কসমোলজি সম্পর্কে ১০০টি সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

Spread the love

কসমোলজি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মহাবিশ্বের উৎপত্তি, গঠন, বিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অধ্যয়ন করে। এটি শুধু নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যালাক্সি বা ব্ল্যাক হোলের গতিবিধি নয়, বরং পুরো মহাবিশ্বের বড় কাঠামো, স্থান-সময় এবং শক্তির বিভাজনকে বোঝার চেষ্টা করে। মানুষের কৌতূহল চিরকালই মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনের দিকে উন্মুখ ছিল। বিগ ব্যাং থিওরি, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য ধারণা কসমোলজির মূল ভিত্তি। কসমোলজি আমাদের শুধুমাত্র বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মানবজীবন এবং আমাদের অস্তিত্ব বোঝার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।

এই ১০০টি সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর শিক্ষার্থী, গবেষক, এবং কসমোলজি প্রিয়দের জন্য মৌলিক ধারণা ও সহজবোধ্য জ্ঞান সরবরাহ করে। প্রতিটি প্রশ্ন মহাবিশ্বের বিভিন্ন দিক যেমন গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, ব্ল্যাক হোল, রেডশিফট, কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট, মহাজাগতিক শক্তি, এবং সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পর্শ করে।

প্রশ্ন ১: কসমোলজি কী?
উত্তর: কসমোলজি হলো মহাবিশ্বের উৎপত্তি, গঠন, বিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিজ্ঞান।

প্রশ্ন ২: বিগ ব্যাং থিওরি কী?
উত্তর: বিগ ব্যাং থিওরি হলো মহাবিশ্বের উৎপত্তি একটি বড় বিস্ফোরণের মাধ্যমে হয়েছে এমন ধারণা।

প্রশ্ন ৩: মহাবিশ্বের বয়স কত?
উত্তর: প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর।

প্রশ্ন ৪: গ্যালাক্সি কী?
উত্তর: গ্যালাক্সি হলো তারকা, গ্যাস, ধূলিকণা এবং অন্ধকার পদার্থের একটি বৃহৎ সমষ্টি।

প্রশ্ন ৫: আমাদের গ্যালাক্সির নাম কী?
উত্তর: মিল্কি ওয়ে।

প্রশ্ন ৬: হাবল ল’ কী নির্দেশ করে?
উত্তর: হাবল ল’ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার নির্দেশ করে।

প্রশ্ন ৭: ডার্ক ম্যাটার কী?
উত্তর: এটি এমন পদার্থ যা দৃশ্যমান নয় কিন্তু মহাবিশ্বের মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ৮: কসমোলজি ও অ্যাস্ট্রোনমির পার্থক্য কী?
উত্তর: অ্যাস্ট্রোনমি তারকা, গ্রহ এবং মহাকাশের বস্তু নিয়ে কাজ করে, কসমোলজি মহাবিশ্বের বড় কাঠামো ও উৎপত্তি নিয়ে।

প্রশ্ন ৯: কসমোলজিক্যাল প্রিন্সিপল কী?
উত্তর: এটি বলে যে মহাবিশ্ব বড় মাত্রায় একরূপ এবং সমজাতীয়।

প্রশ্ন ১০: কসমোলজিকাল কনস্ট্যান্ট কী?
উত্তর: এটি একটি ধ্রুবক যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ত্বরণে প্রভাব ফেলে।

প্রশ্ন ১১: হাবল স্পেস টেলিস্কোপের কাজ কী?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের দূরবর্তী নক্ষত্র, গ্যালাক্সি এবং মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে।

প্রশ্ন ১২: ব্ল্যাক হোল কী?
উত্তর: ব্ল্যাক হোল হলো এমন একটি অঞ্চল যার মাধ্যাকর্ষণ এত শক্তিশালী যে আলোও পালাতে পারে না।

প্রশ্ন ১৩: হরাইজনের ধ্রুবক (Event Horizon) কী?
উত্তর: এটি ব্ল্যাক হোলের সেই সীমা যেখান থেকে কিছুই বাইরে আসতে পারে না।

প্রশ্ন ১৪: নেবুলা কী?
উত্তর: নেবুলা হলো গ্যাস এবং ধূলিকণার বড় মেঘ যা নতুন তারকা গঠনে সহায়ক।

