ওজন কমানো শুধু শারীরিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি আমাদের সুস্থতা ও দৈনন্দিন শক্তি বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসে অনেকেই ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ফলাফল আসে ধীরে।
ঘরে বসে ওজন কমানো মানে কঠোর ব্যায়াম বা জটিল যন্ত্রের উপর নির্ভর না করে, সহজ, কার্যকরী ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে ক্যালরি কমানো। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এই প্রক্রিয়ার মূল অংশ। এই নিবন্ধে আমরা ৭টি ধাপে দেখাবো কীভাবে ঘরে বসে সহজেই ওজন কমানো যায়, যা বাস্তবসম্মত এবং অনুসরণযোগ্য।
১। সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা
ওজন কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। ঘরে বসে থাকলেও যদি আপনি আপনার খাবারের দিকে মনোযোগ দেন, তাহলে দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এখানে কয়েকটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্রথমে, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। এগুলোতে অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম ও ফ্যাট থাকে যা ওজন বাড়ায়। বরং তাজা সবজি, ফল, বাদাম এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। প্রতিদিনের খাবার ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে খাওয়া ভালো। একবারে অনেক খাওয়ার পরিবর্তে দিনে ৫-৬ বার হালকা খাবার খেলে মেটাবলিজম সচল থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি জমে না।
পানি খাওয়াও অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এটি শুধু ডিহাইড্রেশন রোধ করে না, বরং ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাতের খাবার হালকা রাখা। সন্ধ্যার পরে ভারী খাবার এড়ানো আপনার শরীরকে সহজে ক্যালরি বার্ন করতে সাহায্য করবে। সুষম খাদ্যাভ্যাসের সাথে ধৈর্য ধরলেই ঘরে বসে ওজন কমানো সম্ভব এবং শরীর সুস্থ থাকবে।
২। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম
ঘরে বসে ওজন কমানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা। ব্যায়াম শুধু ওজন কমায় না, এটি শরীরের শক্তি বাড়ায়, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং মানসিক সুস্থতাও বৃদ্ধি করে। ব্যায়াম মানেই জিমে যাওয়া বা ভারী ওজন তোলা নয়। সহজ এবং কার্যকরী কিছু ব্যায়াম ঘরেই করা যায়। যেমন: লং, স্কোয়াট, প্ল্যাঙ্ক, সাঁতার কল্পিত মোশন বা হালকা জগিং। প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করলে শরীরের ক্যালরি খরচ বৃদ্ধি পায় এবং মেদ ঝরতে শুরু করে।
হাঁটাচলা বা স্টেপ আপও খুব কার্যকর। ঘরে কোনো সিঁড়ি থাকলে তা ব্যবহার করে কয়েক মিনিট ধীরে ধীরে উপরে-নিচে হাঁটা যায়। ব্যায়াম শুরু করার আগে সামান্য স্ট্রেচিং করলে পেশি ফোলা বা চোট পাওয়ার সম্ভাবনা কমে। প্রতিদিন একটি সময়সূচী তৈরি করে নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। মানসিকভাবে নিজেকে উৎসাহিত করতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগদান করা যায়। ব্যায়ামের সঠিক নিয়ম মেনে চললে ঘরে বসেও ওজন কমানো সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়।
৩। পর্যাপ্ত পানি পান করা
ওজন কমানোর সময় পানি পানকে অনেকেই অবহেলা করেন, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসে থাকা অবস্থায়ও যদি আপনি পর্যাপ্ত পানি পান করেন, তাহলে আপনার মেটাবলিজম সুস্থ থাকে এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে। প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকেও উন্নত করে। অনেক সময় মানুষ ক্ষুধা মনে করে খাবার খায়, কিন্তু আসলে তা শুধুই পানির অভাব। তাই খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করলে অতিরিক্ত খাওয়া রোধ হয়।
পানি ছাড়াও হালকা জুস বা লেবুর পানি ওজন কমানোর সহায়ক। তবে চিনিযুক্ত পানীয় এড়ানো উচিত। ঘরে বসে কাজ করার সময় পানি পাশে রাখা এবং নিয়মিত পান করা অভ্যাস করুন। সকালে উঠে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীরের পানি ভারসাম্য ঠিক থাকে। রাতে বেশি পানি খাওয়ার পরিবর্তে দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করুন। সঠিক পানি পান অভ্যাস মেনে চললে ঘরে বসে ওজন কমানো সহজ এবং স্বাস্থ্যকর হয়।
