান সীমানা কোন কোন দেশ দ্বারা নির্ধারিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগর পূর্বে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিমে আমেরিকা মহাদেশ, উত্তরে আলাস্কা ও রাশিয়া, এবং দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকা দ্বারা সীমাবদ্ধ।

৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন প্রধান উপসাগরগুলো রয়েছে?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে প্রধান উপসাগর হলো বিএফ সি, গালাপাগোস, সিয়াস, ফিলিপাইন, হন্ডুরাস, তাসমান ইত্যাদি। এগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরকে কখনো “পিসিফিক” নামকরণ করা হয়েছে কেন?
উত্তর: ১৫১৩ সালে পর্তুগিজ অন্বেষক ভাস্কো নুনেজ দি বাল্বোয়া মহাসাগরটি প্রথম দেখতে পায়। শান্ত ও প্রশান্ত মনে হওয়ায় তিনি এটি “মার প্যাসিফিকো” বা শান্ত মহাসাগর নামকরণ করেন।

৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের মোট আয়তন কত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের মোট আয়তন প্রায় ১৬৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, যা পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের মোট আয়তনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।

৭. প্রশ্ন: কোন বড় দ্বীপগুলি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে। প্রধানগুলো হলো:

ফিজি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ – দক্ষিণ-প্যাসিফিকে বিখ্যাত দ্বীপসমূহ।

নিউজিল্যান্ড – দক্ষিণ-প্যাসিফিকে অবস্থিত দুটি প্রধান দ্বীপ (উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপ) নিয়ে গঠিত।

পাপুয়া নিউ গিনি – অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিমে বড় দ্বীপ।

জাপানের প্রধান দ্বীপসমূহ – হোনশু, হোক্কাইডো, কিউশু, শিকোকু।

ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ – ৭,০০০-এর বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।

ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জ – সুমাত্রা, জাভা, বর্নিও (ইন্দোনেশিয়ার অংশ), সুলাওয়েসি ইত্যাদি।

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-প্যাসিফিকে অবস্থান।

৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ কোনটি?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হলো প্যাসিফিক রুট, যার মাধ্যমে এশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে মূলত পণ্য পরিবহন হয়। বিশেষ করে চীনা, জাপানি ও মার্কিন বাণিজ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু কেমন?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন। উত্তরে শীতল, মধ্যভূমিতে উষ্ণ, এবং দক্ষিণে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক প্রভাবিত। এছাড়াও এখানে ঘূর্ণিঝড় ও সাইক্লোন সাধারণ ঘটনা।

১০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া যায়?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে রয়েছে নির্মল মাছ, হাঙ্গর, তিমি, কুম্ভী, সমুদ্র কচ্ছপ এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রবাল ও মাছ। এটি বিশ্ব জলে গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার কেন্দ্র।

১১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ সবচেয়ে গভীর?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে গভীর অংশ হলো মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। এটি চ্যাপম্যান গভীরতা পর্যন্ত প্রায় ১০,৯৯৪ মিটার (৩৬,০৭১ ফুট)

১২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন সমুদ্র ধারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ধারা হলো কুরোশিও (Kuroshio) ধারা, যা জাপানের পশ্চিম উপকূলে গরম পানি নিয়ে আসে এবং জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে।

১৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ হলো নিউ গিনি দ্বীপ। এটি পাপুয়া নিউ গিনি ও ইন্দোনেশিয়ার অংশে বিভক্ত।

১৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন সমুদ্র এলাকা ঘূর্ণিঝড়ের জন্য পরিচিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর ঘূর্ণিঝড় বা টাইফুনের জন্য পরিচিত। প্রতি বছর জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে এখানে ঝড়ের প্রভাব বেশি থাকে।

১৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা সাধারণত কেমন?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে। উষ্ণ অঞ্চলে ২৮°সেলসিয়াস পর্যন্ত এবং উত্তর বা দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে শীতল ২°–৫°সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে।

১৬. প্রশ্ন: কোন দেশগুলো প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলভুক্ত?
উত্তর: প্রধান দেশগুলো হলো জাপান, চীন, ফিলিপাইন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (হাওয়াই ও পশ্চিম উপকূল), কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চিলি, পেরু ইত্যাদি।

১৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী প্রধান শহর কোনগুলো?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের (Pacific Ocean) উপকূলবর্তী প্রধান শহরগুলো মূলত এ মহাসাগরের তটবর্তী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক, শিল্প ও পর্যটন কেন্দ্র। এখানে কিছু প্রধান শহরের তালিকা দেওয়া হলো:

  1. লস এঞ্জেলেস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Los Angeles, USA) – ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে অবস্থিত, বাণিজ্য, বিনোদন ও চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ।
  2. সান ফ্রান্সিসকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (San Francisco, USA) – ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর উপকূলে অবস্থিত, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের কেন্দ্র।
  3. ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা (Vancouver, Canada) – প্রশান্ত মহাসাগরের তটে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী।
  4. মেক্সিকো সিটি সংলগ্ন পুয়ের্তো ভার্তা, মেক্সিকো (Puerto Vallarta, Mexico) – পর্যটন ও বন্দর শহর।
  5. বুয়েনস আইরেস নয়, তবে মেক্সিকোর অন্যান্য উপকূলীয় শহর যেমন – লা পাজ, মেক্সিকো।
  6. পেরু: লিমা (Lima, Peru) – প্রশান্ত মহাসাগরের তটে দক্ষিণ আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও রাজধানী।
  7. চিলি: ভ্যালপ্যারাইসো (Valparaíso, Chile) – চিলির প্রধান বন্দর শহর, বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য প্রসিদ্ধ।
  8. চীন: শানহাই (Shanghai, China) – চীনের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত বৃহৎ বন্দর ও শিল্প কেন্দ্র।
  9. জাপান: টোকিও (Tokyo, Japan) – পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র, উপকূলবর্তী শহর হিসেবে গুন্যমান।
  10. অস্ট্রেলিয়া: সিডনি (Sydney, Australia) – প্রশান্ত মহাসাগরের তটে অবস্থিত প্রধান বন্দর ও পর্যটন শহর।
  11. নিউজিল্যান্ড: অকল্যান্ড (Auckland, New Zealand) – প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অন্যতম বৃহৎ শহর।

🔹 মূল কথা: প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী শহরগুলো সাধারণত বন্দর, বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

১৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সুরক্ষা এলাকা রয়েছে?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সুরক্ষা এলাকা হলো গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, মিয়ানমার সি প্রোটেক্টেড এরিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি রিফ ইত্যাদি, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

১৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন মহাসাগরীয় দ্বন্দ্বের ইতিহাস আছে?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বন্দ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, বিশেষ করে মিডওয়ে যুদ্ধ এবং প্যাসিফিক দ্বন্দ্ব

২০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলের গড় লবণাক্ততা কত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের জলের গড় লবণাক্ততা হলো প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা অন্যান্য মহাসাগরের তুলনায় সামান্য বেশি।

২১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বন্দর অবস্থিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, সিডনি, টোকিও, হংকং এবং সিঙ্গাপুর। এ সব বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অঞ্চল সমুদ্রপথে প্রধান বাণিজ্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: পশ্চিম ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর বাণিজ্য রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। এ পথের মাধ্যমে চীনের পণ্য আমেরিকা ও অন্যান্য দেশগুলোতে পৌঁছে।

২৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে সবচেয়ে বেশি ঘটে টাইফুন বা ঘূর্ণিঝড়, যা প্রধানত এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে।

২৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণ কী?
উত্তর: তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো সাধারণ সাগরীয় ধারা, এলো নিয়ো (El Niño), লা নিয়া (La Niña), সূর্যের তাপ এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার পরিবর্তন

২৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ তিমি এবং শ্বেতহাঙরের জন্য পরিচিত?
উত্তর: উত্তর ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ এবং শীতল অঞ্চলে তিমি, ডলফিন এবং শ্বেতহাঙর সহজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড উপকূলে।

২৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে প্রবাল প্রাচীর সবচেয়ে বড়?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর, যা প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত।

২৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের পানি কেমন রঙের দেখা যায়?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পানি সাধারণত নীল এবং সবুজ আভায় দেখা যায়। গভীর অঞ্চলে গভীর নীল, উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজাভ বা ফেনাযুক্ত দেখা যায়।

২৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির মাছ ধরা হয়?
উত্তর: এখানে ধরা হয় টুনা, স্যালমন, মাকারেল, হ্যারি, কোরাল মাছ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা বৈশ্বিক মাছের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ।

২৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন প্রজাতির পাখি বেশি দেখা যায়?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে সাধারণত দেখা যায় সী গাল, আলবাট্রোস, পেঙ্গুইন, টার্নস এবং অন্যান্য উপকূলীয় জলচর পাখি, বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিক ও দক্ষিণ প্রশান্ত অঞ্চলে।

