ভূমিকম্প হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিতভাবে আসে, যার ফলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি ঘটতে পারে। পৃথিবীর প্লেটগুলো ক্রমাগত আন্দোলিত হওয়ায় যে কোনো সময় কোথাও না কোথাও ভূমিকম্প ঘটতে পারে। তাই, সচেতন থাকা এবং আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া খুবই জরুরি। ছোট শিশু থেকে বড় সকলের জন্য নিরাপদ থাকার কিছু নিয়ম জানা অপরিহার্য। এই নিবন্ধে আমরা ভূমিকম্প থেকে বাঁচার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় আলোচনা করব, যা সহজে মানা যায় এবং দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এগুলো অনুসরণ করলে আপনি নিজের ও পরিবার সদস্যদের নিরাপদ রাখতে পারবেন।
১। নিরাপদ স্থান নির্বাচন এবং প্রস্তুতি
ভূমিকম্পের সময় প্রথমে যা করতে হবে, তা হলো নিরাপদ স্থানের খোঁজ রাখা। আপনার বাড়ির ভিতরে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করুন যেখানে পড়ে যাওয়া জিনিসপত্র বা ভেঙে যাওয়া দেয়াল থেকে কম আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত টেবিলের নিচ, মজবুত ফার্নিচারের পাশে বা ভিতরের কোন কর্ণার নিরাপদ স্থান হিসেবে ধরা হয়। জানালার কাছে বা ভারী ফার্নিচারের পাশে থাকা উচিত নয়। ছোট শিশুদের জন্য এই স্থান সহজে পৌঁছানো যায় এমন হওয়া উচিত।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে সঠিকভাবে জানানো জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, শিশুদের শেখানো যায় কিভাবে “ড্রপ, কাভার, হোল্ড অন” (Drop, Cover, Hold On) পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এর মানে হলো প্রথমে মাটিতে ঝুঁকে পড়া, এরপর মজবুত কোনো ফার্নিচারের নিচে ঢুকা এবং শক্ত করে ধরে থাকা। এছাড়াও, বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে একটি ছোট জরুরি কিট রাখা উচিত, যাতে পানীয় জল, ব্যাটারি চালিত লাইট, ফার্স্ট এইড কিট, জরুরি খাবার এবং মোবাইল চার্জার থাকে।
নিরাপদ স্থান নির্ধারণের পাশাপাশি পরিবারে একটি সাধারণ পরিকল্পনা থাকা উচিত। সবাইকে বলা উচিত ভূমিকম্প হলে কীভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং কোথায় মিলিত হতে হবে। যদি বাড়ি বহুতল হয়, তবে সিঁড়ি ব্যবহার করে নিচে নামা সবচেয়ে নিরাপদ। লিফট ব্যবহার করা কখনোই ঠিক নয়।
সাধারণ প্রস্তুতি নিয়মিত অনুশীলন করলে মানসিক শান্তি বজায় থাকে। শিশুদের জন্য ছোট ছোট ভূমিকম্প সিমুলেশন খেলা হিসেবে করা যায়, যাতে তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আতঙ্কিত না হয়। নিরাপদ স্থান এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিবারে আলোচনা করলে, সবাই দ্রুত ও নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবে।
২। বাড়ির বাইরে ভূমিকম্পের সময় করণীয়
যদি ভূমিকম্পের সময় আপনি বাড়ির বাইরে থাকেন, তাহলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রি বা যেকোনো ভারী কাঠামোর নিচে থাকা বিপজ্জনক। এগুলো পড়ে গেলে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা থাকে। তাই, খোলা মাঠ, খালি রাস্তা বা পার্কের মত স্থানে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাদের হাত ধরেই নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
ভূমিকম্পের সময় ঘোরাঘুরি না করা বা দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। হঠাৎ দৌড়ালে পা পিছলে পড়া বা অন্য কারও সঙ্গে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা থাকে। শান্ত ও ধীরগতি বজায় রেখে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো নিরাপদ। যদি কোনো যানবাহনে থাকেন, তখন দ্রুত যানবাহন থামিয়ে বের হয়ে ওপেন স্পেসে যাওয়া উচিত।
