মহাবিশ্ব—এক বিস্ময়কর ও রহস্যময় জগৎ, যার শুরু হয়েছিল প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে Big Bang তত্ত্ব অনুযায়ী। অসংখ্য গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্রহ ও রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি নিয়ে গঠিত এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ আমাদের কৌতূহলকে যুগে যুগে জাগ্রত করেছে। আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি Milky Way-এর এক কোণে অবস্থিত সূর্য ও পৃথিবীও এই মহাজাগতিক ব্যবস্থার ক্ষুদ্র অংশমাত্র।
মহাবিশ্বের উৎপত্তি কীভাবে হলো, এর গঠন কেমন, এবং সময়ের সাথে সাথে এটি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আধুনিক টেলিস্কোপ, মহাকাশযান ও গবেষণার মাধ্যমে আমরা আজ অনেক অজানা তথ্য জানতে পারছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রাথমিক থেকে মধ্যম স্তরের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে।
১। মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব কোনটি?
উত্তর: Big Bang তত্ত্ব।
২। বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের বয়স কত?
উত্তর: প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর।
৩। বিগ ব্যাং তত্ত্ব প্রথম প্রস্তাব করেন কে?
উত্তর: Georges Lemaître।
৪। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: Edwin Hubble।
৫। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের সূত্র কী নামে পরিচিত?
উত্তর: Hubble’s Law।
৬। বিগ ব্যাং-এর পর প্রথম কোন মৌল সৃষ্টি হয়?
উত্তর: হাইড্রোজেন।
৭। বিগ ব্যাং-এর প্রমাণ হিসেবে কোন বিকিরণ পাওয়া যায়?
উত্তর: Cosmic Microwave Background।
৮। কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড আবিষ্কার করেন কারা?
উত্তর: Arno Penzias ও Robert Wilson।
৯। বিগ ব্যাং-এর পর মহাবিশ্ব কত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়?
উত্তর: আলোর গতির চেয়েও দ্রুত (ইনফ্লেশন পর্যায়ে)।
১০। মহাবিশ্বের প্রাথমিক সম্প্রসারণ পর্যায়কে কী বলা হয়?
উত্তর: কসমিক ইনফ্লেশন।
১১। বিগ ব্যাং-এর আগে কী ছিল?
উত্তর: সঠিকভাবে জানা যায়নি।
১২। মহাবিশ্বের প্রথম আলো কখন সৃষ্টি হয়?
উত্তর: বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৩৮০,০০০ বছর পরে।
১৩। প্রাথমিক মহাবিশ্বে প্রধান কণাগুলো কী ছিল?
উত্তর: কোয়ার্ক, ইলেকট্রন ও নিউট্রিনো।
১৪। কোয়ার্ক একত্রিত হয়ে কী গঠন করে?
উত্তর: প্রোটন ও নিউট্রন।
১৫। প্রথম নক্ষত্র কখন গঠিত হয়?
উত্তর: প্রায় ১০০–২০০ মিলিয়ন বছর পরে।
১৬। মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়কে কী বলা হয়?
উত্তর: প্লাজমা যুগ।
১৭। ডার্ক ম্যাটার কী?
উত্তর: অদৃশ্য পদার্থ যা মহাকর্ষীয় প্রভাব ফেলে।
১৮। ডার্ক এনার্জি কী?
উত্তর: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিতকারী রহস্যময় শক্তি।
১৯। মহাবিশ্বের অধিকাংশ অংশ কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার।
২০। দৃশ্যমান পদার্থের পরিমাণ কত?
উত্তর: প্রায় ৫%।
২১। মহাবিশ্বে সবচেয়ে প্রচুর মৌল কোনটি?
উত্তর: হাইড্রোজেন।
২২। দ্বিতীয় সর্বাধিক মৌল কোনটি?
উত্তর: হিলিয়াম।
২৩। বিগ ব্যাং তত্ত্বের আরেকটি নাম কী?
উত্তর: প্রাইমর্ডিয়াল এক্সপ্লোশন তত্ত্ব।
২৪। মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে বিকল্প তত্ত্ব কী?
উত্তর: Steady State theory।
২৫। স্টেডি স্টেট তত্ত্বের প্রবক্তা কারা?
উত্তর: Fred Hoyle প্রমুখ।
২৬। ইনফ্লেশন তত্ত্ব প্রস্তাব করেন কে?
উত্তর: Alan Guth।
২৭। বিগ ব্যাং শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কে?
উত্তর: Fred Hoyle।
২৮। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ কীভাবে প্রমাণিত হয়?
উত্তর: গ্যালাক্সির রেডশিফট দ্বারা।
২৯। রেডশিফট কী নির্দেশ করে?
