সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীন পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা। এটি আনুমানিক ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বর্তমান পাকিস্তান ও ভারতের নদীপথাঞ্চলে বিকাশ লাভ করেছিল। হরাপ্পা ও মোহনজোদারোর মতো নগরকেন্দ্র, নিখুঁত নগর পরিকল্পনা, সড়ক ও নালা ব্যবস্থা, মৃৎশিল্প, সীলমোহর, মুদ্রা এবং ধর্মীয় আচরণ – সবই এই সভ্যতার বৈশিষ্ট্য।
সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কৃষি ও পশুপালনের মাধ্যমে জীবনযাপন করত এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের শিল্প, স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনার মান সমসাময়িক সভ্যতাগুলোর তুলনায় অত্যন্ত উন্নত ছিল। লিপি এখনো সম্পূর্ণভাবে পড়া যায়নি, যা এই সভ্যতার রহস্য ও গুণমানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি, যাতে তারা সিন্ধু সভ্যতার ইতিহাস, জীবনধারা, শিল্পকলা, বাণিজ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে সহজ ও সংক্ষিপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
১. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: প্রায় ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
২. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?
উত্তর: হরাপ্পা ও মোহনজোদারো।
৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতা কোন নদীর তীরে বিকাশ লাভ করেছিল?
উত্তর: সিন্ধু নদী ও তার শাখা নদীগুলোর তীরে।
৪. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান পেশা কী ছিল?
উত্তর: কৃষি ও পশুপালন।
৫. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলির পরিকল্পনা কেমন ছিল?
উত্তর: নিখুঁত নগর পরিকল্পনা ও সড়ক ব্যবস্থা ছিল।
৬. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের বসতগৃহে থাকত?
উত্তর: ইটের তৈরি ঘর ও বাড়িতে।
৭. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মুদ্রা ব্যবহৃত হতো কি না?
উত্তর: হ্যাঁ, তাদের নিজস্ব মুদ্রা ছিল।
৮. প্রশ্ন: হরাপ্পা ও মোহনজোদারোতে কোন বিশেষ ধরনের স্থাপত্য ছিল?
উত্তর: সৃষ্টিশীল ইটের চর্চা এবং গোয়াল ঘর ও বাথরুমের সিস্টেম।
৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের শিল্পকর্ম করত?
উত্তর: মৃৎশিল্প, মুদ্রা, মূর্তি, গহনা।
১০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের মূল কারণ কী হতে পারে?
উত্তর: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীর পথ পরিবর্তন, আক্রমণ ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি।
১১. প্রশ্ন: হরাপ্পা ও মোহনজোদারো কোন প্রদেশে ছিল আজকের মানে?
উত্তর: হরাপ্পা পাকিস্তানের পাকিস্তান পাঞ্জাবে এবং মোহনজোদারো সিন্ধ প্রদেশে।
১২. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করত?
উত্তর: সেচের ব্যবস্থা ও হাইব্রিড ফসলের চাষ।
১৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার লিপি কী নামে পরিচিত?
উত্তর: হরাপ্পা লিপি বা সিন্ধু লিপি।
১৪. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার লিপি এখনও কতটুকু পড়া যায়?
উত্তর: এখনও পুরোপুরি পড়া যায়নি।
১৫. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোনটি ছিল?
উত্তর: মোহনজোদারো।
১৬. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের বস্ত্র পরত?
উত্তর: সুতির কাপড় এবং পশমজাত কাপড়।
১৭. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলিতে কি ধরণের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল?
উত্তর: নালা ও নর্দমা ব্যবস্থা এবং স্থাপত্যিক বাথরুম ছিল।
১৮. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল?
উত্তর: মৃৎশিল্প, মুদ্রা, সীলমোহর, মূর্তি ও গহনার জন্য।
১৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান প্রাণী পালন কী ছিল?
উত্তর: গরু, ভেড়া, মহিষ ও ঘোড়া।
২০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার জনগণ কোন ধরনের বাণিজ্য করত?