এই সময়ে পথচারী বা অন্য লোকেদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। কেউ আহত হলে, প্রথমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই সাহায্য করা উচিত। ছোট শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে চেহারা চেনা ও পরিচিতির মাধ্যমে সাহায্য নিশ্চিত করা যায়। এছাড়াও, বাইরে থাকাকালীন প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন পানি বোতল, মোবাইল ফোন বা জরুরি কিট সঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পর, বাড়ি বা অফিসের দিকে ফিরে যাওয়ার আগে স্থানটি নিরাপদ কিনা যাচাই করা জরুরি। ভবনের গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে থাকতে পারে। তাই কখনোই দ্রুত ভিতরে ঢোকা উচিত নয়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা থাকলে, সবাই দ্রুত ও নিরাপদে মিলিত হতে পারে।
৩। ভূমিকম্পের সময় নিজেকে এবং অন্যদের রক্ষা করা
ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেকে এবং আশেপাশের মানুষকে নিরাপদ রাখা। প্রথমে মাটিতে ঝুঁকে পড়া, মাথা ও গলা ঢেকে রাখা এবং মজবুত কোনো ফার্নিচারের নিচে থাকা উচিত। “ড্রপ, কাভার, হোল্ড অন” পদ্ধতি অনুসরণ করলে গুরত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্ষা করা যায়। শিশুদের পাশে থাকা এবং তাদের ধীরভাবে নির্দেশ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়।
পড়ে যাওয়া জিনিসপত্র এবং ভাঙাচুরের সামগ্রী থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য। ভারী বই, কাপড়ের বাক্স, ল্যাম্প বা টেবিলের উপর রাখা জিনিসপত্র ধ্বসে আসতে পারে। তাই তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। যদি অন্য কেউ আহত হয়, তবে আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাহায্য করুন। ছোট শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের পাশে থাকা এবং তাদের হাত ধরে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
পরিবার বা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও জরুরি। যদি কেউ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে পূর্বনির্ধারিত মিলনবিন্দুতে যেতে বলা উচিত। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ব্যাটারি ব্যবহার এড়ানো উচিত এবং জরুরি ক্ষেত্রে কেবল যোগাযোগে ব্যবহার করুন। এতে বিদ্যুৎ বা নেটওয়ার্ক সমস্যা হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রেরণ সম্ভব হয়।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হওয়াই সবচেয়ে বড় কৌশল। ধীরে শ্বাস নেওয়া, শান্ত থাকা এবং ধীরগতিতে কাজ করা জীবনের নিরাপত্তা বাড়ায়। একে নিয়মিত অনুশীলন করলে ছোট শিশু থেকে বড় সবাই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ও নিরাপদভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
৪। ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পদক্ষেপ
ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পনের পরও প্রায়ই ছোট কম্পন বা অনিরাপদ পরিস্থিতি থাকতে পারে। তাই ভূমিকম্প শেষ হলে প্রথম কাজ হলো নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঘরের ভিতরে থাকলে সতর্কভাবে বের হয়ে যেতে হবে। ডায়নিং, রেস্তোরাঁ বা দোকানগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ ফার্নিচারের নীচ থেকে দূরে থাকা উচিত। বিদ্যুতের তার, গ্যাস লাইন বা পানির পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে তাদের স্পর্শ করা এড়ানো প্রয়োজন।
এই সময়ে, আহতদের প্রথমিক চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। ফার্স্ট এইড কিট ব্যবহার করে রক্তপাত বন্ধ করা, ছোট কাটা বা আঘাতের পরিচর্যা করা যায়। গুরুতর আহতদের জন্য পেশাদার চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া অপরিহার্য। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত, কারণ তারা ধ্বংসস্তুপ বা ভাঙাচুরের কারণে সহজে বিপদে পড়তে পারে।
ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ফোন বা রেডিও ব্যবহার করে স্থানীয় জরুরি সেবা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উচিত। যদি বাড়ি বা রাস্তা ভাঙাচুরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, তা দ্রুত স্থানান্তর করা নিরাপদ। এছাড়াও, পরিবারের সবাইকে পূর্বনির্ধারিত মিলনবিন্দুতে মিলিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শেষে, পরবর্তী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বিবেচনা করে সাপেক্ষে নিরাপদে অবস্থান নেওয়া উচিত। ঘর বা ভবন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করুন। প্রয়োজনীয় মেরামত করার আগে নিরাপদভাবে অবস্থান করা জরুরি। ভূমিকম্পের পর সতর্ক থাকা এবং ধীরভাবে পদক্ষেপ নেওয়া ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়।
