অ্যান্টার্কটিকা সম্পর্কিত ১০০টি সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

Spread the love

অ্যান্টার্কটিকা হলো পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত একটি বিশাল মহাদেশ, যা বিশ্বের সবচেয়ে শীতল ও মানবদখলহীন স্থান। এ মহাদেশটি প্রায় ১৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত, এবং পৃথিবীর ৯০% মিষ্টি পানি বরফে আটকিয়ে রাখে। অ্যান্টার্কটিকায় কোনো স্থায়ী মানুষ বসবাস করে না, তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য কয়েক ডজন স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। পেঙ্গুইন, সীল, হোকি মাছ এবং সমুদ্রপাখি সহ বিভিন্ন প্রাণী এই মহাদেশের পরিবেশে বেঁচে থাকে।

অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা শীতকালে −৬০°C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং গ্রীষ্মকালে প্রায় −২০°C থাকে। ২৪ ঘণ্টা সূর্য দেখা যায় বা এক মাস সূর্য অদৃশ্য থাকে—এই বৈশিষ্ট্য অ্যান্টার্কটিকাকে অন্যান্য মহাদেশ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন করে তোলে।
এই মহাদেশে গবেষণা শুধু প্রাণী ও উদ্ভিদ নিয়ে নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন, বরফের গঠন, সমুদ্রজীবন এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তরগুলো অ্যান্টার্কটিকার তথ্যাবলী সহজভাবে বোঝার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষিণে এবং সর্বাধিক শীতল মহাদেশ।

পৃথিবীর মানচিত্রে দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকা হাইলাইট করা, আশেপাশের মহাসাগরসহ, পেঙ্গুইন ও বরফচাদরের ছোট চিত্রসহ।
পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকা – বিশ্বের সবচেয়ে শীতল এবং অনন্য মহাদেশ।

২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকার মোট এলাকা কত?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার মোট এলাকা প্রায় ১৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। এটি আকাশ থেকে পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ হিসেবে দেখা যায়।

৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় স্থায়ী মানুষ বসবাস করে কি?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো স্থায়ী মানুষ বসবাস করে না। শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ছোট ছোট আবাসিক বেস আছে।

৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে উঁচু পর্বত কোনটি?
উত্তর: মাউন্ট ভিনসন অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ পর্বত। এর উচ্চতা প্রায় ৪,৮৯২ মিটার।

৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন প্রাণী বেশি দেখা যায়?
উত্তর: পেঙ্গুইন, সীল, হোকি মাছ এবং বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি অ্যান্টার্কটিকায় বেশি দেখা যায়।

৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা কত হতে পারে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা শীতকালে প্রায় −৬০°C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং গ্রীষ্মকালে প্রায় −২০°C থাকে।

৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো দেশ মালিকানা দাবি করতে পারে কি?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো দেশ সম্পূর্ণ মালিকানা দাবি করতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য উন্মুক্ত।

৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বরফের পরিমাণ কত?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকা প্রায় ৯০% পৃথিবীর মিষ্টি পানির বরফ ধারণ করে। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম বরফশৃঙ্গ।

৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন মৌসুমে পর্যটকরা আসে?
উত্তর: পর্যটকরা সাধারণত অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালে আসে, যা নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকে।

১০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো উদ্ভিদ জন্মায় কি?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় খুবই সীমিত উদ্ভিদ জন্মায়। মূলত মস এবং লাইকেন জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়।

১১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন মহাদেশের তুলনায় সবচেয়ে কম মানবদখল রয়েছে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় মানবদখল পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় সবচেয়ে কম। এখানে মানুষ শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য কয়েক মাস বা বছর থাকে।

১২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন সমুদ্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় দক্ষিণ মহাসাগর (Southern Ocean) ঘিরে রয়েছে। এটি মহাদেশকে অন্যান্য মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে।

১৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের বিজ্ঞানীরা বেশি কাজ করেন?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রধানত জলবিজ্ঞানী, ভূতত্ত্ববিদ, পরিবেশবিজ্ঞানী এবং জলবায়ু গবেষকরা কাজ করেন।

১৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকার আবহাওয়া কেমন থাকে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার আবহাওয়া অত্যন্ত শীতল, শুষ্ক এবং ঝড়ো। সেখানে তীব্র তুষারঝড় এবং তুষারবাতাস সাধারণ।

১৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বরফের তলদেশে কী আছে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার বরফের তলদেশে পাহাড়, জলাশয় এবং প্রায়শই সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান নিচু ভূমি আছে।

১৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কী ধরনের গবেষণা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তন, মহাসাগরের পরিবেশ, প্রাণী ও উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্য এবং ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

১৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের তুষারধারা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় বরফচাদর এবং গ্লেসিয়ার (glaciers) সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম বরফাধার।

১৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কী ধরনের জ্বালানি বা খনিজ পাওয়া যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় কয়লা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে এগুলি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ।

১৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় সূর্যের উদয় ও অস্ত কীভাবে হয়?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে সূর্য ২৪ ঘণ্টা উজ্জ্বল থাকে এবং শীতে সূর্য দেখা যায় না। এই ঘটনাকে “মধ্যরাতের সূর্য” ও “ধূসর রাত” বলা হয়।

২০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটন কি নিরাপদ?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটন সম্ভব, কিন্তু এটি কঠোর নিয়ম ও নিরাপত্তার মধ্যে করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ এবং তীব্র তাপমাত্রা সতর্ক থাকার কারণ।

২১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের বৈজ্ঞানিক স্টেশন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য স্থাপিত স্থায়ী ও অস্থায়ী বেস স্টেশন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যেমন – আমান্ডেসন-স্কট বেস, ম্যাকমার্ডো স্টেশন।

২২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো শহর আছে কি?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় কোনো স্থায়ী শহর নেই। কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সীমিত কর্মী থাকার ব্যবস্থা আছে।

২৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের পাখি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?
উত্তর: পেঙ্গুইন প্রজাতি অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া আলবাট্রস ও স্কুয়া পাখিও আছে।

২৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কী ধরনের জলজ প্রাণী বেশি থাকে?
উত্তর: সীল, হোকি মাছ, কাইটফিশ, এবং বিভিন্ন ধরণের ক্রাস্টেসিয়ান প্রাণী অ্যান্টার্কটিকায় বেশি থাকে।

২৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় তুষারপাত বছরে কতবার হয়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় প্রতিদিন তুষারপাত হয়। শীতকালে তুষারপাত আরও বেশি এবং ঝড়ো হয়।

২৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসের গতি কেমন থাকে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসের গতি অত্যন্ত তীব্র হয়। কখনও কখনও ১০০ কিমি/ঘণ্টার বেশি বেগে ঝড়ও আঘাত করে।

২৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি কৃষি করা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় তীব্র শীত এবং বরফের কারণে কৃষি করা সম্ভব নয়। সেখানে কোনো ফসল জন্মায় না।

২৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গবেষক থাকে?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে বেশি গবেষক অ্যান্টার্কটিকায় থাকে, কারণ তখন তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

২৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় আলো ও অন্ধকারের বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মে সূর্য ২৪ ঘণ্টা থাকে এবং শীতে সূর্য একদিনও দেখা যায় না। এই ঘটনাকে “মধ্যরাতের সূর্য” এবং “পোলার নাইট” বলা হয়।

৩০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটকরা সাধারণত কোন ধরনের কার্যক্রম করে?
উত্তর: পর্যটকরা পেঙ্গুইন দেখার, বরফচাদর ও গ্লেসিয়ারে ভ্রমণ, সমুদ্রপথে ক্রুজ সফর এবং বৈজ্ঞানিক স্টেশন দর্শন করে।

৩১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বরফের তাপমাত্রা সবচেয়ে কম কত হতে পারে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় শীতকালে তাপমাত্রা প্রায় −৮৯°C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এটি পৃথিবীর রেকর্ডকৃত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

৩২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন দেশ প্রথম বৈজ্ঞানিক স্টেশন স্থাপন করেছিল?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রথম বৈজ্ঞানিক স্টেশন স্থাপন করেছিল নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য, ১৯৫০-এর দশকে।

৩৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের উদ্ভিদ বেশি দেখা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রধানত মস এবং লাইকেন জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়। কোনো বড় গাছ বা ফসল জন্মায় না।