প্রশ্ন ১৫: স্পেস-টাইম কী?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের স্থান ও সময়কে একত্রিত করে একটি চার-মাত্রিক কাঠামো হিসেবে দেখানো হয়।

প্রশ্ন ১৬: মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের প্রমাণ কী?
উত্তর: দূরবর্তী গ্যালাক্সির লাল-বিকিরণ (Redshift) মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের প্রমাণ দেয়।

প্রশ্ন ১৭: ডার্ক এনার্জি কী?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বকে দ্রুত সম্প্রসারণ করানোর জন্য দায়ী অদৃশ্য শক্তি।

প্রশ্ন ১৮: গ্রহান্তর (Exoplanet) কী?
উত্তর: এটি আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য তারকার চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্রহ।

প্রশ্ন ১৯: কসমোলজিক্যাল রেডশিফট কী বোঝায়?
উত্তর: এটি আলো তরঙ্গের দীর্ঘ হওয়া, যা মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ নির্দেশ করে।

প্রশ্ন ২০: বিগ ক্রাঞ্চ থিওরি কী?
উত্তর: এটি ধারণা যে মহাবিশ্ব একদিন সংকুচিত হয়ে আবার ছোট হবে বা “ক্রাঞ্চ” হবে।

প্রশ্ন ২১: কসমোলজি-তে “ইনফ্লেশন থিওরি” কী?
উত্তর: এটি ধারণা যে বিগ ব্যাং-এর পর মহাবিশ্ব খুব দ্রুত সম্প্রসারণ করেছে।

প্রশ্ন ২২: কোয়াসার কী?
উত্তর: কোয়াসার হলো এক প্রকার অত্যন্ত উজ্জ্বল দূরবর্তী গ্যালাক্টিক কেন্দ্র যা বিশাল শক্তি নির্গত করে।

প্রশ্ন ২৩: সুপারনোভা কী?
উত্তর: এটি একটি তারকার বিস্ফোরণ, যা অত্যন্ত উজ্জ্বল আলো এবং শক্তি ছাড়ে।

প্রশ্ন ২৪: লুমিনাসিটি কী?
উত্তর: এটি একটি বস্তু বা তারকার উৎপন্ন মোট আলোর পরিমাণ।

প্রশ্ন ২৫: মহাবিশ্বের ভর ঘনত্ব (Critical Density) কী?
উত্তর: এটি সেই ঘনত্ব যা মহাবিশ্বকে সীমাহীন সম্প্রসারণ বা সংকোচনের মধ্যে সমান রাখে।

প্রশ্ন ২৬: চন্দ্র, সূর্য এবং গ্রহসমূহ কসমোলজিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: তারা মহাবিশ্বের কাঠামো বোঝার প্রাথমিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন ২৭: হেলিওসেফিয়ার কী?
উত্তর: এটি সূর্য থেকে নির্গত সৌরবায়ু দ্বারা তৈরি একটি বিশাল বুদ্বুদ যা সৌরজগতকে ঘিরে রাখে।

প্রশ্ন ২৮: গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং কী?
উত্তর: এটি একটি প্রক্রিয়া যেখানে বড় মাধ্যাকর্ষণ আলোর পথকে বাঁকিয়ে দেয়।

প্রশ্ন ২৯: মিল্কি ওয়ে-এর আকার কী ধরনের?
উত্তর: এটি একটি স্পাইরাল (spiral) গ্যালাক্সি।

প্রশ্ন ৩০: রেডশিফট এবং ব্লু-শিফটের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: রেডশিফট হলো আলো তরঙ্গ দীর্ঘ হওয়া (দূরে চলে যাওয়া), ব্লু-শিফট হলো আলো তরঙ্গ সংকুচিত হওয়া (নিকটে আসা)।

প্রশ্ন ৩১: হাবল ল’ কি ধ্রুবক দিয়ে প্রকাশ করা হয়?
উত্তর: হাবল ল’ সাধারণত কিম/সেকেন্ড/মেগাপারসেক (km/s/Mpc) এককে প্রকাশ করা হয়।

প্রশ্ন ৩২: মহাবিশ্বের “মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন” কী?
উত্তর: এটি বিগ ব্যাং-এর অবশিষ্ট তাপ বিকিরণ যা সমগ্র মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে।