৫। মানসিক শান্তি ও প্রস্তুতি বজায় রাখা
ভূমিকম্পের সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে মানসিক শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আতঙ্ক এবং ভয় মানুষকে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেয়। তাই নিজের মধ্যে ধীর শ্বাস নেওয়া, শান্ত থাকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ধীরে ধীরে নেওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাদেরও ধৈর্যশীল থাকার জন্য উৎসাহিত করা উচিত। খেলার মাধ্যমে বা সহজ কথোপকথনের মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে কিভাবে নিরাপদ থাকা যায়।
নিয়মিত প্রস্তুতি ও অনুশীলন মানসিক শান্তি বাড়ায়। পরিবার বা সহকর্মীদের সঙ্গে ভূমিকম্পের অভ্যাসমুলক অনুশীলন করলে সবাই কীভাবে নিরাপদ স্থানে যাবে, কিভাবে একে অপরকে সাহায্য করবে তা জানা থাকে। এটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতেও দ্রুত ও নিরাপদভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। জরুরি কিট এবং নিরাপদ স্থান সম্পর্কে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সাইকোলজিক্যাল প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের পরে শিশু বা বড় কেউ আতঙ্কিত হলে তাদের সঙ্গে কথা বলা, ভয় কমাতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার মানসিক সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ ও স্থানীয় কমিউনিটির সহায়তা গ্রহণ করলে মানসিক চাপ অনেকটা হ্রাস পায়।
পরিশেষে, নিরাপত্তা, প্রস্তুতি এবং মানসিক শান্তির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখলে ভূমিকম্পের সময় ও পরে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যারা নিয়মিত প্রস্তুতি নেয় এবং মানসিকভাবে দৃঢ় থাকে, তারা শুধু নিজেদেরই নয়, আশেপাশের মানুষকেও নিরাপদ রাখতে পারে।
উপসংহার
ভূমিকম্প একটি অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করলে জীবন ও সম্পদ রক্ষা সম্ভব। নিরাপদ স্থান নির্বাচন, বাড়ির ভেতরে ও বাইরে সঠিক আচরণ, নিজের ও অন্যদের রক্ষা, জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখা—এই পাঁচটি ধাপ মেনে চললে বিপদের সময় দ্রুত ও নিরাপদে প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। নিয়মিত প্রস্তুতি ও অনুশীলন মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং আতঙ্ক কমায়। তাই প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তি এই নিয়মগুলি মানার চেষ্টা করুন, যাতে ভূমিকম্পের প্রভাব সর্বনিম্ন হয় এবং সবাই নিরাপদ থাকে।
ভূমিকম্প থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে 1০ টি সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর।
প্রশ্ন ১: ভূমিকম্পের সময় প্রথমে কি করা উচিত?
ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমে শান্ত থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত দৌড়ানো বা ঝুঁকি নেওয়া বিপজ্জনক। নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য “ড্রপ, কাভার, হোল্ড অন” পদ্ধতি অনুসরণ করুন। প্রথমে মাটিতে ঝুঁকে পড়ুন, মাথা ও গলা ঢেকে রাখুন এবং মজবুত কোনো টেবিল বা ফার্নিচারের নিচে থাকুন।
যদি শিশু বা বয়স্ক কেউ পাশে থাকে, তাদের পাশে থাকুন এবং ধীরভাবে নির্দেশ দিন। জানালার কাছে, ভারী ফার্নিচারের পাশে বা বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় থাকা এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত অনুশীলন করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নেওয়া সহজ হয়।
প্রশ্ন ২: ভূমিকম্পের সময় বাড়ির ভিতরে কোথায় থাকা নিরাপদ?