৪। পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম
ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের গুরুত্ব অনেক বড়। অনেকেই মনে করেন, শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম করলেই ওজন কমানো যায়। কিন্তু ঘুম কম হলে শরীরের হরমোন ব্যালান্স বিঘ্নিত হয়, বিশেষ করে গ্রেলিন ও লেপ্টিন হরমোন। গ্রেলিন ক্ষুধা বাড়ায় এবং লেপ্টিন ক্ষুধা কমায়। ঘুম কম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যায়, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। তাই প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
শারীরিক বিশ্রামও ওজন কমাতে সহায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকলে মেটাবলিজম কমে যায়। মাঝে মাঝে ঘুম বা শরীরচর্চার বিরতিতে হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাচলা করা উচিত। ঘুম ও বিশ্রামের সঠিক নিয়ম মেনে চললে শরীরের শক্তি বজায় থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং ঘরে বসেও ওজন কমানো সহজ হয়। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকর ঘুম ও বিশ্রাম ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য একটি ধাপ।
৫। মানসিক চাপ কমানো
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে পেটে চর্বি জমায়। ঘরে বসে থাকলেও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এক মিনিটের ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, অথবা হালকা যোগব্যায়াম স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিছু সময় নিজের জন্য নির্ধারণ করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, পছন্দের গান শোনা, বই পড়া—এসবও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর। নিয়মিত ঘুম ও বিশ্রামের সঙ্গে মানসিক শান্তি বজায় রাখা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে। ঘরে বসে কাজ করা বা পড়াশোনা করার সময়ও ছোট বিরতি নেয়া এবং শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কম থাকলে খাবার নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং ওজন কমানো আরও কার্যকর হয়।
৬। ছোট ছোট সক্রিয় অভ্যাস গড়ে তোলা
ঘরে বসে থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট সক্রিয় অভ্যাস গড়ে তুললে ওজন কমানো অনেক সহজ হয়। এই অভ্যাসগুলো বড় ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং মেটাবলিজম সচল রাখে। উদাহরণস্বরূপ, কাজের সময় প্রতি ৩০–৪৫ মিনিট পর টানা ৫ মিনিট হাঁটা, ঘরের চারপাশে হালকা স্ট্রেচিং বা সিঁড়ি ব্যবহার করে উপরে-নিচে ওঠা। এমন ছোট ছোট শারীরিক কার্যকলাপ ক্যালরি বার্ন করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আরেকটি কার্যকরী অভ্যাস হলো বসে বসে কাজ করার সময় সঠিক পোষ্চার বজায় রাখা। পিঠ সোজা রাখলে পেশি শক্ত থাকে এবং ব্যায়ামের প্রভাব বাড়ে। রান্নাঘরে কাজ করা, বাড়ি পরিষ্কার করা বা হালকা গার্ডেনিং করাও সক্রিয় জীবনধারার অংশ। এই ধরনের ছোট ছোট অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে। ঘরে বসে থাকলেও নিয়মিত এই সক্রিয় অভ্যাসগুলো রপ্ত করলে ওজন কমানো সহজ, শরীর সুস্থ থাকে এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৭। নিয়মিত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং অনুপ্রেরণা রাখা
ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় লক্ষ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসে থাকলেও যদি আপনার কাছে পরিষ্কার লক্ষ্য থাকে, তাহলে আপনি নিয়মিত এবং ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করতে পারবেন। লক্ষ্য ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন, যেমন প্রতি সপ্তাহে ৫০০ গ্রাম ওজন কমানো বা প্রতি মাসে ২ কেজি কমানো। এই ধাপে ধাপে লক্ষ্য আপনাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখে এবং ছোট সাফল্যও উৎসাহ দেয়।