প্রশ্ন ৩৩: হাইড্রোজেন মহাবিশ্বে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি সবচেয়ে প্রচলিত মৌল এবং তারকা ও গ্যালাক্সি গঠনে প্রধান উপাদান।

প্রশ্ন ৩৪: গ্যালাক্টিক ক্লাস্টার কী?
উত্তর: এটি অনেক গ্যালাক্সির একটি বড় সমষ্টি যা মাধ্যাকর্ষণের মাধ্যমে একত্রিত থাকে।

প্রশ্ন ৩৫: “সিঙ্গুলারিটি” কী?
উত্তর: এটি এমন একটি বিন্দু যেখানে ঘনত্ব এবং মাধ্যাকর্ষণ অসীম হয়, যেমন ব্ল্যাক হোলের কেন্দ্র।

প্রশ্ন ৩৬: আলফা, বিটা, গামা বিকিরণ কী?
উত্তর: এগুলি বিভিন্ন ধরনের পারমাণবিক বা কসমিক বিকিরণ।

প্রশ্ন ৩৭: মহাবিশ্বের তাপমাত্রা আজকাল প্রায় কত?
উত্তর: প্রায় ২.৭ কেলভিন, যা ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনের সাথে সম্পর্কিত।

প্রশ্ন ৩৮: কসমোলজিক্যাল “হরাইজন” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের সেই সীমা যেখান পর্যন্ত আমরা আলোর মাধ্যমে দেখতে পারি।

প্রশ্ন ৩৯: সোলার সিস্টেম কী?
উত্তর: এটি একটি কেন্দ্রীয় তারকা (সূর্য) এবং তার চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্রহ, চাঁদ ও অন্যান্য বস্তু সমষ্টি।

প্রশ্ন ৪০: কসমোলজি এবং ফিজিক্সের সম্পর্ক কী?
উত্তর: কসমোলজি হলো ফিজিক্সের একটি শাখা যা মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো, উৎপত্তি এবং বিবর্তন নিয়ে কাজ করে।

প্রশ্ন ৪১: “অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি” কী?
উত্তর: এটি মিল্কি ওয়ের নিকটবর্তী স্পাইরাল গ্যালাক্সি, যা আমাদের গ্যালাক্সির সাথে ভবিষ্যতে মিলিত হতে পারে।

প্রশ্ন ৪২: নিউটনের মহাজাগতিক ভূমিকা কী?
উত্তর: আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষের সূত্র প্রবর্তন করে মহাবিশ্বের বস্তুসমূহের আন্দোলন বোঝার ভিত্তি স্থাপন করেন।

প্রশ্ন ৪৩: “লুমিনাসিটি ডিস্ট্যান্স” কী?
উত্তর: এটি একটি দূরবর্তী বস্তু থেকে আসা আলো থেকে হিসাব করা দূরত্ব।

প্রশ্ন ৪৪: কসমোলজিক্যাল রেডশিফট এবং মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের সম্পর্ক কী?
উত্তর: রেডশিফটের বৃদ্ধি নির্দেশ করে যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ করছে।

প্রশ্ন ৪৫: “গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ” কী?
উত্তর: মহাবিশ্বের ভর ও শক্তির চলাচলে তৈরি স্থান-সময়ের তরঙ্গ।

প্রশ্ন ৪৬: মহাবিশ্বের বড় কাঠামো কী বোঝায়?
উত্তর: গ্যালাক্সি, গ্যালাক্টিক ক্লাস্টার এবং সুপারক্লাস্টারের বৃহৎ সমষ্টি।

প্রশ্ন ৪৭: “কোসমোলজিক্যাল ইনফ্লেশন” এবং বিগ ব্যাং-এর পার্থক্য কী?
উত্তর: ইনফ্লেশন হলো বিগ ব্যাং-এর প্রাথমিক মুহূর্তে দ্রুত সম্প্রসারণের সময়কাল।

প্রশ্ন ৪৮: “ডার্ক এনার্জি” মহাবিশ্বের সম্প্রসারণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বকে ত্বরান্বিত সম্প্রসারণে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ৪৯: “কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট” কে প্রবর্তন করেছিলেন?
উত্তর: আলবার্ট আইনস্টাইন মহাবিশ্বের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এটি প্রবর্তন করেছিলেন।