ভূমিকম্পের সময় বাড়ির ভিতরে নিরাপদ স্থান নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত মজবুত টেবিল বা ফার্নিচারের নিচে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। ঘরের কর্নারও নিরাপদ হতে পারে, কারণ এটি দেয়াল দ্বারা আংশিক সুরক্ষা দেয়। জানালার কাছে বা ভারী আলমারি, ঝুলন্ত ফ্রেমের নীচে থাকা বিপজ্জনক।
পরিবারের সবাইকে এই নিরাপদ স্থান সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ছোট শিশুদেরও শেখানো উচিত কীভাবে তারা দ্রুত এই স্থানে পৌঁছাবে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সবাই আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ও সঠিকভাবে নিরাপদ স্থানে যেতে পারে। এছাড়াও জরুরি কিট সঙ্গে রাখা উচিত যাতে পানি, খাবার ও ফার্স্ট এইড সহজে পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩: ভূমিকম্পের সময় বাইরে থাকলে কি করা উচিত?
যদি ভূমিকম্পের সময় আপনি বাড়ির বাইরে থাকেন, তাহলে দ্রুত নিরাপদ খোলা স্থানে চলে যাওয়া সবচেয়ে জরুরি। ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বড় গাছ বা অন্য ভারী কাঠামোর নিচে থাকা বিপজ্জনক। খোলা মাঠ, রাস্তা বা পার্কের মতো নিরাপদ স্থানে থাকা উচিত।
এ সময় দ্রুত দৌড়ানো বা হঠাৎ গিয়ে ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। শান্ত ও ধীরভাবে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো জরুরি। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে থাকলে তাদের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় পানি ও জরুরি কিট সঙ্গে রাখা জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৪: ভূমিকম্পের সময় শিশুদের কিভাবে নিরাপদ রাখা যায়?
ভূমিকম্পের সময় শিশুদের আতঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক। প্রথমে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করুন এবং “ড্রপ, কাভার, হোল্ড অন” পদ্ধতি অনুসরণ করতে শেখান। শিশুদের সঙ্গে হাত ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং পড়ে যাওয়া জিনিসপত্র থেকে দূরে রাখুন।
শিশুরা দ্রুত বিভ্রান্ত হতে পারে, তাই তাদের চোখে চোখ রেখে ধীরে ধীরে নির্দেশ দিন। নিয়মিত অনুশীলন ও কথোপকথনের মাধ্যমে তারা জানবে কীভাবে বিপদে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। শিশুদের জন্য ছোট খেলা বা গল্পের মাধ্যমে নিরাপদ আচরণ শেখানো কার্যকর। এতে তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আতঙ্কিত না হয়।
প্রশ্ন ৫: ভূমিকম্পের সময় কোন জিনিসগুলো থেকে দূরে থাকা উচিত?
ভূমিকম্পের সময় ভারী বা ঝুলন্ত জিনিসপত্র থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। বই, আলমারি, ল্যাম্প, ছবির ফ্রেম বা যেকোনো ভারী সামগ্রী পড়ে এসে আঘাত করতে পারে। জানালার কাছে থাকা বা গ্লাসের নীচে দাঁড়ানোও বিপজ্জনক।
পরিবারের সবাইকে এই বিষয় সম্পর্কে সচেতন করা উচিত। শিশুদের বলা দরকার ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় না থাকা। নিরাপদ স্থানে থাকা এবং পড়ে যাওয়া জিনিস থেকে দূরে থাকলে আঘাতের ঝুঁকি কমে। এছাড়াও ফার্নিচারের নিচে ঢুকে রাখা জরুরি কিট সহজে পৌঁছাতে হবে যাতে প্রয়োজন হলে সাহায্য করা যায়।
প্রশ্ন ৬: ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। লিফট হঠাৎ থেমে যেতে পারে বা লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে আটকা পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করে নিরাপদে নিচে নামা উচিত।
পরিবারের সবাইকে পূর্বে এই নিয়ম শেখানো জরুরি। শিশু, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সিঁড়ি ব্যবহার করতে সাহায্য করুন। সিঁড়ি ব্যবহার করার সময় ধীর ও সাবধানে চলুন, যেন কেউ পড়ে না যায়। এটি জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
প্রশ্ন ৭: ভূমিকম্পের পরে বাড়ি বা ভবন কিভাবে পরীক্ষা করা উচিত?