৩০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরকে কোন মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমধ্যসাগর বলা যায়?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরকে কোন মহাদেশের অংশ বলা যায় না, এটি বিশ্বের বৃহত্তম মহাসাগর, যা এশিয়া, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াকে আলাদা করে এবং পৃথক করে দেয়।

৩১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম ট্রেঞ্চের নাম কী?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম ট্রেঞ্চের নাম হলো মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। এটি প্রায় ১০,৯৯৪ মিটার (৩৬,০৭১ ফুট) গভীর এবং পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্র অঞ্চল।

৩২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে ভূমিকম্প বেশি হয়?
উত্তর: “রিং অফ ফায়ার” নামে পরিচিত অঞ্চলে ভূমিকম্প বেশি ঘটে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের জ্বালামুখীয় অঞ্চলে বিস্তৃত।

৩৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান সাইক্লোন এলাকা কোনটি?
উত্তর: প্রধান সাইক্লোন এলাকা হলো পশ্চিম ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর, বিশেষ করে ফিলিপাইন, জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল।

৩৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের পানির গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পানির গড় ঘনত্ব প্রায় ১.০২৫ কেজি/লিটার, যা লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে।

৩৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন দ্বীপগুলো পর্যটকদের কাছে বিখ্যাত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পর্যটকপ্রিয় দ্বীপগুলো হলো হাওয়াই, ফিজি, বালি, ফিলিপাইন, তহিতি। এই দ্বীপগুলো সুন্দর সমুদ্র সৈকত ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত।

৩৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন নদী মুখ প্রধানত প্রবেশ করে?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করা প্রধান নদীগুলো হলো কোলোরাডো, কলম্বিয়া, নরথ ফ্লোরিডা, ইউকোন, ইয়ানগৎসি এবং মেকঙ্গ

৩৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রধারার প্রভাব কী?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রধারা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, তাপ পরিবহন এবং মাছ ধরা ও সামুদ্রিক জীবনকে প্রভাবিত করে। যেমন, কুরোশিও ধারাইস্ট অস্ট্রেলিয়ান ধারা গুরুত্বপূর্ণ।

৩৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে প্রবাল চরে বেশি পাওয়া যায়?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এবং পাপুয়া নিউ গিনি উপকূলে প্রবাল চরে বেশি পাওয়া যায়।

৩৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কী?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রজাতিগত বৈচিত্র্য হ্রাস হচ্ছে।

৪০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র সুরক্ষা উদ্যোগ চালু আছে?
উত্তর: গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ মেরিন পার্ক, পাপুয়া নিউ গিনি রিফ প্রোটেক্টেড এরিয়া এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সামুদ্রিক জীবন ও প্রবাল প্রাচীর রক্ষা করা হয়।

৪১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন অঞ্চল মাছ ধরার জন্য সবচেয়ে সমৃদ্ধ?
উত্তর: উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর মাছ ধরার জন্য সবচেয়ে সমৃদ্ধ। এখানে টুনা, স্যালমন, মাকারেল, শেলফিশ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়।

৪২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু ও আবহাওয়ার বৈচিত্র্য কিসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: জলবায়ু ও আবহাওয়ার বৈচিত্র্য নির্ভর করে সমুদ্রধারা, রোদ-বাতাসের প্রভাব, ভূ-প্রকৃতি এবং স্থানীয় জলবায়ু এর ওপর।

৪৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন উপকূলীয় দেশগুলো ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুনের জন্য বিপজ্জনক?
উত্তর: প্রধান বিপজ্জনক দেশগুলো হলো ফিলিপাইন, জাপান, ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমার, কারণ এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় প্রায়শই আঘাত হানে।

৪৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে সমুদ্রের লবণাক্ততা বেশি?
উত্তর: উষ্ণ মধ্যভূমি প্রশান্ত মহাসাগরে লবণাক্ততা বেশি থাকে, যা প্রায় ৩৫–৩৬ শতাংশ। উষ্ণতা ও বাষ্পীভবনের কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়।

৪৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের তটরেখা প্রায় কত কিলোমিটার দীর্ঘ?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের তটরেখা প্রায় ১০,০৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা পৃথিবীর অন্যান্য মহাসাগরের তুলনায় অনেক দীর্ঘ।

৪৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে “রিং অফ ফায়ার” অবস্থিত?
উত্তর: “রিং অফ ফায়ার” হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল, যেখানে বহু জ্বালামুখ এবং ভূমিকম্প ঘটে।

