২০ হাজার টাকার ঋণ থেকে ১৪ লাখ টাকার ব্যবসা: মারুফা আক্তারের উদ্যোক্তা যাত্রা

Spread the love

মারুফা আক্তারের গল্প প্রমাণ করে, জেদ, পরিশ্রম এবং স্বপ্ন থাকলে ছোট একটি উদ্যোগও পরিণত হতে পারে বিশাল সফলতায়। ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি মাত্র ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন তাঁর শাড়ির ব্যবসা—যেটি আজ তিনটি শোরুম, একটি ফ্যাক্টরি এবং প্রায় ৫০ জন কর্মীর একটি প্রতিষ্ঠান।

কালার ক্রেজের প্রতিটি শাড়ি তাঁর নিজস্ব নকশা, এবং প্রতিটি শাড়ির নামের পেছনে রয়েছে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা দীর্ঘদিনের ক্রেতাদের গল্প। মারুফা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নিজে কিছু করতে চেয়েছি। বাবা-মা চাইতেন আমি বিসিএস ক্যাডার বা ব্যাংকার হই, কিন্তু আমি উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলাম।”

শুরুর দিনগুলোতে পরিবারের প্রতিকূলতা এবং সামাজিক চাপে তিনি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। এমনকি সন্তান পেটের মধ্যে থাকাকালীনও তিনি প্রতিটি লেনদেন, কাপড় ক্রয় ও ফ্যাক্টরির তদারকি করেছেন। “২৯ দিন বয়স থেকে আমার ছেলে সঙ্গে ছিল, আমি চাইনি সে কোনোভাবে বঞ্চিত হোক,” বলেন মারুফা।

আজ কালার ক্রেজের উত্তরা, ধানমন্ডি ও বেইলি রোডে তিনটি শোরুম, একটি স্টুডিও এবং মিরপুরে একটি ফ্যাক্টরি আছে। ফ্যাক্টরি ও শোরুম ভাড়া, এবং কর্মীদের বেতন বাবদ মাসে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। সমস্ত খরচ বাদেও লাভের পর তিনি ব্যবসা বাড়িয়ে চলেছেন।

মারুফার মতে, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন সময়ের জন্য তিনি কাউন্সেলিংকে গুরুত্ব দেন এবং কর্মীদের সঙ্গে সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখেন। তাঁর স্বামী যোবায়ের ব্যবসার আর্থিক ও ফটোগ্রাফি বিষয়গুলো দেখেন, যা তাঁকে আরও সমর্থন দিয়েছে।

মারুফার স্বপ্ন কেবল দেশেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি চান তাঁর পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছাক। থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের যে কোনো দেশে কালার ক্রেজের শোরুম হোক, এটি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

মারুফা আক্তারের গল্প আমাদের শেখায়—ছোট শুরু, অটল মনোবল এবং ধৈর্য থাকলে যে কোনো স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে। একসময় যা মনে হয়েছিল অসম্ভব, আজ তা তার শ্রম ও সাহসিকতার ফলস্বরূপ সফল বাস্তবতা।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page