ভূমিকম্পের পরে বাড়ি বা ভবন পরীক্ষা করা খুব জরুরি। প্রথমে স্থাপনার কাঠামোগত ক্ষতি আছে কিনা দেখুন। দেয়াল বা ছাদের ফাটল, দরজা-জানালার অস্বাভাবিক অবস্থান, বা মাটি ধসে যাওয়া মতো সংকেত থাকলে ভিতরে ঢোকা এড়ানো উচিত।
বিদ্যুতের তার, গ্যাস লাইন বা পানির পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আগুন বা জল দিয়ে পরীক্ষা করার আগে সতর্ক থাকুন। নিরাপদ স্থান থেকে প্রাথমিক পরিদর্শন করুন এবং প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য নিন। পরিবারের সবাইকে মিলনবিন্দুতে নিয়ে যাওয়া নিরাপদ।
প্রশ্ন ৮: ভূমিকম্পের সময় পোষা প্রাণী কিভাবে নিরাপদ রাখা যায়?
পোষা প্রাণীদের জন্যও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ করুন, তারপর প্রাণীদের দিকে নজর দিন। ছোট প্রাণী যেমন কুকুর বা বিড়ালকে শক্ত করে ধরে রাখুন বা তাদের নিরাপদ খোলা স্থানে নিয়ে যান।
প্রাণীদের সঙ্গে আতঙ্ক কমানোর জন্য শান্ত কণ্ঠে কথা বলুন। তাদের সঙ্গে হঠাৎ আচরণ পরিবর্তন বা চিৎকার করা এড়ান। জরুরি কিটে প্রাণীর জন্য পানি ও খাবার রাখলে দুর্ঘটনার সময় তারা নিরাপদ থাকে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে প্রাণীও বিপদে কম আতঙ্কিত হয়।
প্রশ্ন ৯: ভূমিকম্পের সময় জরুরি কিটে কি কি থাকা উচিত?
জরুরি কিটে প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকা জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে। এতে পানি, শুকনো খাবার, ফার্স্ট এইড কিট, ব্যাটারি চালিত লাইট, জরুরি ওষুধ এবং মোবাইল ফোন চার্জার থাকা উচিত। এটি আপনাকে এবং পরিবারের সদস্যদের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে নিরাপদ রাখে।
শিশু, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত জিনিস রাখা দরকার, যেমন ডায়াপার, অতিরিক্ত ওষুধ বা প্রিয় খেলনা। কিটটি এমন স্থানে রাখুন যা সহজে পৌঁছানো যায়। নিয়মিত চেক করুন, যাতে খাবার ও ওষুধের মেয়াদ শেষ না হয়। এটি মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ১০: ভূমিকম্পের পর মানসিক চাপ কিভাবে কমানো যায়?
ভূমিকম্পের পর মানসিক চাপ স্বাভাবিক। আতঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু ধীর শ্বাস নেওয়া এবং শান্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
শিশু বা বৃদ্ধদের সঙ্গে আলাপচারিতা করুন, তাদের ভয় দূর করতে উৎসাহ দিন। নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রস্তুতি থাকলে আতঙ্ক কম হয়। স্থানীয় কমিউনিটির সহায়তা ও সাপোর্ট গ্রুপে যোগ দেওয়াও মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়। এটি ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ও নিরাপদ প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন ১১: ভূমিকম্পের সময় কিভাবে নিরাপদে ফার্নিচার ব্যবহার করা যায়?