৪৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যায়?
উত্তর: এখানে পাওয়া যায় মাছ, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, প্রবাল, মণি, খনিজ লবণ এবং সামুদ্রিক জীবন। এগুলো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৪৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের পানির স্তর পরিবর্তনের কারণ কী?
উত্তর: পানির স্তর পরিবর্তনের কারণ হলো গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বরফ গলন, সমুদ্রধারা, জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং ভূমিকম্পের ফলে সুনামি

৪৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে প্রবালচরের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ পাওয়া যায়?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এবং পাপুয়া নিউ গিনি উপকূলীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বড় প্রবালচরের সংগ্রহ পাওয়া যায়।

৫০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগর কেন বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগর গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মাছ ধরা, তেল ও প্রাকৃতিক ৫১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের মোট জলস্তর কত শতাংশ পৃথিবীর জলজ অংশের?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের জলস্তর প্রায় ৩৩% পৃথিবীর মোট সমুদ্রজলের। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাসাগর হওয়ায় এ পরিমাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে কোন বৃহৎ দ্বীপসমূহ রয়েছে?
উত্তর: প্রধান দ্বীপসমূহ হলো নিউ গিনি, হাওয়াই, জাপান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ার আর্কিপেলাগো। এ দ্বীপগুলো ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৫৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন ধরনের সমুদ্রজ জীবন বেশি দেখা যায়?
উত্তর: এখানে মাছ, শামুক, প্রবাল, হাঙ্গর, তিমি, ডলফিন এবং সামুদ্রিক পাখি বেশি দেখা যায়। এই জীববৈচিত্র্য বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।

৫৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবচেয়ে মারাত্মক?
উত্তর: সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো টাইফুন, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি এবং ভূমিকম্প, বিশেষ করে “রিং অফ ফায়ার” অঞ্চলে।

৫৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার গড় কী?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে। উষ্ণ অঞ্চলে ২৮°সেলসিয়াস পর্যন্ত, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে ২°–৫°সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে।

৫৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন বড় সাগর অবস্থিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে রয়েছে ফিলিপিনো সি, কোরিয়ান সি, সিয়ান সি, তাসম্যান সি, বেল্টিক সি এবং চীনা সি। এ সব সমুদ্র প্রধান বাণিজ্য ও সামুদ্রিক জীবনের কেন্দ্র।

৫৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন নদী মুখ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: গুরুত্বপূর্ণ নদী মুখ হলো ইয়ানগৎসি, মেকং, কলম্বিয়া, মিস্টিক, ফ্রাঙ্কলিন। এই নদীগুলো পণ্য পরিবহন ও মাছ ধরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু কীভাবে বৈচিত্র্যময়?
উত্তর: জলবায়ু বৈচিত্র্যময় কারণ এখানে উষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চল, শীতল মেরু অঞ্চল এবং মধ্য প্রশান্ত মৃদু জলবায়ু বিদ্যমান। সমুদ্রধারা ও ভৌগোলিক অবস্থাও প্রভাব ফেলে।

৫৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা সামুদ্রিক সংরক্ষণের কাজ করে?
উত্তর: ইউনাইটেড নেশনস ওয়ার্ল্ড ম্যারিন অর্গানাইজেশন (UNWMO) এবং স্থানীয় সরকারি সংস্থা যেমন অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ মেরিন পার্ক অথরিটি সামুদ্রিক সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

৬০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জলপথ কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক জলপথ হলো প্যাসিফিক রুট, যা চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত হয়।

৬১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ ঘূর্ণিঝড়ের “হটস্পট” হিসেবে পরিচিত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম ও মধ্য অংশ, বিশেষ করে ফিলিপাইন, জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল, ঘূর্ণিঝড় বা টাইফুনের “হটস্পট” হিসেবে পরিচিত।

৬২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন সমুদ্র ধারা উষ্ণ এবং মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: কুরোশিও ধারা (Kuroshio Current) জাপানের পশ্চিম উপকূলে উষ্ণ পানি নিয়ে আসে এবং মাছের প্রজনন ও পরিবেশকে সহায়তা করে।

৬৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে গভীর পয়েন্টের নাম কী?
উত্তর: সবচেয়ে গভীর পয়েন্ট হলো চ্যালেন্জার ডিপ (Challenger Deep), যা মারিয়ানা ট্রেঞ্চের অংশ। এর গভীরতা প্রায় ১০,৯৯৪ মিটার