উত্তর: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে মধ্য প্রাচ্য ও মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে।
২১. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের পোশাক গহনায় ব্যবহার করত?
উত্তর: কাঁশ, সোনা, রূপা, মণি ও শুঁটকির গহনা।
২২. প্রশ্ন: হরাপ্পা ও মোহনজোদারোতে নগরের সড়ক কেমন ছিল?
উত্তর: সরু ও প্রশস্ত রাস্তা একটি গ্রিড প্যাটার্নে পরিকল্পিত ছিল।
২৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার সময় কত ধরনের মুদ্রা প্রচলিত ছিল?
উত্তর: প্রায় ১০–১৫ ধরনের মুদ্রা ব্যবহার হত।
২৪. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কি ধরনের খেলাধুলা করত?
উত্তর: বল খেলা, দৌড়ঝাঁপ, পশুপালনের সঙ্গে সম্পর্কিত খেলা।
২৫. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার সবচেয়ে পরিচিত মূর্তি কোনটি?
উত্তর: “ড্যান্সিং গার্ল” বা নৃত্যরত কন্যার মূর্তি।
২৬. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কি ধরনের শিল্পকলা করত?
উত্তর: মৃৎশিল্প, বস্ত্র, লোহা ও রূপার সামগ্রী।
২৭. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার বাণিজ্যিক পণ্যগুলির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তর: সূচী, মৃৎশিল্প, সীলমোহর, ধাতব সামগ্রী।
২৮. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার স্থাপত্যে কোন ধরনের ইট ব্যবহার হত?
উত্তর: পোড়া ইট (ব্রিক) ব্যবহার হত।
২৯. প্রশ্ন: মোহনজোদারোর বিখ্যাত “গ্রেট ব্যাথ” এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্নান বা পানীয় ব্যবহারের জন্য।
৩০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের পর অঞ্চলটি কোন সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়?
উত্তর: আর্য, মেসোপটেমিয়ান ও অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার দ্বারা।
৩১. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার শহরগুলিতে জলবাহিত নালা ব্যবস্থা কাদের জন্য তৈরি করা হত?
উত্তর: সাধারণ জনগণ এবং নাগরিক ব্যবহারের জন্য।
৩২. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের ঘর তৈরি করত?
উত্তর: ইটের তৈরি একতলা ও দ্বিতলা বাড়ি।
৩৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের কৃষি যন্ত্র ব্যবহার করত?
উত্তর: কাষ্ঠ, লোহা ও কাঠের হাল, নালা ও সেচের ব্যবস্থা।
৩৪. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার খুঁজে পাওয়া সীলমোহরগুলি কি প্রদর্শন করে?
উত্তর: বাণিজ্যিক চিহ্ন, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম।
৩৫. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কোনটি?
উত্তর: মৃৎশিল্প ও মুদ্রা শিল্প।
৩৬. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের পোশাক পরত?
উত্তর: সুতির কাপড়, পশমজাত ও গহনার সঙ্গে মিলিত পোশাক।
৩৭. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: প্রাচীর, সড়ক, বাথরুম এবং নালা ব্যবস্থার সমন্বয়।
৩৮. প্রশ্ন: মোহনজোদারোর বিখ্যাত “গ্রেট মোল” কী জন্য ব্যবহৃত হত?
উত্তর: জমির মাপ, বাজার বা সরকারি কার্যক্রমের জন্য।
৩৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করত?
উত্তর: কৃষি, মৃৎশিল্প ও দৈনন্দিন কাজের জন্য লোহা ও কাঠের যন্ত্র।
৪০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান ধর্মীয় বিশ্বাস কী ছিল?
উত্তর: প্রাকৃতিক দেবদেবী এবং মাতৃকল্পনা ভিত্তিক পূজা।
৪১. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের শিল্পকলা ও বস্ত্রশিল্পে পারদর্শী ছিল?