ভূমিকম্প চলাকালীন সময় ফার্নিচারের নিচে বা পাশে থাকা নিরাপদ হতে পারে। মজবুত টেবিল, ডেস্ক বা শেলফের নিচে ঢুকে মাথা ও গলা ঢেকে রাখুন। যদি কোনও ভারী আলমারি বা বুকশেলফ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তার থেকে দূরে থাকুন।
পরিবারের সবাইকে শেখানো উচিত, কোন ফার্নিচার নিরাপদ এবং কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের সঙ্গে ধীরে ধীরে নির্দেশ দিন। নিয়মিত অনুশীলন করলে সবাই জানবে কিভাবে নিরাপদে ফার্নিচারের আশেপাশে থাকা যায় এবং আঘাতের ঝুঁকি কমানো যায়।
প্রশ্ন ১২: ভূমিকম্পের সময় জানালা বা কাঁচের কাছাকাছি থাকা কি নিরাপদ?
ভূমিকম্পের সময় জানালা বা কাঁচের কাছাকাছি থাকা বিপজ্জনক। কাঁচ ভেঙে আঘাত করতে পারে, তাই জানালা থেকে দূরে থাকাই উত্তম। বিশেষ করে শিশুদের জানালার পাশে দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখুন।
নিরাপদ স্থান হলো মজবুত টেবিল বা ফার্নিচারের নিচে, বা ঘরের কর্নার। এই জায়গায় মাথা ও গলা ঢেকে রাখা সহজ। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পরিবার জানবে কোন জায়গা নিরাপদ, এবং ভূমিকম্পের সময় দ্রুত ও নিরাপদ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবে।
প্রশ্ন ১৩: ভূমিকম্পের সময় বাইরের যানবাহনে থাকা নিরাপদ কি?
ভূমিকম্পের সময় বাইরের যানবাহনে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যানবাহন হঠাৎ থেমে যেতে পারে বা রাস্তায় ধ্বংসস্তুপ পড়তে পারে। তাই যদি সম্ভব হয়, যানবাহন নিরাপদভাবে পার্ক করুন এবং দ্রুত খোলা, নিরাপদ স্থানে চলে যান।
যদি বাইরের রাস্তায় থাকেন, ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা বড় গাছ থেকে দূরে থাকুন। শিশু বা বৃদ্ধদের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। প্রয়োজনীয় পানি ও জরুরি কিট সঙ্গে রাখলে দুর্ঘটনার সময় সুরক্ষা বাড়ে। ধীরে ও শান্তভাবে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো জীবন রক্ষা করে।
প্রশ্ন ১৪: ভূমিকম্পের সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কিভাবে রাখা যায়?
ভূমিকম্পের সময় পরিবার বা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি। আগে থেকে মিলনবিন্দু নির্ধারণ করুন, যেখানে সবাই ভূমিকম্পের পরে মিলিত হবে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় কল এড়িয়ে জরুরি বার্তা পাঠান।
শিশু, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী সদস্যদের জন্য পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা থাকা দরকার। যদি কেউ বিচ্ছিন্ন হয়, শান্তভাবে খুঁজে বের করুন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পরিবার জানবে কিভাবে দ্রুত ও নিরাপদে যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। এটি মানসিক চাপও কমায় এবং সবাইকে নিরাপদ রাখে।
প্রশ্ন ১৫: ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুতের তার ও গ্যাস লাইন নিয়ে কিভাবে সতর্ক থাকা যায়?
ভূমিকম্প চলাকালীন সময় বিদ্যুতের তার বা গ্যাস লাইন স্পর্শ করা বিপজ্জনক। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা আগুন বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ধ্বংসস্তুপ বা ভাঙাচুরের কাছে প্রবেশের আগে সতর্ক থাকুন।
পরিবারের সবাইকে বলা উচিত, ভূমিকম্প শেষে বিদ্যুৎ বা গ্যাস চালু করার আগে পেশাদারদের সাহায্য নেওয়া। ছোট শিশুদের এই জায়গায় ঢোকানো উচিত নয়। সতর্কতা অবলম্বন করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কমে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
প্রশ্ন ১৬: ভূমিকম্পের সময় পানি ও খাবার কিভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত?