উত্তর: বস্তু দূরে সরে যাচ্ছে।
৩০। মহাবিশ্বের আকার কেমন?
উত্তর: সমতল (বর্তমান পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী)।
৩১। মহাবিশ্বের বৃহত্তম গঠন কী?
উত্তর: গ্যালাক্সি সুপারক্লাস্টার।
৩২। আমাদের গ্যালাক্সির নাম কী?
উত্তর: Milky Way।
৩৩। মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির আকৃতি কেমন?
উত্তর: সর্পিলাকার।
৩৪। মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রে কী রয়েছে?
উত্তর: অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর।
৩৫। সেই কৃষ্ণগহ্বরের নাম কী?
উত্তর: Sagittarius A*।
৩৬। সূর্য কোন গ্যালাক্সিতে অবস্থিত?
উত্তর: Milky Way।
৩৭। সূর্য একটি কী ধরনের নক্ষত্র?
উত্তর: মাঝারি আকারের প্রধান-ধারার নক্ষত্র।
৩৮। নক্ষত্রের শক্তির উৎস কী?
উত্তর: নিউক্লিয়ার ফিউশন।
৩৯। গ্যালাক্সি কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: নক্ষত্র, গ্যাস, ধূলিকণা ও ডার্ক ম্যাটার।
৪০। আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্র কী?
উত্তর: Sun।
৪১। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ কোনটি?
উত্তর: Jupiter।
৪২। সবচেয়ে ছোট গ্রহ কোনটি?
উত্তর: Mercury।
৪৩। পৃথিবী কোন ধরনের গ্রহ?
উত্তর: স্থল গ্রহ।
৪৪। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ কী?
উত্তর: Moon।
৪৫। কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যুতে।
৪৬। নিউট্রন নক্ষত্র কী?
উত্তর: সুপারনোভার পর ঘন অবশিষ্টাংশ।
৪৭। সুপারনোভা কী?
উত্তর: নক্ষত্রের বিস্ফোরণ।
৪৮। ধূমকেতু কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর: বরফ ও ধূলিকণা।
৪৯। গ্রহাণু কোথায় বেশি পাওয়া যায়?
উত্তর: মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝখানে।
৫০। সেই অঞ্চলের নাম কী?
উত্তর: অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট।
৫১। গ্যালাক্সির সংঘর্ষ হলে কী ঘটে?
উত্তর: নতুন নক্ষত্রের সৃষ্টি হতে পারে।
৫২। নক্ষত্রপুঞ্জ কী?
উত্তর: আকাশে দৃশ্যমান নক্ষত্রের গুচ্ছ।
৫৩। অ্যান্ড্রোমিডা কী?
উত্তর: Andromeda Galaxy।
৫৪। অ্যান্ড্রোমিডা আমাদের গ্যালাক্সির সাথে কী করবে?
উত্তর: ভবিষ্যতে সংঘর্ষ করবে।
৫৫। ডার্ক ম্যাটার কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: গ্যালাক্সির চারপাশে।
৫৬। কোয়াসার কী?
উত্তর: অত্যন্ত উজ্জ্বল গ্যালাক্টিক কেন্দ্র।
৫৭। নীহারিকা কী?
উত্তর: গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘ।
৫৮। নক্ষত্র কোথায় জন্ম নেয়?
উত্তর: নীহারিকায়।
৫৯। আলোর গতি কত?
উত্তর: প্রায় ৩ লক্ষ কিমি/সেকেন্ড।
৬০। আলোকবর্ষ কী?
উত্তর: এক বছরে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে।
৬১। মহাকর্ষ কী?
উত্তর: আকর্ষণ বল।
৬২। মহাকর্ষ সূত্র প্রণয়ন করেন কে?
উত্তর: Isaac Newton।
৬৩। আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রণয়ন করেন কে?
উত্তর: Albert Einstein।
৬৪। সময়-স্থান ধারণা কার তত্ত্বে আসে?
উত্তর: Albert Einstein।
৬৫। গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ কী?
উত্তর: স্থান-কালের তরঙ্গ।
৬৬। গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ প্রথম শনাক্ত করে কোন সংস্থা?
উত্তর: LIGO।
৬৭। কসমোলজি কী?
উত্তর: মহাবিশ্ব নিয়ে অধ্যয়ন।
৬৮। টেলিস্কোপ কী কাজে লাগে?
উত্তর: দূরবর্তী বস্তু পর্যবেক্ষণে।
৬৯। সবচেয়ে শক্তিশালী মহাকাশ টেলিস্কোপ কোনটি?
