কাঁঠাল গাছ দেশটি সম্পর্কিত 4০টি সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন ও উত্তর 

Spread the love

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল এবং আমাদের কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষ। এই গাছ শুধু সুস্বাদু ফলই দেয় না, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর খাদ্য, কাঠ, ছায়া ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামবাংলার অর্থনীতি, কৃষিজীবন ও খাদ্যাভ্যাসে কাঁঠাল গাছের অবদান অপরিসীম। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য কাঁঠাল গাছ সম্পর্কিত তথ্য জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

১। প্রশ্ন: কাঁঠাল গাছ কোন পরিবারের উদ্ভিদ?
উত্তর: মোরাস পরিবার (Moraceae)।

২। প্রশ্ন: কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Artocarpus heterophyllus

৩। প্রশ্ন: কাঁঠাল গাছের প্রধান উৎপত্তি কোন দেশে?
উত্তর: ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল।

৪। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফল কবে উৎপন্ন হয়?
উত্তর: গ্রীষ্মকাল ও বর্ষার শুরুতে।

৫। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছ সাধারণত কত উচ্চ হয়?
উত্তর: ২০–৩০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

৬। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফল কি ধরনের ফল?
উত্তর: এটি একটি বড়, সর্পিলাকার ও বহুকলিকা (multiple) ফল।

৭। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের ভিতরের অংশের খোসা ও রসালো অংশ কী নামে পরিচিত?
উত্তর: খোসা অংশকে “রুটিকা” বলা হয় এবং মিষ্টি অংশকে “জুসি এডুল” বলা হয়।

৮। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের পাতা কেমন হয়?
উত্তর: পাতা সবুজ, বড় ও চিরসবুজ (evergreen)।

৯। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছ থেকে কি কিছু medicinal বা ঔষধি উপাদান পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, কাঁঠালের পাতার রস এবং বীজ থেকে কিছু ঔষধি গুণ পাওয়া যায়, যেমন পুষ্টিকর ও হজমে সহায়ক।

১০। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছ কোন ধরনের মাটি পছন্দ করে?
উত্তর: উর্বর, ভাল জল-নির্গমণ সম্পন্ন মাটি।

১১। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের ফুলের ধরন কেমন?
উত্তর: কাঁঠালের গাছের ফুল আলাদা লিঙ্গের, অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলা ফুল আলাদা হয় (dioecious)।

১২। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের গড় ওজন কত হতে পারে?
উত্তর: ১০–৩৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে, কখনো কখনো ৫০ কেজি পর্যন্তও হয়।

১৩। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের ফল কিভাবে খাওয়া হয়?
উত্তর: ভিতরের মিষ্টি অংশ সরাসরি খাওয়া হয় বা রান্না করে ব্যবহার করা হয়।

১৪। প্রশ্ন: কাঁঠালের বীজ ব্যবহার করা যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বীজ ভাজা বা সেদ্ধ করে খাওয়া যায় এবং কাঁচা বা রান্না করা যায়।

১৫। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছ কোন ধরনের জলবায়ু পছন্দ করে?
উত্তর: উষ্ণ ও আর্দ্র (tropical and humid) জলবায়ু।

১৬। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছ সাধারণত কত বছর ধরে ফল দেয়?
উত্তর: প্রায় ৫০–৬০ বছর ধরে ফল দেয়, কিছু গাছ ১০০ বছরও বাঁচে।

১৭। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের কাঠ ব্যবহার করা যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, কাঠ শক্ত ও টেকসই, সাধারণত আসবাবপত্র বা বাড়ির কাঠামোয় ব্যবহার হয়।

১৮। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের বাইরের খোসা কেমন?
উত্তর: শক্ত, কাঁটা বা দাগযুক্ত এবং সবুজ থেকে হলদেটে রঙের হয়।

১৯। প্রশ্ন: কাঁঠালের পাতা ও গাছ থেকে কী ধরনের তেল পাওয়া যায়?
উত্তর: পাতার রস ও বীজ থেকে সূক্ষ্ম তেল পাওয়া যায় যা খাদ্য বা ঔষধে ব্যবহৃত হয়।

২০। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের সুস্বাদু অংশ কোন অংশ থেকে পাওয়া যায়?
উত্তর: কাঁঠালের কাঁটা খোসার ভিতরের মিষ্টি, রসালো অংশ থেকে।

২১। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফল কখন সবচেয়ে রসালো ও মিষ্টি হয়?
উত্তর: গ্রীষ্মের শেষে বা বর্ষার শুরুতে, যখন ফল পুরোপুরি পাকা হয়।