৩৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বরফের নিচে কোন প্রাণী থাকতে পারে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বরফের নিচে সামুদ্রিক প্রাণী যেমন মাছ, ক্রাস্টেসিয়ান, এবং সীলের শিকার করা কিছু প্রাণী থাকতে পারে।

৩৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফচাদর কোনটি?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় বরফচাদর রয়েছে, যা মহাদেশের প্রায় ৯০% এলাকাকে ঢেকে রাখে।

৩৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের আবাসিক ভবন আছে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ছোট ছোট আবাসিক ভবন বা বেস স্টেশন আছে।

৩৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কী?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

৩৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় সমুদ্রজলের তাপমাত্রা কেমন থাকে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় সমুদ্রজলের তাপমাত্রা প্রায় −২°C থেকে ২°C পর্যন্ত থাকে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা সমুদ্রজল।

৩৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের গবেষণা সফর করে শিক্ষার্থী বা পর্যটক?
উত্তর: শিক্ষার্থী ও পর্যটকরা সাধারণত গ্লেসিয়ার ভ্রমণ, পেঙ্গুইন পর্যবেক্ষণ, এবং বৈজ্ঞানিক স্টেশন দর্শন করে।

৪০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের পরিবেশগত আইন প্রযোজ্য?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় পরিবেশ রক্ষা ও গবেষণার জন্য “অ্যান্টার্কটিক চুক্তি” (Antarctic Treaty) প্রযোজ্য। এর অধীনে শিকার, খনিজ উত্তোলন এবং দূষণ সীমিত।

৪১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের বরফের আন্দোলন ঘটে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় গ্লেসিয়ার ক্রল এবং বরফের ধস প্রাকৃতিকভাবে ঘটে। এগুলো ধীরে ধীরে মহাদেশের বরফকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত করে।

৪২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: এখানে জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, ভূতত্ত্ব এবং মহাদেশের বরফ গঠনের ওপর সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়।

৪৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসের চাপ কেমন থাকে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসের চাপ সাধারণত কম থাকে এবং শীতকালে এটি আরও কমে যায়, যা ঝড়ের সৃষ্টি করে।

৪৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের পাখি উড়তে পারে না?
উত্তর: পেঙ্গুইন অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে পরিচিত, এবং এরা উড়তে পারে না। তবে এগুলো জলচারণে বিশেষ দক্ষ।

৪৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় তুষারপাতের পরিমাণ প্রায় কত?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় বার্ষিক তুষারপাত প্রায় ২০০–৬০০ মিমি সমতুল্য হয়, তবে বরফ গলতে খুব ধীরগতি থাকে।

৪৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় মানুষ কিভাবে চলাচল করে?
উত্তর: মানুষ সাধারণত স্নো মোবাইল, হেলিকপ্টার, স্কি এবং বরফচাদর-উপযোগী যানবাহন ব্যবহার করে চলাচল করে।

৪৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি কোনো নদী আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, বরফ গলে কিছু ছোট ছোট নদী বা জলধারা তৈরি হয়, তবে এগুলো অস্থায়ী এবং মৌসুমভিত্তিক।

৪৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ তাপমাত্রা কত রেকর্ড করা হয়েছে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে উষ্ণ তাপমাত্রা প্রায় ১৭.৫°C রেকর্ড করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত বিরল এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য।

৪৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের পরিবেশগত হুমকি রয়েছে?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি, বিদেশী প্রাণী ও মানুষের কার্যকলাপ অ্যান্টার্কটিকার জন্য প্রধান পরিবেশগত হুমকি।

৫০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বৈজ্ঞানিক গবেষকরা কীভাবে খাবার সরবরাহ পান?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক গবেষকরা হেলিকপ্টার, জাহাজ এবং প্রি-প্যাকড খাবারের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ পান। তাজা সবজি ও ফলকাজে সীমিত থাকে।

৫১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় সূর্যের অবস্থান কি কারণে অদ্ভুত মনে হয়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মে সূর্য ২৪ ঘণ্টা থাকে এবং শীতে পুরো মাস অদৃশ্য থাকে। এ কারণে দিন ও রাতের ধারণা ভিন্ন হয়।