উত্তর: সূক্ষ্ম মৃৎশিল্প, সিল্ক ও সুতির বস্ত্র, মুদ্রা খোদাই ও মূর্তি নির্মাণ।
৪২. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা কেমন ছিল?
উত্তর: শহরগুলো গ্রিড প্যাটার্নে পরিকল্পিত এবং প্রধান রাস্তা ও নালা ছিল।
৪৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কি ধরনের বাণিজ্য করত?
উত্তর: স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, যেমন মেসোপটেমিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য।
৪৪. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার লিপি কোন উপাদান ব্যবহার করে লেখা হতো?
উত্তর: মাটির সীলমোহর ও পাথরের লিপিতে খোদাই করা হতো।
৪৫. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান খাদ্য উৎস কী ছিল?
উত্তর: গম, জোয়ার, চাল, ডাল ও পশুপালনজাত খাদ্য।
৪৬. প্রশ্ন: মোহনজোদারোর মানুষ কোন ধরনের সেচ ব্যবস্থার সাহায্য নিত?
উত্তর: ক্যানাল ও নদী-নালা ব্যবস্থার মাধ্যমে।
৪৭. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা কি ধরনের বিনোদন উপভোগ করত?
উত্তর: খেলাধুলা, নৃত্য, সঙ্গীত ও পশুপালন সংক্রান্ত খেলা।
৪৮. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের বাড়ি নির্মাণ করত?
উত্তর: ইটের তৈরি একতলা বা দ্বি-তলা ঘর, ছাদে জলনিরোধক ব্যবস্থা।
৪৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধাতু শিল্পে পারদর্শী ছিল?
উত্তর: তাম্র, সোনা, রূপা এবং লোহার শিল্পে।
৫০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের পরে কোন সভ্যতা অঞ্চলটিতে প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর: আর্য সভ্যতা ও অন্যান্য স্থানীয় উপজাতীয় সমাজ।
৫১. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের সীলমোহর বানাত?
উত্তর: প্রাণী ও দেবদেবীর খোদাই করা সীলমোহর।
৫২. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার সবচেয়ে বিখ্যাত মূর্তি কোনটি?
উত্তর: “ড্যান্সিং গার্ল” বা নৃত্যরত কন্যার মূর্তি।
৫৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের মুদ্রা ব্যবহার করত?
উত্তর: ছাপানো বা খোদাই করা সীলমোহরযুক্ত ছোট লোহার ও ধাতব মুদ্রা।
৫৪. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে বড় শহর কোনটি?
উত্তর: মোহনজোদারো।
৫৫. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কি ধরনের নৌকা ব্যবহার করত?
উত্তর: নদী ও জলপথ বাণিজ্যের জন্য ছোট কাঠের নৌকা।
৫৬. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষের খাদ্যসংগ্রহ কিভাবে হত?
উত্তর: কৃষি, পশুপালন ও বাণিজ্য দ্বারা।
৫৭. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষের পোশাক কেমন ছিল?
উত্তর: সুতির কাপড়, পশমজাত কাপড় ও সহজ গহনা।
৫৮. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার স্থাপত্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: সড়ক পরিকল্পনা, নালা ও নর্দমা ব্যবস্থা, এবং ইটের নির্মাণ।
৫৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষের প্রধান পেশা কী ছিল?
উত্তর: কৃষক, কারিগর, বণিক ও পশুপালক।
৬০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের পরে কোন ভাষার প্রভাব বাড়ে?
উত্তর: প্রাচীন আর্য ভাষা এবং সংস্কৃত।
৬১. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করত?
উত্তর: কৃষি, মৃৎশিল্প এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য কাঠ, লোহার এবং পাথরের যন্ত্র।
৬২. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার প্রধান শিল্পকলা কোনটি ছিল?
উত্তর: মৃৎশিল্প এবং মূর্তি খোদাই শিল্প।
৬৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলিতে প্রধান রাস্তা কেমন ছিল?