প্রশ্ন ৫০: “হাবল টেলিস্কোপ” কবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল?
উত্তর: ২৪ এপ্রিল, ১৯৯০ সালে।

প্রশ্ন ৫১: “সুপারক্লাস্টার” কী?
উত্তর: এটি অনেক গ্যালাক্সির একটি বৃহৎ সমষ্টি, যা মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো তৈরি করে।

প্রশ্ন ৫২: মহাবিশ্বে সবচেয়ে প্রচলিত মৌল কোনটি?
উত্তর: হাইড্রোজেন।

প্রশ্ন ৫৩: “নক্ষত্রের জীবনচক্র” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি একটি নক্ষত্রের জন্ম, বিকাশ, এবং মৃত্যু পর্যন্ত ধাপ।

প্রশ্ন ৫৪: “পালসার” কী?
উত্তর: এটি একটি ঘূর্ণায়মান নিউট্রন তারকা যা নিয়মিত রেডিয়েশন ছাড়ে।

প্রশ্ন ৫৫: “রেডজায়েন্ট এনার্জি” কী?
উত্তর: এটি আলোক বা তাপ আকারে নির্গত শক্তি।

প্রশ্ন ৫৬: “মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ” কে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন?
উত্তর: এডউইন হাবল।

প্রশ্ন ৫৭: “কসমোলজিক্যাল নীতি” কী নির্দেশ করে?
উত্তর: এটি নির্দেশ করে যে মহাবিশ্ব বড় স্কেলে একরূপ এবং সমজাতীয়।

প্রশ্ন ৫৮: “গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং” কী প্রমাণ করে?
উত্তর: এটি প্রমাণ করে যে আলো মাধ্যাকর্ষণের দ্বারা বাঁকানো যায়।

প্রশ্ন ৫৯: “মহাজাগতিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন” কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি বিগ ব্যাং-এর প্রাথমিক অবশিষ্ট তাপ বিকিরণ, যা মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝায়।

প্রশ্ন ৬০: মহাবিশ্বে মোট গ্যালাক্সির সংখ্যা প্রায় কত?
উত্তর: প্রায় ২ ট্রিলিয়ন (২,০০০,০০,০০০,০০০,০০০)।

প্রশ্ন ৬১: “নিউট্রিনো” কী?
উত্তর: এটি একটি অত্যন্ত হালকা কণিকা যা খুব কমই পদার্থের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে।

প্রশ্ন ৬২: “মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ফ্লাকচুয়েশন” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনে ছোট ছোট তাপমাত্রার পার্থক্য।

প্রশ্ন ৬৩: “সোলার উইন্ড” কী?
উত্তর: এটি সূর্য থেকে নির্গত চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ।

প্রশ্ন ৬৪: “হাইপারনোভা” কী?
উত্তর: এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সুপারনোভা বিস্ফোরণ।

প্রশ্ন ৬৫: “বায়ু প্রভাবিত গ্যাস” (Interstellar Gas) কী?
উত্তর: মহাকাশের নক্ষত্রের মধ্যবর্তী অঞ্চলে থাকা গ্যাস যা নতুন তারকা গঠনে অংশ নেয়।

প্রশ্ন ৬৬: “কসমোলজিক্যাল শেডিং” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি বৃহৎ স্কেলে মহাবিশ্বের পদার্থের ঘনত্বের বৈচিত্র্য।

প্রশ্ন ৬৭: “গ্রহাণু” (Asteroid) কী?
উত্তর: এটি সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান ছোট পাথুরে বা ধাতব বস্তু।

প্রশ্ন ৬৮: “মহাকর্ষ তরঙ্গ” (Gravitational Wave) কে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন?
উত্তর: আলবার্ট আইনস্টাইন প্রেডিকশন করেছিলেন, এবং ২০১৫ সালে LIGO দ্বারা প্রমাণিত।