৫২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের বরফচাদর সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত?
উত্তর: ল্যান্ড আইস শীট (land ice sheet) অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে বিস্তৃত বরফচাদর। এটি মহাদেশের প্রায় ৯০% এলাকা ঢেকে রাখে।

৫৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন প্রাণী সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বড় প্রাণী হাপু (Blue whale) এবং সবচেয়ে শক্তিশালী সীল প্রজাতি।

৫৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কি কারণে পরিবর্তিত হয়?
উত্তর: তাপমাত্রার অতি-কমতা এবং বরফের বিস্তার বায়ুমণ্ডলীয় চাপের বড় কারণ।

৫৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের গবেষণা ল্যাব আছে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রধানত জলবায়ু, ভূতত্ত্ব, সামুদ্রিক জীবন ও জলের গুণমান সম্পর্কিত ল্যাব রয়েছে।

৫৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কত ধরনের পেঙ্গুইন দেখা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রধানত ৫ প্রজাতির পেঙ্গুইন দেখা যায়, যেমন – এম্পেরর, অ্যাডেলি, জেন্টু, চিনস্ট্র্যাপ এবং রকহপার।

৫৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় মানুষ কী ধরনের পোশাক ব্যবহার করে?
উত্তর: মানুষ শীত রোধী পোশাক, তাপমাত্রা রক্ষা করা জ্যাকেট, গ্লাভস, বুট এবং হেডগিয়ার ব্যবহার করে।

৫৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি কোনো বড় নদী বা লেক আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, লেক ভোস্টক (Lake Vostok) অ্যান্টার্কটিকায় বড় একটি লুকানো লবণাক্ত মিঠা জলাশয়।

৫৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের সমুদ্রপৃষ্ঠ দেখা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ বরফে ঢাকা থাকে এবং গ্রীষ্মে বরফের কিছু অংশ গলে খোলা জল দেখা যায়।

৬০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটক ও গবেষকদের জন্য নিরাপত্তার প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
উত্তর: তীব্র শীত, ঝড়ো বাতাস, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সীমিত চিকিৎসা সুবিধা প্রধান চ্যালেঞ্জ।

৬১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় কতটি আন্তর্জাতিক গবেষণাবেস আছে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় ৭০টির বেশি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাবেস আছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষকরা গবেষণা করেন।

৬২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের ঝড় সবচেয়ে বিপজ্জনক?
উত্তর: কেটাব্রো ঝড় (katabatic winds) সবচেয়ে বিপজ্জনক। এগুলি বরফ চাদরের উপর দিয়ে তীব্রভাবে বয়ে যায়।

৬৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের সমুদ্রপাখি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?
উত্তর: আলবাট্রস এবং স্কুয়া প্রজাতির সমুদ্রপাখি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, এরা দীর্ঘ সময় সমুদ্রের ওপরে ভেসে থাকে।

৬৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের প্রাণী উষ্ণপ্রিয় নয়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় সব প্রাণী শীত-উপযোগী। যেমন – পেঙ্গুইন ও সীল ঠান্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকে।

৬৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় মাটির পরিমাণ কেমন?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় মাটি খুব কম এবং বরফের নিচে সীমিত। এখানে মাটির গঠন প্রায়শই পাথুরে বা বালি জাতীয়।

৬৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় মানুষের গবেষণার জন্য কি ধরনের পরিবহন ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: গবেষকরা হেলিকপ্টার, স্নোমোবাইল, বরফ-উপযোগী গাড়ি এবং স্কি ব্যবহার করে চলাচল করেন।

৬৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কী ধরনের মাছ পাওয়া যায়?
উত্তর: হোকি মাছ, ক্রাস্টেসিয়ান, এবং ছোট সামুদ্রিক মাছ অ্যান্টার্কটিকায় পাওয়া যায়।

৬৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার মৌসুম কখন?
উত্তর: প্রধান গবেষণা মৌসুম গ্রীষ্মকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) হয়, কারণ তখন তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল থাকে।

৬৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের জলবায়ু বৈশিষ্ট্য প্রায়শই দেখা যায়?
উত্তর: শীতল, শুষ্ক, ঝড়ো এবং বরফাচ্ছন্ন পরিবেশ অ্যান্টার্কটিকার সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