উত্তর: প্রশস্ত এবং সরু রাস্তার সমন্বয়ে গ্রিড প্যাটার্নে পরিকল্পিত।
৬৪. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করত?
উত্তর: গম, জোয়ার, চাল, ডাল, সবজি ও পশুপালনের পণ্য।
৬৫. প্রশ্ন: মোহনজোদারোর “গ্রেট ব্যাথ” কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত?
উত্তর: ধর্মীয় স্নান ও ব্যক্তিগত স্নানের জন্য।
৬৬. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের বাণিজ্য করত?
উত্তর: স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে।
৬৭. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষের পোশাকের প্রধান উপাদান কী ছিল?
উত্তর: সুতির কাপড়।
৬৮. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার সীলমোহরগুলিতে সাধারণত কী খোদাই করা হত?
উত্তর: প্রাণী, দেবদেবী এবং বাণিজ্যিক চিহ্ন।
৬৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের প্রধান কারণ কী হতে পারে?
উত্তর: নদীর পথ পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আক্রমণ।
৭০. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল?
উত্তর: শহুরে জীবন, সুপরিকল্পিত নগর ও কৃষিপ্রধান জীবন।
৭১. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের ঘর তৈরি করত?
উত্তর: পোড়া ইটের তৈরি একতলা ও দ্বি-তলা ঘর, যাদের ছাদে জলনিরোধক ব্যবস্থা থাকত।
৭২. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনায় কোন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: গ্রিড প্যাটার্নে রাস্তা, নর্দমা ও নালা ব্যবস্থা এবং সুষম শিলপ।
৭৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের শিল্পে পারদর্শী ছিল?
উত্তর: মৃৎশিল্প, লোহার কাজ, মুদ্রা খোদাই, মূর্তি ও গহনা শিল্প।
৭৪. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের পশু পালন করত?
উত্তর: গরু, মহিষ, ভেড়া, শূকর ও ঘোড়া।
৭৫. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান বাণিজ্যিক পণ্য কী ছিল?
উত্তর: মৃৎশিল্প, সীলমোহর, ধাতব সামগ্রী, মুদ্রা ও গহনা।
৭৬. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষের পোশাক কেমন ছিল?
উত্তর: সুতির কাপড় এবং পশমজাত কাপড়, সাধারণ গহনা ও অলঙ্কার।
৭৭. প্রশ্ন: মোহনজোদারোর বিখ্যাত স্থাপত্য “গ্রেট ব্যাথ” কী জন্য ব্যবহৃত হত?
উত্তর: ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্নান।
৭৮. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের পরে কোন সভ্যতার প্রভাব ছিল?
উত্তর: প্রাচীন আর্য সভ্যতা এবং স্থানীয় উপজাতীয় সমাজ।
৭৯. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের সেচ ব্যবস্থা ব্যবহার করত?
উত্তর: নদী ও ক্যানাল থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা।
৮০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলিতে কোন ধরনের বিনোদন প্রচলিত ছিল?
উত্তর: খেলাধুলা, সঙ্গীত, নৃত্য ও সামাজিক মিলনমেলা।
৮১. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার সবচেয়ে পরিচিত নগর কোনটি?
উত্তর: মোহনজোদারো।
৮২. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের মুদ্রা ব্যবহার করত?
উত্তর: খোদাই করা ধাতব মুদ্রা ও সীলমোহরযুক্ত ছোট মুদ্রা।
৮৩. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের লিপি ব্যবহার করত?
উত্তর: হরাপ্পা বা সিন্ধু লিপি।
৮৪. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার লিপি আজ কতটুকু পড়া যায়?
উত্তর: এখনও পুরোপুরি পড়া যায়নি।
৮৫. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করত?
উত্তর: কৃষি ও দৈনন্দিন কাজে কাঠ, লোহার এবং পাথরের যন্ত্র।
৮৬. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার প্রধান খাদ্য উৎস কী ছিল?