নিজেকে অনুপ্রেরণা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে আপনার লক্ষ্য শেয়ার করুন। সফলতা বা অগ্রগতি রেকর্ড করুন, যেমন দৈনিক খাদ্য বা ব্যায়ামের লগ রাখা। ছোট সাফল্য উদযাপন করুন এবং ব্যর্থতাকে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে নিন। নিজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখা ও নিয়মিত লক্ষ্য নির্ধারণ ও অনুপ্রেরণা ওজন কমানো প্রক্রিয়াকে সহজ, কার্যকরী এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করে।
উপসংহার
ঘরে বসে ওজন কমানো কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত অভ্যাস মেনে চললে এটি সহজ এবং কার্যকরী। সুষম খাদ্য, হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সক্রিয় দৈনন্দিন অভ্যাস এবং লক্ষ্য নির্ধারণ—এই ৭টি ধাপ মেনে চললে আপনি স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য রাখা এবং নিজেকে উৎসাহিত করা। ছোট ছোট পরিবর্তন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে বড় ফলাফল দেয়। তাই নিজের শরীরের যত্ন নিন এবং ধাপে ধাপে ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করুন।
ওজন কমানো সম্পর্কে ১০ টি সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর।
প্রশ্ন ১। ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় কি?
ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের সমন্বয়। খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্যাট এড়িয়ে, ফল, সবজি, প্রোটিন এবং কম ক্যালরিযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। একসাথে হালকা ব্যায়াম বা দৈনন্দিন হাঁটাচলা করলে ক্যালরি বার্ন হয় এবং মেদ কমে।
মানসিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে অগ্রগতি মাপা এবং ধৈর্য ধরে চেষ্টা করা ওজন কমানোর সফলতা বৃদ্ধি করে। পানি পর্যাপ্ত পান এবং পর্যাপ্ত ঘুমও সহায়ক। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও ধৈর্য মিলিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রশ্ন ২। ঘরে বসে কি সত্যিই ওজন কমানো সম্ভব?
হ্যাঁ, ঘরে বসেও ওজন কমানো সম্ভব, যদি সঠিক পরিকল্পনা মেনে চলা হয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে ঘরে বসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষত, ফাস্ট ফুড এবং অতিরিক্ত চিনি এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট ছোট সক্রিয় অভ্যাস যেমন ঘরের চারপাশে হাঁটা, স্ট্রেচিং বা হালকা যোগব্যায়াম ওজন কমাতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কমানো এবং লক্ষ্য নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসে নিয়মিত অভ্যাস মেনে চললে এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এবং স্বাস্থ্যকর।
প্রশ্ন ৩। দিনে কত ঘণ্টা ঘুম ওজন কমাতে সাহায্য করে?
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে গ্রেলিন এবং লেপ্টিন হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। গ্রেলিন ক্ষুধা বাড়ায় এবং লেপ্টিন ক্ষুধা কমায়। ঘুম কম হলে অতিরিক্ত খাবারের প্রবণতা বাড়ে এবং ওজন কমানো কঠিন হয়।
শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেলে মেটাবলিজম ঠিক থাকে এবং শরীর কার্যকরভাবে ক্যালরি বার্ন করতে সক্ষম হয়। ঘুমের সঙ্গে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ এবং টেকসই করে।
প্রশ্ন ৪। পানি কতটুকু পান করা উচিত ওজন কমানোর জন্য?
ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানি শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে, টক্সিন বের করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। খাবারের আগে পানি পান করলে অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনেক সময় মানুষ ক্ষুধা মনে করে খাবার খায়, কিন্তু আসলে তা পানির অভাব।
পানি ছাড়াও লেবুর পানি বা হালকা জুস সহায়ক। চিনিযুক্ত পানীয় এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। দিনে নিয়মিত পানি পান করলে ঘরে বসেও ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলে।
প্রশ্ন ৫। হালকা ব্যায়াম কি ওজন কমাতে কার্যকর?