৭০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটন সীমাবদ্ধ কেন?
উত্তর: তীব্র শীত, বরফে চলাচলের ঝুঁকি, পরিবেশ রক্ষা এবং সীমিত সুবিধার কারণে পর্যটন কঠোর নিয়মে সীমাবদ্ধ।

৭১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের বরফ সবচেয়ে স্থায়ী?
উত্তর: ল্যান্ড আইস শীট (Land Ice Sheet) সবচেয়ে স্থায়ী বরফ। এটি কয়েক হাজার বছর ধরে গলতে থাকে না।

৭২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কী কারণে কোনো স্থায়ী বসতি নেই?
উত্তর: তীব্র শীত, তুষারবাহুল্য, খাদ্য ও জল সীমিত এবং পরিবেশগত কঠোরতার কারণে কোনো স্থায়ী বসতি নেই।

৭৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনটি?
উত্তর: তীব্র তুষারঝড় ও কেটাব্রো ঝড় সবচেয়ে বিপজ্জনক। এগুলো মানুষের চলাচল ও গবেষণা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।

৭৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের সমুদ্রজীবী সবচেয়ে বড়?
উত্তর: হাপু (Blue whale) বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক প্রাণী, এটি অ্যান্টার্কটিকায় পাওয়া যায়।

৭৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বরফের পুরুত্ব কত হতে পারে?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গড় পুরুত্ব প্রায় ২,১৬০ মিটার। কিছু স্থানে এটি ৪,০০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

৭৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের চুক্তি প্রযোজ্য?
উত্তর: “অ্যান্টার্কটিক চুক্তি” (Antarctic Treaty) অনুযায়ী মহাদেশটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য উন্মুক্ত এবং খনিজ উত্তোলন ও শিকার সীমিত।

৭৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের গবেষণা সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটকদের জন্য?
উত্তর: পেঙ্গুইন পর্যবেক্ষণ, গ্লেসিয়ার ভ্রমণ, বরফচাদর ও বৈজ্ঞানিক স্টেশন দর্শন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।

৭৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় মানুষের বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য কোন ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার হয়?
উত্তর: হেলিকপ্টার, স্নোমোবাইল, বরফ-উপযোগী যানবাহন, টেন্ট, ল্যাব সরঞ্জাম এবং স্নো শু ব্যবহৃত হয়।

৭৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলায় কি প্রভাব পড়ে?
উত্তর: বরফ গলায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে বন্যা ঝুঁকি এবং সমুদ্র বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব পড়ে।

৮০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কি ধরনের সামুদ্রিক উদ্ভিদ দেখা যায়?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকায় সমুদ্রশৈবাল, ফিটোপ্ল্যাঙ্কটন এবং সামুদ্রিক শৈবাল প্রধান উদ্ভিদ। এগুলো সমুদ্র জীববৈচিত্র্য বজায় রাখে।

৮১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের জলাশয় সবচেয়ে বড়?
উত্তর: লেক ভোস্টক (Lake Vostok) অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে বড় লুকানো লবণাক্ত মিঠা জলাশয়। এটি বরফের নিচে প্রায় ৪০০০ মিটার গভীরে আছে।

৮২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বরফের গঠন কেমন?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিকার বরফ প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক বরফচাদর এবং গ্লেসিয়ার দ্বারা গঠিত। বরফের পুরুত্ব কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

৮৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের গবেষণা ল্যাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত ল্যাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো পৃথিবীর পরিবেশগত গবেষণায় সাহায্য করে।

৮৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা তাপমাত্রা কোথায় রেকর্ড করা হয়েছে?
উত্তর: ভোস্টক স্টেশনে পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় −৮৯.২°C রেকর্ড করা হয়েছে।

৮৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের পাখি উড়তে পারে না?
উত্তর: পেঙ্গুইন উড়তে পারে না। তবে এরা দারুণ সাঁতারু এবং বরফে চলাফেরায় দক্ষ।

৮৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক প্রাণী কোনটি পাওয়া যায়?
উত্তর: ব্লু হোয়েল (Blue Whale) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক প্রাণী, এটি অ্যান্টার্কটিকায়ও দেখা যায়।

৮৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন দেশ বৈজ্ঞানিক স্টেশন সবচেয়ে বেশি স্থাপন করেছে?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বেশি বৈজ্ঞানিক স্টেশন স্থাপন করেছে।