উত্তর: গম, জোয়ার, চাল, ডাল, সবজি এবং পশুপালনজাত খাদ্য।
৮৭. প্রশ্ন: হরাপ্পা ও মোহনজোদারোর নগর পরিকল্পনার বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: সরু ও প্রশস্ত রাস্তা, নালা ব্যবস্থা, এবং সুষম নগর পরিকল্পনা।
৮৮. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের শিল্পকর্ম করত?
উত্তর: মৃৎশিল্প, মুদ্রা, সীলমোহর, মূর্তি ও গহনা।
৮৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের প্রধান কারণ কী হতে পারে?
উত্তর: নদীর পথ পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আক্রমণ ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি।
৯০. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার ধর্মীয় বিশ্বাস কেমন ছিল?
উত্তর: প্রাকৃতিক দেবদেবী, মাতৃকল্পনা ও অনান্য প্রাচীন পূজা।
৯১. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের পোশাক পরত?
উত্তর: সুতির কাপড়, পশমজাত কাপড় ও সহজ অলঙ্কার।
৯২. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষের খাদ্য সংগ্রহ কিভাবে হত?
উত্তর: কৃষি, পশুপালন এবং স্থানীয় বাণিজ্যের মাধ্যমে।
৯৩. প্রশ্ন: মোহনজোদারোর “গ্রেট মোল” কি জন্য ব্যবহৃত হত?
উত্তর: জমি পরিমাপ, বাজার ও সরকারি কার্যক্রমের জন্য।
৯৪. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলিতে জল সরবরাহ কেমন ছিল?
উত্তর: নালা, ক্যানাল ও বাথরুমের মাধ্যমে।
৯৫. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষের বিনোদন কী ছিল?
উত্তর: খেলাধুলা, সঙ্গীত, নৃত্য ও সামাজিক মিলনমেলা।
৯৬. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার পতনের পরে অঞ্চলটিতে কোন সভ্যতার প্রভাব ছিল?
উত্তর: প্রাচীন আর্য সভ্যতা ও স্থানীয় উপজাতীয় সমাজ।
৯৭. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার প্রধান শহরগুলো কোন নদীর তীরে ছিল?
উত্তর: সিন্ধু নদী ও তার শাখা নদীর তীরে।
৯৮. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন ধরনের শিল্পকলা ও বাণিজ্য করত?
উত্তর: মৃৎশিল্প, সীলমোহর, মুদ্রা, ধাতব সামগ্রী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।
৯৯. প্রশ্ন: সিন্ধু সভ্যতার মানুষের প্রধান পেশা কী ছিল?
উত্তর: কৃষক, কারিগর, বণিক ও পশুপালক।
১০০. প্রশ্ন: হরাপ্পা সভ্যতার মানুষ কিভাবে নগর পরিকল্পনা করত?
উত্তর: গ্রিড প্যাটার্নে রাস্তা, নালা ব্যবস্থা, এবং ইটের বাড়ি ও আধুনিক স্থাপত্য।
উপসংহার:
সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীন বিশ্বের সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রমাণ। এটি শুধু একটি নগর সভ্যতা ছিল না, বরং উন্নত কৃষি, শিল্পকলা, বাণিজ্য ও সমাজব্যবস্থার সমন্বয়ও প্রদর্শন করেছিল। হরাপ্পা ও মোহনজোদারোর নিখুঁত নগর পরিকল্পনা, সীলমোহর, মূর্তি, মুদ্রা এবং বস্ত্র শিল্প প্রমাণ করে যে এই সভ্যতার মানুষ অত্যন্ত সৃজনশীল এবং বুদ্ধিমান ছিল। সভ্যতার পতনের পরে এই অঞ্চলে প্রাচীন আর্য ও অন্যান্য সভ্যতার প্রভাব দেখা যায়, যা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সুতরাং, সিন্ধু সভ্যতা শুধু ইতিহাসেরই অংশ নয়, এটি প্রাচীন বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক মানের প্রমাণ হিসেবে চিরকাল স্মরণীয়।