৬৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন দ্বীপগুলো পর্যটকদের কাছে বিখ্যাত?
উত্তর: পর্যটকদের কাছে বিখ্যাত দ্বীপ হলো হাওয়াই, ফিজি, বালি, ফিলিপাইন, তহিতি এবং নিউজিল্যান্ডের কিছু দ্বীপ

৬৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলে কোন ধরনের সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী পাওয়া যায়?
উত্তর: এখানে পাওয়া যায় তিমি, ডলফিন, শ্বেতহাঙর, সীল এবং সামুদ্রিক কচ্ছপ

৬৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ প্রবালচরের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এবং পাপুয়া নিউ গিনি উপকূল প্রবালচরের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত।

৬৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের লবণাক্ততা কত?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের গড় লবণাক্ততা প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা পৃথিবীর অন্যান্য মহাসাগরের তুলনায় সামান্য বেশি।

৬৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা কোন কারণে পরিবর্তিত হয়?
উত্তর: তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয় সমুদ্রধারা, এলো নিয়ো (El Niño), লা নিয়া (La Niña), সূর্যের তাপ এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার কারণে

৬৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ সুনামির জন্য পরিচিত?
উত্তর: বিশেষ করে জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন উপকূল সুনামির জন্য পরিচিত। ভূমিকম্প বা অ্যান্ডারোস এর ফলে সুনামি সৃষ্টি হয়।

৭০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশের জলবায়ু শীতল এবং কাঁপুনি সৃষ্টি করে?
উত্তর: উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল, যেমন আলাস্কা ও অ্যান্টার্কটিকা উপকূল, শীতল জলবায়ু এবং প্রবল ঠান্ডার জন্য পরিচিত।

৭১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে সবচেয়ে বেশি মাছ পাওয়া যায়?
উত্তর: উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর, বিশেষ করে জাপান ও ফিলিপাইন উপকূলীয় অঞ্চলে, সবচেয়ে বেশি মাছ পাওয়া যায়। এখানে টুনা, স্যালমন, হ্যারি ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়।

৭২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর কোনটি?
উত্তর: গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর হলো লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, সিডনি, হংকং, টোকিও এবং সিঙ্গাপুর। এ বন্দরগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৭৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন নদী মুখ প্রধানত মাছ ধরা এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: প্রধান নদী মুখ হলো ইয়ানগৎসি, মেকং, কলম্বিয়া, ফ্রাঙ্কলিন, যা মাছ ধরা এবং বাণিজ্যিক পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৭৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলের স্তর বৃদ্ধি হওয়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: প্রধান কারণ হলো গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বরফ গলন, সমুদ্রধারা পরিবর্তন এবং সুনামি/ভূমিকম্পজনিত ঘটনার প্রভাব

৭৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের “রিং অফ ফায়ার” কীভাবে তৈরি হয়েছে?
উত্তর: এটি তৈরি হয়েছে প্লেট টেকটোনিক্সের কারণে, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে বহু জ্বালামুখ এবং ভূমিকম্পের অঞ্চল তৈরি হয়েছে।

৭৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর হলো অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রবাল চরের সংকলন।

৭৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ বেশি পাওয়া যায়?
উত্তর: এখানে মাছ, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ লবণ, প্রবাল এবং সামুদ্রিক জীবন পাওয়া যায়।

৭৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ পর্যটকদের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: পর্যটকদের জন্য বিখ্যাত হলো হাওয়াই, ফিজি, বালি, নিউজিল্যান্ড এবং ফিলিপাইন দ্বীপগুলো, যা সুন্দর সমুদ্র সৈকত ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত।

৭৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অঞ্চল সামুদ্রিক সংরক্ষণ উদ্যোগের আওতায়?
উত্তর: গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ মেরিন পার্ক, পাপুয়া নিউ গিনি প্রোটেক্টেড এরিয়া এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আওতায় আসে, যা প্রবাল ও সামুদ্রিক জীবন সংরক্ষণ করে।

৮০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ সবচেয়ে গভীর এবং গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: সবচেয়ে গভীর এবং গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যেখানে চ্যালেন্জার ডিপ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর বিন্দু।

৮১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে সবচেয়ে বেশি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম ও মধ্য অংশ, বিশেষ করে ফিলিপাইন, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল, ঘূর্ণিঝড় বা টাইফুনের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

৮২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার সবচেয়ে উষ্ণ অঞ্চল কোনটি?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ মধ্যভূমি অঞ্চলের পানি, যেমন ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূল, গ্রীষ্মমন্ডলীয় তাপমাত্রা প্রায় ২৮°–৩০°সেলসিয়াস