প্রশ্ন ৬৯: “সোলার সিস্টেমের সবচেয়ে বড় গ্রহ” কোনটি?
উত্তর: জুপিটার।

প্রশ্ন ৭০: “মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ” নিয়ে প্রধান তত্ত্বগুলি কতটি?
উত্তর: তিনটি প্রধান তত্ত্ব আছে: ক্রাঞ্চ, স্থিতিশীল, এবং অসীম সম্প্রসারণ।

প্রশ্ন ৭১: “বিগ ফ্রিজ” তত্ত্ব কী বোঝায়?
উত্তর: এটি ধারণা যে মহাবিশ্ব একদিন অত্যন্ত ঠান্ডা হয়ে চরম শূন্য তাপমাত্রায় পৌঁছাবে।

প্রশ্ন ৭২: “পলসার নেক্সট্রন স্টার” কিভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর মূল অংশ সংকুচিত হয়ে ঘূর্ণায়মান নিউট্রন স্টার বা পলসার তৈরি হয়।

প্রশ্ন ৭৩: “কোসমোলজিক্যাল কুইকস” কী?
উত্তর: মহাবিশ্বের দ্রুত ঘটমান ঘটনা বা উচ্চ-শক্তি নির্গত স্থান।

প্রশ্ন ৭৪: “মহাজাগতিক ব্যাকগ্রাউন্ড” কীভাবে আবিষ্কার হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৬৫ সালে আরনো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উইলসন রেডিও টেলিস্কোপে আবিষ্কার করেছিলেন।

প্রশ্ন ৭৫: “মহাবিশ্বের বৃহৎ স্কেল কাঠামো” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি গ্যালাক্সি, সুপারক্লাস্টার এবং ফিলামেন্টের জটিল নকশা।

প্রশ্ন ৭৬: “এক্সোপ্ল্যানেট” কেমন গ্রহ?
উত্তর: এটি আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য তারকার চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্রহ।

প্রশ্ন ৭৭: “কোসমোলজিক্যাল রোল” কী?
উত্তর: মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো, তার জন্ম এবং বিবর্তন বোঝার ধারণা।

প্রশ্ন ৭৮: “মহাবিশ্বের গঠন” প্রধানত কোন উপাদান দিয়ে তৈরি?
উত্তর: ৭৫% হাইড্রোজেন, ২৪% হিলিয়াম, এবং ১% ভারী মৌল ও ধূলিকণা।

প্রশ্ন ৭৯: “গ্যালাক্সি ক্রসিং” কী?
উত্তর: দুটি বা ততোধিক গ্যালাক্সি একে অপরের মধ্যে সংঘর্ষ বা মিলনের প্রক্রিয়া।

প্রশ্ন ৮০: “হাবল ল’ কি দিয়ে নির্ণয় করা হয়?
উত্তর: দূরবর্তী গ্যালাক্সির রেডশিফট এবং দূরত্বের তুলনা করে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের হার নির্ণয় করা হয়।

প্রশ্ন ৮১: “চাঁদ” (Moon) কসমোলজিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: চাঁদ পৃথিবীর ঘূর্ণন ও জোয়ার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং প্রাথমিক সৌরজগতের ইতিহাস বোঝায়।

প্রশ্ন ৮২: “অরবিটাল মেকানিক্স” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি মহাকাশযান ও গ্রহসমূহের কক্ষপথের আন্দোলন সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

প্রশ্ন ৮৩: “হাইড্রোজেন ফিউজন” কী?
উত্তর: এটি নক্ষত্রের কেন্দ্রের প্রক্রিয়া যেখানে হাইড্রোজেন মিলিয়ে হিলিয়াম উৎপন্ন হয় এবং শক্তি নিঃসৃত হয়।

প্রশ্ন ৮৪: “মহাবিশ্বে আলো গতির গুরুত্ব” কী?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের দূরত্ব এবং সময়ের পরিমাপের জন্য প্রাথমিক ভিত্তি।

প্রশ্ন ৮৫: “কোসমোলজিক্যাল মডেল” কী?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব।

প্রশ্ন ৮৬: “সুপারনোভা টাইপ ১এ” কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের দূরত্ব নির্ধারণে “স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডেল” হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন ৮৭: “গ্যালাক্টিক ডিস্ক” কী?
উত্তর: এটি স্পাইরাল গ্যালাক্সির প্রধান সমতল অংশ যেখানে তারকা এবং গ্যাসের ঘনত্ব বেশি।