উত্তর: James Webb Space Telescope।
৭০। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ কবে উৎক্ষেপণ করা হয়?
উত্তর: ১৯৯০ সালে।
৭১। নক্ষত্রের জীবনচক্র কীভাবে শেষ হয়?
উত্তর: সাদা বামন, নিউট্রন নক্ষত্র বা কৃষ্ণগহ্বর হিসেবে।
৭২। সূর্যের ভবিষ্যৎ কী?
উত্তর: লাল দানবে রূপান্তরিত হবে।
৭৩। লাল দানব কী?
উত্তর: বৃদ্ধ নক্ষত্রের পর্যায়।
৭৪। সাদা বামন কী?
উত্তর: ক্ষুদ্র ও ঘন মৃত নক্ষত্র।
৭৫। গ্যালাক্সির বিবর্তন কীভাবে ঘটে?
উত্তর: সংঘর্ষ ও গ্যাস সঞ্চয়ে।
৭৬। মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্ভাব্য তত্ত্ব কী?
উত্তর: বিগ ফ্রিজ, বিগ রিপ ইত্যাদি।
৭৭। বিগ ফ্রিজ কী?
উত্তর: চরম শীতলতায় মহাবিশ্বের সমাপ্তি।
৭৮। বিগ রিপ কী?
উত্তর: সম্প্রসারণে সবকিছু ছিন্নভিন্ন হওয়া।
৭৯। বিগ ক্রাঞ্চ কী?
উত্তর: মহাবিশ্ব সংকুচিত হয়ে ধ্বংস হওয়া।
৮০। ডার্ক এনার্জি বাড়লে কী হতে পারে?
উত্তর: বিগ রিপ।
৮১। নক্ষত্রের রঙ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: তাপমাত্রা।
৮২। নীল নক্ষত্র কেমন?
উত্তর: অত্যন্ত উত্তপ্ত।
৮৩। লাল নক্ষত্র কেমন?
উত্তর: তুলনামূলক শীতল।
৮৪। মহাবিশ্বে নতুন নক্ষত্র এখনও তৈরি হচ্ছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ।
৮৫। পৃথিবীর বয়স কত?
উত্তর: প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর।
৮৬। সূর্যের বয়স কত?
উত্তর: প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর।
৮৭। মানবজাতি মহাকাশে প্রথম কবে যায়?
উত্তর: ১৯৬১ সালে।
৮৮। প্রথম মানুষ কে ছিলেন?
উত্তর: Yuri Gagarin।
৮৯। মানুষ প্রথম চাঁদে অবতরণ করে কবে?
উত্তর: ১৯৬৯ সালে।
৯০। কোন মিশনে চাঁদে অবতরণ করা হয়?
উত্তর: Apollo 11।
৯১। প্রথম চাঁদে পা রাখা ব্যক্তি কে?
উত্তর: Neil Armstrong।
৯২। মঙ্গল গ্রহে রোভার পাঠায় কোন সংস্থা?
উত্তর: NASA।
৯৩। বহির্জাগতিক গ্রহকে কী বলা হয়?
উত্তর: এক্সোপ্ল্যানেট।
৯৪। প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার হয় কবে?
উত্তর: ১৯৯২ সালে।
৯৫। জীবনের সম্ভাবনা কোথায় বেশি খোঁজা হয়?
উত্তর: বাসযোগ্য অঞ্চলে।
৯৬। বাসযোগ্য অঞ্চল কী?
উত্তর: যেখানে তরল পানি থাকতে পারে।
৯৭। মহাবিশ্ব কি অসীম?
উত্তর: এখনো নিশ্চিত নয়।
৯৮। মাল্টিভার্স ধারণা কী?
উত্তর: একাধিক মহাবিশ্বের সম্ভাবনা।
৯৯। মহাবিশ্বের অধ্যয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ বোঝার জন্য।
১০০। মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি কি নিশ্চিত?
উত্তর: এখনো গবেষণাধীন।
উপসংহার
মহাবিশ্বের উৎপত্তি, গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে জানার মাধ্যমে আমরা কেবল দূরবর্তী নক্ষত্র বা গ্যালাক্সির কথা জানি না; বরং নিজের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও ধারণা পাই। Albert Einstein-এর আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে শুরু করে আধুনিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-এর অনুসন্ধান—সবকিছুই আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মহাবিশ্ব এখনো রহস্যে ঘেরা। এর ভবিষ্যৎ কী হবে—বিগ ফ্রিজ, বিগ রিপ, নাকি অন্য কোনো পরিণতি—তা এখনো গবেষণাধীন। তবে একথা নিশ্চিত যে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানার আগ্রহ মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। জ্ঞানই আমাদের মহাজাগতিক সত্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।