ভূমিকম্পের সময় পানি ও খাবার অপরিহার্য। একটি জরুরি কিটে পর্যাপ্ত পানীয় জল, শুকনো খাবার ও দীর্ঘমেয়াদী খাবার রাখা উচিত। এটি আপনাকে এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে।
শিশু, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত খাবার ও পানি রাখুন। নিয়মিত কিট পরীক্ষা করুন, যাতে খাবার বা পানি নষ্ট না হয়। প্রস্তুতি থাকলে দুর্ঘটনার সময় মানসিক চাপ কমে এবং পরিবার নিরাপদ থাকে। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রশ্ন ১৭: ভূমিকম্পের পরে শিশুদের আতঙ্ক কমানোর কৌশল কী?
ভূমিকম্পের পরে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক স্বাভাবিক। প্রথমে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করুন এবং পরিস্থিতি সহজভাবে ব্যাখ্যা করুন। খেলাধুলা, গল্প বা কথোপকথনের মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে কি ঘটেছে এবং কিভাবে নিরাপদ থাকা যায়।
শিশুদের সঙ্গে ধীর ও ধৈর্যশীল আচরণ করুন। তাদের ভয় কমাতে উৎসাহ দিন এবং নিরাপদ স্থানে রাখা বা জরুরি কিট ব্যবহার দেখান। নিয়মিত অনুশীলন ও প্রস্তুতি থাকলে শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তী দুর্যোগে তারা দ্রুত ও নিরাপদভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
প্রশ্ন ১৮: ভূমিকম্পের সময় প্রথমিক চিকিৎসা কিভাবে প্রদান করা যায়?
ভূমিকম্পের সময় আহতদের জন্য প্রথমিক চিকিৎসা জরুরি। ফার্স্ট এইড কিট ব্যবহার করে ছোট কাটা, রক্তপাত বা হালকা আঘাতের যত্ন নিন। রক্তপাত বন্ধ করা, আঘাতযুক্ত স্থানে পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দেওয়া প্রাথমিকভাবে সাহায্য করে।
গুরুতর আহতদের জন্য পেশাদার চিকিৎসকের সাহায্য নিন। শিশু, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিশেষ যত্ন নিন। সতর্ক থাকুন যাতে নিজে আহত না হন। প্রাথমিক চিকিৎসা দ্রুত দেওয়া প্রাণ বাঁচাতে পারে এবং পরবর্তী সাহায্য পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখে।
প্রশ্ন ১৯: ভূমিকম্পের পর পরিবারের মিলনবিন্দু নির্ধারণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভূমিকম্পের পরে পরিবার বা সহকর্মীদের দ্রুত মিলিত হওয়া জরুরি। মিলনবিন্দু পূর্বে নির্ধারণ করলে কেউ বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং সবাইকে নিরাপদ রাখে।
মিলনবিন্দুতে যাওয়ার সময় ধীর ও সতর্কভাবে চলুন। শিশু, বৃদ্ধ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পাশে থাকুন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পরিবার জানবে কীভাবে মিলনবিন্দুতে নিরাপদে পৌঁছানো যায়। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পদক্ষেপ।
প্রশ্ন ২০: ভূমিকম্পের পর মানসিক শান্তি বজায় রাখার কৌশল কী?
ভূমিকম্পের পরে আতঙ্ক স্বাভাবিক, কিন্তু ধীর শ্বাস নেওয়া এবং শান্ত থাকা জরুরি। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা মানসিক চাপ কমায়।
শিশু ও বৃদ্ধদের ভয় দূর করতে ধৈর্যশীল আচরণ করুন। স্থানীয় কমিউনিটি বা সহায়ক গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ে। নিয়মিত প্রস্তুতি ও অনুশীলনের মাধ্যমে আতঙ্ক কমে এবং পরবর্তী দুর্যোগে দ্রুত ও নিরাপদ প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত হয়।