৮৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে শীতল জলবায়ু দেখা যায়?
উত্তর: শীতল জলবায়ু দেখা যায় উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে, যেমন আলাস্কা ও অ্যান্টার্কটিকা উপকূল।

৮৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে কোন বড় দ্বীপগুলো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: বড় অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো হলো জাপান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, হাওয়াই এবং ইন্দোনেশিয়া, কারণ এখানে মাছ, বাণিজ্য এবং পর্যটন মূল ধন।

৮৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন প্রবাল প্রাচীর বিশ্বের সবচেয়ে বড়?
উত্তর: বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর হলো অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত।

৮৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে সমুদ্রজ জীবন বৈচিত্র্য বেশি?
উত্তর: উষ্ণ মধ্যভূমি ও উপকূলীয় দ্বীপ এলাকা, যেমন ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং পাপুয়া নিউ গিনি, সমুদ্রজ জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।

৮৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরে কোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হলো প্যাসিফিক রুট, যা চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবহৃত হয়।

৮৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশ “রিং অফ ফায়ার” অংশ?
উত্তর: “রিং অফ ফায়ার” হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, যেখানে বহু জ্বালামুখ এবং ভূমিকম্পের অঞ্চল বিদ্যমান।

৮৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন নদী মুখ সামুদ্রিক পরিবহন ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: গুরুত্বপূর্ণ নদী মুখ হলো ইয়ানগৎসি, মেকং, কলম্বিয়া ও ফ্রাঙ্কলিন, যা মাছ ধরা ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

৯০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী হলো তিমি, ডলফিন এবং শ্বেতহাঙর, যা পর্যটন, মাছ ধরা এবং সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৯১. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে গভীর ট্রেঞ্চ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: সবচেয়ে গভীর ট্রেঞ্চ হলো মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এবং এর গভীরতা প্রায় ১০,৯৯৪ মিটার

৯২. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন দ্বীপগুলি পর্যটন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: বিখ্যাত দ্বীপগুলো হলো হাওয়াই, ফিজি, বালি, নিউজিল্যান্ড এবং ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ, যা সুন্দর সমুদ্র সৈকত, প্রবালচর এবং পর্যটন আকর্ষণের জন্য পরিচিত।

৯৩. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
উত্তর: ভূমিকম্পের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলো “রিং অফ ফায়ার”, যা প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত।

৯৪. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন সমুদ্রধারা উষ্ণ পানি নিয়ে আসে?
উত্তর: কুরোশিও ধারা (Kuroshio Current) জাপানের পশ্চিম উপকূলে উষ্ণ পানি নিয়ে আসে এবং মাছের প্রজনন ও সামুদ্রিক জীবনকে প্রভাবিত করে।

৯৫. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলের গড় লবণাক্ততা কত?
উত্তর: গড় লবণাক্ততা প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা পৃথিবীর অন্যান্য মহাসাগরের তুলনায় সামান্য বেশি।

৯৬. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে টাইফুন সবচেয়ে বেশি আঘাত করে?
উত্তর: ফিলিপাইন, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল টাইফুনের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

৯৭. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোন অংশে প্রবালচর সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এবং পাপুয়া নিউ গিনি উপকূল প্রবালচরের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

৯৮. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান বাণিজ্যিক জলপথ কী?
উত্তর: প্রধান বাণিজ্যিক জলপথ হলো প্যাসিফিক রুট, যা চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

৯৯. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হ্রাস দেখা যায়।

১০০. প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব কী?
উত্তর: অর্থনৈতিক গুরুত্ব হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মাছ ধরা, তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ, জলপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন এবং পর্যটন, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপসংহার

প্রশান্ত মহাসাগর কেবলমাত্র পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর নয়, এটি বিশ্বে সামুদ্রিক জীবন, বাণিজ্য, পর্যটন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর গভীরতা, বিস্তৃতি, প্রবালচর, নদী মুখ, দ্বীপপুঞ্জ এবং সমুদ্রধারা পৃথিবীর জলবায়ু ও পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়, টাইফুন, ভূমিকম্প এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক ঘটনা এই মহাসাগরকে আরও জটিল ও গবেষণার যোগ্য করে তুলেছে।

এই ১০০টি সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর পাঠককে প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সঠিক ও সহজভাবে ধারণা দিতে সহায়ক হবে। শিক্ষার্থীরা এই তথ্য ব্যবহার করে তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারে, পরীক্ষায় প্রস্তুতি নিতে পারে, এবং সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page