২২। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের তাপ সহনশীলতা কেমন?
উত্তর: গরম ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভালো জন্মায়, ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না।

২৩। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফুল সাধারণত কোন মরশুমে ফোটে?
উত্তর: গ্রীষ্মের শুরুতে বা বর্ষার আগে।

২৪। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের শিকড় কেমন ধরণের?
উত্তর: এটি গভীর এবং শক্ত শিকড়যুক্ত, যা মাটিতে ভালোভাবে আঁকড়ে ধরে।

২৫। প্রশ্ন: কাঁঠালের পাতা কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে?
উত্তর: পাতা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয় এবং পশুর খাদ্য হিসাবেও দেওয়া যায়।

২৬। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফল সাধারণত কীভাবে বিক্রি করা হয়?
উত্তর: কেজি বা পুরো ফল হিসেবে, কখনও কখনও কেটে বা প্যাকেট করা অবস্থায়।

২৭। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের জন্ম কত দ্রুত হয়?
উত্তর: কাঁঠালের গাছ দ্রুত বর্ধনশীল, সঠিক জল ও পুষ্টি থাকলে দ্রুত বড় হয়।

২৮। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের খোসা কাঁচা অবস্থায় কি খাওয়া যায়?
উত্তর: না, খোসা শক্ত এবং কাঁটাযুক্ত হওয়ায় খাওয়া যায় না।

২৯। প্রশ্ন: কাঁঠালের বীজ থেকে কী ধরনের খাবার তৈরি করা যায়?
উত্তর: বীজ সেদ্ধ, ভাজা বা আটা বানিয়ে রান্নায় ব্যবহার করা যায়।

৩০। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছ পরিবেশে কী ভূমিকা রাখে?
উত্তর: এটি ছায়া দেয়, কার্বন শোষণ করে, এবং মাটি রক্ষা ও পরিবেশকে তাজা রাখে।

৩১। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফল কতদিন পর্যন্ত পাকা থাকার পরও ভালো থাকে?
উত্তর: সাধারণত ৫–৭ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে, যদি ঠান্ডা ও আর্দ্র জায়গায় রাখা হয়।

৩২। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছ কোন ধরনের সার পছন্দ করে?
উত্তর: জৈব সার এবং নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার ভালোভাবে বৃদ্ধি দেয়।

৩৩। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের গাছপালা কীভাবে ছাঁটা বা কাটা হয়?
উত্তর: শাখা ছেঁটে বা পাতার ভারসাম্য বজায় রেখে গাছকে স্বাস্থ্যবান রাখা হয়।

৩৪। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের রঙ কোন পর্যায়ে সবুজ থেকে হলুদ বা বাদামী হয়?
উত্তর: পুরোপুরি পাকলে এবং রসালো অংশ তৈরী হলে।

৩৫। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের ফুলকে কীভাবে পোলিনেশন (pollination) করা হয়?
উত্তর: মৌমাছি বা বাতাসের মাধ্যমে পুরুষ ও মহিলা ফুল মিলিত হয়।

৩৬। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের ভিতরের অংশের নাম কী?
উত্তর: এ অংশকে “ফ্লেশি এডুল” বা মিষ্টি অংশ বলা হয়।

৩৭। প্রশ্ন: কাঁঠালের বীজ কত প্রকারের হয়?
উত্তর: মূলত এক ধরনের বীজ থাকে, তবে আকার ও সাইজে ভিন্নতা দেখা যায়।

৩৮। প্রশ্ন: কাঁঠালের পাতা কখন সবুজ থাকে?
উত্তর: গ্রীষ্ম ও বর্ষার সময় চিরসবুজ থাকে।

৩৯। প্রশ্ন: কাঁঠালের ফলের খাদ্যগুণ কেমন?
উত্তর: এটি ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ।

৪০। প্রশ্ন: কাঁঠালের গাছের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কোন দেশের মাধ্যমে বেশি হয়েছে?
উত্তর: ভারত, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।

উপসংহার

কাঁঠাল গাছ একটি বহুমুখী ও উপকারী বৃক্ষ, যা খাদ্য, পুষ্টি, অর্থনীতি ও পরিবেশ—সব দিক থেকেই মানুষের জন্য কল্যাণকর। কাঁঠালের ফল, বীজ, কাঠ ও পাতা প্রতিটি অংশই কোনো না কোনোভাবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ জ্ঞান হিসেবে কাঁঠাল গাছ সম্পর্কে ধারণা থাকলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি কৃষি ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে। তাই কাঁঠাল গাছের গুরুত্ব অনুধাবন করে এর সংরক্ষণ ও চাষে সবাইকে আগ্রহী হওয়া উচিত।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page