প্রশ্ন ৮৮: “মহাবিশ্বের হোমোজেনিটি” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি বড় স্কেলে মহাবিশ্ব সমজাতীয় এবং একরূপ হওয়ার বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন ৮৯: “গ্র্যাভিটেশনাল পোটেনশিয়াল” কী?
উত্তর: এটি মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের শক্তি, যা বস্তুকে আকর্ষণ করে।

প্রশ্ন ৯০: “মহাবিশ্বের এনার্জি বন্টন” প্রধানত কী দ্বারা তৈরি?
উত্তর: প্রায় ৬৮% ডার্ক এনার্জি, ২৭% ডার্ক ম্যাটার, এবং ৫% সাধারণ পদার্থ।

প্রশ্ন ৯১: “মহাবিশ্বের বয়স নির্ধারণে কোন প্রমাণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?**
উত্তর: মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন এবং হাবল ল’ এর পরিমাপ।

প্রশ্ন ৯২: “ডার্ক ম্যাটার” কসমোলজিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ২৭% গঠন করে এবং গ্যালাক্সির কাঠামো বজায় রাখে।

প্রশ্ন ৯৩: “মহাবিশ্ব সম্প্রসারণ” কোন প্রক্রিয়া দ্বারা প্রমাণিত?
উত্তর: দূরবর্তী গ্যালাক্সির রেডশিফট দ্বারা।

প্রশ্ন ৯৪: “কোসমোলজিক্যাল ফ্লাটনেস” কী বোঝায়?
উত্তর: এটি মহাবিশ্বের স্থান-সময়ের জ্যামিতি সমতল বা ফ্ল্যাট হওয়ার ধারণা।

প্রশ্ন ৯৫: “মহাবিশ্বে নক্ষত্রের গঠন” কোথায় হয়?
উত্তর: প্রাথমিকভাবে নেবুলা বা গ্যাস-মেঘে।

প্রশ্ন ৯৬: “বিগ ব্যাং থিওরি” কে প্রমাণিত করেছিলেন?
উত্তর: এর প্রমাণ দেয়া হয়েছে মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ পর্যবেক্ষণে।

প্রশ্ন ৯৭: “মহাবিশ্বের বৃহৎ স্কেলে স্ট্রাকচার” কাকে বলা হয়?
উত্তর: গ্যালাক্সি ফিলামেন্ট, সুপারক্লাস্টার এবং বৃহৎ গ্যাস মেঘের সমষ্টি।

প্রশ্ন ৯৮: “কোসমোলজিক্যাল রেডশিফট” কাকে নির্দেশ করে?
উত্তর: দূরবর্তী বস্তু থেকে আসা আলো দীর্ঘ তরঙ্গ হয়ে যায়, যা সম্প্রসারণ নির্দেশ করে।

প্রশ্ন ৯৯: “মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি” নিয়ে প্রধান তত্ত্ব কী?
উত্তর: ক্রাঞ্চ, স্থিতিশীল, এবং অসীম সম্প্রসারণ।

প্রশ্ন ১০০: “কসমোলজির মূল উদ্দেশ্য” কী?
উত্তর: মহাবিশ্বের উৎপত্তি, গঠন, বিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ বোঝা।

উপসংহার

কসমোলজি আমাদের মহাবিশ্বের বৃহৎ রহস্যগুলো বোঝার চাবিকাঠি। এই ১০০টি প্রশ্ন ও উত্তর মহাবিশ্বের উৎপত্তি, গঠন, বিবর্তন, এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধারণা দেয়। এর মাধ্যমে আমরা কেবল বৈজ্ঞানিক তথ্যই জানি না, বরং মহাবিশ্বের সাথে মানুষের সম্পর্ক, আমাদের অস্তিত্ব এবং মহাজাগতিক ঘটনা বোঝার সুযোগ পাই।

ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি, টেলিস্কোপ এবং মহাকাশ গবেষণা কসমোলজির জ্ঞানের সীমা আরও প্রসারিত করবে। এই প্রশ্নোত্তর সিরিজ শিক্ষার্থীদের কসমোলজি বোঝার জন্য একটি সহজ এবং সংক্ষেপে পথ দেখায়, যা আগ্রহী পাঠকদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page