হ্যাঁ, হালকা ব্যায়াম ওজন কমাতে খুবই কার্যকর। ঘরে বসে থাকলেও লং, স্কোয়াট, প্ল্যাঙ্ক, হালকা জগিং বা সাঁতার কল্পিত ব্যায়াম করা যায়। প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করলে শরীরের ক্যালরি বার্ন হয় এবং পেশি শক্ত থাকে।
ছোট ছোট সক্রিয় অভ্যাস যেমন হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, বা স্ট্রেচিংও কার্যকর। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু ওজন কমায় না, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিও ঘটায়। ধৈর্য ধরে হালকা ব্যায়াম মেনে চললে ঘরে বসেও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রশ্ন ৬। মানসিক চাপ কি ওজন বাড়ায়?
হ্যাঁ, মানসিক চাপ ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। চাপের সময় শরীরে কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমাতে সাহায্য করে। চাপের কারণে মানুষ প্রায়শই অতিরিক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খায়, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়।
মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হালকা যোগব্যায়াম কার্যকর। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গান শোনা বা প্রিয় বই পড়াও মানসিক চাপ হ্রাস করে। চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে খাবার নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং ঘরে বসেও ওজন কমানো সম্ভব হয়।
প্রশ্ন ৭। রাতের খাবার কি ওজন কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
রাতের খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাতে ভারী বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে শরীরের ক্যালরি বার্ন ধীর হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত চর্বি জমে। তাই রাতের খাবার হালকা এবং পুষ্টিকর হওয়া উচিত, যেমন স্যালাড, হালকা প্রোটিন বা সবজি।
রাতের খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখলে ঘুমের মানও উন্নত হয়। সঠিক সময়ে হালকা খাবার খাওয়া মেটাবলিজম সচল রাখে এবং ঘরে বসেও স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানো সম্ভব হয়। তাই রাতের খাবারের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
প্রশ্ন ৮। ওজন কমানোর জন্য নাস্তা করা কি জরুরি?
হ্যাঁ, ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর নাস্তা করা জরুরি। নাস্তা না করলে সকালবেলা অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে এবং পরবর্তীতে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। স্বাস্থ্যকর নাস্তা যেমন ফল, দই, বাদাম বা ওটমিল পছন্দ করলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
নাস্তা খেলে মেটাবলিজম সচল থাকে এবং শরীরের শক্তি বজায় থাকে। ঘরে বসে কাজ করার সময়ও নাস্তা করে নিয়মিত শক্তি নিশ্চিত করা যায়। সঠিক নাস্তা অভ্যাস ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ এবং কার্যকর করে।
প্রশ্ন ৯। ওজন কমাতে সক্রিয় দৈনন্দিন অভ্যাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
সক্রিয় দৈনন্দিন অভ্যাস ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বড় ব্যায়াম নয়, ছোট ছোট অভ্যাস যেমন হাঁটাচলা, সিঁড়ি ব্যবহার, বাড়ির কাজ বা হালকা স্ট্রেচিংও ক্যালরি বার্ন করতে সাহায্য করে। ঘরে বসে থাকলেও এই সক্রিয়তা শরীরের মেটাবলিজম সচল রাখে।
ছোট ছোট সক্রিয় অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে। নিয়মিত হাঁটা বা হালকা কাজ করার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণকে সহজ এবং টেকসই করে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় সক্রিয় থাকা ওজন কমানোর জন্য অপরিহার্য।
প্রশ্ন ১০। ওজন কমানোর সময় ধৈর্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ওজন কমানো একটি ধীরে ধীরে হওয়া প্রক্রিয়া। দ্রুত ফলের আশা করলে হতাশা এবং অনিয়মিত অভ্যাসের কারণে সফলতা পাওয়া কঠিন হয়। ধৈর্য ধরে নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, পানি পান এবং ঘুমের নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করে ধাপে ধাপে অগ্রগতি মাপা এবং নিজেকে উৎসাহিত করা ওজন কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। ধৈর্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঘরে বসেও স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ওজন কমানো সম্ভব হয়।