বাংলাদেশে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে আকাশে উড়ার, কিন্তু অর্থ-বিত্তের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই স্বপ্ন অনেক সময় বাস্তবায়ন হয় না। ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া মেধার উপর নির্ভরশীল হলেও পাইলট হওয়া শুধুই মেধার ওপর নয়, অর্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, দেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইন্স, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট হিসেবে তৈরি করতে নতুন ক্যাডেট প্রোগ্রামের সূচনা করছে। বিমানসংস্থার সম্প্রসারণ এবং নতুন রুট খোলার ফলে অতিরিক্ত পাইলটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফ্লাইং একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের পাঠিয়ে পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেবে। প্রশিক্ষণ শেষে সফল প্রার্থীরা ফেডারেল এভিয়েশন এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স পাবেন এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ট্রেইনি ফার্স্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড
ক্যাডেট পাইলট হতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগে শক্তিশালী একাডেমিক রেকর্ড থাকতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজিতে নির্দিষ্ট জিপিএ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন যদি পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে গ্রেড মানদণ্ড পূরণ করেন। এছাড়া সকল প্রার্থীর ইংরেজিতে দক্ষতা থাকা আবশ্যক।
বাছাই প্রক্রিয়া
ক্যাডেট পাইলট বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর ও বহুমাত্রিক। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- আইকিউ টেস্ট
- লিখিত পরীক্ষা (ইংরেজি, গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান)
- পাইলট যোগ্যতা পরীক্ষা
- সাইকোমেট্রিক পরীক্ষা
- মেডিকেল পরীক্ষা
- মৌখিক পরীক্ষা
এই সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরই ফ্লাইট ট্রেনিংয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইং একাডেমিতে পাঠানো হবে। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন প্রার্থীরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে যোগদান করতে পারবেন।
বয়স, উচ্চতা ও অন্যান্য শারীরিক যোগ্যতা
- আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ২৫ বছর
- ছেলেদের উচ্চতা ১৬৮ সেমি, মেয়েদের ১৬৪ সেমি
- ওজন অবশ্যই BMI অনুযায়ী
- দৃষ্টিশক্তি ৬/৬
- ধূমপান ও মদ্যপান নিষিদ্ধ
- কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত হলে অযোগ্য
আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
যেসব শিক্ষার্থী যোগ্য, তারা সরাসরি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ক্যারিয়ার পেইজ থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার শেষ তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬।
উড়ার স্বপ্নে যারা বিশ্বাস রাখেন, তাদের জন্য এটি একটি স্বর্ণালী সুযোগ। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স শুধু নতুন পাইলট তৈরি করছে না, বরং দেশের এভিয়েশনে নতুন ইতিহাসও গড়ছে।