৮৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় মানুষ কোন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে?
উত্তর: প্রি-প্যাকড খাবার, তাজা সবজি ও ফল সীমিত, তবে গবেষকরা হেলিকপ্টার ও জাহাজের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ পান।

৮৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটন মৌসুম কখন?
উত্তর: গ্রীষ্মকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) পর্যটনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তখন তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং পরিবেশ অনুকূল থাকে।

৯০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় পরিবেশ রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন চুক্তি রয়েছে?
উত্তর: “অ্যান্টার্কটিক চুক্তি” (Antarctic Treaty) অনুযায়ী বরফচাদর, খনিজ সম্পদ, শিকার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য মহাদেশ উন্মুক্ত রাখা হয়।

৯১. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের তুষার ঝড় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর?
উত্তর: কেটাব্রো ঝড় (Katabatic winds) সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। এগুলো তীব্র বেগে বরফচাদরের ওপর দিয়ে নামে এবং মানুষের চলাচলকে বিপজ্জনক করে তোলে।

৯২. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের সামুদ্রিক জীবন সবচেয়ে সমৃদ্ধ?
উত্তর: ক্রাস্টেসিয়ান, হোকি মাছ, সীল এবং পেঙ্গুইন সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীবন। এছাড়া ফিটোপ্ল্যাঙ্কটনও গুরুত্বপূর্ণ।

৯৩. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের উদ্ভিদ সবচেয়ে বেশি জন্মায়?
উত্তর: মস (Moss) এবং লাইকেন (Lichen) অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বেশি জন্মায়। বড় গাছ বা ফসল জন্মায় না।

৯৪. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের বরফচাদর সবচেয়ে দ্রুত গলে?
উত্তর: কেবল সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রান্তবর্তী বরফচাদর গ্রীষ্মকালে দ্রুত গলে। কেন্দ্রীয় বরফচাদর বহু বছরের জন্য স্থায়ী থাকে।

৯৫. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় মানুষ কিভাবে জীবনধারণ করে?
উত্তর: মানুষ গবেষণার জন্য ছোট ছোট আবাসিক বেসে থাকে, বিশেষ পোশাক পরে, হিটিং এবং প্রি-প্যাকড খাবার ব্যবহার করে।

৯৬. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় লেক কোনটি?
উত্তর: লেক ভোস্টক (Lake Vostok) বিশ্বের সবচেয়ে বড় লুকানো মিঠা জলাশয়, বরফের নিচে ৪০০০ মিটার গভীরে অবস্থান করে।

৯৭. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের পর্যটন সবচেয়ে জনপ্রিয়?
উত্তর: পেঙ্গুইন পর্যবেক্ষণ, গ্লেসিয়ার ভ্রমণ, বরফচাদর ক্রুজ এবং বৈজ্ঞানিক স্টেশন দর্শন সবচেয়ে জনপ্রিয়।

৯৮. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রার গড় পার্থক্য কেমন?
উত্তর: কেন্দ্রীয় অ্যান্টার্কটিকায় শীতকালে −60°C পর্যন্ত তাপমাত্রা নেমে যায়, কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মে প্রায় −20°C থাকে।

৯৯. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন দেশ প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়েছিল?
উত্তর: নরওয়ে এবং যুক্তরাজ্য প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়েছিল ১৯৫০-এর দশকে।

১০০. প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকায় কোন ধরনের পরিবেশগত নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য?
উত্তর: অ্যান্টার্কটিক চুক্তি (Antarctic Treaty) অনুযায়ী শিকার, খনিজ উত্তোলন, দূষণ এবং পরিবেশ ক্ষয় প্রতিরোধে কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য।

উপসংহার

অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময়, শীতল ও অনন্য মহাদেশ। এখানে মানুষের স্থায়ী বসবাস নেই, তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পর্যটনের মাধ্যমে এ মহাদেশ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়ছে। অ্যান্টার্কটিকা শুধু একটি শীতল স্থান নয়, বরং পৃথিবীর জলবায়ু, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই ১০০টি সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর অ্যান্টার্কটিকাকে সহজভাবে বোঝার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক এবং সাধারণ পাঠকের জন্য এটি অ্যান্টার্কটিকা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য একত্রিত করে।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page